Gallery

রেসিপিঃ শুকনা শিমের বিচি ও পুঁই শাক (নিরামিষ)


সত্যিকার ভাবে চিন্তা করে দেখেছি! আমি হতে চেয়েছিলাম, একজন লেখক কিংবা লেখালেখির সাথে জড়িত কোন একজন। পিতামাতার সামান্য কিছু বাঁধা অতিক্রম চলছিল, বিদেশ গমনে কিছুটা থমকে দাঁড়ালেও এগিয়েছিলাম। এমনি সময়ে বিবাহ করে বুঝতে পারলাম, লেখা সাহিত্য সংস্কৃতাঙ্গনে আর যাওয়া চলে না, স্ত্রীর বাঁধার কাছে টিকে থাকা দায় হল (বিবাহই মৃত্যুর প্রথম বীজ বপন করে দিল)! প্রথম ছেলে হল, পিতা হলাম, এমন সময়ে অনলাইনে/ব্লগে সময় দিচ্ছিলাম, আরো অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয় রেসিপি নিয়ে লিখতে শুরু করলাম ‘গল্প ও রান্না’, নিজে রান্না করে কিছুটা আনন্দ ও সারা দুনিয়া বাংলা ভাষাভাষি মানুষের ভালবাসা পেতে শুরু করলাম! সময় কাটছিলো আনন্দে! এবার ২য় ছেলের পিতা হলাম! এখন আর সামান্য নেটেও বসতে পারি না! স্ত্রী, দুই পুত্রের জন্য সময় ও অর্থের চাহিদা মিটাতে এখন বার বার মনে হয়, বেঁচে থাকতে চাইলে শুধু টাকা রুজি কর নতুবা মরে যা! অথচ এই টাকা রুজিটাই আমার সব চেয়ে অপছন্দের কাজ! এতএব মৃত্যুই কাম্য! (কি করে একজন প্রানবন্ত মানুষ মরে যায়, আমার উপর সেটার গবেষনা করা যেতে পারে!)

সে যাই হোক, মন খারাপের কিছু নাই! এবং কিছুটা হলেও এগিয়ে যেতে হবে, দেখা যাক কতদিন টিকে থাকতে পারি। আপনাদের ভালবাসা থাকলে আর কি লাগে! চলুন আজ একটা সহজ এবং চরম স্বাদের রান্না দেখে ফেলি, শুকনা শিমের বিচি ও পুঁই শাক (পুরাই নিরামিষ রান্না, যে কেহই খেতে পারবেন)। তবে বলে নেই, এই রান্না গুলো আমাদের দেশ থেকে বলতে গেলে হারিয়ে যাচ্ছে, এই সব কম্বিনেশনের রান্না এখন আর তেমন রান্না হয় বলে আমার জানা নেই। হয়ত আমাদের দরিদ্র পরিবার গুলোতে এই রকম রান্না এখনো কিছুটা টিকে আছে! মধ্যবিত্ত এবং বিত্তবান পরিবারের এখন আর এমন রান্না হয় না বলেই আমার অভিজ্ঞতায় বলা চলে! চলুন, দেখে নেই।

উপকরণঃ
– পুইশাক, ১ কেজি খানেক বা কম
– শুকনা শিমের বিচি, হাফ কাপ (রান্নার পর মনে হয়েছে এক কাপ দিতে পারলে আরো ভাল হত)
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ
– আদা বাটা, এক টেবিল চামচ
– রসুন বাটা,  এক টেবিল চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে কম বেশী)
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– লবন, পরিমান মত (প্রথমে কম দিয়েই রান্না শুরু করতে হবে)
– চিনি, হাফ চা চামচ (এটা আপনার ইচ্ছা, না দিলে নাই, তবে দিলে স্বাদ বাড়াবে)
– তেল, ৩/৪ কাপ (কম বেশি)
– পানি

প্রনালীঃ

শুকনা শিমের বিচি রান্না করতে হলে প্রথমে ভেঁজে নিতে হয়। এর পর খোসা ছড়িয়ে নিতে হয়, এটা দুইভাবে করা যায়।


খোসা ছাড়ানোর পর পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। শুকনা শিমের বিচির খোসা ছড়াতে এই পোষ্ট দেখে নিতে পারেন। রেসিপিঃ শুকনা সিমের বিচি রান্নার জন্য প্রিপারেশন


এবার মুল রান্নায় আসুন। সাধারন রান্নার মতই। কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি, আদা, রসুন এবং কয়েকটা কাঁচা মরিচ ভেঁজে নিন (ঝাল কম থাকায় আমি একটু বেশী কাঁচা মরিচ দিয়েছি, আপনাদের রিক্স নেয়ার দরকার নেই)।


ভাঁজা হয়ে গেলে হাফ কাপ পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন। আগুন মধ্যম আঁচে থাকবে।


এবার হলুদ ও মরিচ গুড়া দিন এবং ভাল করে কষাতে থাকুন।


এক সময়ে তেল উঠে আসবে।


এবার খোসা ছড়ানো শিমের বিচি (যা আগেই ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল) দিন।


কম আগুনে কিছু সময়ে কষান। শিমের বিচি নরম না হলে আরো কিছু পানি দিয়ে আবারো আগুনে রাখতে পারেন। শিমের বিচি নরম হয়ে যাবে এবং দারুন একটা ঘ্রান ছড়াবে।


এবার পুঁইশাক (যা আগেই কেটে পরিস্কার করে রাখা হয়েছে) দিয়ে দিন।


আগুনের আঁচ মধ্যম থাকবে। শাকের উপরে চিনি দিয়ে দিন এবং ঢাকনা দিয়ে মিনিট পাচেক রাখুন।


ঠিক এমন হয়ে যাবে, এবার আর ঢাকনা দেবার দরকার নেই। শাক থেকে বের হওয়া পানি উড়ে যেতে দিন। মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না!


তবে ঝোল কেমন রাখবেন সেটা আপনি নিজে ভেবে নিন।


ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিয়ে নাড়িয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চুলা বন্ধ করে দিন।


ব্যস হয়ে গেল পুঁইশাক এবং শিমের বিচির নিরামিষ রান্না। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। (আমি ঝোল পছন্দ করি)


বলুন, খাবেন কি না!

বিশ্বাস করুন, দারুন স্বাদের এক মজাদার এবং সহজ রান্না। জীবনে একবার খেলে বার বার খেতে ইচ্ছা করবেনই।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি, আগামীতে আরো নুতন নুতন রান্না নিয়ে তবে অবশ্যই সধারন এবং সহজ। যারা নুতন রান্না করছেন, আসুন না। কি আছে এই জীবনে!

6 responses to “রেসিপিঃ শুকনা শিমের বিচি ও পুঁই শাক (নিরামিষ)

  1. সুলতানা জামান

    সাধারন শিমের বিচির আমার প্রিয় খাবার।

    Like

  2. Vaia apnar beler shorbot aajke kaler konthe post korse.

    Like

  3. Vaia amar fbte share korsi. Apni dekhben. Linkta khuje pachsi na. Sorry. Amar fb id: umme.hafej.muaz

    Like

  4. ভাই, ইংরেজি নাম এবং nutrition fact সাথে থাকলে পোস্ট আরও উপকারি হত।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s