Gallery

রেসিপিঃ সামুদ্রিক কাইক্কা মাছ (এযাবৎ আমার কেনা সব চেয়ে লম্বা মাছ)


বাজারে বড় মাছ দেখলে আমার কিনতে ইচ্ছা হয়, এটা পুরানো ব্যাপার। সেই মাছ আবার বাজারে না কাটিয়ে বাসায় নিয়ে আসি। পথে নিয়ে আসতে আসতে অনেকের কাছেই দাম বলতে হয়, এটা লজ্জার ব্যাপার! সাধারন দৃষ্টিতে লোকজন ভাবতে পারে আমি দেখিয়ে বেড়াচ্ছি কিংবা ধনী! আসলে এই দুইটার কোনটাই নয়। আমি বড় মাছ কিনি আমার অন্যান্ন খরচ কমিয়ে এবং সেই মাছ বাসায় আনি আমার বড় ছেলেকে দিয়ে ছবি উঠাতে! মাছের ছবির সাথে আমি আমার ছেলেকে আনন্দ দিতে চাই, সে বড় হয়ে একদিন তার বাবার পাগলামী দেখে হাসবে, দুনিয়ার কত মানুষ বড় মাছের সাথে ওকেও দেখেছে! হা হা হা…

এ ছাড়া আর একটা কারন আমি যেহেতু রেসিপি লিখি, তাই পুরা মাছটাও আমার প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা ভাই বোন বন্ধুদের দেখিয়ে দিতে চাই। কি মাছ এবং কিভাবে মাছটা রান্না হল!

মাছটা কিনে বাসায় আনার পর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম – কেমনে রান্না করবো বুঝতে পারছি না! বুলেটকে (Ajmain Udraji) নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম, এটা তারই পছন্দ!

মোটামুটি ফেসবুকের বন্ধুদের কমেন্ট থেকে ধারনা নিয়েই এই সামুদ্রিক কাইক্কা মাছটার প্রথম রান্না হয়েছিল। বলে রাখা ভাল, এই সামুদ্রিক কাইক্কা মাছ আমি এই প্রথম কিনেছি এবং খেয়ে দেখেছি। আগামীতে আরো কয়েকটা রেসিপি লিখতে পারবো। হা হা হা। চলুন সামুদ্রিক কাইক্কা মাছের সাধারন রান্না দেখে ফেলি।

প্রয়োজনীয় পরিমান ও উপকরনঃ
– কয়েক টুকরা মাছ (গোল করে কাটা)
– মাঝারি তিনটে পেঁয়াজ কুঁচি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– এক টেবিল চামচ আদা বাটা
– এক চা চামচ রসুন বাটা
– ঝাল বুঝে হাফ চামচ মরিচ গুড়া
– হাফ চামচ হলুদ গুড়া (দুই দফায়)
– এক চিমটি জিরা গুড়া
– এক চিমটি ধনিয়া গুড়া
– ধনিয়া পাতার কুচি, কিছু
– তেল (পরিমান মত, কম তেলেই রান্না উত্তম)
– পানি (পরিমান মত)

প্রনালীঃ
মাছ ভেজে নেয়াঃ (আপনি চাইলে না ভেজেও রান্না করতে পারেন)

সামান্য হলুদ লবন মেখে নিন।


সামান্য তেলে এপিট ওপিট করে হাল্কা ভেজে নিন।


এবার মাছ গুলো তুলে রাখুন।

মুল রান্নাঃ

মাছ ভাজার কড়াইতেই মুল রান্না শুরু করুন। প্রথমে এক চিমটি লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি ভাজুন, পেঁয়াজ কুচি হলদে ও নরম হয়ে এলে তাতে আদা, রসুন দিন এবং আবারো ভেজে হাফ কাপ পানি দিন। এবার একে একে সব মশলা গুলো দিন।


মাছ ভাজাতে যেহেতু সামান্য হলুদ দিয়েছেন তাই এখানে হলুদ কম দিতে হবে। (যদি মাছ না ভাজেন তবে হলুদের পরিমান হাফ চামচ হবে)


ভাল করে কষিয়ে তেল উঠিয়ে ফেলুন। একক কোন মশলার ঘ্রান থাকবে না, সব মিলে মিশে একটা আলাদা সুন্দর ঘ্রান বের হবে।


এবার সামান্য ভেজে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিন।


উলটা পালটা করে নাড়িয়ে নিন। মাছ নাড়াতে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে, মাছ যেন ভেঙ্গে না যায়।


এবার আরো এক কাপের মত পানি দিন।


এবং আচ বাড়িয়ে (মাধ্যম আঁচ হলে একটু সময় লাগে বেশী তবে স্বাদ বেড়ে যায়) ঢাকনা দিয়ে মিনিট ১০/১৫ রাখুন। এই সময়ে চুলার ধার ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত নয়। মাঝে মাছ উল্টে দিতে পারেন।


এই অবস্থায় এসে গেলে কয়েকটা কাচা মরিচ দিতে পারেন।


ঝোল কেমন রাখবেন তা নিজেই ঠিক করুন। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলুন।


এবার ধনিয়া পাতার কুচি ছিটিয়ে দিন। ব্যস।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। গরম গরম সাদা ভাত নিয়ে বসে পড়ুন।

এই মাছ আমি ও আমার পরিবার প্রথম খেয়েছি। আমার স্ত্রী তথা আপনাদের ব্যাটারী আপা বেশ পছন্দ করেছেন (শুরুতে হাল্কা ভেজে নিয়েছি বলে খুব খুশি হয়েছেন), আর আমার রান্না টেষ্টার বুলেট দুই পিস খেয়ে জানাল, রাতেও যেন এক পিস তার জন্য রেখে দেয়া হয়! হা হা হা।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

(সবচেয়ে ভাল লেগেছে ফেসবুকে এই মাছের ছবি দেয়াতে আমার প্রবাসী আম্মা আমাকে ফোন করে এই মাছ প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছেন। কোথায় থেকে কিনেছি এবং খেতে কেমন স্বাদ হয়েছে তাও জানতে চেয়েছেন। তার ফোন পেয়ে আমি সব বলেছি, তবে এই লিখাটা লিখতে আমি কেঁদেই চলেছি, মায়ের মুখ আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে আসছে বার বার। মাকে যদি এই মাছটা রান্না করে খাওয়াতে পারতাম! আমার হাতের রান্না খেয়ে তিনি কি বলতেন তা জানতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। মা, আপনি ভালয় ভালয় ফিরে আসুন, আপনার ছেলে এখন ভাল রান্না করতে পারে।)

9 responses to “রেসিপিঃ সামুদ্রিক কাইক্কা মাছ (এযাবৎ আমার কেনা সব চেয়ে লম্বা মাছ)

  1. আমি এই প্রথম এই মাছ দেখলাম, ছোট ভার্সন টা অবশ্য দেখেছি আগেই। খেতে অসাধারন হয়েছে তা রান্না দেখেই বুঝা যাচ্ছে।

    Like

  2. উদর,

    না ভেজে রাঁধলে এই মাছের স্বাদ অর্ধেকে নেমে আসে।

    Like

  3. কখনো খাওয়া হইনি। পেলে চেষ্টা করবো।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s