গ্যালারি

আড্ডাঃ হোটেলের খাবার বাসায়, মিলে ঝুলে!


একটা গল্প বলে আজকের লেখা শুরু করি! বছর দশেক আগের কথা! আমার স্ত্রী/ব্যাটারীর বড় বোনের স্বামী (আমার ভায়রা ভাই) নাকি ঘরে বাইরের কিছু খান না। সন্ধ্যা হলে ব্যাংক বন্ধ করে সোজা বাসায়! আহ। এদিকে আমার স্ত্রী আমাকে বলত, তুমি চাকুরী শেষে হোটেল মোটেলে খাও তার পর আড্ডা দিয়ে রাত ১০টার দিকে বাসায় আস! আমার ‘ভায়রা ভাই’ যেন একটা আর্দশ চরিত্র! আমি এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে পার করতাম! কি আর করা, আমি যে আসলেই একটা দুই নাম্বার!

একদিন সন্ধ্যায় আমি আমাদের রামপুরা বাজারের কাছে নিতসী কাবাবের (এটা একটা পুরানো কাবাবের হোটেল, সন্ধ্যা বিকালে ভাল কাবাব পাওয়া যেত, দোকান এখনো আছে তবে খাবারের মান আর আগের মত নেই!) দোকানে গেলাম, উদ্দেশ্য একটা শিক এবং দুটো পরোটা খেয়ে বন্ধু বিশুর দোকানে আড্ডা দিব। আরে একি! এ যে দেখছি আমার ব্যাটারীর দুলাভাই! বেশ জমিয়ে পরোটা দিয়ে কাবাব খাচ্ছেন! আমি সোজা ব্যাক গিয়ার দিয়ে নিতসী থেকে বের হয়ে গেলাম! ইউরেকা, আজ পাইছি!

রাতে বাসায় ফিরে স্ত্রী তথা আমার ব্যাটারীকে জানালাম, জানু, আজ একটা কথা বলবো। তোমার দুলাভাই প্রায় বাইরে নানান হোটেলে খায়! আমার ব্যাটারী কিছুতেই বিশ্বাস করছিলেন না। আমার ব্যাটারী জানালেন, আপাতো দুলাভাই অফিস থেকে ফিরে এলেই তো নাস্তা দেন এবং সেটাই তো দেখে আসছি! আমি বললাম, পুরুষেরা আসলে ঘরে যা দেখ বাইরে তা নয়! ঘরে পুরুষেরা বিড়াল হলেও বাইরে এক একজন বিরাট বাঘ! যাই হোক, পরে সব কথা আপার কানে গেল! জানতে পারলাম, আপা নাকি দুলাভাইকে রাম ধোলাই দিয়েছেন! বাইরে খেয়ে এসে ঘরে মিথ্যা বলা! সারাদিন কিছু খাই নাই! আহ।

আসলে আমার মনে হয় পুরুষেরা এমনই! তারা ঘরের বাইরে অনেক কিছু করে! হা হা হা। হোটেলেতো খাবেই! সাধারণ মানের হোটেল গুলোতে কারা খায়! সবই তো পুরুষ! এখনো কি সাধারণ মানের হোটেল গুলোতে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা নিয়ে খেতে প্রবেশ করা যায়! না না না। সাধারণ মানের হোটেল গুলোতেও এখনো আমাদের নারীদের প্রবেশ সুখকর নয় (যদিও কিছু হোটেলে নারীরাও প্রবেশ করছেন, নারীদের জন্য আলাদা কেবিন আছে বা এখন উঠে গেছে!)।

রামপুরার রাস্তায় আবুল হোটেল বা হোটেল আল-কাদেরীয়াতে আমি লক্ষ্য করেছি নারীরা খুব কম প্রবেশ করেন। অথচ এই দুটো হোটেল দিনে কয়েক লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করেন। সব সময়েই ভীড় লেগে আছে (আজকাল অবশ্য কিছু পার্শেল চলছে)। যাই হোক, বিবাহের পর যতই বলি না কেন, বাইরে যদিও খাই তবুও নিজের কাছে বা বিবেকের কাছে খারাপ লাগে। নিজে বাইরে ভাল (হোটেল) খাবার খাচ্ছি বাসায় স্ত্রী পুত্র কি খাচ্ছে! এই ভাবনায় আজকাল আর তেমন বাইরের হোটেলে খাই না! তাই এখন এই সকল মাঝারি মানের হোটেলের কিছু খেতে মন চাইলে পার্শেল করে বাসায় নিয়ে যাই, সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাই! সেটা সাধারণ আল্লাহর দান বিরানী হাউজের বিরিয়ানী বা আল-কাদেরীয়ার চিকেন বা আবুল হোটেলের ফালুদা!

অবশ্য আমি আমার ব্যাটারী, বুলেট, ব্যালটকে (কোলে বসিয়ে) নিয়ে এই মাঝারি মানের হোটেল গুলোতে সকালের নাস্তা থেকে দুপুরের খাবার খেয়েছি অনেক বার এবং মজার ব্যাপার সেটা মগবাজারের থ্রীস্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট বা ওয়ারলেসের উজ্জ্বল হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট! সুযোগ পেলে আমি আমার ব্যাটারীকে বলি, চল হোটেলে খাই! (মজার বা করুন কিছু ঘটনাও আছে, একবার উজ্জ্বল হোটেলে ব্যাটারী/বুলেটকে নিয়ে খেতে বসছিলাম, আমার ব্যাটারীর দিকে বার বার এক লোক তাকাছিলো এবং সেটা আমার বুলেট দেখে ফেলছিলো। হোটেলের কাটা চামচ নিয়ে আমার বুলেট বলল চল বাবা এই লোকটার চোখ তুলে ফেলি!)

দুনিয়া আসলেই একটা আজব জায়গা!

যাই হোক, এই হোটেল গুলোর খাবার নিয়ে তেমন ছবি আপনাদের দেখাই নাই। তাই আজ ইচ্ছা হল আমাদের রামপুরার হোটেল আল-কাদেরীয়ার গ্রীল চিকেনের ছবি দেখাই! রেসিপিতো আছেই সামনে পিছনে। মাঝে মাঝে এই ধরনের খাবারের ছবি দেখলে মন্দ কি! চলুন।

বাংলাদেশের মাঝারি ধরনের হোটেলে এই ধরনের গ্রীল চিকেন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে! আমি এখন অনেক উপজেলা শহরেও এই ধরনের গ্রীল চিকেনের হোটেল দেখি বা নানান হোটেলে পাওয়া যায়। এই গ্রীল চিকেন মুলত বাংলাদেশে এসেছে আমাদের চোখের সামনেই! হা হা হা।। মধ্যপ্রাচ্যে আমি প্রথম এই গ্রীল কাবার খেয়েছিলাম। এই ধরনের গ্রীল করার গ্যাস চুলা বিশেষ ভাবে তৈরী করা হয় এবং এই চুলা এখন প্রায় পাওয়া যায় বলেই এই চিকেন কমন হয়ে উঠছে! আর এই গ্রীলের কারিগরও (কেন জানি না এই গ্রীল যারা রান্না করে তাদের কারিগর বলা হয়!)  এখন অনেক। কেজি বা তার সামান্য বেশী ওজনের একটা চিকের দাম মোটামুটি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। কোয়াটার, হাফ, ফুল এভাবেই বিক্রি হয়ে থাকে। আল কাদেরীয়াতে ফুল চিকেনের দাম ৩০০ টাকা।


গ্রীল চিকেনের সাথে এই ধরনের বিশেষ সস (সাথে শসা থাকে, খেতে মন্দ নয়) দেয়া হয়ে থাকে। এটার অবশ্য আলাদা মুল্য নেয়া হয় না! চিকেনের সাথে দাম লাগানো! হা হা হা।


ঘরে যেহেতু হোটেলের খাবার নিয়ে এসেছি, তাই আমি নিজ হাতে সামান্য টমেটো সালাদ (ঝাল করে) বানিয়ে নিলাম! এটার কারন আলাদা মজা নেয়া! হা হা হা।


আল কাদেরীয়ার নান। আমার কাছে তেমন লাগে নাই। এত ভীড় যে, পারলে কাঁচা আটা ময়দাই তুলে দিয়ে দেয়। জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, খাবার হোটেল সে হারে বাড়ে নাই! এই জন্য হোটেল মালিকরা বেশী দামও রাখছে। এই রকম সাধারণ একটা নানের দাম ২০ টাকা! মনে হয় আকাশ থেকে টাকা পড়ে!


আমাদের আজ রাতের খাবার!


গুছিয়ে প্লেট সাজালে এই দাঁড়ায়!


যাই হোক, এই খাবার হোটেলে খেলেও চা খেতে হত! ফলে ঘরেই মশলাদার চা বানানো হল! আহ! চা না হলে কি জম্বে!

আজ ঘরেই স্ত্রী পুত্রদের সাথে আড্ডা দিয়ে কাটালাম। আপনারাও এমন সাধারণ হোটেলের খাবার খেয়ে দেখতে পারেন। কি আছে এই জীবনে?

রেসিপি প্রিয় বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানাছি, আসছে সামনে আরো অনেক অনেক রেসিপি আসছে। যাবার আগে বলে যাই, প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ান! যারা ব্যচেলর আছেন, তারা মা বাবা ভাই বোনকে নিয়ে বের হতে পারেন, আর তা না হলে মাঝে মাঝে হোটেলের খাবার ঘরে নিয়ে চলুন। মনে রাখবেন, সময় গেলে সাধন হবে না!

Advertisements

13 responses to “আড্ডাঃ হোটেলের খাবার বাসায়, মিলে ঝুলে!

  1. ভালোই লিখেছেন।
    গ্রীল চিকেন আমার খুব ই প্রিয় একটা খাবার, প্রায়ই খাওয়া হয়।

    ইয়ে আংকেল, আন্টির বড় বোনের স্বামী আপনার ভায়রাভাই হন, সম্বন্ধী বলে নিজের স্ত্রীর বড় ভাইকে।

    শুভেচ্ছা

    Like

    • ধন্যবাদ আঙ্কেল। কমেন্ট করার জন্য শুভেচ্ছা।

      মাথা গেছে, মধ্যরাতে লেখা এটা। আমি বুঝতে পারছিলাম, আমি ভুল করছি কিন্তু শব্দটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না, এদিকে পোষ্ট করে ফেলার ইচ্ছাও ছিল। আসলে এটা বয়সের কারন হবে হয়ত। বয়স বাড়ার সাথে অনেক কিছুই আর মনে রাখতে পারছি না! কারো নাম তো আর মনেই রাখতে পারি না! ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য। খুশি হলাম এই ভেবে যে, আপনি আমার লেখাটা পড়েছেন।

      আবারো শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ভালো লাগলো খুব। ধন্যবাদ।

    আমাদের এদিকে রসনা বিলাস নামে একটা রেস্ত৬রা আছে। সেখান থেকে মাঝে সাঝে আমরাও এনে খাই, সাথে তোমার মতনই দুয়েকটা আইটেম যোগ করি।

    Like

  3. হোটেলের নাস্তা ছাড়া আর কিছুতেই আমি স্বাদ পাইনা। তাই হোটেল, রেস্তোরায় খাবার শখ নেই। কুম্ভকর্ণের ও নেই।

    Like

  4. আপনার লেখাগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়ি। আমার মনে হয় এই ঘটনাগুলি মধ্যবিত্তদের জীবনের আরাধ্য হওয়া উচিৎ।প্রবাসে থাকি তাই অনুভবের সাথে সাথে অনুশোচনাও হয়। খুব তাড়াতাড়ি এই অনুশোচনা দুর করতে চাই। তাই প্রস্তুতি নিচ্ছি। দোয়া করবেন। আপনিও আপনার ব্যাটারি,বুলেট-ব্যালট নিয়ে ভাল থাকেন এই দোয়া করি।

    Like

  5. মজা পেলাম আপনার লেখাটি পড়ে, বিশেষ করে ভাবির দুলাভাইয়ের ঘটনাটি আর ভাতিজার এ্যাকশন মুডের কথা পড়ে। আবুল হোটেল বা কাদেরীয়া যাই বলুননা কেন আর আগের মতো নেই। অনেক ছোট থাকতেই এসব হোটেলে খেয়ে আসছি বলে বলতে পারছি তফাৎটা। গ্রীলটাও আজ হতে ৭/৮ বছর আগের গ্রীল হতে স্বাদের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগের গ্রীলের মশলার স্বাদটাই ছিল অন্যরকম। তবে একটা ছোট রেস্তোরার কথা বলি যেটায় গ্রীল খেয়ে অনেক মজা পাবেন। খিঁলগাও তালতলা মার্কেটের পর কিন্তু খিঁলগাও চৌরাস্তারও বেশ আগে রাস্তার পাশেই “ইয়াংসী” নামে একটি রেস্তোরা আছে ছোট। সেখানে গ্রীল আর নান খেয়ে অনেক মজা পাবেন।

    শুভকামনা রইল সাহাদাত ভাই।

    Like

  6. ধন্যবাদ সাহাদাত ভাই। আপনার অনেক ঘটনার সাথে আমাদের অনেকের ঘটনা মিলে যাচ্ছে। আমিও আপনার ভাবীকে নিয়ে মাঝে মাঝে এমন সব মাঝারি হোটেলে নাস্তা সহ রাতের খাবার খেয়ে থাকি। তবে এটা সঠিক যে, আমাদের নারীদের জন্য এখনো হোটেলে প্রবেশ ভাল নাই। আর একটা দিক, এখনো এই সকল হোটেলের আয়া বেয়ারাদের আচার আচরণও ভাল নয়। ভাল থাকবেন।

    Like

  7. খুবই সাধারন জীবনের গল্প, তবুও লেখাটি পরে ভালো লাগলো। (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই …..)

    Like

  8. খুবই সাধারন জীবনের গল্প, তবুও লেখাটি পরে ভালো লাগলো। (আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই …..)

    Like

  9. অনেক ভাল লাগল। অসাধারণ রান্না…

    Like

  10. full lekha ta pore ekta shanti shanti feel aslo 🙂

    Like

  11. পুরা বাংলাদেশের সাধারণ রেস্টুরেন্ট গুলাতে যে গ্রিল চিকেন পাওয়া যায় বেশির ভাগ’ই আমার অপছন্দ কারন খুব বেশি মশলা ব্যবহার করেন… লেবানিজদের গ্রিল চিকেন অসাধারণ লাগে আমার আর সাথে হামুস মুতাব্বাল থাকলে তো কথাই নাই

    Like

    • ধন্যবাদ সাইফ ভাই।
      রান্না নিয়ে আপনার চেষ্টাও আমার কাছে ভাল লাগে। এগিয়ে চলুন।
      হ্যাঁ, আমাদের এখানে গ্রীল চিকেন এখনো ভাল মানের হয়ে উঠে নাই। আমাদের দেশে গ্রীল চিকেন এসেছে বেশী দিন হয় নাই, চোখের সামনেই। এখন অলি গলিতে পাওয়া যাচ্ছে। কারিগর গড়ে উঠছে, উঠুক।

      আমি প্রথম এই গ্রীল খাই সৌদিতে। লেবানিজ হোটেলে খাই থাইল্যান্ডে। হা, তাদের মত রান্না হতে আরো সময় লাগবে। হা হা হা।

      হামুস মুতাব্বাল টা কি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরেছি পনর বছরের বেশী হয়ে গেল। কত কিছু ভুলে গেছি।

      শুভেচ্ছা। চলুক।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s