Gallery

রেসিপিঃ ডিম আলু চপ (মুড়ি গুড়া দিয়ে ভাজা, সোনামনিদের জন্য)


বর্তমানে আলুর দাম খুবই কম, এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। কাকে কি বলবো? বাংলার আলু কৃষক ভাইদের কাছে লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখি না। কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করে সঠিক দাম পাচ্ছেন না, এমন কি তিনি তার উৎপাদনের খরচও তুলে নিতে পারছেন না।  দেশ যতদিন একটা ভাল সরকার প্রধান না পাবে ততদিন এমন হতেই থাকবে। কখনো বেশি, কখনো কম, কখনো সংকট! স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমাদের দেশের কোন রূপরেখাই এখনো গড়ে উঠে নাই। দেশ কি কৃষিতে এগুবে, না শিল্পে এগুবে, নাকি দুটোর মেলবন্ধন নিয়ে দেশ এগিয়ে চলবে, কিছুর এখনো ফয়সালা হয় নাই! প্রধানমন্ত্রী আসেন প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন! আমি ভেবেই কূল পাই না, ওনারা আসলে কি করেন? যদি রেগুলার মাসে ২০/২৫টা শহর/গ্রাম কাউকে না জানিয়ে ভিজিট করতেন এবং অব্যবস্থাপনা দেখা মাত্রই একশনে যেতেন তা হলেও দেশ আর এইভাবে চলত না! শুধু আফসোস করেই গেলাম!

(খাদ্যে ভেজাল নিয়ে কথা বলে বলে এখন আর ভেজাল নিয়ে মুখে কথা বলতেও লজ্জা পাই! বাজারের এমন কোন জিনিষ নেই যাতে ভেজাল নাই! কাপড়ের রঙ আমাদের খাইয়ে চলছে ভেজালকারীরা! আমরা ক্যান্সারে একদিন সর্বশান্ত হয়ে যাবই! আর কত দূর গেলে প্রধানমন্ত্রী ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। আর কতদুর গেলে প্রধানমন্ত্রী জেগে উঠবেন?)

যাই হোক, আমরা সাধারণ মানুষরা এই সিজনে একটু আলু বেশি খেলে কি আর আসবে যাবে! আলুর নানা আইটেম তৈরী করে আমরা আমাদের কৃষকভাইদের সাহায্য করতে পারি। অন্তত আলু বিক্রি বেশি হলেও কিছুটা যাবে কৃষকের কাছে! বলার কিছু আসলে দেখি না! তবুও বলে যাওয়া মাত্র!

পরিমান ও উপকরনঃ
– আলু, হাফ কেজি
– ডিম, তিনটে (দুইটা সিদ্ধ করতে হবে এবং অন্যটা ভাঁজার সময়ে কাজে লাগবে)
– ধনে পাতা, ২ টেবিল চামচ
– পিয়াজ কুঁচি, ২ টেবিল চামচ
– গোল মরিচ গুড়া, ১ চা চামচ (গা গা)
– লবন, পরিমান মত (স্বাদ দেখে)
– তেল, পরিমান মত
– মুড়ি গুড়া, ১ কাপ (এটা সাধারণত ব্রেডত্রাম বা বিস্কুটের গুড়া দিয়ে ভাঁজা হয়, আমরা মুড়ি গুড়া দিয়ে ভেজে আপনাদের দেখিয়ে দিলাম মাত্র, এটার স্বাদও ভাল)
– বিট লবন, পরিমান মত (পরিবেশনের আগে ছিটিয়ে দিতে পারেন)

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি কথা বলে!)

আলু সিদ্ধ করে মথে নিন। পেঁয়াজ কুঁচি, ধনিয়া কুঁচি নিন। ডিম দুটো সিদ্ধ করে খোসা ছড়িয়ে নিন। গোল মরিচের গুড়া হাতের কাছে রাখুন বা আলুতে দিয়ে দিন। লবন নিতে ভুলবেন না! (অনেকে কাঁচা মরিচ কুঁচি ব্যবহার করেন, করতে পারেন, তবে শিশু ও বুড়োদের কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ঝাল পরিহার করাই ভাল)


এবার প্রথমে পেঁয়াজ কুঁচি ও ধনিয়া পাতার কুঁচি লবন দিয়ে মেখে নিন।


এবার সব কিছু একসাথে মেখে নিন। অনেকটা আলু ভর্তাই! হা হা হা… লবন এবং স্বাদ দেখে নিন।


হাফ কেজি আলুতে ৮ টা চপ বানাতে পারেন। চাইলে আরো কিছু বেশিও করা যেতে পারে। তবে সমান করে ভাগাভাগি করতে এভাবে ভাগ করতে পারেন।


এবার সিদ্ধ ডিম গুলো এভাবে ভাগ করে নিতে পারেন। আমরা দুই ধরনের ভাগ করেছি যাতে একই রেসিপিতে দুই ধরনের চপ বানানো যায়।


প্রথমে গোল চপ। এভাবে আলুতে ডিম দিন এবং আলুতে ডিম লুকিয়ে


এবং আলুতে ডিম লুকিয়ে ফেলুন! হাতের কাছে পানি বা সামান্য তেল রাখুন, আলু হাতে লেগে গেলে তেল বা পানি দিয়ে সরিয়ে নিন। এই কাজটা ধীরেই করা ভাল, ডিম যাতে আলু কাইয়ের মাঝামাঝি সেট হয়ে যায়।


এভাবে আপনি চাইলে যে কোন ডিজাইনের চপ বানাতে পারেন।


দেখেই মন ভরে যায়! চপ বলতে আমরা ছোট বেলা থেকে আসলে এই ডিজাইনটাই দেখে আসছি! হা হা হা।


এভাবে সব গুলো চপ বানিয়ে রাখুন।


একটা পাত্রে এবার মুড়ি গুড়া করে নিন। অন্য বাটিতে একটা ডিমের সাদা অংশ নিন। ইচ্ছা হলে পুরা ডিমটাও ফাটিয়ে নিতে পারেন। একটা ডিমের সাদা অংশ দিয়ে মোটামুটি ৮টা চপ ভাঁজা যেতে পারে।


চপ গুলোকে প্রথমে ডিমের সাদা অংশে চুবিয়ে পরে মুড়ির গুড়ায় চুবিয়ে ভাল করে চার পাশ ঘুরিয়ে গুড়া লাগিয়ে নিন। এভাবে সব গুলো চপকে জমা করে ফেলুন। হাতে সময় থাকলে মিনিট ১০ ফ্রীজের নরমালে রেখে দিতে পারেন। পরে বের করে ভাজলেই চলবে। এছাড়া আপনি চাইলে এভাবে বানিয়ে ফ্রীজে রেখে দিতে পারেন, প্রয়োজনে যখন ইচ্ছা ২/৩ দিনের মধ্যে খেতে পারেন। (এখানে লক্ষনীয় পেঁয়াজ কুঁচি যেহেতু কাঁচা দেয়া হয়েছিল তাই বেশি দিন রাখা চলবে না, যদি পেঁয়াজ কুঁচি, ধনিয়া কুঁচি ভাজে চপ বানানো হত তবে আরো বেশি দিন রাখা যেত)


এবার কড়াইতে এভাবে কম তেলে অল্প আঁচে ভেজে নিন।


একটু সময় নিয়ে ভাঁজুন।


রংটা আপনি নিজে নির্ধারন করুন। (যে কোন কিছু তেলে ভাজতে সাবধানে কাজ করুন)


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। চপ গুলোর উপর সামান্য বিট লবন ছিটিয়ে দিতে পারেন। স্বাদ আরো ভাল লাগবে।


স্বাদ চরম।


ছেলে বুড়ো সবাই পছন্দ করবেই। অনেকদিন পর আমাদের রান্না টেষ্টার বুলেটকে একটা ছবির জন্য রাজী করাতে পারলাম! এখানে বলে রাখি, এটা এতই মজার চপ হয়েছিল যে, বুলেটকে পরদিন আবারো বানিয়ে দিতে হয়েছিল। তবে আজকাল বুলেট আর খাবার দাবারের মডেল হতেই চায় না!

তবে আমি চিন্তা করি না, আমার পরের মডেল ‘ব্যালট’ আসছে! হা হা হা।

সবাইকে শুভেচ্ছা। একবার বানিয়ে দেখুন, কত মজাদার। তবে কঠিন কিছু নয়।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

ফেবু লিঙ্ক এখানে!

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ ডিম আলু চপ (মুড়ি গুড়া দিয়ে ভাজা, সোনামনিদের জন্য)

  1. দারুন আইটেম। মুড়ি গুড়া দিয়ে নুতন শুনলাম।

    Like

    • ধন্যবাদ সাইফুল ভাই।
      বিস্কুটের গুড়ার চেয়ে কোন মতেই স্বাদে কম নয়। আসলে আমরা প্রায়ই বিস্কুটের গুড়া দিয়ে এই ধরনের আইটেম করে থাকি তাই এটা ব্যতিক্রম করে দেখানো হল। বেশ মজাদার এবং দেখতে ভালই লাগলো।

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s