Gallery

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৫ (রুবিনার বিয়ে)


গত বছর সহ এই বছরটা আমার জন্য বলা যায়, বিবাহের/দাওয়াতের খাবার দাবার খাওয়া দাওয়ার বছর! এই জীবনে গত কয়েক মাসে বিবাহ সহ যত দাওয়াত খেলাম, তা ইতিহাসের পাতার সাক্ষী থেকে যাবে! আজ মোট তিনটে দাওয়াত, দুপুরে দুইটা বিবাহের দাওয়াত এবং রাতে বার্থ ডে দাওয়াত। আজ যে বিবাহে যাই নাই, সেটার কথা একটু উল্লেখ করা দরকার। আমরা যখন রামপুরাতে প্রথম একটা বাসায় ভাড়া এলাম, সেই সময় আমাদের বাসার বিপরীতে মানে উলটা দরজায় একটা পরিবার থাকত। আমাদের বড় ছেলে বুলেট তখন ১৩ মাসের (দারুন ছটফটে এবং সব কিছু জানালা দিয়ে ফেলে দেয়াতে ওস্তাদ ছিল)। সেই পরিবারের তখন তিন মেয়ে এবং এক ছেলে! ভদ্রলোক ব্যাংকে চাকুরী করতেন। বড় মেয়েটা সম্ববত ইন্টারমেডিয়েটের ছাত্রী ছিল। এই মেয়েরই আজ বিয়ে! এম বি এ পাশ করে এখন নিজেই কোথায় যেন চাকুরী করছে। যাই হোক, এই পরিবারের একটা চরম দিক ছিল, তারা আমাদের ছেলেকে আপন করে নিয়েছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা ওদের তিন বোনের কাছে আমাদের বড় ছেলে পড়ে থাকত, পানি ফেলত, এটা ওটা ভেঙ্গে নিচে ফেলত এবং নানান খাবার খেত কিন্তু তাদের কোন অভিযোগ ছিল না, আমি অনেক সময় ভাবতাম, এদের এত সহ্য কেন। পরিবারটা পরে মোহাম্মদপুরে চলে যায়, আমরাও বর্তমান বাসায় চলে আসি। কিন্তু ফোনে বা আসা যাওয়া চালু ছিল। এই পরিবারের বড় মেয়ের বিবাহে আজ যেতে পারলাম না। আফসোস থাকলেও বলি, সিষ্টার বিন্দু’র বিয়ে সফল হউক।

যাই হোক আজ  দুপুরে যে বিবাহে উপস্থিত থেকে ছিলাম এবং বিবাহের খাবার দাবারের স্বাদ নিয়েছি তা হচ্ছে আমাদের সিষ্টার রুবিনার বিয়ে। সিষ্টার রুবিনা আমার ব্যাটারীর দীর্ঘ দিনের পুরানো বান্ধবী। আমাদের ছোট ছেলেকে তিনি তার মেয়ের জামাই বানিয়েছেন। আমাদের ছোট ছেলে ব্যালটকে তিনি আদর করে ডাকেন, ‘বাবা জীবন’ মেয়ের জামাই নাকি জীবন! হা হা হা! এমন শাশুড়ী পেলে ছেলের আর কিছু করে খেতে হবে না! যাই হোক, এই বিয়েটা বাসার কাছে ছিল বলে যাওয়াটা সহজ ছিল।

ছোট কোলের শিশু নিয়ে কোথায়ও যাওয়া আমাদের দেশে খুব কষ্টকর অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে এই ধরনের জায়গা গুলোতে বেষ্ট ফিডিং এর কোন জায়গাই নেই, মনে হয় এই বিষয়ে এই ধরনের কমিউনিটি বা রেস্টুরেন্ট গুলোর কোন ভাবনাই নেই। চলছে তো চলছে! আসলে আজকাল এত ছোট ছোট জায়গাতে চাইনিজ বা থাই রেস্টুরেন্ট খুলে ফেলছে যে, অগতরা নিঃশ্বাসও ফেলতে পারেন না।

আর কথা নয়, চলুন। যথারীতি আজকের বিবাহের খাবার দাবারের ছবি দেখে ফেলি!


এত ছোট জায়গাতে রেস্টুরেন্ট চিন্তা বা পার্টি চিন্তা করার জন্য এই হোটেল মালিক ধন্যবাদ পাবেন কি না জানা নেই!


আমরা একটু আগেই পৌছেছিলাম। বুলেট, ব্যালট ও ব্যাটারীর সাথে কনে রুবিনা।


খাবারের টেবিলে অপেক্ষা অনেক কষ্টকর, যথা সময়ে পাত্র পক্ষ না আসা এই দেশের একটা বিরাট ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ঘড়ি দেখুন, আমাদের খাবার সার্ভ করা হয়েছিল পনে চারটায়, ছবিটা যখন খাবার টেবিলে বসে তুলি তখন তিনটে বেজে বিশ! তবুও তখনো পাত্র আসে নাই, পাত্র এসেছিল চারটা পনরতে।


খাবার এসে গেল!


প্রথমেই কোন কথা নাই, আমি এক গ্লাস বোরহানী মেরে দিলাম!


পোলাউ।


রেজালা।


জর্দা। বুলেট জর্দা দেখে বলল, এভাবে দেয়াটা কিপ্টামী! হা হা হা! হ্যাঁ, আমিও এই প্রথম দেখলাম, এত কম জর্দা এমন হাফ প্লেটে চার জনের জন্য পরিবেশন।


খাবার দেরীতে, আবার ওয়েটারদের লক্ষ করলাম, তাড়াহুড়া করছে। খাবার খাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে নারাজ! এ কেমন ব্যাপার!


এর নামই জীবন! হা হা হা, পানির অপর নাম জীবন!


পান সুপারী।


অবশেষে পাত্র এলো!


যারা এতক্ষন অপেক্ষা করছেন, পাত্র পাত্রী একসাথে দেখবেন এমন আশায়, তাদের আশা পূর্ন হউক। ছবিটা তুলেছে আমাদের বুলেট, এই প্রথম কোন বিবাহে ক্যামেরা দিয়ে সে ছবি তুলল, মানে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলাতে পারলাম! ছেলে বড় হয়ে যাচ্ছে!

রেসিপি প্রিয় সকল ভাই বোন বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানাই। যারা এখনো বিবাহ করেন নাই, আর দেরী না করে এখনুনি বিবাহ করে ফেলুন! কারন বিবাহ ‘দিল্লীর লাড্ডু’, খেলেও পাস্তাবেন, না খেলেও পাস্তাবেন! কাজে কাজে খেয়েই পাস্তান! হা হা হা!

Advertisements

4 responses to “বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৫ (রুবিনার বিয়ে)

  1. notun bower chaite amader betari vabi dekte onek onek shundor.

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s