Gallery

আড্ডাঃ সাধারণ ঘরোয়া দাওয়াত


ছোট খাট দাওয়াত খেতে বা খাওয়াতে আমাদের বাংলাদেশীদের জুড়ি মেলা ভার, এটা আমাদের প্রায় প্রতিটা পরিবারেরই একটা বিশেষ দিক। আমি প্রায় দেখেছি, আমাদের যা সামর্থ আছে আমরা তা নিয়েই মেহমানদারীতে ঝাপিয়ে পড়ি। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই নিজে খাওয়ার চেয়ে অন্যকে খাওয়াতেই পছন্দ করে। এটার কারণটা কি হতে পারে? আসলে আমি যা বুঝি বা বুঝতে পারি তা হচ্ছে, ছোট বেলা হতেই আমরা আমাদের মায়েরদের দেখেই এই ব্যাপারটায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের মায়েরা নিজেরা রান্নাবান্না করেন কিন্তু নিজেই খান সবার পরে, তাও যদি খাবার বেঁচে থাকে! পরিবারের সবাইকে খাইয়ে তিনি খেতে বসেন। আমার মনে হয় আমাদের মায়েদের কাছ থেকেই আমরা এটা দেখি বলেই, খুব সহজেই আমরা মেহমানদারী করতে পারি, নিজের চেয়ে অন্যকে খাইয়ে মজা পেয়ে থাকি।

আমাদের নিজদের পরিবার হবার পর, আলাদা থাকার পর আশে পাশে বা আত্মীয় স্বজন্দের কাছে বড় দাওয়াত (বিয়ে শাদী, মুসলমানি, জন্মদিন ইত্যাদি) প্রায় খেয়ে চলছি, নিজেরাও বছরে এমন বড় দুই একটা দাওয়াতের ব্যবস্থা করে আসছি। এছাড়া ছোট খাট দাওয়াত তো চলেই আসছে। মাসে এমন দুই একটা থাকে জুটে। আমরাও চেষ্টা করি প্রিয় মানুষদের দাওয়াত দিতে (আজকাল অবশ্য কমে গেছে, ২য় ছেলের বাপ হয়ে অনেক কিছু ভুলে থাকছি! আর পারি না!)।

এই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে আমাদের মহল্লায় ঘরোয়া দাওয়াত পেয়েছিলাম আমার সমুন্ধি’র (এটা একটা কঠিন সম্পর্ক!) বাসায়। বিশেষ করে  আমার সমুন্ধি’র স্ত্রী মানে আমার ভাবী, আমাকে খাওয়াতে চান অনেক দিন আগে থেকেই (আমি সব সময়ে উনার রান্নার প্রসংশা করি), কয়েকবার এই দাওয়াত মিস করে করে অবশেষে যোগ দিয়েছি। তিনি রান্না করেন খুব চমৎকার, আগেই বলে নেই, আমি উনার গরুর গোসত রান্নার বিরাট ভক্ত! এটা আমার স্ত্রী জানেন এবং প্রায়ই আমাকে খোটা দিয়ে বলেন, আমি গোসত রান্না করলে মুখে তুল না আর ভাবী রান্না করলে কথা না বলেই বসে পড়! (আমি অবশ্য এখন নিজেই ভাল গোসত রান্না করি। হা হা হা, আসলে সত্য কথার ভাত এই দুনিয়াতে নেই। আমি সত্য বলি বলে বার বার ধরা খাই!) সবাই সব কিছু ভাল রান্না করবে এটা খুব কম মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে। কেহ ভাল ভর্তা বানালে, কেহ ভাল ভাল মাছ রান্না করতে পারে, কেহবা দামী আইটেম বিবিয়ানী ইত্যাদি ভাল পারে।

রান্না যেহেতু একটা শিল্প তাই এই শিল্পরও অনেক শাখা প্রশাখা আছে। সব শাখার জ্ঞান এক ব্যক্তির মাথায় থাকবে বা সব কাজ একজন করবেন, তা হয় না। আর এই জন্যই বড় বড় হোটেল রোস্তারায় রান্নায় বিভিন্ন শাখায় বিভিন্ন ব্যক্তি কাজ করেন। যে পরোটা বানায় সে কখনো কাচ্ছি রান্না করতে যায় না! হা হা হা…

যাই হোক, চলুন আমাদের এই ভাবীর ঘরোয়া রান্না গুলো আপনাদের না দেখিয়ে পারছি না। ছবি গুলো উনার অনুমতি নিয়েই তোলা হয়েছে। ভাবী আমার রান্না প্রীতির কথা জানেন এবং আমাকে ছোট বোনের জামাই হিসাবে বেশ পছন্দ করেন, উনার দাওয়াতের আন্তরিকতায় আমি মুগ্ধ। আমি উনার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন উনার হাতে আরো যশ দেন। আমরা যেন আরো আরো দাওয়াত খেতে পারি।


ছবি ১ ছোটদের জন্য।


ছবি ২ বড়দের জন্য।


ছবি ৩ টিকিয়া


ছবি ৪ কয়েক পদের ভর্তা


ছবি ৫ পোলাউ


ছবি ৬ রুই মাছ ভাজা/ভুনা


ছবি ৭ চিকেন গ্রেভী


ছবি ৮ এই হচ্ছে আমার ফেবারেট আইটেম। গরুর গোসতের রেজালা। দারুন।


ছবি ৯ খাবার নিয়ে এভাবে অপেক্ষা করা যায় না!


ছবি ১০ আমার শুরু!

আপনারাও দাওয়াত খান, দাওয়াত দিন। এতে আন্তরিকতা বাড়ে, মমত্ব, সন্মান বেড়ে যায় অনেক গুন। দুই দিনের এই দুনিয়াতে ভালবাসার বিকল্প নেই। আর ভালবাসার একটা প্রমান হচ্ছে, রান্না!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

11 responses to “আড্ডাঃ সাধারণ ঘরোয়া দাওয়াত

  1. খুব সুন্দর!!
    আসলে এই ছোট ছোট দাওয়াতেই আসল আন্তরিকতা থাকে
    মাঝে মাঝে দাওয়াত না দিলে যেন সম্পর্ক মজবুত থাকে না

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      মেয়ের জামাইদের শশুর বাড়িতে এই জন্যই ঘন ঘন দাওয়াত দেয়া হয়, সম্পর্ক ভাল করার জন্যই! হা হা হা…

      আমি বড় দাওয়াতের চেয়ে ছোট দাওয়াত বেশী উপভোগ করি। ইউ আর রাইট, এই সব দাওয়াতে আন্তরিকতা অনেক অনেক বেশী।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ভাইয়া আমার ও খুব খিদে লেগেছে।

    Like

  3. উদরাজ
    একদিন তুমি রেঁধে দাওয়াত না খাওয়ালে কি করে বুঝবো তুমি ক্যামন রাঁধো?
    সো অপেক্ষায় রইলাম 🙂

    Like

    • ওমা, একি! এ যে দেখছি এই বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা কবি। আজ আমাদের রেসিপি ব্লগ ধন্য হল।

      গরীবের বাড়িতে হাতীর পা।

      ওহ হ্যাঁ, খাওয়াবো। আমার ছেলের বিয়েতে আশা করছি অনলাইন, অফলাইনের সবাইকে দাওয়াত দেবো!

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  4. গরুর রেজালা আর ভর্তা গুলো দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো 😦

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ, তিনি সত্যি গরুর রোজালা বা রান্নাটা খুব ভাল করেন। আমি বের কয়েক বার খেয়ে দেখেছি, প্রতিবারই হিট।

      যাক, মন খারাপের কিছু নাই। দাওয়াত দেন বা নেন! হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. Polay with Vorta… new combination….

    Like

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই,
      আসলে খাবার দাবারে আমিও আগে চিন্তা করতাম, এটার সাথে ওটা, সেটার সাথে ওটা। এখন নানান পদের খাবার দেখে মনে হয় সব কিছুই চলে! হা হা হা, পোলাউটাকে ভাত মনে করলেই হল! হা হা হা…

      ধনীরা কিন্তু প্রায় প্রতি বেলায় পোলাউ খায়!

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s