Gallery

রেসিপিঃ তেলাপিয়া ফ্রাই (ফিস চিপস)


আপনারা যারা আমার পরিচিত আছেন তারা অনেকেই জানেন যে, আমি সন্ধ্যায় বেইলী রোডে আড্ডা দেই। বেইলী রোডের এই পুকুরের ঘাটে বসে সময় কাটে আমাদের। আড্ডা, গল্প গুজব, চা পানি এবং সাথে চলে ফিসিং, মাছ ধরা। আমাদের বন্ধু শ্যামল মাছ ধরাতে ওস্তাদ মানুষ। আমরা আড্ডা দিলেও তার মনোযোগ থাকে মাছ ধরার দিকেই। আবার মাছ ধরে যে সে সব নিয়ে যায় তা নয়, এক এক দিন একেক বন্ধুকে মাছ দিয়ে দেয়, মাঝে সাঝে নিজেও নিয়ে সাথে সাথে রান্না করে খায়! হা হা হা। কয়েকদিন আগে এমনি আমার ভাগেও সে দিনের মাছ ধরা পড়েছিল। রাতে বাসায় ফিরে আমিও সেই মাছ ভেজে খেয়েছিল। তাজা এবং নিজদের ধরা মাছ, আহ কি আনন্দ! যাই হোক, একটা গল্প বলে রেসিপিতে চলে যাই।

আমাদের এক বন্ধু ছোট পাপ্পু কয়েকদিন আগে ঘাটে এসেছিল আড্ডা দিতে। আড্ডার ফাঁকে একটা বড় তেলাপিয়া ধরে ফেলে শ্যামল, সেটা সে বাসায় পাঠিয়ে দেয় (ওর বাসা বেইলী রোডেই) এবং এখুনি মানে রাতে খাবারের জন্য রান্না করতে বলে, তাজা তেলাপিয়ার স্বাদ আলাদা। কিছুক্ষন পর ছোট পাপ্পুর স্ত্রী ফোন দেয়, ফোনে সে তার স্ত্রীকে জানায়, সে বেইলী রোডে ঘাটে আছে এবং মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত (এটা আমাদের সব বন্ধুদের স্ত্রীদের জানান দেয়া কথা!)। ফোনে পাপ্পুর স্ত্রী হয়ত বলেছিল, মাছ পেলে নিয়ে এসো! এটা শ্যামল বুঝতে পারে কিন্তু পাপ্পুকে মাছ দেয়ার মত মাছ তখনো ধরা পড়ে নাই। রাত প্রায় ১০টা বাজে, পাপ্পুও চলে যেতে চায়, শ্যামল বলে, বয় বয়! ঠিক মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই প্রায় কেজি খানেক ওজনের একটা তেলাপিয়া ধরা পড়ে! হা হা হা, একেই বলে ভাগ্য! ছোট পাপ্পু মাছটা নিয়ে বাসায় ফিরে! ওর স্ত্রী নিশ্চয় এই মাছ দেখে আনন্দিত হবে!  আড্ডা দিয়ে মাছ হাতে বাসায় ফিরলে স্ত্রীরা আর কিচ্ছু বলে না! বুঝতে পারে ছেলে জায়গামত ছিল!

আমাদের হুমায়ুন আহমেদের মাছ ধরার দৃশ্য!

যাই হোক, আমি দুটো মাছ পেয়েছিলাম। একটা তেলাপিয়া এবং অন্যটা বাচ্ছা মাছ ছিল। আমি তেলাপিয়াটার কিছু দিয়েই এই রেসিপি বানিয়েছি। মাছ ভাঁজা বা ফিস চিপস বলতে পারেন। আসলে আপনি চাইলে, যে কোন বড় মাছ দিয়ে এভাবে ফিস চিপস বানিয়ে খেয়ে পারেন। দারুন স্বাদ। মাছের টুকরা গুলো আপনি আপনার ইচ্ছানুযায়ী কেটে নিতে পারেন, ছোট বা বড়।

উপকরনঃ
– কয়েক টুকরা তেলাপিয়া (আমি ওজন নেই নাই তবে ৪৫০/৫০০ গ্রাম হতে পারে)
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– গুড়া মরিচ, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– সয়া সস, এক টেবিল চামচ
– ওয়েষ্টার সস, এক চা চামচ
– টমেটো সস, এক টেবিল চামচ
– চিনি, হাফ চা চামচ
– ভেসেল লীফ (তুলসী পাতার গুড়া, এটা আপনার ইচ্ছা, আমাদের আছে বলে আমরা দেই, শেষ হয়ে গেলে আর দেব না)
– লবন (হাফ চা চামচ বা কম)

(মশলা পাতি আপনারা চাইলে এদিক সেদিক করতে পারেন তবে মুল কনসেপ্ট ঠিক রাখলেই হল)

– একটা ডিম
– কিছু ময়দা (মাখিয়ে নেয়ার জন্য)
– তেল, ভাঁজার জন্য যত টুকু লাগে, চাইলে আপনি আরো কম তেলে ভাজতে পারেন।

প্রনালীঃ

এই সেই দুটো মাছ! তেলাপিয়া আর বাচ্ছা মাছ। তেলাপিয়াটা কেজি খানেক হবেই!


ইচ্ছানুযায়ী পিস করে উল্লেখিত মশলা গুলো দিয়ে নিন।


ভাল করে মিশিয়ে মেখে নিন।


মাছ গুলো ঢেকে ঘন্টা খানেক ফ্রীজে রাখুন।


একটা ডিম ভেঙ্গে গুলিয়ে নিন। কিছু ময়দার গুড়া নিন।


মাছকে প্রথমে ময়দা গুড়ায় মাখিয়ে ডিমে চুবিয়ে নিন।


এবার তেল গরম করে ভাঁজুন। ডুবো তেলে ভাঁজতে পারেন, আবার কম তেলেও ভাঁজা জেতে পারে।


এক পিঠ হয়ে গেলে অন্য পিঠ উলটে দিন।


ভাঁজা কেমন হলে ভাল লাগবে সেটা আপনি নিজে নির্ধারন করুন।


মাছের ভিতরটা সিদ্ধ হয়ে যাওয়া জরুরী।


পরিবেশনের জন্য তুলে নিন।


আসাধারন স্বাদ। ভাঁজতে ভাঁজতেই কয়েক টুকরা পেটে চলে যাবে, আপনি নিজেও টের পাবেন না।

যে কোন বড় মাছ দিয়ে এভাবে আপনারা ফ্রাই খেতে পারেন, ছোট বা স্লাইস করে কাটলে চিপস এর মত করেও ভাঁজতে পারেন। বিকালের নাস্তায় শিশুরা এইভাবে চিপস নিশ্চয় পছন্দ করবে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ বন্ধু এনামুল গনি শ্যামল ও স্ত্রী মানসুরা হোসেন।

রেসিপিঃ ফিস চিপস (ফিস ফ্রাই)

রেসিপিঃ ফিস চিপস

Advertisements

4 responses to “রেসিপিঃ তেলাপিয়া ফ্রাই (ফিস চিপস)

  1. Vaijan, Apnare Hotel malik somitee kujtase……….”Uttom Moddom” kisu deyar jonno…. Jevabe recipe ditesen manush ar khaoar jonno Hotel jabe na…..Hotel bebsar lal bati jalaben….. Ha ha.ha…. Take care.. Radowan

    Liked by 1 person

  2. সুলতানা জামান

    ভাইয়া, এমন একটা মাছ পুরাই ফ্রাই করে এক বেলা আর অন্য কিছু না খেলেই হল!

    Liked by 1 person

  3. eta mone hoy try kore dekhbo bajar theke 2 ta mach kine

    Like

  4. kom kata owla mach holy aro testi hoby r baccha ra o khety parby.thanks

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s