Gallery

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৬ (আমাগো কবিরের বিয়ে)


কিছুদিন আগে থেকে আমাদের বন্ধু কবিরকে মোবাইল ফোনে বেশি কথা বলতে দেখে আমার কেন যেন একটা সন্দেহ হল, ফোন এলেই উঠে অন্যদিকে চলে যায়, মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যায়। একদিন দেখি, হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাম্নের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কানে ফোন! আমি রিক্সা থেকে ডাকলাম, শুনতে পেল না! বুঝাই যায় ছেলে প্রেমে পড়েছে! প্রেমে না পড়লে কি আর এমন করে এক মনে কথা বলে? আমি সুযোগ পেয়ে চেপে ধরলাম, কি রে এটা কি, মোবাইলে একে বারে উদার হয়ে দিল দরিয়া হয়ে কার সাথে কথা বলিস! সাথে যোগ দিল আমাদের বন্ধু শ্যামল, কি হে কবির, তুমি মনে করেছ, তুমিই চালাক আর আমরা কিছু বুঝি না! ব্যস আর যায় কই! আমাদের হাতে ধরা দিয়ে দিল!

জানাল, বিয়ে করছে। কিছু দিনের মধ্যেই ডেট জানাবে! এখন ফোনালাপ চলছে! যাই হোক এর কিছু দিন পর এক সন্ধ্যায় আমাদের হাতে দাওয়াতের কার্ড এল, পহেলা মে বিবাহ! আমরা দিন গুনি, অবশেষে সেই দিন এল। আমরা দাওয়াত খেতে চললাম! নসীবে থাকলে ঠেকায় কে? (এই বয়সে বন্ধুদের বিবাহ খাচ্ছি, এর ভাল মন্দ বুঝতে পারছি না!)

আর কথা নয়, চলুন। যথারীতি আজকের বিবাহের খাবার দাবারের ছবি দেখে ফেলি! সাথে গল্পতো থাকছেই!


মে দিবস প্রায় সব দোকান পাট বন্ধ। উপহার কিনতে আমি বেকুব বলে গেলাম। ইচ্ছা ছিল বন্ধুকে একটা সার্ট গিফট হিসাবে দিব, কিন্তু দোকান, মার্কেট বন্ধু থাকায় কিনতে পারি নাই। অবশেষ বেইলী রোডে একটা মাত্র শাড়ি, সেলোয়ার কামিজের দোকান খোলা দেখে প্রবেশ করে ফেলি এবং একটা শাড়ি পছন্দ করে কিনে ফেলি! আশা করি, নুতন ভাবীর পছন্দ হবে! (এই জীবনে কাউকে শাড়ি দিয়ে খুশি করতে পারি নাই, রঙ ডিজাইন কেহ ছাড়ে না! দেখা যাক, এবার পারি কি না! চেষ্টা চলবেই!)


বিবাহের নিমন্ত্রনের জায়গা চমৎকার। ধানমন্ডি লেকের পাড়!


তখন এক বৈঠকের খাবার চলছিলো।


আরো ভিতরে প্রবেশ করে দেখি আমাদের বন্ধুর ফটোসেশন চলছে!


আজকাল মোবাইলেও ছবি তোলা হয়, ছেলে বুড়ো সবাই এই কাজ করে থাকেন!


ভিডিওর ব্যাপারটা তো সেই ১৯৫১ সাল থেকেই!


আমরা বসে গল্প গুজব করছিলাম, শ্যামল ও তার স্ত্রী এবং আমাদের এক এভারগ্রীন মামা ও মামী। আমাদের বলা হল, আমরা পাত্র/পাত্রীর সাথেই খেতে বসবো! এটা বিরাট সন্মানের ব্যাপার! টেবিলে বসেই সালাদে নজর পড়লো!


আহ আচার!


আহ বোরহানী! (ঘরে বোরহানীর সব আইটেম এনে রেখে দিয়েছি অনেক দিন আগেই রেসিপি লিখবো বলে এখনো বানাতে পারছি না!)


ওরে পোলাও!


অনেক খাবারের আইটেমের ছবি আমি মিস করেছি। পাত্রের সাথে টেবিলে খেতে বসলে কি আর ছবি তোলা যায়! বড় চিংড়ির ছবি মিস করতে চাই নাই! চিংড়ি কারী!


অবশেষে পাত্র/পাত্রী খাবার টেবিলে তসরিফ নিয়েছেন!


খাসি রোষ্ট/কাবাব!


এই হচ্ছে আমার প্লেট! রোষ্ট, রেজালা, সবজি, সস্লিক, চিকেন ফ্রাই, জর্দার  ছবি মিস হয়েছে তবে প্লেটে থাকায় কিছুটা দেখাতে পারলাম। এই বিয়েতে সত্যি অনেক আইটেমের আয়োজন করা হয়েছে। এত আইটেমের দরকার কি! কারন আমি দেখেছি প্রায় সবাই পুরা খাবার খেতে পারে নাই। আইটেম গুলোর নাম সাজিয়ে দিচ্ছি!
– পোলাও
– রেজালা
– সবজি মিক্স
– চিকেন রোষ্ট
– চিকেন ফ্রাই
– চিকেন সাসলিক
– বোরহানী
– জর্দা
– চিংড়ি কারী
– আঁচার
– সালাদ
– পানি এবং

– পাত্র/পাত্রীর জন্য তো ছিল একটা আস্ত খাসির রোষ্ট!


খাবার শেষে হাত ধুয়ে টাকা চেয়ে হাসি তামাশা! তবে আমি সাক্ষী আছি, আমাদের বন্ধু কবির তেমন কিছুই খেতে পারে নাই! হা হা হা!


পান মশলা না হলে কি চলে!


এই হচ্ছে রান্নাঘরের ছবি! এখানেই সারা দিন ধরে এই সব খাবার রান্না হয়েছে! একদল মানুষের সারা দিনের খাটাখাটুনিতেই অন্যদলের খাবার জোটে! এই তো দুই দিনের দুনিয়া!


যারা কষ্ট করে আমার এই পোষ্ট পড়েছেন তাদের জন্যই এই ক্লোজ আপ ছবি! আসুন এই নুতন দম্পতির জন্য দোয়া ও শুভকামনা করি, এদের আগামী দিন গুলো যেন, আনন্দে কাটে, জীবন যেন সুখের হয়ে উঠে!

সবাইকে শুভেচ্ছা। যারা এখনো বিবাহ করেন নাই, করে ফেলুন! যারা বিবাহ করে ফেলেছেন, সবাই চুপ থাকুন! হা হা হা!

শুভ রাত্রী! যাই এই গভীর রাতে আমার বন্ধুকে একটা ফোন করি, দেখি সে কি করছে এখন! ফোন বন্ধ থাকলে, আর কোন কথা নাই!

9 responses to “বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৬ (আমাগো কবিরের বিয়ে)

  1. একদল মানুষের সারা দিনের খাটাখাটুনিতেই অন্যদলের খাবার জোটে! এই তো দুই দিনের দুনিয়া! — কথাটা খুব লাগলো /… যারা বিয়ে বাড়ির রান্না করে তারা কি আসলে কখনও এসব খাবার খেতে পায়??

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      এটাই সত্য। আগে না পেলেও এখন আমি দেখি বা শুনি ওরাই চাইলে এই খাবার খেতে পারে। তবে ওরাও এই খাবার ইচ্ছা করে এড়িয়ে চলে কারন এই খাবার প্রতিদিন খেলে, শরীরের খবর আছে! যারা এই কর্মের সাথে জড়িত তারা এখন প্রায় প্রতিদিন কাজ পেয়ে থাকে।

      আর একটা দিক হচ্ছে, এখন যত লোকের জন্য খাবার রান্না হয় কোন সময়েই এত লোক দাওয়াতে আসে না। নাগরিক ব্যস্ততার জন্য।

      আপনাকে শুভেচ্ছা এই জন্য যে, আমি মুল কথা ধরতে পেরেছেন।

      ভাল থাকুন।

      Like

  2. তারেকুর মিঠু

    খুব সুন্দর!!
    এখন বিয়েতে এতগুলো খাবার এর আয়োজন খুব কমই দেখা যায় যদিও আমার এরকম এক বিয়েতে এত আইটেম খাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।

    আপনার বন্ধুর জন্য শুভকামনা!! 🙂

    ভাল থাকবেন,শুভেচ্ছা

    Like

    • ধন্যবাদ আংকেল।
      বিবাহ শাদী করে সুখী হবার চেষ্টা আপাতত একটা কঠিন কাজ। উপরওয়ালা যদি চাহেন তবেই সুখী হওয়া যায়। তবে দেখে শুনে বিবাহ করো। এটা ছেলেদের জীবনের শেষ পরীক্ষা।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. ভাল লাগলো ব্লগ, খুব যত্ন করে লেখেন আপনি। আর বোরহানির রেসিপি’র অপেক্ষায় থাকলাম, কয়েকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু অবিকল দোকানের মতো হয় না। শুভকামনা সব সময়ের জন্য। 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনারা আমার লেখা ভালবাসেন বলেই লিখতে পারছি। আসলে আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র।

      বোরহানীর রেসিপি আমি জানি, সব কিছু ঘরে এনেও রেখেছি। সময় বা সুযোগ হলেই তৈরী করে ফেলবো। তবে আমার পরিচিত এক বাবুর্চি আছে তার কাছে যেয়ে আর একবার শিখে আসার ইচ্ছাও আছে।

      শুভেচ্ছা নিন। আপনারাও ভাল থাকুন।

      Liked by 1 person

  4. যারা এখনো বিবাহ করেন নাই, করে ফেলুন! যারা বিবাহ করে ফেলেছেন,TARA PROTI BOSOR KORUN ! হা হা হা! ……Are vai notun biye korte boli nai….Marrige day Enjoy korun.

    Like

  5. সুলতানা জামান

    ভাইয়া, কবির ভাইকে চেনা চেনা মনে হচ্ছে। উনি কি কখনো আমেরিকায় ছিলেন?

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s