Gallery

রেসিপিঃ ঘিলু ফ্রাই (ব্রেন কাবাব)


কয়েক বছর আগের কথা আমরা রাত হলেই ঢাকার নানান হোটেলে নানা পদের খাবার খেতাম। আমরা কয়েক বন্ধু মিলে সন্ধ্যার পর বের হয়ে পড়তাম। একবার এক বন্ধুর পরামর্শে আমরা মিরপুরের বেনারসি পল্লীতে গেলাম, সেখানে শওকত নামের একজন একটা কাবাবের দোকান চালান, নাম শওকতের কাবাব। নানা পদের কাবাবে তার দোকান ভর্তি ছিল। রাত সাড়ে নয়টার পর গেলে নাকি আর খাবার মিলে না। আমরা যেয়েই কাবাবের ওয়ার্ডার দিলাম, কত পদের কাবাব ছিল সেটা এখন আর মনে করতে পারি না। তবে দুটো কাবাবের কথা এখনো ভূলি নাই, একটা হচ্ছে ব্রেন কাবাব, অন্যটা হচ্ছে ক্ষীরি কাবাব। ব্রেনটা বুঝা গেলেও ক্ষীরিটা বুঝতে পারছিলাম না, পরে জানলাম, সেটা হচ্ছে ছাগলের ওলান দিয়ে বানানো কাবাব! হা হা হা, দুনিয়াতে কত যে খাবার আছে।

যাও হোক, আমার মনে পড়ে তখন খাবারের দাম খুব কম ছিলো। আমরা শওকত সাহেবকে পেয়েছিলাম, তিনি নিজেই আমাদের ভেজে পরিবেশন করছিলেন। আমাদের সাথে আলাপে মিলে গেলে কত কি বলছিলেন। বলছিলেন, উনার ওখানে কাবাব খেতে দেশের ধনী গরীব সবাই আসে, আসে নামকরা ব্যক্তিও। সিনেমার নায়ক নায়িকা (তখন আমাদের দেশের সিনেমার প্রশংসা ছিল) কি করে গাড়িতে বসে কাবাব খেত তার বনর্না শুনে আমি অবাক হয়েছিলাম। কাবাব নিয়ে উনার দোকানে মারামারিও হয়েছিল কয়েকবার! হা হা হা। দেরীতে এসে কাবাব চাইলে তিনি দিতে পারতেন না বলে অনেকে মনেকষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরতেন!

যাই হোক, এখনো এই দোকান আছে কি না জানি না, শওকত সাহেব আছেন কি না কে জানে। অনেকদিন মিরপুরে যাওয়া হয় নাই, মিরপুরে যাবার কথা মনে হলে রাস্তায় বসে কান্তে ইচ্ছা হয়! যানযট, তার উপর মানুষ আর মানুষ! মিরপুরে মনে হয় ঢাকার অর্ধেক মানুষ বসবাস করে!

অনেক দিন আগের খাওয়া এই ব্রেন কাবাবের কথা মনে থাকায় কয়েকদিন আগে আমি আমার ব্যাটারীকে (বুলেট, ব্যালটের মাদার) জানালাম, আমি এইভাবে ব্রেন কাবাব বানিয়ে খেতে চাই। তিনি প্রথমে আমাকে বললেন, মাখিয়ে গোল গোল করে তেলে ভেজে এই কাবাব বানাতে, আমি জানালাম, না আমি খেয়েছি ব্রেন কাবাব যেভাবে সেভাবেই বানাবো। কাজেই কাজে লেগে গেলাম। এই কাবার তৈরীতে আমার ব্যাটারী ভাল চার্জ দিয়েছেন!

চলুন দেখে ফেলি। তেমন কঠিন কাজ নয়!

উপকরনঃ
– একটা গরুর মগজ (আমি ওজন নেই নাই তবে ৪০০/৪৫০ গ্রাম হতে পারে)
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– গুড়া মরিচ, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– সয়া সস, এক টেবিল চামচ
– ওয়েষ্টার সস, এক চা চামচ
– টমেটো সস, এক টেবিল চামচ
– চিনি, হাফ চা চামচ
– বেসল লিফ (ড্রাই) [তুলশী]
– লবন

(মশলা পাতি আপনারা চাইলে এদিক সেদিক করতে পারেন তবে ব্রেনের মুল কনসেপ্ট ঠিক রাখলেই হল)

– একটা ডিম
– কিছু সুজি (ওজন নেই নাই, তবে একটু গাঢ় করতে হয়েছিল বলে বেশী লেগেছিল)
– তেল, ভাঁজার জন্য যত টুকু লাগে, চাইলে আপনি আরো কম তেলে ভাজতে পারেন।

প্রনালীঃ

এটাই ব্রেন বা ঘিলু! না থাকলে দুনিয়া অচল!


ভাল করে ধুয়ে নিয়ে বড় বড় টুকরা করে কেটে নিয়েছি।


যতদুর সম্ভব পরিস্কার করার করা হয়েছে।


এবার উল্লেখিত সব মশলা (প্রথম ধাপের) মশলা গুলো দেয়া হয়েছে, হাফ চা চামচ বা তারো কম  লবন সহ। সস গুলোতে লবন থাকে বলে লবন কম দিয়ে শুরু করা ভাল।


ভাল করে মেখে নিন। তবে এই কাজটা করতে হবে খুব আস্তে, জেন পিস গুলো ভেঙ্গে না যায়।


এবার ফ্রীজে কয়েক ঘন্টার জন্য রেখে দিন।


ফ্রীজ থেকে বের করে এভাবে বড় পিস গুলোকে ছোট পিস করে কেটে নিন।


বাটিতে বেছে থাকা মশলায় একটা ডিম ভেঙ্গে দিন এবং ভাল করে ফেটিয়ে নিন।


এবার সুজি গুড়া পরিমান মত মিশিয়ে নিন। কাইটা না বেশি ‘তরল’ না ‘ঘন’ হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।


ঠিক এমনি!


এবার প্লেটে তুলে রাখা ব্রেনের টুকরা গুলোকে আলতাভাবে তুলে সেই কাইতে চুবিয়ে তেলে ভাজুন।


আপনি চাইলে নন স্টিকি ফ্রাইপ্যানে কম তেল দিয়ে ভাজতে পারেন। তবে আমি শওকতের কাবাবে এমনি ডুবো তেলেই ভাজতে দেখেছিলাম।


এক পিঠ হয়ে গেলে অন্য পিট ভাজুন।


ভাঁজাটা কেমন রাখবেন নিজেই সিদান্ত নিন। আমি সব সময়েই একটু পোড়া পোড়া ভাজা চাই। ভিতরটা যে সিদ্ধ হয়ে ভাজা হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে গিয়ে এমনটা করে ফেলি! হা হা হা।


এবার তুলে জমিয়ে ফেলুন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। দেখুন ভিতরটা কি মোলায়েম, কি তুলতুলে!


আমার রান্না টেষ্টার বুলেট জানালো, বাবা ঝাক্কাস হয়েছে! আমি বললাম, আবার জিগাস!

স্বাদ অপূর্ব! দেখলেন তো কত সহজ, তেমন কোন জটিল মশলা দেয়া হয় নাই, এই মশলাপাতি গুলো প্রায় আমাদের ঘরেই পাওয়া যায়। শুধু ভেসেল লিফ বা তুলসী পাতা নাও পেতে পারেন (তবে এটা এখন বড় গ্রোসারীতে পাওয়া যায়, আগোরা, স্বপ্ন হহ এই ধরনের আউটলেটে পাওয়া যায়ই), এটা না দিলেই বা কি! এছাড়া আপনি চাইলে আরো নানান পদের মশলা দিতে পারেন, প্রবাসীদের কাছে তো কত পদের মশলাই থাকে। তবে কিছুতেই গরম মশলা নয়, কারন সস গুলো ব্যবহার করলে গরম মশলার প্রয়োজন নেই।

সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন সবাই। ব্রেন কাবাব খেয়েছেন কি?

রেসিপিঃ মগজ ভুনা (Mr. Bear Grylls Food)

Advertisements

7 responses to “রেসিপিঃ ঘিলু ফ্রাই (ব্রেন কাবাব)

  1. Thanks …dekhi try kore.. apnar bornonate to mone hocche valoi hobe………….

    Like

  2. সুলতানা জামান

    ভাইয়া, কঠিন রেসিপি মনে হচ্ছে।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s