গ্যালারি

থাইল্যান্ডঃ আল-হোসাইন রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকক (বাংলাদেশীদের মিলন মেলা!)


থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক গিয়েছেন এবং সুকুম্ভিত সয়াই থ্রীতে আড্ডা দিয়েছেন কিন্তু আল-হোসাইন রেষ্টুরেন্টে খাবার খান নাই, তা হলে বিরাট ভুল হয়ে যাবে! এটা আমি এই জন্য আপনাদের বললাম যে, আমি এই হোটেলে অনেকবার খেয়েছি এবং দেখেছি যে, বাংলাদেশের অনেক লোক এই হোটেলে খাবার খায়। বেশ কয়েকজন বিখ্যাত লোককেও আমি এই হোটেলে আড্ডা ও খাবার খেতে দেখেছি। এবারেও দেখে এলাম অনেক বাংলাদেশী। আর পরিচিত চোহারার মধ্য এবার আমাদের চোখে পড়লো সিনেমা পরিচালক আমজাদ হোসেনকে। তিনি হোটেলের ভিতরের অংশে ছিলেন, বের হতে উনাকে দেখে আমি সালাম দেই এবং জানতে চাই কেমন আছেন? তিনি স্বাভাবিক হেসে বললেন, ভাল আছেন। আমাদের দিকে ভাল করে দেখে জানতে চাইলেন, আমরা কেমন আছি। এর পর তিনি এগিয়ে চলে গেলেন, আমরা আমাদের খাবারে মন বসাই!

আর আশে পাশে বাংলা কথার ফুলজুরি তো শুনতেই পাবেন। এবার বাংলাদেশের আর একটি পরিবার দেখলাম, গুলশান বনানীর বাসিন্দা হতে পারে! পরিবারের সবার চেহারা বেশ নাদুস নুদুস, বুঝা যায় দেশে অনেক টাকা কড়ি কামিয়েছেন এই পরিবারের প্রধান। বেশ চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো। বাংলাদেশের মেয়েরা বিদেশ গেলে খুব খুলে যান, যা ইচ্ছা তা পরেন! হা হা হা।

এবার এই হোটেলের ব্যাপার নিয়ে কিছু কথা, যা কতদুর সত্য জানি না। এই হোটেলের মালিক একজন বাংলাদেশী তরুণ (হতে পারে ৪৫/৫০ বছরের), স্ত্রী থাই! এবার আমি উনাকে দেখেছি, তবে কথা বলি নাই কারন তিনি একটা কাউন্টারে ব্যস্ত ছিলেন এবং কাজ করছিলেন নিজ হাতে। তিনি আগে এই হোটেলে কাজ করতেন এবং এক সময়ে মালিক বিক্রি করতে চাইলে তিনি নিয়ে নেন এবং সেই থেকে হোটেল সেই স্টাইল এ চলছে বটে তবে মধ্যপ্রাচ্যের আরবী লোকদের চাহিদার সাথে সাথে বাঙ্গালীদের চাহিদাকে তিনি খুব সুন্দর করে যোগ দিয়েছেন। হোটেল ব্যবস্থাপনায় তিনি নানান ভাষাভাষীদের নিয়োগ দিয়েছেন, ওয়েটার রা গোষ্ট দেখে হাজির হয়। এতে লোকে নিজ ভাষায় কথা বলে খাবারের ওয়ার্ডার দিতে পারে, প্রতারিত বা হারাম/হালাল মেনে খেতে পারেন। বাংলাদেশী গোষ্ট টেবিলে বসলেই বাংলাদেশী কেহ এসে বলবে, কি খাবেন? তখন ভাল না লেগে কি পারা যায়! বিদেশের মাটিতে বাংলা কথা শুনলেও ভাল লাগে!

এই হোটেলে বেশ কয়েকবার খেতে খেতে এখন আমরাও অনেককে চিনি। টেবিলে বসলেই ওরা এসে কথা বলে এবং নানান কথা। আমার বন্ধু শ্যামলকে তো অনেকে চোহারাই চিনে! যাই হোক, যারা ব্যাংকক গিয়েছেন, চিকিতসা করিয়েছেন ব্রামনগ্রাদ হসপিটালে তারা এবং তাদের এটেন্ডেন্ট অনেকেই নিশ্চয় এই রেষ্টূরেন্টে খেয়েছেন। ফেবুতে এই রেষ্টূরেন্টের খাবারের ছবি পোষ্ট করাতে দেখলাম, কয়েকজন চিনে ফেলেছেন। এই ব্লগের পুরানো একটা পোষ্ট দেখলাম, একজন লিখেছেন, ব্যাংককের বেষ্ট বাংলা খাবারের হোটেল, আল-হোসাইন। আমিও তা মনে করি। এদের কাছে বাংলা ভর্তা থেকে শুরু করে বাংলা অনেক খাবার পাওয়া যায়, যা খেলে মনে হবে আপনি দেশে বসেই খাচ্ছেন! চলুন, দেখে ফেলি!


সয়াই থ্রীর এমনি একটা গলিতে এই রেষ্টুরেন্টের অবস্থান। সন্ধ্যা এবং রাতেই এই রেষ্টুরেন্ট জমে উঠে। অনেক সময় বসার জায়গা পাওয়াই মুস্কিল হয়ে পড়ে!


বসলেই আপনার জন্য পানির ব্যবস্থা হয়ে যাবে!


পরেই এসে যাবে সালাত, গত বছর যেমন সালাত দেখেছি এবারেও তেমন! (যেমনটা বাম্বু রেষ্টুরেন্টে দেখেছিলাম)


আল-হোসেনের বিখ্যাত চাটনী! ঝালে লালা ঝরিয়ে দেবে!


আমরা কিন্তু মেনু দেখে ওর্ডার দেই নাই, মুখে মুখেই! কাজে কাজেই আলু ভর্তা না থেকে কি পারে! আল-হোসেনের আলু ভর্তাও একটা বিশেষ নাম করে নিয়েছে।


এবার আমাদের বিশেষ পছন্দ ছিল টেমেটো পেস্টে তাজা তেলাপিয়া ভুনা (এই খাবার রান্নায় প্রায় ৩০ মিনিট সময় নিয়েছিল)। ছবিটা ভাল উঠাতে পারি নাই, তেলাপিয়াটা কেজি খানেক ওজনে হবেই!


সাদা ভাত।


আলু ভর্তা দিয়ে শুরু হয়ে গেল!


আহ, তেলাপিয়া!


এই খাবারে বাংলাদেশের বাংগালী কিংবা কলকাতার বাংগালী খুশি না হয়ে কি পারবে!

আমরাও খুশি হয়েছিলাম। একটা কথা না বললেই নয়, এই রেস্টুরেন্টের ওয়েটার গুলোর কয়েকজন বেশ ভাল। তারা চেষ্টা করে খাবারের সঠিক বর্ননা দিয়ে গেষ্টকে কম খরচে ভাল খাবার দিতে। যেমন ধরা যাক, অন্য কোন হোটেল হলে হয়ত এটা বলার প্রয়োজন মনে করত না, আর আমরা দুইজনে দুটো তেলাপিয়ার ওর্ডার দিয়ে দিতাম। কিন্তু ওয়েটার জানালো বেশ বড় তেলাপিয়া, দুইজনে একটা খেয়ে শেষ করতে পারবেন না!

এবারের আমরা আরো একদিন রাতে  রুটি ভাজি খেয়েছিলাম (ছবি গুলো পাচ্ছি না! মোবাইল থেকে কি করে হাওয়া হল, বুঝতে পারছি না!)। ওয়েটার জানালো, এক বাটি সবজি দিয়েই দুইজনে খেয়ে উঠতে পারবেন! আমরা মুগডালের বাটির যে ওর্ডার দিয়েছিলাম সেটা সেই বলছিলো অতিরিক্ত হবে, খেতে পারবেন না! হা হা হা, সত্য কথা ছিল!

বিদেশে বাংলাদেশীদের সাফল্য দেখলে মন ভরে যায়! আমি আশা করি একদিন দুনিয়ার সব খাবারের রেস্টুরেন্টের মালিক হবে বাংলাদেশীরা! আমার চাওয়া পূরন হচ্ছে বেশ কয়েক দেশে, ইউরোপ আমেরিকার এখন অনেক বড় বড় রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশীরাই! হা হা হা।

থাইল্যান্ডঃ রাজধানী রেস্টুরেন্ট (থাইল্যান্ডে বাংলা খাবারের সব চেয়ে খারাপ হোটেল)

Advertisements

6 responses to “থাইল্যান্ডঃ আল-হোসাইন রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকক (বাংলাদেশীদের মিলন মেলা!)

  1. বাংলাদেশের মেয়েরা বিদেশ গেলে খুব খুলে যান, যা ইচ্ছা তা পরেন! হা হা হা। khub e sotto kotha vi …………
    like it

    Liked by 1 person

  2. সুলতানা জামান

    ভাইয়া, যতদুর মনে পড়ে এই হোটেল নিয়ে আপনার আগেও লেখা দেখেছিলাম।

    Like

  3. amar mone hoi je kono desher bashinda hon na keno,zodi bideshe zaan tobe pls nijer desher khabar khaben na, ta hole bideshe keno gelen apnar deshei to khabar gulo pawa jai, bideshe gele oder desher khabar khawar chesta korun (tobe Halal Dekhe) ta hole apnar ekta shundor obhigata hobe. ami kichuta ai bhabe bolte chai ” JIBON JOKHON JEKHANE JEMON TOKHON SHEIKHANE TEMON”

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s