Gallery

রেসিপিঃ টমেটো ধনিয়া পাতার চাটনী (তেল ছাড়া, সাধারণ রান্না)


টমেটো ধনিয়া পাতার চাটনী! তাও আবার তেল ছাড়া! ভাবাই মুস্কিল! কিন্তু সম্ভব এবং মজাদার। আমরা আমাদের ছোট বেলায় এমনই একটা খাবার বা টমেটোর চাটনী খেতাম। আমার মনে আছে আমার আম্মা এই রান্নাটা করতেন। যেদিন ভর্তা বা সবজি ভাজি থাকত না সেদিন তিনি এমনি একটা রান্না করতেন। কত বছর আগের কথা, আমি এখনো স্বাদ মনে করতে পারি। গরম ভাতের সাথে খাওয়া হত এবং এই রান্নাটা পরিমানে এমন করা হত যে, দুপুরের বেলায়ই শেষ হয়ে যেত। রাতের জন্য থাকত না!

সেকালের টমেটো আর একালের টমেটো! (যারা এই সুন্দর খাবারে ভেজাল দেয় এবং যারা সরকারে থেকেও এর বিচার করে না কিংবা নিরোধের চেষ্টা করে না, তাদের বিচার পরকালে উপরওয়ালাই করবেন। এটা ছাড়া আর কি বলতে পারি!)

চলুন দেখে ফেলি। খুব সাধারণ এবং সহজ। ব্যচেলর এবং প্রবাসী ভাই বোনদের বলি, আজই রান্নাটা করে খেয়ে দেখুন।

পরিমান ও উপকরনঃ
– কয়েকটা পাকা টমেটো (আমরা চারটে নিয়েছিলাম)
– পেঁয়াজ কুচি, মাঝারি দুইটে
– কাচা মরিচ, দুইটে
– এক চিমটি চিনি
– ধনিয়া পাতার কুঁচি (এক মুষ্টি বা কম)
– লবন/পানি, পরিমান মত

প্রস্তুত প্রনালীঃ (ছবি দেখেই বুঝা যাবেন তবুও লিখে দিচ্ছি)

রান্নার আগে সব কিছু ঘুছিয়ে নেয়া প্রয়োজন।


ধনিয়া পাতার কুঁচি।


ফ্রাই প্যানে টমেটো ফালি দিয়ে দিন। আগুন মাঝারি চলবে।


এবং একে একে পেঁয়াজ কুঁচি, কাঁচা মরিচ ফালি, লবন (শুরুতে কম লবন দেয়াই ভাল, যেহেতু পরে লবন দেয়ার চান্স আছে) এবং চিনি দিয়ে দিন।


কোয়াটার কাপ পানি দিন।


এবার মাগুন মাঝারি করে ঢেকে দিন। হতে থাক।


মাঝে মাঝে ঢাকনা উলটে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না। চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। টমেটো গুলো নরম হয়ে মিশে যেতে আপনি নিজেও খুন্তি বা কাটি দিয়ে ভেঙ্গে দিতে পারেন।


কিছু সময়ের মধ্যেই এমন অবস্থায় এসে যাবে।


ঝোল বেশি শুঁকিয়ে ফেলার দরকার নেই। এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন। আগুন কমিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন এবং ফাইন্যাল লবন স্বাদ দেখুন। লাগলে দিন, না লাগলে ওকে! ধনিয়া কুঁচি দেবার পর বেশি জ্বাল দেয়া চলে না। কয়েক মিনিট হলেই চলবে।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম ভাত নিয়ে বসে পড়ুন।

আপনি নিজেই বলুন, এর চেয়ে সহজ রান্না আর কি হতে পারে! সারা দুনিয়াতে বাংলা ভাষাভাষী যে সকল ব্যচেলর ভাই বোন আছেন এবং যারা রান্নায় উৎসাহী আছেন, তাদের অনুরোধ করবো, প্লিজ, এই রান্নাটা করেই শুরু করুন না! দেখুন, রান্নায় কি মজা, কি ভালবাসা!

বলে রেখে যাই, এই রান্নাটা আমাদের ফেবু বন্ধু, খাদ্য রসিক, বিশিষ্ট ব্লগার এবং অনলাইন এক্টিভিষ্ট Trishonku Mallick ভাইয়ের কথা মাথায় রেখে রান্না করেছি, যিনি আমাকে পছন্দ করেন আমি রান্নায় কম তেল দেই বলেই। কাজে কাজেই এই রান্নাটা উনার জন্যই, তেল ছাড়া রান্না! আশা করি তিনি এই রান্নাটা পছন্দ করবেন এবং তিনি যেহেতু নিজে রান্না করেন, এই সামান্য সহজ রান্নাটা একদিন নিজে করে স্বাদ দেখে নিবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

Advertisements

16 responses to “রেসিপিঃ টমেটো ধনিয়া পাতার চাটনী (তেল ছাড়া, সাধারণ রান্না)

  1. Very easy and yammy recipe…I like your recipe for easy way cooking …..Suvo Kamona roiylo….Radowan

    Like

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই,
      আমার চেষ্টাই হচ্ছে রান্না গুলোকে সহজ ভাবে উপস্থাপন করা। আর আমার টার্গেট গ্রুপ হচ্ছে প্রবাসী, ব্যচেলর এবং নূতন যারা রান্না করতে চান। আমি তাই চেষ্টা করি, যাতে যিনি রান্না করবেন তিনি যেন সহজেই তা করতে পারেন। আমি বেশী মশলাপাতি এবং কঠিন প্রসেস গুলো এড়াতে চেষ্টা করি।

      খাদ্য পরিবেশনের ব্যাপারটাও আমি এড়িয়ে যাই। আপনি যদি রান্না একবার শিখে যান তবে নিশ্চয় আপনি বাকী গুলো করতে পারবেন। আমি চাই যারা রান্না পারেন না তাদের রান্নাঘরে নিয়ে যেতে। বিশেষ করে ছেলেদের।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. Amar Bou amake Ranna korte dey na……..HA HA
    But TABLIGE -A gele ami new kono item ranna kori.

    Like

    • ধন্যবাদ মুকিত ভাই। না, তেমন নূতন নয়। আমি একসাথে রাঁধুনি থেকে চারটে কড়াই পেয়েছিলাম, এগুলো সেটাই।

      হ্যাঁ, নন স্টিকি পাত্রে রান্নার মজাই আলাদা। তেল কম লাগে, পাত্র পরিস্কারের ঝামেলাও কম। এদিকে পুরা পাত্রই টেবিলেও উঠিয়ে নেয়া যায়।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. জিভে পানি আসা একটা রেসিপি, উদরাজী ভাই! আর পিছনের গল্পটা আরও বেশি মজার… 🙂

    আমরা অবশ্য কয়েকদিন আগে শুধু ধনে পাতার একটা রেসিপি দিয়েছিলাম। যদিও সেটা মোটামুটিভাবে সবারই জানা। তবুও দেখে নিতে পারেন।
    http://dhakaimenu.blogspot.com/2014/02/coriander-leaf-chutney.html

    Like

  4. উদরজী,

    তোমাকে কৃতজ্ঞতা।

    আমি আজই রাঁধবো রাতে। এখুনই খেতে ইচ্ছে করছে খুব।

    আমার বাসায় সাড়ে আট জনের এওক্মাসের রান্নার জন্যে আমি বরাদ্দ করি পাঁচ লিটার এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

    অনেক রাঁধুনীই তেলের দুঃখে ১৫ দিনের মাথাতেই কাজে ইস্তফা দিয়ে চলে যায়। 😦 😦 😦 😦 😦 😦 😦

    আমি এখন গরু ও খাসীর মাংস রাঁধতে কোন তেল দেই না।

    Like

    • ধন্যবাদ ব্রাদার।
      আপনার এই কমেন্ট খানা আমি আমার গিন্নীকে দেখালাম। আমি তেল কমে বিশ্বাসী আর তিনি তেলে! তিন জনের ঘরে সারা মাস দুই লিটারের বেশি তেল লাগার কথা নয়! আমাদের বেশী লাগছে। তেলে শরীরের চরম ক্ষতি করে থাকে।

      গরু ও খাসি রান্নায় আসলেই তেলের দরকার কি!

      আপনি এই রান্না দেখেছেন জেনে খুশি হলাম। আসলে আমার রান্না গুলো হচ্ছে নূতন রান্না যারা শিখতে চাচ্ছেন তাদের জন্যই। আমি প্রবাসী, ব্যচেলর এবং নূতন রান্নায় আগ্রহীদের কথা ভেবেই রান্না সাজাই। কোন মতে তাদের রান্না ঘর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলেই হয়। তার পর প্রথম রান্নাটা আমার একটা দেখে বাকী গুলো নিজের ইচ্ছা মত করতে সাহায্য করি মাত্র।

      আপনাদের সার্পোট আমার দরকার এবং ভাল লাগে। রান্নাই ভালবাসা।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  5. রান্না কত সহজ তা আপনার সাইটে আসলে বুঝা যায়।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s