Gallery

রেসিপিঃ দেশী সবজি ও সয়াসস (এক্সপেরিমেন্ট)


রান্না শিখে যাবার পর যা হয় আর কি! মাঝে মাঝেই এক্সপেরিমেন্ট করতে ইচ্ছা হয়। এমন খাবার খেতে ইচ্ছা হয় বা বানাতে স্বাদ জাগে, যা এই দুনিয়ার কেহ খায় নাই! কেহ দেখে নাই! হা হা হা! আমাদের মাঝে মাঝেই এমন কিছু কিছু রান্না হয়! রান্না শেষ হয়ে খেতে বসে আমরা আফসোস করি, নিজদের মধ্যে এটা এমন না করে তেমন করলে, এটা আগে ওটা পরে এবং এই মশলাটা দিলে আরো স্বাদ হত, ইত্যাদি! রান্না টেষ্টার বুলেট অবশ্য এই বিষয়ে এক কাঠি উপরে! ভাল না লাগলে খাবার টেবিলেই বলে দেয়, বাবা এই খাবারের রেসিপি ‘গল্প ও রান্না’তে দিও না!

এমন অনেক রান্না হয়েছে বা করেছি, যা স্বাদের মান দন্ডে আমার নিজের ভাল লাগে নাই এবং সেই সব রেসিপি আমি কখনো প্রকাশ করি নাই। কম্পিউটারের স্কীনে ছবি গুলো তুলে দেখেই সব ছবি গুলো ডিলিট করে দিয়েছি। আবার এমন কিছু রান্না হয়েছে যা নিয়ে আমাদের তিন জনের তিন মতামত হয়েছে!  কিংবা দুইজন বলেছে ভাল, একজনের ভিন্ন মত। সেই রান্না গুলোর ছবি কেটে ফেলতে আমার কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে রাখি আবার মাঝে মাঝে ‘ই ড্রাইভে’ একটা ফোল্ডারে রেখে দেই। বিশেষ করে মাংস, মাছ জাতীয় খাবার গুলো যত তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে পারি সবজি জাতীয় খাবার গুলো তত তাড়াতাড়ি কেটে ফেলতে পারি না! মায়া লাগে!

কিছু রান্না নষ্ট হয় খাবারের মশলা পাতি কম বা বেশি দেয়ার কারনে, পানি বেশী কমের কারনে। আবার কিছু রান্না নষ্ট হয়েছে একটু বেশী রান্নার কারনেও। সময় মত আগুন না নিবিয়ে বা রান্নাঘর ছেড়ে অন্য রুমে চলে যাবার কারনে ভুলে গিয়েও! পোলাউ, ভাত সহ যে কোন এই ধরনের রান্নায় সময় মত আগুন না নিভাতে পারলে রান্নার বারটা বেজে যায়! বেশি নরম হলেও অনেক খাবার আর খাওয়া যায় না!

আমি এইজন্যই বলি, রান্না হচ্ছে ভালবাসার অপর নাম। আপনি যদি রান্না না ভালবাসেন তবে রান্না কিছুতেই স্বাদের এবং মজাদার করতে পারবেন না! রান্নঘরে আপনাকে আপনার রান্নার সাথে কথা বলতে হবে, রান্নার সময় পাতিলের দিকে আপনাকে নজর রাখতেই হবে। লক্ষ্য করবেন, অনেকেই অনেক বছর রান্না করেও রান্নায় স্বাদ আনতে পারেন না, খেয়ে লোকে ভাল বলে না! এমন কি জোর করেও তারিফ পাওয়া যায় না! ভাল না লাগলে ভাল বলবে কে? হা হা হা। জোর করে গলা চিপে কি আর ভাল বলানো যায়! এদিকে আবার কেহ কেহ কিছু কিছু রান্নাই ভাল পারেন (এটা আবশ্য আমার ক্যাটাগরী)! সব রান্নাই মনোযোগ দরকার, দরকার প্রয়োজনীয় রান্নার সামগ্রী ও পরিমান মত মশলা!

যাই হোক, আজ আমাদের এমনি একটা এক্সপেরিমেন্ট দেখাবো এবং সময় মত আমি নিজেই আগুন বন্ধ করতে পারি নাই বলে কিছুটা নরম হয়ে পড়েছিল। তবে স্বাদ ভাল হয়েছিল বলেই রান্নাটা রেসিপিতে নিয়ে এসেছি! চলুন দেখে ফেলি।

প্রয়োজনীয় পরিমান ও উপকরনঃ
– দুই কাপ নানান পদের সবজি (সিম, গাজর, মটরশুঁটি, টমেটো ইত্যাদি)
– কিছু ছোট চিংড়িং মাছ
– মাঝারি দুইটা পেঁয়াজ (কিউব করে কাটা, সবজি হিসাবে এখানে ব্যবহার করা হয়েছে)
– দুই টেবিল চামচ সয়া সস
– হাফ চা চামচ চিনি (ইচ্ছা হলে এড়াতে পারেন)
– এক টেবিল চামচ চালের গুড়া বা হাফ টেবিল চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার (আমরা চালের গুড়াই ব্যবহার করেছি)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ (ঝাল বুঝে)
– লবন, এক চিমটি বা সামান্য বেশী  (লবন কম কারন সয়াসসে, ওয়েষ্টার সসে লবন থাকে)
– তেল (পাঁচ/সাত চা চামচ তেল, কম তেলেই রান্না উত্তম, নন ষ্টিকি রান্নার পাত্র বলেই)
– পানি (হাফ কাপ)

প্রনালীঃ

সবজি গুলো কেটে পানি ঝরিয়ে রাখুন। এবং সব কিছু হাতের কাছে নিয়ে নিন।


এবার প্যানে তেল গরম করে প্রথমে চিংড়িং এবং পেঁয়াজ ভেজে নিন। পরে সবজি গুলো দিয়ে দিন।


ভাল করে নাড়িয়ে ভাঁজুন।


আগুনের আঁচ সর্বমিন্ম থাকবে। সামান্য পানি দিয়ে সবজি গুলোকে কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিয়ে রাখতে পারেন। বিশেষ করে গাজর এবং সিম শক্ত বিধায় ডেকে রাখলে তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যাবে।


এবার প্রথমে টমেটো এবং কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন এবং এর পরেই সস মিক্স দিয়ে দিন। ঠিক এই সময়ে চিনিও ছিটিয়ে দিন। আর একটু পানি দিতে পারেন।


ভাল করে মিশিয়ে আবারো কিছু সময়ের জন্য ঢাকনা দিন। মিনিট ৪/৫ পর ঢাকনা সরিয়ে ফেলুন এবং আগুন বাড়িয়ে স্টার ফ্রাইয়ের মত করে নাড়াতে থাকুন।


ঠিক এমন অবস্থায় এসে যাবে, এবার ৮/১০ টেবিল চামচ পানিতে হাফ চা চামচ কর্ন ফ্লাওয়ার ভাল করে মিশিয়ে দিয়ে দিন।


স্বাদ দেখে নিন। লবন না হলে দিন এবং নাড়িয়ে নিন। আর সব কিছু ঠিক থাকলে বাটিতে বেড়ে খাবারের জন্য নিয়ে চলুন।

(আমার উচিত ছিলো এই সময়েই আগুন নিবিয়ে দেয়া, আমি তা না করে বেসিনে কিছু ধুতে যেয়ে রান্না থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলি এবং যা হবার তাই হল, সবজি গুলো বেশী নরম হয়ে গেল!)  

যাই হোক, রান্না যখন করেই ফেলেছি তবে যেমনি হউক খাবার টেবিলে তো নিতেই হবে!

সবাইকে শুভেচ্ছা। রান্না চায় শতভাগ মনোযোগ, মানে পুরো ভালবাসা!

Advertisements

2 responses to “রেসিপিঃ দেশী সবজি ও সয়াসস (এক্সপেরিমেন্ট)

  1. সবজি গুলোর কাটিং সুন্দর হয়েছে

    এরকম ঝোল ঝোল না করে স্টার ফ্রাই করলে ভালো হতো
    শুভেচ্ছা

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আমি আসলে এটা রান্না করেছিলাম পোলাউ এর সাথে খাবার জন্য, তাই মাথায় ছিল যদি ঝোল ঝোল থাকে তবে ভাল লাগবে। হ্যাঁ, এখন মনে হচ্ছে ২য় দফায় আর পানি না দিয়ে এবং কর্ন ফ্লাওয়ার না দিয়ে আপনার মত করে স্টার ফ্রাই করলেই আরো খেতে স্বাদ লাগত।

      শুভেচ্ছা। চলুক আমাদের এক্সপেরিমেন্ট!

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s