গ্যালারি

আড্ডাঃ পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা


অনেকদিনের পুরাতন বন্ধুর সাথে দেখা হলে আপনারা কি করেন তা জানি না, তবে কিছুক্ষন আড্ডা দিয়েই নিয়মানুযায়ী বলে ফেলি, চল বন্ধু কিছু খাই! আমি সব সময়েই মনে করি, খাবার দাবার আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ, রান্না/খাদ্য একটা ভালবাসা। রান্না করে খাওয়ালে আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব, প্রিয়জন সবাই খুশি হয়। আগের দিনের সিনেমায় আপনারা হয়ত দেখে থাকবেন, প্রেমিকা প্রেমিকের সাথে দেখা করতে গেলে তার জন্য কিছু খাবার নিজ হাতে রান্না করে নিয়ে যেত। কথার এক ফাকে প্রেমিকা সেই খাবার প্রেমিককে বের করে দিত, তার পর প্রেমিক সেই খাবার খেত এবং আনন্দ প্রকাশ করত! এখনকার কর্মাশিয়াল ডিজিটাল যুগে আপনি হয়ত এমন দৃশ্য দেখে থাকবেন না! তবে বাস্তবতা কিন্তু সেই আগের মতই আছে, দৃশ্যায়ন হয়ত কিছুটা পালটে গেছে। এখন প্রেমিকা নিজে রান্না করেন না হয়ত, তবে প্রেমিক নিয়ে সময়মত ইরানী বিরানীর দোকানে প্রবেশ করেই ফেলেন!  আমাদের রাজধানীর চিপাচাপায় এখন প্রচুর মিনি রোস্তারা, চাইনিজ, কারী হাঊস এদের কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে! আমার কথা বিশ্বাস না হলে কোন এক দুপুরে আপনি এই ধরনের খাবারের কেন্দ্র গুলোতে প্রবেশ করে দেখুন, আহ, কি জোড়ায় জোড়ায় বসে আছে!

যাই হোক, আমি আবার গল্প শুরু করলে থামতে পারি না! কিন্তু গল্প বললে রান্না করবে কে, কে দেবে রেসিপি! হা হা হা। দুই দিনের বৈরাগী বটে আমি! আমার খাদ্য প্রীতির কথা মোটামুটি আমার প্রায় সব বন্ধুরাই জানে। তাই আমাকে দেখলে অনেক বন্ধুই আমার আগেই খাবারের দোকানের দিকে পা বাড়ায়! তবে আগেই বিলের ব্যাপারে বলে ফেলি, যদি দেখি আমার বন্ধু আমার চেয়ে ধনী তবে বিলটা তাকেই দিতে বলি আর যদি দেখি বন্ধু আমার চেয়েও বাজে অবস্থায় আছে, তবে পেট পুরে খাইয়ে/খেয়ে বিলটা আমিই দিয়ে দেই! হা হা হা, এটা আমার ছোট বেলার অভ্যাস!

এবার কাজের কথায় আসি। অনেক দিন পর এক বন্ধুর অফিসে গেলাম বিকেলের দিকে (বন্ধুর নামটা প্রকাশ করছি না, এক সময় ওর অফিসটাই ছিল আমাদের আড্ডাখানা)। অফিসে কথা বলে, আড্ডা দিয়ে অনেক সময় পার হয়ে গেল। সন্ধ্যার পর বন্ধু আমাকে প্রায় টেনেই তার অফিসের পাশে একটা খাবারের দোকানে নিয়ে গেল। আমার এই বন্ধুটা ছোট বেলা থেকেই কাউকে খাইয়ে আনন্দ পায়। এই বিষয়ে আমি সব সময়েই তার তারিফ করি। আমাদের কোন বন্ধু ওর অফিসে যেয়ে না খেয়ে আসছে, এমন কখনো শুনি নাই!

আল্লাহে চরম বিশ্বাসী এবং আওয়ামীলীগে প্রবল ভক্তি বিশিষ্ট আমাদের এই বন্ধুর সাথে আমি শুধু বন্ধু হিসাবে চলি নাই, অনেক ব্যবসা বাণিজ্যও করেছি। আর বলে নেই, ওর অফিসে গেলেই আমরা অনেকে পুরান ঢাকার ভাল এবং নামকরা খাবার গুলো খেতে চাইতাম। ওর অফিসে একজন সহকারী আছে (সেও দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চিনে), আমাদের ইচ্ছা গুলো পুরন করার জন্য ছুটে বেড়াত।

যাই হোক, ঢাকার আদি ধনী এলাকা ওয়ারী এখন আমার কাছে সেন্টাল ইংল্যান্ডের মত মনে হয়। রাস্তার ধারে বড় বড় বিল্ডিং। প্রচুর দোকান পাঠ গড়ে উঠে ওয়ারী এলাকা এখন প্রচুর ঝলমলে। আমাদের দেশের যে কোন বিখ্যাত ব্যান্ডের দোকান পাঠ এখন ওয়ারীতে আছে। আমরা এক সময় সন্ধ্যার পর যে ওয়ারী এলাকা দেখেছি এখন ওয়ারী আর সেই ওয়ারী নেই! আমি নিজেও অনেক দিন পর এই এলাকায় গিয়েছি।

বন্ধুটা আমাকে একটা ছোটখাট রেষ্টুরেন্টে নিয়ে গেল, নাম ‘তান্দুরী নাইট’। বসতে না বসতেই ওয়েটার হাজির তার মেনু নিয়ে। ভর সন্ধ্যায় কি খাওয়া যায় ভেবে সময় কাটছে। তবুও কিছু ওয়ার্ডার হয়ে গেল।

ফাইনেষ্ট অথেটিক ইন্ডিয়ান টেকওয়ে এন্ড রেষ্টুরেন্ট! আমার মনে হয় এই রেষ্টূরেন্টের মালিক কখনো না কখনো লন্ডনে গিয়েছিল! তা না হলে এই বিশেষণ বুঝতেই পারত না!


সাজিয়ে রাখা খাবার এবং ঝুলিয়ে রাখা মুরগীর লেগ দেখে খেতে মন চাইবেই।


ছোট পরিসরে দোয়ালের কারুকাজ চোখে পড়ার মত। ইতালীয় পাথরের বুকে দেশীয় বাধ্যযন্ত্র! আলোর বাহার বেশ।


সিলিং মেজে চমতকার।


এভাবে খাদ্য রসিকদের অপেক্ষায় গ্লাস গুলো দাঁড়িয়ে থেকে আপন মনে। আমি আজকাল এটা লক্ষ্য  করেছি, আমাদের শহরের রোস্তারা গুলোতে আর আগের মত ভীড় হয় না।


তন্দুরী চিকেনের সাথে এই সালাতের কি নাম, আল্লাহপাকই জানেন। আমার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছাই হয় নাই। কিছু শষা, গাজর কুঁচি করে মনে হয় কাঁচা মরিচ গ্রাইন্ড করে দেয়া হয়েছে, স্বাদ নাই!


তন্দুরী চিকেন। তন্দুরীতেই করা নাকি, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তবে আমার কাছে গ্রীলে করাই মনে হয়েছে।


বাটার নান! বাটারের কোন ঘ্রান নেই।


আমার প্লেট!


ডিংক্স না হলে কেমন দেখায়।


এই ধরনের খাবারের পর খিলাল না হলে কি চলে!


বের হয়ে আসতে আসতে বন্ধুকে বললাম, ওয়ারী আর আগের ওয়ারী নেই। যে ওয়ারীকে আমরা বুড়ো ভাবতাম, সেই ওয়ারী এখন আবার যৌবন পেয়েছে!

শেষ কথা, আমাদের দেশে এখন খুব সুন্দর সুন্দর খাবার দাবারের দোকান পাঠ হচ্ছে তবে সার্ভিস এবং খাবারের মান গুনগত এবং পরিমাণগত ভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে! এই রেস্টুরেন্টের সার্ভিসম্যানদেরও তেমনি মনে হয়েছে, মনে হয় না এদের কেহ কোনদিন কাউন্সিলিং করেছে (ড্রেস ছিল তবে আচার ব্যবহার ভাল ছিল না, একজন দেখলাম শুদ্ধ করে কথাও বলতে পারছিল না)। মালিক হোটেল খুলেই টাকা কামাচ্ছেন, আর বাকী কিছু দেখার কি দরকার! তিনি কারো কাছ দ্বায়বদ্ধ নন বলে আরামেই আছেন।

রেসিপি পাঠক পাঠিকা ভাই বোনদের শুভেচ্ছা। আপনাদের অভিজ্ঞতাও নিশ্চয় অনেক। ভাল থাকুন সবাই।

Advertisements

4 responses to “আড্ডাঃ পুরানো বন্ধুর সাথে দেখা

  1. আপনার লেখা পড়ে না হেসে পারা যায় না, আপনি ভাল দেখেন।

    Like

  2. :)ভাল লাগের

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s