গ্যালারি

আড্ডাঃ শীতের রাতে বেরিয়ে পড়া


শীতের রাতে আড্ডার আলাদা একটা আনন্দ আছে। আমরা যারা বিবাহিত আছি, তাদের কোপালে এমনিতেই আড্ডাবাজী আর জুটে না, রাত নয়টার আগেই বাসার পথে পা বাড়াতে হয়, তার উপর যদি হঠাত করে এমনই শীতের রাতে আড্ডা জুটে যায় তবে বলুন, কেমন লাগে! হ্যাঁ, ভাল লাগারই কথা! অফিস থেকে বের হয়ে বেইলী রোড়ে কয়েক বন্ধু মিলে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমিই কেন জানি এক বন্ধুকে বললাম, চলুন বের হয়ে ঘুরে আসি, শীতের রাতে ভাল লাগবে! যেই কথা সে কাজ। অন্য দুই বন্ধু আমার সাথে যোগ দিল। বন্ধু কবিরের উৎসাহ কম নয়!

বন্ধু শ্যামলের গাড়িতে আমরা উদ্দেশ্য বিহীনভাবে ছুটতে ছুটতে উত্তরার রাস্তা ধরলাম। তবে শীতের এই রাতে আমাদের প্রথম ইচ্ছা ছিল মীরপুরে বেনারশী পল্লীতে যাবার, সেখানে একটা কাবাবের দোকান আছে, কয়েক পদের কাবাব খেয়ে আসার ইচ্ছা পোষন করেছিলাম। ভাল হত, কিন্তু রাস্তার যানজটের কারনে ফার্মগেইট এলাকাতেই আমাদের প্রায় এক ঘন্টা সময় নষ্ট হয়ে গেল। রাত তখন সাড়ে নয়টা। এদিকে বন্ধু শামল বলল, এখন মীরপুরে গিয়ে সেই কাবাবের তলানীও পাওয়া মুস্কিল হবে। কারন সেই কাবাবের দোকান মোটামুটি রাত নয়টার মধ্যেই শেষের পথে চলে আসে।


আমরা উত্তরার পথে। শীতের কুয়াশা রাতের আঁধারকে আরো ঢেকে দিয়েছে।


উত্তররা এই কাবার দোকানের মেনু যখন আমাদের হাতে আসে তখন রাত সাড়ে ১০টা। এত রাতেও এই দোকান গুলোতে ভিড়ের শেষ নেই! আমাদের সিট পেতে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। কে বলে বাংলাদেশ দরিদ্র! বর্তমান বাংলাদেশের রাতের এই ঝলমলে উত্তরা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডীর মার্কেট/দোকান গুলোতে এলে মানুষ ভাবতেই পারবে না যে, এখনো এই দেশের ৩২* ভাগ মানুষ চরম দরিদ্র সীমার নিচে বাস করে। (*এই সংখ্যার লিঙ্ক চাইবেন না প্লিজ!)


প্রথমেই গলা ভিজিয়ে নেয়া দরকার।


গার্লিক নান।


চিকেন কাবাব।


গাটাগাট।


বিফ কাবাব।


রাইতা।


আমাদের খাবার শুরু। (দেখুন আমিই শুধু মোবাইলে ছবি তুলি না, ওই যে পিছনে! দুনিয়াতে এখন মোবাইলেই সব চেয়ে বেশি ছবি তোলা হয় বলে আমার মনে হয়।)


খেতে আর কতক্ষন! মিনিট পনর হয়ত!


অবশেষে ওয়াসিম ভাইয়ে ‘ডিসুম’ পান! এই পান না খেলে আর কি খেলেন?


ফেরার পথে আরো কুয়াশা দেখলাম। তবে উত্তরার পথে ফ্লাইওভারের জন্য এই সরকারকে ধন্যবাদ দিতেই হয় (এভাবে দ্রুত কিছু কাজ করে ফেলা দরকার)। এখন আর আগের মত যানজট নেই, সময় বেঁচে যাচ্ছে অনেক। মানুষ খুশি থাকলে সরকারও খুশি থাকতে পারে!  সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে কাজ করলে ভোটের কথা চিন্তা করতে হয় না। সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতা পেয়ে শুধু চুরির চিন্তা করলে চলে না, গন মানুষের জন্য কিছু করতে হয়!

রামপুরা বাজারের কাছাকাছি গাড়ি চলে এল। তখন রাত প্রায় বারটা। ভাবছি, আজ বাসায় গিয়ে কি বলব! কি বললে স্ত্রী পুত্ররা কিছু মনে করবে না! শান্তির জন্য স্ত্রী পুত্রের কাছে মিথ্যা বলা যায়, এই মর্মে ইটালীতে এক বিচারক তার মতামত দিয়েছিলেন! বিচারকের রেফারেন্স মনে আসতে থাকে, মনে মনে সেই বিচারক বাহাদুরকে ধন্যবাদ জানাই! গাড়িতে বন্ধুদের বললাম, বাসায় গিয়ে কে কি বলবেন? এবার মনে হয় ওদের বাসার কথা মনে পড়ল! বাসায় যে বউ/বেটিয়া আছে এটা মনে হয় ওরা এতক্ষন ভুলে ছিল! হা হা হা…

রাস্তায় নেমে বাসার গলি পথে পা বাড়াই! কয়েকটা নেড়ি কুকুর এখনো হেঁটে বেড়াচ্ছে! রাস্তাঘাটে তেমন লোকজন নেই তবে প্রায় বাসাতেই এখনো আলো জ্বলছে, মানে শহরে এখন মনে হয় কেহ আর রাত একটা/দুইটার আগে ঘুমায় না! রাত বারটায় হিন্দি সিরিয়াল শেষ হলে স্বামী/গৃহকর্তারা রিমোট পান, রাত একটা পর্যন্ত প্রান ভরে তারাও দেখেন ‘টকশো’!

হত্যভাগ্য সেই সব গৃহকর্তাদের কথা ভেবেই হয়ত বাংলা টিভি চ্যানেলগুলো মধ্যরাতে এই ‘টকশো’র আযোজন করে থাকেন!

রেসিপি প্রিয় ভাই বোন বন্ধুদের শুভেচ্ছা। মাঝে মাঝে আপনারাও এমন আড্ডায় বের হয়ে পড়ুন, ভাল লাগবে।

Advertisements

6 responses to “আড্ডাঃ শীতের রাতে বেরিয়ে পড়া

  1. হা হা হা, মজার ছিলো আপনার পোস্টটি। বিশেষ করে শেষের কথাগুলো যা বললেন হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে। আমাদের মুভি দেখা হয় প্রচুর। আল্লাহর কাছে হাজারো শোকরিয়া যে আপনার ভাবির হিন্দি ভাষার কোনো কিছুর প্রতিই আগ্রহ নেই, কি সিরিয়াল বা কি মুভি। আমরাও রাত করে বেড়িয়ে পড়ি বাড়ির পাশের পাহাড়ী নদীর ব্রিজে যাই, মাঝে মাঝে এই ছোট্ট শহরের বাজারেও চলে যাই চা খেতে। সবাই তো পরিচিত প্রায় এখানের। খুব সুন্দর লাগে।

    ভাল লাগলো নির্মল এই পোস্টটি। তবে স্ত্রী বা সন্তানের নিকট বিশেষ কারণ ছাড়া মিথ্যে বলা ঠিক না, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে তো আরও আগে নয়। হা হা হা………….

    Like

    • ধন্যবাদ দাইফ ভাই। আপনার কমেন্ট পড়ে মনে হচ্ছে এক্ষুনি পাহাড়ের পথে রাওয়ানা হয়ে যাই। আমি পাহাড়, সাগর ভালবাসি। সাগর পাহাড়ের যে স্থানে এসে মিলে সেই স্থানে বসে থাকতে চাই। হা হা হা।

      আমার বোনটা ভাল, প্রমানিত। দোয়া করি। আপনাদের জীবন আনন্দে কাটুক।

      না, চেষ্টা করি সব সময়ে সত্য কথা বলতে! সত্য না বলতে পারলে চুপ থাকি তবুও মিথ্যা বলতে চাই না।

      আমাদের আড্ডা চলবে, আপনাদেরও চলুক। শুভেচ্ছা।

      Like

  2. আমরাও এমন আড্ডা দেই সাহাদাত ভাই। আপনি আপনার আড্ডা নিয়ে যেভাবে লিখে ফেলেন আমরা তা করি না। এমন আড্ডা আরো দিন এবং লিখে আমাদের আনন্দ দিন। আপনার বন্ধুরা ভাল। তাদের সালাম। ঢাকা এলে আমাদের জন্যও এমন আড্ডার ব্যবস্থা করবেন।

    Like

    • ধন্যবাদ সাইফুল ভাই।
      আমি সব সময়েই লিখতে চেষ্টা করি। কখনো পারি কখনো পারি না। আসলে খাবার দাবার গুলো দেখিয়ে দেয়াই মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনাদের সাথে কিছুক্ষন থাকা এবং গল্প করা। রেসিপি দেখে দেখে যেন আপনারা বোরিং না হন, সেজন্যই মাঝে মাঝে এমন আড্ডার খবর আপনাদের কাছে পৌঁছাই।

      অবশ্যই, আপনি ঢাকা এলেই আমাকে একটা কল দেবেন। আড্ডা শুরু হয়ে যাবেই। তা কোন হোটেলে খাওয়াবেন সেটা আগে ভাগেই জানিয়ে দেবেন। হা হা হা।

      শুভেচ্ছা নিন। আশা করি কোন একদিন দেখা হয়ে যাবেই।

      Like

  3. পোস্ট টা ভালো লাগলো। এই গাটাগাট ডিশটা কেমন? কখনো খাইনি। মাঝে মাঝে ইউটিউবে পাকিস্তানী “কাটাকাট/খাটাখাট” বলে একটা জিনিস দেখেছি, যেখানে কলিজা/মগজ/ফুসফুস ইত্যাদি তাওয়ায় দিয়ে একটা স্পেশাল ছুরি দিয়ে কেটে কেটে প্রায় মিশিয়ে দেওয়া হয়, এটাও কি এইরকমই?

    Like

  4. নান আর রাইতা দিয়া গাটাগাট খাইতে মুঞ্চায়।

    এত রাইতে কুতায় পাই?

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s