Gallery

রেসিপিঃ লম্বা বেগুন ও গরুর গোসতের কিমা (Eggplant & Beef-Grind), টার্কিস স্টাইল


কিছুদিন আগে থাইল্যান্ডের পাতাইয়া শহরের একটা টার্কিস রেষ্টুরেন্টে এই খাবারটা খাই। যখন খাবারের ওয়ার্ডার দেয়া হয় তখনো বুঝতে পারি নাই, এটা কেমন স্বাদের খাবার হবে। তবে খেয়ে খুব ভাল লেগেছে এবং আমি সুযোগ পেয়ে শেফের কাছ থেকে রান্নার কৌশল জেনে নেই (খাবারের রান্নার কৌশল জানতে চাইলে সেফরা খুশিই হয়)। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজীতে আমি যা বুঝেছি তাই আপনাদের কাছে হাজির করবো আজ। এই ধরনের খাবার মধ্যপ্রাচেও জনপ্রিয় কারন এই ধরনের কারী দিয়ে রুটি বা খবুজ খাওয়া যায়।

আপনারা যারা দেশের বাইরে বা বাংলাদেশের মাধ্যম/উচু হোটেল গুলোতে খাবার খেয়ে থাকেন তারা হয়ত জানেন যে, রেষ্টুরেন্ট গুলো কি করে মাত্র ১০/১৫ মিনিটে আপনার সামনে খাবার হাজির করে! আসলে তারা তাদের মেনু চার্ট অনুসারে আগে থেকে রান্নার একটা বড় অংশ প্রস্তুত করে রাখে, আপনি ওয়ার্ডার দেয়া মাত্রই তারা যা করে থাকে তা হচ্ছে মিক্স প্রক্রিয়া। মানে আগুনে খাবারের অংশ গুলোকে জোড়া দেয়! হা হা হা। নুতবা মাত্র ১০ মিনিটে কি করে বিরিয়ানীর মত আইটেম আপনার সামনে হাজির করে (বিরিয়ানীর এই রকম একটা রেসিপি আপনাদের দেখিয়ে দেব আগামীতে)!

যাই হোক, আমাদের রান্নাটা সম্পূর্ন ঘরোয়া, সুতারাং আপনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের হেল্প পাবেন। হোটেল থেকে আমাদের খাবারের রংটা একটু ভিন্ন হয়েছে কারন আমরা কম তেল ও কম মশলা ব্যবহার করেছি। চলুন দেখে ফেলি।

আর একটা কথা বলে যাই, বাংলাদেশে তরকারী হিসাবে এখনো বেগুনকে যথাযত সন্মান দেয়া হয় নাই, অথচ বেগুন দুনিয়ার নানান দেশে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে! অনেক দেশে বেগুনের তরকারী নিত্য আইটেম!

আমাদের কিমাটা মেশিনে করা কিমা ছিল না, দাঁড়িয়ে থেকে কসাই মামা থেকে বানিয়ে নিয়ে ছিলাম বলে তেমন একটা মিহীন হয় নাই, আনাড়ী হাতে যা হয় আর কি! তা যাই হোক, আপনারা রান্নার সময় আরো ভাল কিমা পাবেন আশা করি।

উপকরনঃ
– গরুর গোসতের কিমা, ২৫০ গ্রাম (৪ জনের খাবারের জন্য)
– বেগুন, বড় একটা (লম্বা বা ছোট বেগুন দিয়ে এই খাবার রান্না করা হয়)
– পেঁয়াজ কুচি, হাফ কাপ
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– দারুচিনি, তিন টুকরা, এক ইঞ্চি করে
– এলাচি, ৩/৪ টা

– আদা বাটা, ১ চা চামচ
– রসুন বাটা, ১ চা চামচ
– জিরা বাটা, হাফ চা চামচ
– জয়ত্রি বাটা, হাফ চা চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– মরিচ গুড়া, হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– চিনি, হাফ চা চামচ
– টক দই, তিন টেবিল চামচ বা বেশী
– টমেটো সস, এক টেবিল চামচ

– তেল (পরিমান মত)
– পানি (পরিমান মত)
– লবন (শুরুতে সামান্য দিয়েই রান্না শুরু করতে হবে, পরে সঠিক মাত্রায় দিতে হবে)

(আমি কম তেল এবং মশলা দিয়ে রান্না করেছি, তাই রংটা একটা ভিন্ন হয়েছে। আরো কালচে রঙ করতে চাইলে হলুদ ও মরিচের পরিমান হেরফের করতে পারেন।)

প্রনালীঃ  (ছবির ধারাবাহিকতা)

ছবি ১


ছবি ২


ছবি ৩


ছবি ৪


ছবি ৫


ছবি ৬


ছবি ৭


ছবি ৮


ছবি ৯


ছবি ১০


ছবি ১১


ছবি ১২


ছবি ১৩, ফাইন্যাল লবন দেখে নিতে ভুলবেন না, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।


ছবি ১৪, ফ্লাস দিয়ে তোলা ছবি


ছবি ১৫, ফ্লাস ছাড়া ছবি

অসাধারন স্বাদ। আপনি চাইলে রুটি, ব্রেড বা পরোটা সাথে খেতে পারেন। আমরা পোলাউ এর সাথে খেয়েছি, এক কথায় দারুন। বেগুন নিয়ে যে সকল বাসায় একটু হীনমন্যতা (ভাল শব্দ খুঁজে পাই নাই) আছে সেই সকল বাসায় এই রান্নাটা করে টেবিলে পরিবেশন করা যেতে পারে। আবালবৃদ্ধ সবাই আশা করি পছন্দ করবেই।

আগামীতে আরো এমন রেসিপি আসছে, আসছে আরো নুতন গল্প। সুতারাং আমাদের সাথেই থাকুন।

সবাইকে শুভেচ্ছা, ভাল থাকুন, আনন্দে কাটুক আপনাদের জীবন।

Advertisements

18 responses to “রেসিপিঃ লম্বা বেগুন ও গরুর গোসতের কিমা (Eggplant & Beef-Grind), টার্কিস স্টাইল

  1. বেগুনের অনেক গুন, তবুও তার নাম বেগুন। রেসিপিটা দারুন হবে। কারন এতে বেগুন আছে। আমি তো বেগুন কিউব করে কেটে না ঢেকে ভাজি করে রুটি দিয়ে খাই। হিন্যমনতায় ভোগার কোনোই কারন নেই।
    আপ রুচি সে খানা, প্যার রুচি সে প্যাহনা! প্রবাদেই আছে।

    Like

    • ধন্যবাদ রান্নাতো বোন।
      আপনার কমেন্টে এই ব্লগ সন্মানিত হয়।
      আপনি ভাল থাকুন, দুলাভাই কেমন আছেন?

      তবে আপা আমাদের দেশের বেগুন গুলো কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। থাই বাজারে আমি যত পদের বেগুন দেখলাম তা চোখে বিশ্বাস করার মত নয়, কত বাহারি বেগুন আছে এই দুনিয়ায়।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  2. বেগুন আমার প্রিয় সবজীর একটি, আমি অবশ্যই ট্রাই করবো ইনশাআল্লাহ।

    Like

  3. বাহ!! দারুণ হয়েছে তো!!! আসলেই অনেক ধরনের কম্বিনেশন আমাদের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও সেটা পরে দারুণ একটা রেজাল্ট দেয়!!

    গরুর মাংস আসলেই ঐ ধরনের গুণ সম্পন্ন। আপনি যে সবজি দিয়েই রান্না করেন না কেন, সেটা অসাধারণ হয়।

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Like

  4. ami koyekdin age ek Irani vodro mohilar bashai ei item ta kheyechilam. ek kothai awesome chilo.ami obak hoyechilam je, begun dia mehomandari kora jai eto valo vabe 🙂 amader deshe asholei ei vegetable ke khub valo vabe poribeshon kora hoi na. may be valo kono recipe jana thake na bole. ekhon theke apnar ei recipe dekhe er popularity barbe hopefully 🙂 ami USA te sob boro versity program e begun er item must dekhi. ar ekta kotha na bollei na, ami apanr ei bolg er ondho vokto. amar rannar hate khori apnar kas theke. maximum rannar somoy ami apnar blog follow kori. amar husband apnake thanks dite boleche, jokhon shuneche je ami apnar blog follow kori. Thank u so much from our family.
    Sorry, banglish e lekhar jonno.

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      অফিসে বের হবার আগে আপনার কমেন্ট আমরা পূরা পরিবার মিলে পড়লাম। আপনি আজ আমাদের সুন্দর দিন করে দিলেন।

      আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাব। হ্যাঁ, আমাদের দেশে বেগুনের কদর নাই। আর কিমাতো চলেই না। অথচ বিদেশে এই দুটোর কদর অনেক, আমি নিজেও দেখেছি।

      আপনাদের পরিবারের জন্যও আমার শুভেচ্ছা থাকল। আপনার স্বামী মানে আমাদের দুলাভাইকেও আমাদের শুভেচ্ছা, নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভাল মানুষ।

      শুভেচ্ছা আবারো। মাঝে মাঝে এসে আমাদের জন্য কমেন্ট লিখে যাবেন। এতে আমাদের সাহস বাড়ে।

      Like

  5. জিভে জল এসে যায় প্রতিটা রান্নার বর্ণনায়। একদিন দাওয়াত করে খাওয়ান ভাই! 😛

    Like

  6. প্রত্যেক দিন তিন চারবার করে ঘুরে যাচ্ছি কিন্তু কোনো নতুন পোস্ট নাই 😥

    Like

    • ধন্যবাদ আঙ্কেল,
      আমি আসলে ব্যস্ত। জীবিকার এবং সময়ের অভাব। বাসায় এখন বসে তেমন পোষ্ট লিখতে পারছি না, স্ত্রী পুত্রদের একটা জালাত্বন আছে, আর কিছুটা দায়বদ্ধতা বেড়েছে, বাসায় থাকলে ছোট ছেলেকে অনেক সময় দিতে হচ্ছে।

      অফিসেও পোষ্ট দেয়ার সুযোগ কম। নেট লাইন স্লো। এক ঘন্টার কাজে চার ঘন্টা লাগে!

      আমি জানি আমার প্রিয় বন্ধুরা অন্তত প্রতিদিন একটা পোষ্ট দেখতে চান এবং সেই আশায় অনেকে ঘুরে যাচ্ছেন।

      সরি। তবে ফিরে আসবোই।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  7. amar kase bora bor e আনাড়ী hater kima valo lage… ekti boro size hoy bole chibiye aram kore khai hi hi hi
    😛
    thx for ur rcp 🙂

    Like

  8. পিংব্যাকঃ থাইল্যান্ডঃ ডোনারকিং রেস্টুরেন্ট, পাতাইয়া | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  9. Vaia aj amader basaye onek gest aseselo.onek kesur shate bagon ar ai ranna ta o kora hoyese.ke hoyese janen vaia sobai sob kesu fale deye ai khabar full finish kore falese.sase amon hoyese basar lokjon ar jonno are baki selo na.sobai bar bar ask korselo kevabe amra ai ranna sekhlam.tokhon ami apner blog dakhete delam.ora to sobai obak atto sondor recipe blog dakhe.thank you so much vaia atto valo valo recipe dauyer jonno.janen vaia aj amar onek valo lagse ato prosongsa paye.are ata apner jonnoi somvob hoyese.are o are o recipe din vaia amader jonno.allah apnake allah hajar bocor baceye rakhon.again thanks vaia.valo thakon susto thakon.

    Liked by 1 person

  10. ট্রাই করতে হবে।

    Like

  11. ত্রিশোনকু মল্লিক।

    উদর,

    রান্নাটার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। শীগগীরই রাঁধবো।

    একটা কথা। শুধু ছবি দিয়ে রেসিপি দিলে যারা অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ তারা ভালো বোঝে। কিন্তু আনাড়িদের জন্য বোঝা মুস্কিল। ঠিক কতক্ষন পর কি করতে হবে বা “তেল ভেসে উঠলেই” বিষয়টা বলে না দিলে রান্না করা কঠিন।

    পরবর্তিতে এটা মনে রাখলে মনে হয় ভালো হয়।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s