Gallery

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ২ (নীলার বিয়ে)


অনেক দিন ধরে বিবাহের দাওয়াত পাই নাই। দেশের রাজনীতি এবং নিজেরও অনাগ্রহে বিবাহের দাওয়াত পাই নাই বা পেলেও যাই নাই! কিছু দিন ধরে বিবাহের খাবার দাবারের প্রতি একটা নজর পড়ছিলো অথবা বিবাহের খাবার দাবারের স্বাদ ভুলে যাচ্ছিলাম দেখে বাসায় আলোচনা করছিলাম। ঠিক এমনি সময়ে ব্যাটারী জানালেন, আমাদের নীলার বিয়ে, দাওয়াত আসছে। শুনে খুব ভাল লাগল, যদিও বিবাহে যাবার কথা এবং উপহারের কথা মনে হলে ফিট হয়ে যাবার জোগাড় (গোপন কথা)! হা হা হা। তবুও এই বিবাহ মিস করা যায় না। নীলা হচ্ছে আমাদের ব্যাটারীর এক মামাত ভাইয়ের মেয়ে, তাছাড়া এই পরিবারের সাথে আমার একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে, এই পরিবার না হলে হয়ত আমাদের বিবাহই হত না! এই পরিবারের এমন খুশির দিনে আমরা কাছে থাকবো না তা কি করে হয়!

চলুন এই বিবাহের খাবার দাবার সহ নানান দিক দেখে ফেলি। আগেই বলে নেই, বিবাহের পাত্র পাত্রীর ছবি তোলা যত সহজ বিবাহের খাবার দাবারের ছবি তোলা সহজ নয়! টেবিলে রাখা খাবারের ছবি তুলতে চাই সাহস এবং দৃঢ় মানষিক অবস্থা! কারন আপনার পাশে যে বসে আছে সে হয়ত হেসে ফেলবে বা এমন করে আপনার মুখের দিকে চাইবে যে, আপনি মনে হয় বিবাহের খাবার আর এই জীবনে খান বা দেখেন নাই। স্পেশালি কোন হেভী সাজুগুজু দেয়া মেয়ে যদি এমন করে ফেলে তবে আর কই যাবেন! যাই হোক, খাবার আসার সাথেই পকেট থেকে ক্যামেরা বা মোবাইল বের করে ছবি তুলে ফেলা এখন আমার অভ্যাস। কে কি ভাবল, বলল তা নিয়ে আর ভাবি না!

নীলার বিয়ের খাবার দাবার আর দশটা মধ্যবিত্ত পরিবারের বিবাহের মতই হয়েছিল। তবে আগে বলে ফেলি, রান্না সুস্বাদু হয়েছিল। বাবুর্চি ধন্যবাদ পেতে পারেন।

পোলাউ বেশ ঝরঝরে হয়েছিল কিন্তু শক্ত নয়, খেতে বেশ ভাল লাগছিলো।


এক পিস দেশী মুরগী রোষ্ট, এক পিস টিকিয়া, এক পিস লেবু, এক পিস পেঁয়াজ, এক পিস শষা, এক পিস কাঁচা মরিচ।


শীতকাল বলে হয়ত এই মিক্স সবজি করা হয়েছিল। নূতন আলু, গাঁজর, টমেটো, বরবটি, ফুল কপি, বাঁধা কপি, মটর শুঁটী ও আরো কিছু সবজি দিয়ে এই সবজি মিক্স একশতে একশ পাবে।


গরুর রেজালা। বাসায় এসে শুনেছি খাসির রেজালাও করা হয়েছিল যারা গরু খান না তাদের জন্য। আই মিস ইট! আমাকে খাবার টেবিলে এটা কেহ বলে নাই! খাসির রেজালা মিস করে এখন মন খারাপ!


বেরহানী। ঝাক্কাস! আমি একাই তিন গ্লাস সাবাড় করেছি!


মিষ্টি মুখ, জর্দ্দা। অসাধারণ, বিবাহের খাবারে এই জর্দ্দা না থাকলে চলে না। চোখ সয়া হয়ে পড়ছে, ব্য়সের কারনে আমি এখন আর টানতে পারি না! তাও দুই চামচ নিয়েছিলাম! (জর্দ্দার ছবি কিছুটা ঝাপসা, কারনে ছবি তোলার সময় পাশে বসা মেয়েটা তার পাশে বসা ছেলেটাকে কি যেন বলছিলো!)


হাত ধুতে গিয়ে সারি সারি বেসিন দেখে মাথা ঘুরে পড়ার দশা! বিরাট রুমে প্রায় এক সাথে ত্রিশ জনের একসাথে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা! আমি এই জীবনে ঢাকা শহরে যত কমিউনিটি সেন্টারের বিবাহ খেয়েছি এমন আর কোথায়ও দেখি নাই! হাত ধুতে গিয়ে সব সময়েই বিরাট লাইনে পড়েছি! এই হাত ধোয়ার রুম দেখে মনে অনেক শান্তি পেয়েছি। নো সিরিয়াল, খোলামেলা, আছম! হা হা হা…


বিবাহের খাবার খেয়ে পান না খেলে চলে না! এবং সাথে যদি দাঁত খিলাল না করা হয় তা হলে পুরা খাবারই মাটি!

এবার চলুন বিবাহের অন্য একটা দিক নিয়ে আলোচনা করি। আজকাল ডিজিটাল যুগ, বিবাহের সব কিছুতেই এই ডিজিটাল প্রবেশ করেছে। চলুন কয়েকটা নমুনা দেখি!


সবার কাছেই মোবাইল! ছবিতো তুলতেই হবে! মোবাইলে তোলা ছবি গুলো দেখে আমিও আনন্দ পাই, আমিও মোবাইলে মাঝে মাঝেই ছবি তুলি। মোবাইলে ছবি গুলো মোবাইল মালিককে অবসর সময়ে অনেক আনন্দ দেয়। শত শত ছবি তুলে অনেকে এখন ব্যক্তিগত আর্কাইভ গড়ে তুলেছেন। তবে মোবাইলে তোলা ছবি গুলো অনেক সময় হারিয়ে মোবাইল মালিক হা হুতাশ করেন। মোবাইল হারিয়ে বা পকেটমার খেয়ে কিংবা মনের অজান্তে ‘অল ডিলিট’ মেরে অনেক মোবাইল মালিক কি মনঃকষ্ট পড়েছেন এটা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল! মোবাইলে ছবি তুলে তুলে হাত ঠিক করে নেয়া যেতে পারে, আমরাও আগামীর ক্যামেরাগ্রাফার পেতে পারি।


আজকাল ট্যাব এসে পড়ছে। অনেকে ট্যাব নিয়ে ঘুরে বেড়ান। ট্যাবের ছবি গুলো আরো ভাল লাগে দেখতে। বড় পর্দায় বড় ছবি, ওয়াও!


প্রফেশন্যাল ফটোগ্রাফি চলছে! আজকাল এটা না হলে চলে না। প্রতি বিবাহে এই প্রফেশন্যাল ছবির জন্য দিতে হয় দশ থেকে পনর হাজার টাকা, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য। আমাদের ক্রিকেটার সাকিব তার বিবাহে ফটোগ্রাফির জন্য কত টাকা খরচ করেছেন তা জানলে হয়ত আমাদের অনেকের মাথা ঘুরবে। থাক, জানার দরকার নাই!


সেই ১৯৫২ সাল থেকে এখনো ভিডিও চলছে! আই লাভ ইট!


আজকাল ছবি তোলায় প্রফেশন্যালি মেয়েরাও এগিয়ে আসছে। এটা চমৎকার দিক। এক সময় মেয়েরা ক্যামেরা ধরতে চাইত না, লজ্জা পেত। এখন একটা টীম করে সবাই ছবি তোলে, পরে যে গুলো ভাল হয় তা কাষ্টমারের হাতে দেয়া হয়। নীলার বিয়েতে এই মেয়েটার ছবি তোলা সবার দৃষ্টি আকর্ষন করেছে, সম্ভবত চার চারটে ক্যামেরা দিয়ে সে ছবি তুলছিল। তার হাতের এই ক্যামেরাটা একটা ছোট খাট মিশাইল!


আপনারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছেন, এবার বরের ছবি দেখুন। এক দিনের বাদশা! কাইল সকাল থেকেই একজন সাধারণ সৈনিক হয়ে যাবে!


কবুল! কবুল! কবুল! সাক্ষীদের সামনে এই কবুল বলার দৃশ্যটা এখন কঠিনভাবে ধারন করা হয়!


এই হচ্ছে আমাদের নীলা! আজ থেকে সে বিবাহিত/গৃহিনী! দোয়া করি, তোমাদের সংসার এই খালাখালুর (আমি খালু বটে) সংসারের চেয়ে অনেক অনেক  অনেক আনন্দের এবং মজার হয়ে উঠুক। ভাল থেকো। শুভেচ্ছা।

বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ১ (মুনার বিয়ে)

Advertisements

11 responses to “বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ২ (নীলার বিয়ে)

  1. উফ্!! লোভ লাগিয়ে দিলেন, ভাই। দেশের বিয়ে কতদিন খাইনা।

    Like

  2. বোরহানির রেসিপি দেবেন প্লিজ, সব উপকরণের পরিমান সহ. বোরহানির সাদ ভাল হওয়ার জন্য উপকরণ গুলোর পরিমানটাই আসল. আমি অনেকদিন ধরে ভালো রেসিপি খুজছি. যখন আপনার সময় হবে,দেবেন প্লিজ.

    শিরিন

    Like

  3. নীলার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। সুন্দর টুকটুকে একটা বউয়ের মত লাগছে।

    Like

  4. কতদিন বিয়ের খাবার খাই নাই। আপনার ছবি দেখে লোভ হচ্ছে।

    Like

  5. পিংব্যাকঃ বিয়ে শাদীর খাবার দাবার ও অন্য কিছু – ৩ (মাসুম ভাইয়ের বিয়ে) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s