Gallery

রেসিপিঃ চিংড়ি কারি (থাই স্টাইল) এবং সাইটে ৬ লক্ষ হিটে আপনাদের শুভেচ্ছা ও ভালবাসা


গতকাল সকালে ‘রান্না ও গল্প’ সাইট ৬ লক্ষ হিট পার করেছে। এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে আপনাদের ভালবাসার কারনেই। গতকাল সাইটে সারা দুনিয়া থেকে ভিজিটর ছিলেন ৬৪২জন, যা পূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।  আপনারা আমাদের রান্না গুলো ভালবাসেন বলেই আমাদের সাইটে আসেন এবং আমাদের দেখে যান। আমরা ধন্য আপনাদের এই ভালবাসায়, এই জীবনে আর কি চাই।

আপনাদের ভালবাসার মুল্য দেয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই, যদি সম্ভব হত সবাইকে নিয়ে একবেলা বসে খেতে পারতাম, নিজ হাতে চারটে ডালভাত আপনাদের বেড়ে দিতে পারতাম তবে মনে অনেক খুশি লাগত। তবে, আমাদের বড় ছেলের বিয়েতে অনলাইনে সবার জন্য দাওয়াত থাকবে, সেদিন অবশ্য দূরে নয়! হা হা হা… রেসিপি প্রিয় পাঠক/পাঠিকা ভাই বোন বন্ধু আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এবং সেই সাথে আশা করছি আমাদের এমনি বার বার দেখে যাবেন। আমরাও আপনাদের জন্য নিত্য নুতন (সহজ ও সাধারন) রেসিপি নিয়ে বার বার হাজির হব।

চলুন ৬ লক্ষ হিট মনে রাখার জন্য একটা সাধারন রেসিপি হয়ে যাক। এটা এতই সাধারন এবং সহজ রেসিপি যে, আমি আশা করছি, যারা আজ থেকে রান্না করবেন তারাও পারবেন এবং সাধারন যে মশলাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে, আশা করছি সাধারন মধ্যবিত্তদের ঘরেও আছে বা থাকবে (সাধারন মানের গ্রোসারীতেও পাওয়া যায়)। চিংড়ি কারি থাই স্টাইলে রান্না, আমরা মশলা বা ভেজষ যেভাবে পাটা পুতায় বেটে খাই সাধারনত থাইরা এভাবে বেটে ফেলে না, তারা এই সকল ভেজষ একটা গাইলে (হাম্বল দিস্তা) নিয়ে ছেঁচে তার পর তরকারীতে দেয়। আমি দেখেছি বা বলতে দ্বিধা নেই, মশলা/ভেজষ বাটার চেয়ে ছেঁচায় স্বাদ বাড়িয়ে দেয়। চলুন দেখে নেই।

উপকরণঃ
– কিছু চিংড়ি মাছ (আমরা টাইগার প্রন/চিংড়ি নিয়েছিলাম, ৩০০ গ্রাম হতে পারে হয়ত)

যে ভেজষ গুলো ছেঁচে নিতে হবে (ছবিতে আরো ক্লিয়ারকাট আছে)
– পেঁয়াজ কুঁচি (হাফ কাপ কম বেশী)
– আদা কুঁচি (এক চা চামচ)
– রসুন কুঁচি (এক চা চামচ)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ কুঁচি (ঝাল বুঝে)
– লেবুর রস ও লেবুর চামড়ার কুঁচি (এক চা চামচ ও হাফ চা চামচ)

সস মিক্স (এটা আগেই মিশিয়ে নেয়াই ভাল)
– সয়া সস (এক টেবিল চামচ)
– ওয়েষ্টার সস (এক টেবিল চামচ)
– ফিস সস (এক চা চামচ)
– চিনি (এক চা চামচ)
– পনে এককাপ পানি

– লবন (সসে কিছুটা লবব থাকে বলে পরিমান বুঝে দিতে হবে)
– তেল
– পানি

– ধনিয়া পাতার কুঁচি (এক/দেড় টেবিল চামচ)

প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে)

ভেজষ গুলো আগেই হাতের কাছে নিন এবং ছেঁচে রেডি করে রাখুন। রান্নায় এই যোগাড়টা আগেই করে নেয়া ভাল।


চিংড়ি গুলো পরিস্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন।


ফ্রাই প্যানে এক চিমটি লবন যোগে তেল গরম করুন। লবণ শেষে দেয়ার ও দেখার সুযোগ থাকে বলে প্রথমে সব সময়েই কম লবনে রান্না শুরু করা উচিত। মনে রাখবেন, তরকারীতে লবন বেশী হয়ে গেলে তা আর খাবার উপযোগী থাকে না, রান্না যত কষ্ট স্বীকার করেই করুন, বাহবা পাবার কোন চান্সই থাকে না। (লবন কমের বেলায়ও তা বলা যায়) এটা অনেকটা ওয়ান ওয়ে, সুতারাং বুঝে শুনে। আপনার ভাল রান্নাটাও সবার কাছে বিস্বাদ হয়ে যেতে পারে!


তেল গরম হয়ে গেলে এবার ছেঁচা ভেজষ গুলো দিয়ে দিন এবং ভাল করে ভেঁজে নিন। একটা চমৎকার ঘ্রানে মন ভরে উঠবে।


এবার সস মিক্স দিয়ে দিন।


অল্প আঁচে এভাবে কষিয়ে নিন এবং তেল উঠিয়ে নিন।


এবার চিংড়ি গুলো দিয়ে দিন।


আগুন বাড়িয়ে দিন মিনিট ৫ এর বেশি রাখার দরকার নেই।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে এবং এই পর্যায়ে ফাইন্যাল লবন/স্বাদ দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ‘ওকে’ বলুন!


এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি দিন। আগুন কমিয়ে নিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। ঝোল শুকিয়ে নেয়ার দরকার নেই! (ইচ্ছা)


ব্যস, পরিবেশনার জন্য প্রস্তুত।


মাত্র ২৫/৩০ মিনিটেই এই অসাধারণ রান্নাটা করা হয়েছে। আমার ধারনা আপনি যদি আজ থেকে রান্না শুরু করতে চান, তবে এই রান্নাটা নিয়েই শুরু করুন। এর চেয়ে সহজ আর সাধারন রান্না আর কি হতে পারে।

আবারো আপনাদের শুভেচ্ছা। আমাদের সাথেই থাকুন, আসছি আরো সহজ ও মজাদার রান্না নিয়ে।

কৃতজ্ঞতায়ঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

8 responses to “রেসিপিঃ চিংড়ি কারি (থাই স্টাইল) এবং সাইটে ৬ লক্ষ হিটে আপনাদের শুভেচ্ছা ও ভালবাসা

  1. আসলেই সহজ আর লোভনীয়। অবশ্যই ট্রাই করবো … থ্যাংকস

    Like

  2. আপনিই একমাত্র ব্লগার যিনি আজও লিখে চলেছেন। একজন খাবার প্রিয় মানুষ হিসেবে আপনার হাতের রান্না খাওয়ার বিশেষ ইচ্ছা পোষণ করছি।

    Like

  3. Yes, it is a easy cooking. Thanks for your sharing.

    Like

  4. besh shohoj r kom shomoye kora jabe. Thanku Vaia

    Like

  5. অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভাল থাকুন।

    Like

  6. অসাধারণ!!!

    চিংড়ি কারীটা দেখতে দারুণ হয়েছে!! তবে আমার মনে হয় চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে নিলে বেশি ভাল হত!! আর থাই রান্নায় আমি শুকনা মরিচ এর ব্যবহার বেশি দেখলেও শুকনা মরিচের থেকে কাচামরিচ এর ব্যবহার ভাল লেগেছে। কম মশলায় এত দারুণ রান্না আমি অনেক কমই দেখেছি!! তবে আমার মনে হয় চিনি এক চামচ না দিয়ে হাফ চামচ দিলে ভালো হত।
    আঙ্কেল,টাইগার প্রন আর বাগদা চিংড়ি কি একই?? আমি প্রথমে ফেসবুকে ছবি দেখে বাগদাই মনে করেছিলাম

    অভিনন্দন আপনাকে , ছয় লক্ষ হিটের জন্য। এবং এটাও বলতে হবে বাংলা রেসিপি সাইটগুলোর একজন পথপ্রদর্শক আপনি। 🙂 আমি আগে সিদ্দিকা কবীর এবং আলপনা হাবীব ছাড়া কারো রেসিপি দেখতাম না, রেসিপি সাইট তো দূরে। কিন্তু আপনি এই বাংলা রেসিপি জগতকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন,বাংলা রেসিপির উপর আমি এখন ভরসা করতে পারছি। এইজন্য সমস্ত ক্রেডিট আপনার।

    আমি একদম প্রথম থেকেই আপনার রেসিপি ব্লগের সাথে যুক্ত আপনি জানেন সে কথা।
    আপনি রান্না বান্না ব্যাপারে আমার ধারণা পালটে দিয়েছেন!! যেখানে আমি রান্না এর ধারে কাছেও যেতাম না,সেখানে আমিও অনেক কিছুই রান্না করতে পারি 😀
    আপনার সহজ রেসিপি,স্টেপ বাই স্টেপ রান্না রেসিপিকে আরো সহজ ও বোধগম্য করেছে যেটা আমি কোনো ইন্টারন্যাশনাল রেসিপি ব্লগেও দেখিনি!!

    আপনি অবশ্যই প্রশংশার দাবিদার

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Like

  7. (ধন্যবাদ সালেহ ভাই। আপনার ছবির লিঙ্কটা এখানে রেখে দিলাম।)
    Rubaii Saleh আপনার রেসিপি দেখে বানিয়েছি। অসাধারণ হয়েছে!

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s