Gallery

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৪ (সুইট বিয়ে)


আজকাল রেসিপি দেবার চেয়ে কোথায়ও খেয়ে এসে তার গল্প ও ছবি দিয়ে পোষ্ট দিতেই আনন্দ পাচ্ছি। আসলে এত বেশি  রেসিপি হয়ে গেছে যে, এখন আর তেমন নূতন রান্না কোথায়? হা হা হা। এদিকে আজকাল সময় বের করে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বাসায় এলে ছোট ছেলে ব্যালটকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। আজ ওর বয়স চার মাস পূর্ন হয়ে গেল। পিতাকে মনে হয় কিছুটা চিনতে পারছে! কোলে উঠে নিরব হয়ে থাকে, সারা দিন না দেখে রাতে দেখার আহলাদ পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করে।  কাজে কাজেই যা পাচ্ছি তাই খাচ্ছি!

এদিকে এই মাসে দাওয়াতের সংখ্যাও কম নয়। বিয়ে জন্মদিনে মিলিয়ে অনেক গুলো। কিছু দাওয়াত এড়ানো গেলেও কিছু দাওয়াতে যেতেই হয়। বিশেষ করে ছোট ভাইয়ের শালীর বিয়েতে না গেলে কেমন লাগে। মুরুব্বী মাঐমা যখন নিজে দাওয়াত দেন সেই দাওয়াতে না যেয়ে কি পারা যায়। মানুষের সন্মান দিতে হবেই। এদিকে আরো খাঁটি কথা না বললে নয়, আমার বড় ছেলে, ক্লাস ফাইভে পড়ে, বিয়ের দাওয়াতের কথা শুনলে হা হয়ে যায়! খেতে পারে না কিছুই, কিন্তু বিয়ের বাড়ি যেতে উৎসাহের অন্ত নেই! দিন তারিখ সেই মনে রাখে, আগের দিন রাতে আমাকে স্মরণ করে দেয়, কাল বিবাহের দাওয়াত, উপহার কিনে নিয়ে এস! ব্যাটা বাপের কষ্ট বুঝলো না।

যাই হোক, এই তো জীবন! এভাবেই জীবন কাটাতে হবে, বিয়ে করতে হবে, বিয়ে খেতে হবে, বিয়ে দিতে হবে, বিয়ে নিয়ে কবিতা লিখতে হবে! আরো কত কি! মজার ব্যাপার আমি যখন আমার ছেলে বুলেটকে বলি, এতই যখন বিয়ে খেতে চাস, ‘নিজেই বিয়ে করে ফেল! তোর বিয়ে আমরা সবাই মিলে খাই’! বুলেট আমার গলা জড়িয়ে ধরে এবং বলে ‘বাবা, আমি কখনো বিবাহ করবো না!’ (অনেক সময় অবশ্য গলা ধরে পিছনে টেনে আমাকে বিছানায় শুইয়ে দেয়! রাগ করেও।) আজ অনেক অনেক দিন, অনেক বছর গেল, আমি এখনো তার বিয়ে না করার রহস্য বুঝতে পারছি না। বিবাহে কি এমন সমস্যা, সে এই বয়সে বুঝে গেল! হা হা হা। আমি অবশ্য মনে মনে হাসি, ‘বাবা, আর একটু বড় হ। এমনো হতে পারে আমাকে না জিজ্ঞেস করেও বিয়ে করে ফেলতে পারিস! যে যুগে যাচ্ছিস!’

যাই হোক, ছেলেদের বলছি, বিবাহ ভাল জিনিষ। যারা এখনো বিবাহ করেন নাই, করে ফেলুন। আর যারা বয়স বাঁধিয়ে ফেলেছেন, আপনাদের আর বিবাহ করার দরকার নাই!  স্যাম্পল হিসাবে দুই দিনের দুনিয়াতে থেকে যান! দুনিয়ার উপকার হবে, আপনার না হলে নাই!

মেয়েদের বলছি, দেখে শুনে বিবাহ করুন। বিবাহের পর আর কিছু বলার থাকে না!

বিবাহিত ছেলে মেয়ে উভয়কেই বলছি, যা হবার হয়েছে, থাকুন আনন্দে এক সাথে! আজ মরলে কাল দুই দিন!

আর কথা না বলে আমাদের এই প্রবাসী বোন, ‘সুইট’ এর বিবাহমালা দেখে ফেলি! আসলে এই বিবাহটা গত বছর রেজিস্ট্রি হয়ে গিয়েছিল, স্বামী স্ত্রী দুইজনেই অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী। এতদিন ফিরে আসতে পারে নাই, এবার সময় হল, আমাদের দেশী পরিবার, ভাই বোনদের নিয়ে হালকা একটু আনন্দ। তবে শুনেছি বাংলাদেশী বিবাহের যাবতীয় ব্যবস্থাপনাই ছিল!

চলুন বিবাহের খাবার দাবার ও অনুসাঙ্গিক ব্যাপার গুলো দেখে ফেলি।

আজকাল উপহার হিসাবে কিছু দেয়ার চাইতে ক্যাশ দেয়াই ভাল! তার উপর বিবাহের পাত্র পাত্রী যদি প্রবাসী হয় তবে তো কথাই চলে না! ক্যাশ হলেই ভাল। (তবে বিবাহে যেয়ে শুনতে পেলাম, বিবাহের কার্ডে নাকি উপহার হিসাবে কিছু নেয়া হবে না, লিখা ছিল এবং দেখলাম, উপহার নেবার জন্য কোন স্থান নেই বা কেহ সেভাবে বসেও নেই। ছোট ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, সে জানাল উপহার নিচ্ছে না। এই প্রথম বিবাহের উপহার ফেরত নিয়ে আসলাম!)


মগ বাজার বাংলা মটর এলাকার সোহাগ কমউনিটি সেন্টারে সেদিন একটাই বিবাহ ছিল! এক বিয়েতেই অনেক মানুষের মেলা বসেছিল!


মাই ফেবারেট বোরহানী! কাছে আসতেই এক গ্লাস!


চাটনী দেখে বুঝতে পারছি, আজ রোষ্টের দেখা মিলবে না!


যথারীতি সালাত। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ না দেখে বিরাট ভাষন দিতে ইচ্ছা হল! কিন্তু খাবার সময় কে কার ভাষন শুনবে! আগে পেট পুজা!


কিমা কাবাব (এটা জালি কাবাবের মতই)।


প্লেটে মাথা পিছু কোয়াটার গ্রীল চিকেন।


কাচ্ছি বিবিয়ানী।


নিজেই নিজের প্লেট সাজিয়েছি!


এবং শেষে মিষ্টি মুখ! শাহী জদ্দা।


বিবাহ বাড়িতে আমার কি হয় জানি না! বয়বেয়ারা বন্ধুরা আমার হাত টেবিলেই ধোঁয়ার ব্যবস্থা করে দেয়! হয়ত ওরা ভাবে এই টেবিলে আমিই ধনী! অবশ্য এতে আমি খুশি হই, তাদের জন্য যা পারি তা করি! এটাও সন্মান দেয়া নেয়া!


পরিশেষে বিয়ের পান সুপারী! না চিবালে চলে না! আমিও চিবাই!


যাই হোক, এতক্ষন বিবাহের খানাদানার ছবি দেখে আপনারা নিশ্চয় বোর ফিল করছেন। এবার আমাদের বোন সুইট’কে দেখুন। যার বিয়েতে আমাদের এই খানাদানা! তবে আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও পাত্রের ছবি তুলতে পারি নাই, কারন দেখলাম, তিনি একটা ফোন পেয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেলেন, এদিকে আমিও আর দোতালায় থাকতে পারছিলাম না! তবে প্রচুর প্রফেশন্যাল ক্যামেরাম্যানদের দেখে আমি লজ্জিত হচ্ছিলাম! মোবাইলে ছবি তোলা চলে না!


এই হচ্ছে আপনাদের বুলেট, বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বের হয়ে আসছে! এদিকে আমার ইচ্ছা আছে, বুলেটের বিয়েতে অনলাইনে ওপেন দাওয়াত থাকবে আপনাদের সবার জন্য! আমরা সবাই মিলে বেশ আনন্দ করবো। আমি নিজে হাতে রান্না করবো, আপনাদের জন্য। রেসিপি দেখে দেখে যারা বিরক্ত, ত্যাক্ত, তিতা হয়ে যাচ্ছেন তারা আমাকে বুঝতে পারবেন! হা হা হা।

ভাল থাকুন সবাই, আনন্দে আপনাদের সবার সময় কাটুক।

Advertisements

6 responses to “বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৪ (সুইট বিয়ে)

  1. বিরানীতে মাংস খুব কম।

    কিরফিন হোস্ট।

    Like

  2. হা হা হা হা হা।

    Like

  3. বয়বেয়ারা বন্ধুরা আমার হাত টেবিলেই ধোঁয়ার ব্যবস্থা করে দেয়! হয়ত ওরা ভাবে এই টেবিলে আমিই ধনী! হা হা হা হা হা।:) 🙂 🙂

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s