গ্যালারি

আড্ডাঃ চাচীমায়ের কারনে সামান্য ভোজ


আজকাল রেসিপি লিখতে পারছি না। হাতে কিছু রান্না আছে, সেগুলো গুছিয়েও তুলে দিতে পারছি না। অনেক কারনের মধ্য উল্লেখ যোগ্য হল দুইটা। এক – নিবিরিলি সময়, দুই – ফেসবুক। রেসিপি লিখতে গেলে নিরিবিলি সময়ের প্রয়োজন, ভুল না করে শুদ্ধ করে, সব কিছুর পরিমান তুলে দিতে হাতে ভাল সময় থাকা দরকার, সেটা এখন অফিসে বা বাসায় পাচ্ছি না! অফিসে এই ধরনের কাজ ভাল দেখায় না, আর বাসায় এখন বসলেই স্ত্রী, ছেলেদের কাউকাউ হাউহাউ! জীবনের আর কোন দিক খুঁজে পাচ্ছি না। সব সময়েও যে আবার হুট করে লিখে ফেলা যায় এটা আমার স্ত্রীকেও বুঝাতে পারি না, তবে আশাবাদী যে, আপনাদের বুঝাতে পারবো! হা হা হা! আর অন্য কারন ফেসবুক! ফেসবুক আসলে একটা নেশার নাম! একবার ফেসবুকে লগ-ইন হলে সময় কি করে চলে যায় টের পাওয়া যায় না! তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি, আপনাদের ভালবাসায়।

তবে আজকাল রেসিপি লেখার চেয়ে খাবার দাবারের ছবি দিতেই বেশি ভাল লাগছে! গত কয়েক মাসে দেশে বিদেশ অনেক খাবারের ছবি জমা আছে হাতে, কিছু দিয়ে ফেলেছি আর কিছু দিতে হবে। গত কয়েকদিন আগে বাসায় আমাদের এক চাচীমা বেড়াতে এসেছিলেন, আমি উনার কাছে রেসিপির জন্য মাঝে মাঝেই ফোন করি। রান্নায় কোন সমস্যা পড়লেই উনাকে ফোন করে বিরক্ত করি। তিনি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমার এই চাচীমাকে আমরা লিলি চাচীমা ডেকে থাকি, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী। আমার চাচা স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি জেড ফোর্সের সাথে সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তিনি এখনো বেঁচে আছেন এবং আমাদের যে দুই চাচা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন তার মধ্যে তিনি বেঁচে আছেন এবং তিনি গার্ড অফ অনার পাবেন মৃত্যুর পর। তবে এই দেশের প্রায় বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধার মতই তিনি আছেন, সরকারী কোন আর্থিক সুযোগ নেন নাই কিংবা মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙ্গিয়ে কোন কাজ করেন নাই। তিনি যুক্তি দেখান, কিছু পাবার আশায় যুদ্ধ করেন নাই! এই মুক্তিযোদ্ধাকে স্যালুট না করে উপায় নেই।

যাই হোক, চাচীমার আগমন উপলক্ষে আমরা কিছু খাবারের আয়োজন করি। আজ আপনাদের সেই খাবার গুলোর ছবি দেখাতে চাই। চলুন দেখে ফেলি।


শসা।


সালাত।


আমের আচার।


সবজি, তবে এটা দেখতে ভাল না হলেও খেতে স্বাদ হয়েছিল।


গরুর গোসত।


মুরগীয়া!


সাদা ভাত।


পোলাউ।


সাধারন পরিবেশনা।


আমার ছোট ভাই। সেই একমাত্র আমাদের মাঝে যে এখনো ভাল খেতে পারে! হা হা হা, খাবার দাবারের ব্যাপারটা ওর কাছে ‘কোপানো’! খেয়ে বসলেই ও অন্যদের বলে ‘কোপাও’! এবং মজার ব্যাপার খেতে বসলেই ও এমন কোন ব্যাপারে আলাপ তুলত যে, আপনি হেসেই খুন হবেন, খেতে পারবেন না। আম্মা প্রায় বলতেন, খেতে বসলেই তোর যত বাজে কথা! (সেই দিন গুলো হারিয়ে গেছে)


আমাদের অন্যান্য মেহমানগন! ওরা কয়েকজন দুষ্টু! — with Ajmain Udraji.

মাঝে মাঝে এভাবে আত্বীয় স্বজন না এলে ভাল লাগে না! তবে ঢাকায় ডাকা পড়ে যাচ্ছি। কোথায়ও প্রান খুলে যেতে পারি না, কাউকে বলতেও পারি না! প্রান বাঁচানো দায় হয়ে পড়ছে!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আসছি, নুতন নুতন রেসিপি নিয়ে!

Advertisements

2 responses to “আড্ডাঃ চাচীমায়ের কারনে সামান্য ভোজ

  1. সুলতানা জামান

    দারুন হয়েছে।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s