গ্যালারি

কপালে থাকলে ঠেকায় কে?


অফিসে প্রতিদিন দুপুরে মোটামুটি একটা নিদিষ্ট খাবার খেয়ে থাকি। আগে খেতাম একটা নিদিষ্ট হোটেলে যেয়ে, রুটি এবং মুগের ডাল! এখন আর হোটেলে যাই না, একজন রান্নাকারী রান্না করে আমাদের বিল্ডিং এর কয়েকজনের জন্য খাবার নিয়ে আসেন। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্প্রতিবার আমরা উনাকে টাকা দিয়ে দেই। সারা সপ্তাহ তিনি এই টাকা দিয়ে বাজার করেন এবং আমাদের খাবার দিয়ে যান। একপ্লেট ভাত আর একটা ভাজি, সাথে থাকে পাতলা ডাল এবং মাছ মাংশের যে কোন একটা তরকারী। তবে আজকাল তিনি এত ঝাল দিচ্ছেন যে, আমি পারলে না খেয়ে থাকি! ঝালের কথা বললে তিনি হাসেন! অথচ ভাত খেয়ে বিকাল এবং কোনদিন সন্ধ্যা নাগাত আমার হাতের আঙ্গুল জ্বলতে থাকে! আমি অবশ্য উনাকে এখনো বলি নাই যে, আমি নিজে কিছু রান্না করতে পারি এবং আমার হাতের রান্নাও স্বাদের হয়! হা হা হা।।

রান্নায় ঝাল ব্যাপারটা এমন যে, একেক মানুষ এটা এক একেক ভাবে সহ্য, গ্রহন বা বর্জন করতে পারে। তবে যোয়ান বয়সে নারী পুরুষের জন্য তরকারীতে ঝাল কোন ব্যাপার না কিন্তু বয়স বাড়লে ঝাল একটা মারাত্বক বিষয় হয়ে দাঁড়ায়! সকালে তরকারীতে ঝাল হলে এবং হাত দিয়ে সেটা মেখে খেয়ে বের হলে বিকাল নাগাত হয়ত আপনার হাতের আঙ্গুল জ্বলবে! আর মাঝে মাঝে হয়ত কাজ ফেলে ওয়াসরুমে গিয়ে বসে থাকবেন বা বার বার যাবেন! না পারবেন পাবলিককে কিছু বলতে, না পারবেন সইতে! আলসার, গ্যাস্ট্রিক, আইলস, পাইলস বাঁধিয়ে হয়ত কঠিন সময় পার করবেন! (আরো অনেক কথা আছে, সময়ে বলে যাব। খাইয়েও কাউকে সহজে মেরে ফেলা যায় এবং এটার উদাহরন আপনিও হয়ে যেতে পারেন।)

যাই হোক যা বলছিলাম, অফিস আদালতের খাবার নিয়ে! দুপুরের খাবার এখনো আমাদের দেশে তেমন করে গড়ে উঠে নাই। যে যেভাবে পারে সেভাবেই চলছে এখনো। এটা আসলে হতে পারে না!

ছবিটা গুগল থেকে নেয়া। মুম্বাইয়ের ডাব্বা সিস্টেম! আমাদের দেশে কোন সিসষ্টেমই কাজ করে না!

যাই হোক, আজ দুপুর খাবার এসেছিল। খাবারে বসার আগে একজন বন্ধু ফোন করে জানালো, চলে আসো, কিছু খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। ব্যস, অফিসের ধারে কাছে হওয়াতে রাওয়ানা হয়ে গেলাম। এ যে এলাহি কারবার!
১। মোরগ পোলাউ
২। সালাত
৩। টিকিয়া
৪। খাসির রোজালা
৫। বোরহানী (ছবিতে নাই)
৬। জদ্দা (ছবিতে নাই)


মোরগ পোলাউ।


লেবু, মরিচ, পেঁয়াজ!


টিকিয়া।


খাসির রেজালা।


আমাদের খাবারের বেঠক।


বিয়েশাদীতো অনেক খেলাম, খাচ্ছি! গতরাতেও খেয়েছি কিন্তু গতকাল দুপুরে বন্ধুর বাসায় এদের সাথে খেয়ে যে আনন্দ পেলাম তা ভুলতে পারছি না!

আমাদের আরো কয়েকজন বন্ধু এসেছিল। অনেকক্ষণ আডা হয়েছে, বিকেলের চা পানিও ছিল জমজমাট। ওর জানালা দিয়ে ভালই আকাশ মাটি দেখা যায়।


ওয়ানওয়ে! তার পরেও দেখুন আমরা চলছি কি করে! (ছবিটা ৯ম তলা থেকে তোলা, জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়েই এবং তখন বেলা সাড়ে তিনটার আশপাশ হবে হয়ত, বেইলী রোড।)

আসলে কপালে থাকলে ঠেকায় কে? কে কখন কোথায় খাবে কে জানে? মাঝে মাঝে এমন খাবার দাবার মন্দ নয়!

Advertisements

4 responses to “কপালে থাকলে ঠেকায় কে?

  1. সুলতানা জামান

    ভাল বন্ধু পাওয়া ভাগ্য।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s