গ্যালারি

রেসিপিঃ কাঁঠাল ও মুড়ি (যে খাবার ধনীরা খেতে পারে না!)


কাঁঠাল নিয়ে আলোচনা বা লিখতে গেলে কলমের কালি শুকিয়ে যাবে কিন্তু কাঁঠালের গুণের কথা শেষ হবে না। কাঁঠাল আমাদের দেশের জাতীয় ফল, কাঁঠালকে আমি দারুন সন্মান করি। যারা এই কাঁঠালকে জাতীয় ফলের মর্যদা দিয়েছেন আমি তাদের পেলেও পা ধরে সালাম করতাম। আমাদের দেশের নানান ফলের কথা চিন্তা করলে একমাত্র কাঁঠালকেই সবার সামনে হাজির করা যায়, দেশের আনাছে কানাছে চিপা চাপায় যে ফলের গাছ মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, তা হচ্ছে কাঁঠাল গাছ। বিশেষ করে প্রায় গ্রামে গ্রামে পথে প্রান্তরে কাঁঠাল গাছ আছেই, যদিও মানুষ ধনী হবার সাথে সাথে এই গাছের প্রতি আর মায়া রাখছেন না! কারন ধনীরা এই ফল খেয়ে হজম করতে পারেন না, অবশ্য সবই উপরওয়ালার ইচ্ছা! গরীব মানুষেরা বলতে গেলে একটা পুরা কাঁঠাল খেয়ে উঠতে পারে, সেখানে ধনীরা একটা কাঁঠালের কোষ খেলেই নানান শারীরিক অসুবিধায় পড়ে যায়! আমি অবশ্য এর কারন খুঁজে পাই না! হা হা হা…।


যাই হোক, অনেক দিন আমি কাঁঠাল কিনি না। কারন দুইটা ১। আমাদের বাসায় মানে আমার ছেলে, আমার পরিবার কাঁঠাল তেমন পছন্দ করেন না। ২। আমি নিজে ভাল কাঁঠাল কিনতে পারি না, এই যাবত আমার কেনা প্রায় সব কাঁঠাল ভাল হয় নাই, মায়ের সংসারেও ভাল কাঁঠাল কিনতে পারি নাই, আর নিজের সংসারে তো বটেই! কখনো কাঁচা, কখনো লেতলেতা, কখনো পান্সা, কখনো বিচিহীন ইত্যাদি! যাই হোক, ফেবুতে এক বন্ধুর বাগান থেকে নিয়ে আসা কাঁঠালের ছবি (উপরের ছবিটা) দেখে আমি কিছুটা আবেগে আপলুত হয়ে পড়ি এবং কমেন্টে কাঁঠাল খাবার ইচ্ছা পোষন করি। কোপালে থাকলে ঠেকায় কে? ফেবুর এই বন্ধু একটা চমৎকার কাঁঠাল (সাথে চারটে আম) আমার অফিসে নিয়ে আসেন। (আমি উনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, দারুন আন্তরিকতা উনাদের)


অফিস থেকে এই কাঁঠাল এবং আম গুলো বাসায় নিয়ে আসতে আমাকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে! কাঁঠাল পরিবহণ অনেক কষ্টকর কাজ, বিশেষ করে কাঁঠাল হাতে ঝুলিয়ে বা হাতের তালুতে উঠিয়ে বয়ে বেড়ানোর জ্বালা কে কাকে বুঝাবে! যাই হোক, কাঁঠাল কিছুটা শক্ত থাকাতে সেইদিনেই ভাংতে পারি নাই। আর আম গুলোও ছিল বেশ!


আমের কাটিং ছবি! দারুন।

আজ সন্ধ্যায় কাঁঠাল ভাঙ্গা হয়েছে! দারুন, আমাদের বাড়ির সবাইকে নিয়ে এই কাঁঠাল খাওয়া হয়েছে। সবাই দারুন পছন্দ করেছে, ছেলে বুড়ো সবাই। আমি অবশ্য আজকাল আর তেমন কাঁঠাল খেতে পারি না। কাঁঠাল খেলে পেটে চিনচিনে একটা ব্যাথ্যা অনুভব হয় (আমি অবশ্য ধনী না! আমি কাঁঠাল খেতে পারি না, বয়সের কারনে!) তার পরেও আমি মুড়ি দিয়ে বেশ কয়েক কোষ সাবাড় করে এখন এই পোষ্ট লিখতে বসেছি! আপনাদের না দেখিয়ে পারলাম না! আপনারা কে কে মুড়ি দিয়ে কাঁঠাল খেয়েছেন! মনে আছে কি? চলুন, ছবি দেখি! আগেই আশা করি, সামনে কাঁঠাল পেলে মুড়ি দিয়ে খেয়ে দেখবেন।

প্রয়োজনীয় পরিমান ও উপকরনঃ (যত পারেন নিয়ে নিন)
– কাঁঠাল
– মুড়ি

প্রস্তুত প্রনালীঃ

ছবি ১, কাঁঠাল ভেঙ্গে কোষ গুলো আলাদা করা একটা বিশেষ কঠিন কাজ।


ছবি ২, এত চ্রম অবস্থার কাঁঠালের কোষ পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। না শক্ত, না নরম! দারুন।


ছবি ৩, আমার খাবার স্টাইল!


ছবি ৪, আগেই বিচি বের করে নিয়েছি! হা হা হা…


ছবি ৬, আরো মাখামাখি!


ছবি ৭, আহ, দুনিয়াটাই যেন বেহেস্ত! উপরওয়ালা ফলফলাদি প্রানীকুলের জন্য দিয়েছেন ভালবেসেই, ফলের স্বাদ, রঙ, রূপ, রহস্য নিয়ে একটু ভেবে দেখুন, বুঝতে দেরী হবে না!


ছবি ৮, যারা এখনো এই মুড়ি কাঁঠাল মিলিয়ে খেয়ে দেখেন না, তাদের আমি আবারো অনুরোধ করে যাব, একবার খেয়ে দেখুন, আপনি খাদ্যরসিক হলে ভাল লাগবেই!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

আম কাঁঠাল দিয়েছেনঃ বোন Farhana Ferdousy, উনার পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়া থাকল।

আম ভেঙ্গে সাজিয়ে দিয়েছেনঃ মানসুরা হোসেন, আমার ব্যাটারী বটেই! কাঁঠাল খেতে বসে সামান্যতেই  যিনি আমার সাথে ২০ কোষ কাঁঠাল এক বসায় খেতে পারবেন বলে বাজী লেগে ২০০/- টাকা জিতে নিয়েছেন! আমি ভেবেছিলাম, তিনি কাঁঠাল খাবেন না! আসলে এতই ভাল কাঁঠাল যে, তিনি জানালেন, চাইলে আরো বেশ কিছু কোষ খেয়ে ফেলতে পারবেন!

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ কাঁঠাল ও মুড়ি (যে খাবার ধনীরা খেতে পারে না!)

  1. Vaia apner recipe jamon osadharon tamni apner golpo guli o osadharon. amar atto valo lage ja apnake bole bujate parbo na. Apni believe korben kena jani na amar akhane akhon rat 2:27am but Ami na ghumiye recipe portese.and amar mone hoy Ami Sara rat jage apner recipe & golpo Porte parbo .Ami protidin apner new recipe r jonno wait kori. Apner sob guli recipe osadharon osadharon osadharon.ato valo ranna apni ke vabe koren vaia ? Allah apnake ato gon deyesen ato base.amar retimoto hengsa hoy. God bless you.

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন,
      আমি আসলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি গল্প করে আসলে রান্নায় নিয়ে যেতে চাই। এটা অনেকে পছন্দ করেন।

      আমিও চাই প্রতিদিন একটা করে নুতন রেসিপি দিতে কিন্তু তা অনেক সময়েই সম্ভব নয় বা হয় না। তবে আমি চেষ্টা করি।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ভাইয়া, বিষয়টা আর একটু খুলে ব্যাখ্যা করুন।

    Like

  3. Kata chamoch diea kathal muri khawa dekhe hasi aslo . Plz don’t mind. amaro khub valo lage eta ….

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s