Gallery

রেসিপিঃ কুমড়া শাক রান্না (যে কোন শাক রান্নার উপায়)


আমি পরিস্কার মনে করতে পারি, এই তো কিছু দিন আগের কথা। আমাদের গ্রামের বাড়িতে কত প্রকারের শাক খাওয়া হত না! হা হা হা।। তবে কচুশাক মনে হয় এমন একটা শাক যা প্রাচীন আমল থেকে খাওয়া হত। আমরা বছরে শীত কালে মাস খানেকের জন্য গ্রামে গেলেও দেখতাম, অনেক শাক খাওয়া হত না। তবে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ছিল কুমড়া শাক! গ্রামের লোকেরা তখন সবে মাত্র লাউ শাক খাওয়া শিখেছে! পুকুরের সদ্য ধরা/তাজা খলিশা বা শোল মাছ দিয়ে লাউ শাক সামান্য ঝোল রেখে রান্না করতে আমার দাদুকে দেখেছি। ছোট বেলার স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। লাউ কুমড়ার মাছায় লাউ কুমড়া ঘরে থাকত এবং সেটাই খাওয়া হত।

ঢাকা শহরের লোকজনেরাই মনে হচ্ছে প্রথম সব ধরনের শাক খাওয়া যায়, এই কনসেপ্টের আবিস্কারক। শাকে গুনাগুণ, শাক খেলে শরীরের কি কি উপকার হয় এটা মনে হয় শহরের লোকেরাই তাদের প্রয়োজনে বের করে নিয়েছে। আপনিই বলুন, এই ঢাকা শহরে কি শাক খাওয়া হয় না! আমি তো বাজারে গেলে আবাক হয়ে চেয়ে থাকি, কি নেই! যাই হোক, এই পাওয়ার সহজ লভ্যতায় আমি অনেক পদের শাক খেয়ে ফেলেছি।

এখন আমপাতা, কাঁঠালপাতা, জামপাতার অপেক্ষায়! কোন একদিন আবিস্কার হয়ে যাবে, আম পাতায় ভিটামিন আছে, জাম পাতায় ক্যালরি আছে, কাঁঠাল পাতায় জোস (অবশ্য কাঁঠাল পাতা এখন অনেকেই খেয়ে থাকে!) আছে! আল্লাহ মালুম, আল্লাহ সহায়। দেশে যে হারে মানুষ বাড়ছে এবং তাদের খাদ্যের জন্য যে কোন মহুর্ত্তে যে কোন আবিস্কার আমাদের চোখের সামনে এসে যেতে পারে! অবাক হবার কিছু নাই! সে দিন আর দূরে নয়!

যাই হোক গল্প আরো অনেক আছে। চলুন আজকে খুব মজাদার একটা রান্না দেখে ফেলি। বরাবরের মতই! কুমড়া শাক রান্না! এই পদ্ধতিতে আপনি যে কোন শাক রান্না করে খেয়ে দেখতে পারেন। আসা করি ভাল লাগবেই। এমন রান্না আগেও আপনাদের অনেক দেখেইয়েছি। কুমড়া শাক বেশ মজাদার, বিশেষ করে রান্নার পর খেতে বসে কুমড়া শাকের ডাটা চিবুতে বেশ মজা লাগে।

পরিমান ও উপকরনঃ
– হাফ কেজি বা তার বেশি কুমড়া শাক (কচি/মাঝারি হলে ভাল, বাত্তি শাক নয়)
– যে কোন মাছ কয়েক টুকরা (আমরা তেলাপিয়ার কয়েক টুকরা দিয়ে রান্না করেছি, এদিকে আবার মাছ না দিয়েও এই রান্না করতে পারেন, তাতেও স্বাদ হবে, খাওয়া যাবে।)
– পেঁয়াজ কুচি মাঝারি দুইটা
– রসুন বাটা এক টেবিল চামচ
– মরিচ গুড়া, ঝাল বুঝে হাফ চামচ
– হলুদ গুড়া, হাফ চা চামচ
– কাচা মরিচ, কয়েকটা
– লবন/তেল/পানি, পরিমান মত

প্রস্তুত প্রনালীঃ

শাক ভাল করে পরিস্কার করে এভাবে ছোট ছোট পিস করে ধুয়ে রাখুন।


এবার কড়াইতে সামান্য কয়েক চামচ তেল দিয়ে তাতে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি ভেজে নিন। পেঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে তাতে রসুন বাটা দিন। এবং ভাল করে ভাজুন।


ভাজা হয়ে গেলে হাফ কাপ পানি দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন। চুলায় আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে।


এবার মরিচ, হলুদ গুড়া দিয়ে দিন।


ভাল করে জ্বাল দিয়ে তেল উঠিয়ে নিন। ফাঁকে কয়েকটা কাচা/পাকা মরিচ দিন।


তেল উঠে গেলে মাছ দিয়ে দিন। যে কোন জিওল মাছ বা অন্য যে কোন মাছ দিতে পারেন। রুই, কাতলা সহ যে কোন মাছই চলবে। তবে পরিমান দুই/তিন টুকরার বেশী নয়। কিংবা মাছের মাথাও দিতে পারেন। আবার মাছ না থাকলে নাই। মাছ ছাড়াও চলবে। স্বাদের সামান্য পরিবর্তন হবে মাত্র। আমরা তেলাপিয়া মাছ দিয়েছিলাম।


মাছ নরম হয়ে গেলে শাক দিয়ে দিন এবং একটা ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০ এর জন্য ঢেকে দিন।


শাক নরম হয়ে এই অবস্থায় এসে পড়বে। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না। নুতন করে পানি দেয়ার প্রয়োজন সাধারণত হয় না, যদি কম মনে হয় তবে দিতে পারেন।


এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন।


সামান্য ঝোল রাখতে পারেন, ইচ্ছা হলে কমিয়ে নিতেও পারেন। তবে শাকের দিকে খেয়াল রাখবেন, কিছুতেই যেন বেশি গলে না যায়।


ফাইন্যাল প্রোডাক্ট।


গরম ভাতের সাথে বসে পড়ুন। দেখুন এবং খাবারের মজা নিন।

যে কোন শাকই এভাবে রান্না করে ফেলা যেতে পারে। মোটামুটি কায়দাটা একই। মাছ বদলে কয়েকটা আলু কেটেও দিতে পারেন। চলবে না দৌড়াবে!

সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

5 responses to “রেসিপিঃ কুমড়া শাক রান্না (যে কোন শাক রান্নার উপায়)

  1. apnar moto kore amar amma o ranna koren. thanks bhaia.

    Like

  2. কুমড়া শাকের মজাই আলাদা আবার সেটা যদি হয় মাছ দিয়ে …আহ্‌ । এখন ঢাকা শহরে লাউ শাকরে কুমড়া শাক বলে চালিয়ে দেয়

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s