গ্যালারি

রেসিপিঃ জিতু পরোটা


পরোটা! নাম শুনলেই জিবে জল আসে! পরোটা খান নাই, এমন বাংলা ভাষাভাষী এই দুনিয়াতে আছে কি না তা আমার সন্দেহ আছে! আমাদের বাসায় ছোট বেলা থেকেই পরোটা বানানো দেখে আসছি, আমাদের আম্মা সকালের নাস্তায় প্রায় পরোটা বানাতেন। আমার মনে পড়ে, আমি নিজে পরোটায় কলা দিয়ে রোল বানিয়ে খেতে পছন্দ করতাম। আমার অন্যান্য ভাই বোনরা ডিম বা তরকারী দিয়ে পরোটা খেতে পছন্দ করত এবং কাউকে কাউকে দেখতাম চা দিয়েও পরোটা খেতেন। যাই হোক, আসুন এবার ‘জিতু পরোটা’র কথা জানি।

জিতু আমার এক দিলু রোডের বন্ধুর নাম। তার বাসাতে গেলেই সকাল নাই, বিকাল নাই, আছে শুধু এই পরোটা! তার বাসার এই পরোটা বানায় তাদেরই এক গৃহকর্মী। আমি বহুবার বিকেলের নাস্তা হিসাবে তার বাসায় এই পরোটা খেয়েছি এবং দেখেছি। তবে আমাদের জিতু ভাই এই পরোটা খায় সাধারণত চা দিয়েই! হা হা হা, আমাকে অবশ্য বেশ কয়েকবার ডিম পোস বা মুরগীর তরকারী দিয়ে দেয়া হয়েছিল! তবে আমি নিজেও চা দিয়ে খেয়েই আরাম পেয়েছি! যাই হোক, এক দিন সুযোগ পেয়ে জিতুভাইকে বললাম, এই পরোটার রেসিপি দরকার, জিতুভাই আমার সামনে তাদের গৃহকর্মীকে হাজির করে দিল। আমি নিজেই তার কাছ থেকে এর পরোটার রেসিপি বুঝে নিলাম! এই পরোটার বিশেষ দিক হচ্ছে, সাইজে ছোট, পরতে পরতে ভাঁজ, ফুলে প্রত্যেক ফ্লাই হাতে উঠা, খেতেও স্বাদ ইত্যাদি। হা হা হা… চলুন দেখে ফেলি।

তবে জিতু ভাই নিয়ে আর একদিন গল্প হবে! কারন তাকে নিয়ে গল্প লিখতে গেলে সাগরের পানি কালি হলেও কম পড়ে যাবে! বিধাতা মনে হয় নিজ হাতে ওয়ান পিস বানিয়ে এই দুনিয়াতে জিতু ভাইকে পাঠিয়েছেন! বুড়ো বয়সেও তার দুষ্টামী দেখলে পাগল হয়ে পড়তে হয়। তবে জীবজন্তু ও প্রকৃতি প্রেমিক এই জিতু ভাই সারা দিনে দুইবার খেয়ে থাকেন, দুপুর তিনটায় উঠে এই পরোটা দিয়ে নাস্তা এবং রাতে সামান্য ভাত খেয়েই চরম স্বাস্থ্য নিয়ে আছেন! তিনি এখন আর নিজে কিছু করেন না, দুনিয়াদারী ঘুরে, নানান কাজ কর্ম করে এখন রিটায়ার্ড লাইফ লিড করছেন। ভাবী চাকুরী করেন আর আছে বাপের দিনের দিলু রোডের বাড়ী (যা এখন এপার্টমেন্ট, চমৎকার থাকার ব্যবস্থা), এক ছেলের বাবা! এই তো! (অবশ্য অনেক কিছুই গোপন করে গেলাম! বেশী না বলাই ভাল, আফটারঅল আমার বন্ধুই তো! আমরা আমরাই! এতটা বছর একসাথে আড্ডা দিয়ে পার করছি!)

এই পরোটার নাম ‘জিতু পরোটা’ হল কি করে, এই প্রশ্ন মনে জাগতে পারে আপনাদের। ওই যে, বন্ধু বান্ধব যারাই বাসায় যায়, জিতু ভাই সকাল বিকাল রাত সবাইকে এই পরোটাই খাওয়ায়! বন্ধুদের দেখলেই বলে পরোটা খেয়ে যা! ব্যস এখন আমরা বন্ধুরা সবাই এই পরোটাকে ‘জিতু পরোটা’ নামেই চিনি! এখন আবশ্য আমরা নিজেরাও বলি, জিতু পরোটা খাব! তার কোন মাইন্ড নেই! তবে কোন দুষ্টু বন্ধু আবার জিতু ভাইকে পেয়ারসে ‘জিতুস’ বলেও ডাকে! সেই হিসাবে এই পরোটাকে অবশ্য ‘জিতুস পরোটা’ও বলা যেতে পারে!

পরিমান ও উপকরনঃ
– সাদা ময়দা, তিন কাপ (মোটামুটি এক কাপে ৪টা পরোটা হবে, সাইজ ছোট)
– তেল, সয়াবিন, চার টেবিল চামচ (আর কিছু তেল ভাজা এবং বেলার জন্য রাখতে হবে)
– চিনি, এক চা চামচ
– লবন, হাফ চা চামচের কম (তবে কাই বানানো শেষে একটু মুখে দিয়ে দেখবেন, যদি কম মনে হয় সে ক্ষেত্রে লবন পানির সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন, লবন গুড়া দিলে সেটা মেশানো মুস্কিল হবে)
– পানি, কুসম গরম পানি

প্রস্তুত প্রনালীঃ
পরোটার কাই প্রস্তুত করন

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫

পরোটা বেলা-

ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১

পরোটা ভাঁজা

ছবি ১২, গরম তাওয়াতে এক চামচ তেল দিয়ে পরোটা দিন এবং  খুন্তি দিয়ে চাপ দিয়ে দিয়ে ভাঁজতে হবে। আগুন মাধ্যম থাকবে।


ছবি ১৩


ছবি ১৪, এক পাশ হয়ে গেলে অন্য পাশ উল্টে দিন, তবে এই কাজটা সাবধানে করতে হবে। তেলের ছিটা যাতে গায়ে না পড়ে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। আমি পরোটা উলটা করতে দুটো খুন্তি ব্যবহার করছিলাম।


ছবি ১৫, ফুলে উঠবে।


ছবি ১৬, বেশী পোড়া পোড়া করার দরকার নেই! বা চাইলে করতে পারেন, সে ক্ষেত্রে আগুন কমে সময় নিয়ে পরোটা ভাঁজতে হবে।

পরোটা পরিবেশনা-

ছবি ১৭, জিতু পরোটা হয়ে গেল, পরিবেশোনের জন্য প্রস্তুত! তবে বানানোর পর আমার মনে হয়েছে আরো ছোট সাইজ হবে! আমাদের আনুমানে কিছুটা ভুল হয়েছে! ব্যাপার না, সেইম ফরমুলাতে আপনি ছোট সাইজ করে বানিয়ে নিতে পারেন!


ছবি ১৮, শিশুদের জন্য এভাবে কেটে নিতে পারেন।

নিজ পাতে!

ছবি ১৯, সাথে ছিল কাঁচা আমে মুরগী রান্না! আহ জিতুস!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশাকরি আমাদের সাথেই থাকবেন। আরো আরো রেসিপি নিয়ে অচিরেই হাজির হচ্ছি!

সহযোগিতায়ঃ মানসুরা হোসেন

রেসিপিঃ প্যাঁচানো পরোটা (শান্তিনগর স্পেশাল)
রেসিপিঃ খাস্তা পরোটা / পার্টি পরোটা/ হোটেল পরোটা
রেসিপিঃ সাধারন পরোটা (সকালের নাস্তায়)

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ জিতু পরোটা

  1. সুলতানা জামান

    ভাইয়া, আপনার লেখা পড়ে মন ভাল হয়ে যায়। আপনার বন্ধু জিতু ভাইয়ের জন্য শুভেচ্ছা।

    Like

  2. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিকেন উইথ ম্যাংগো/ ম্যাংগো চিকেন (গরমে আরাম) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  3. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ চিকেন উইথ ম্যাংগো/ ম্যাঙ্গো চিকেন (গরমে আরাম) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  4. Choto belay ma e dhoroner porota banata. Trivuj , choturvuj .

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s