Gallery

রেসিপিঃ মাগুর মাছ রান্না (তিনভাই ও এক বোনের গল্প)


রেসিপি লিখছি এটা পুরানো খবর! আশা করি যারা নেটে অনলাইনে থাকেন, অনেকেই আমার রেসিপি দেখেছেন এবং আমার এই কাজের প্রশংসা করেন। মাঝে মাঝে তাদের মনের কথা গুলো আমাকে লিখে জানান কিংবা ফোন করেন, এটা আমার জন্য প্রতিদিন নূতন খবর। আমি রেসিপি প্রিয় এই ভাই বোনদের উত্তর দিতে চেষ্টা করি। আপনাদের জন্য আমার ভালবাসা সব সময়েই আছে এবং থাকবে।

আজকের এই মাগুর মাছ রান্নার রেসিপি এমনি তিন ভাই ও এক বোনের* জন্য তথা যারা রান্না করছেন তাদের জন্য আমার ভালবাসা। পরিচয় না তুলে আমি উনাদের মেইল মেসেজ তুলে দিচ্ছি, উনাদের মেইল মেসেজেই পুরা ব্যাপারটা উঠে আসবে।

১। জাযাকাল্লহু খাইরান, ভাই।
বিদেশে পড়তে এসে, রান্না করে খেতে বাধ্য হচ্ছি। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে আল্লাহ আপানাকে এত সুন্দর এবং উপকারী একটা ব্লগ লেখার তাওফিক দিয়েছেন। আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। ধন্যবাদ।

২। Dear Shahadat Bhai:
Thanks a lot for your idea that would help a lot of people I think. I should salute you for your effort. Your site regarding variant cooking recipe helps me a lot to prepare my food here in London. You will not believe that I never cooked in my life earlier but now cooking good food with the help of your web site. I have just started my UK life one month ago and thanks that I come to know your site early.

I am really grateful to you. Take care and keep me in your prayers.

Kind regards,

৩। Hello
This is ————-. Very recent I moved to canada from bangladesh. I was a tv journalist in bangladesh. I rarely went to kitchen when i was in there. But now I ve to cook everything which is very painful. Because I m totally zero in cooking. In this situation one of my friends from bangladesh gave me ur website about cooking. It is really very helpfull site. I m very pleased to ve this. Now a daz I m following ur recipeies. So I wanna give u a big thanx to teach cooking with easiest way.

Best wishes always.

৪। শুরুতে শুধু কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কিছু শেয়ার করতে যাচ্ছি যে গুলো একান্তই আমার ব্যাক্তিগত। আমি ২০০৭ এস,এস,সি পাশ করি এবং ঐ বছরেই গৃহত্যাগ করি মানে একটু ভালো মানের লেখাপড়ার জন্য শহরে পাড়ি জমাই। আর শুরুতেই যে সমস্যা ফেইস করি সেটা হলো খাওয়ার সমস্যা । হোটেলের খাওয়া দাওয়া একদমই সেট হচ্ছিল না। তাই নিজের উপর রাগ করতে থাকি , নিজেকে নিজে এই বলে বকতে শুরু করি যে “ফরিদ,তুই কেনো এস,এস,সি পাশ করতে গেলি? যদি বারবার ফেল করতি তাতেও তোর সমস্যা ছিলনা। মায়ের হাতে তো খেতে পারতি,বাবার দেওয়া শার্ট প্যান্ট লুংগি তো পরতে ” যাইহোক এরকম বকাবকির মধ্যেই দুটি বছর কাটিয়ে এইচ,এস,সি পাশ হয়ে যায়। পাড়ি জমাই বরিশালে,এসেই পুড়ো বাস্তবতার সম্মুখীন হই। বাইরে খাওয়া দাওয়া করলে বেচে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে পরবে। তাই চিন্তা করলাম নিজের খাবার নিজেকেই তৈরি করতে হবে। সেই ২০০৯ এর শেষের দিক থেকে রান্না করে খেতে শুরু করি তাও আবার কেরোসিন এর স্টোভ এ(মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা তো তাই একসাথে কিছু টাকা খরচ করে গ্যাস কেনা সম্ভব হয়ে উঠেনি ) যদিও মাঝে,মাঝে মানে যখন ক্লান্ত হয়ে পরতাম তখন দু,এক মাস বাইরে খেতাম। আস্তে,আস্তে অনেক কিছুই রান্না করতে শিখে গেলাম। অনেক খাবারের স্বাদই তেমন ভালো হতো না শুধু পেটে জামিন দিতে হবে বিধায় খেতাম। এর পরে হঠাত করে আপনার এই লিঙ্কটা পেয়ে বসি এবং আপনার রেসেপির কিছু, কিছু ট্রাই করতে থাকি। কিছু বিষয়ে সফলতাও লাভ করি (আপনাকে ইনবক্স করেও জানিয়েছিলাম)। এবং আশা করি ভবিষ্যতে আপনার রেসিপিগুলোকে আর ও ফলো করার চেষ্টা করব। হয়ত আমার অনেক কষ্টও লাঘব হতে পারে। আমার জন্য দোয়া করবেন। আর আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।

উপরের তিনভাই এবং বোনের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। আশা করি আমরা সবাই ভাল থাকব। চলুন রান্না দেখে ফেলি। মাগুর মাছ আমার প্রিয় মাছের মধ্যে একটা। ছোট বেলায় আমার আম্মা মাগুর মাছ রান্না করলে আমাকে মাগুরের মাথাটা দিতেন। তবে এখন আর সেই বড় বড় মাগুর মাছ চোখে দেখি না, কখনো বাজারে দেখলে কেনার কথাও ভাবতে পারি না, অনেক দাম। এখন ভেবে কুল পাই না, বাবা কি করে এত বড় সংসার চালিয়েছেন, আমরা কত ভাল খাবার খেয়েছি। দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি আমাদের মত সাধারণ মানুষদের প্রায় শেষ করে দিচ্ছে! (সাথে তো ভেজাল আছেই ফ্রী হিসাবে, যাই কিনি তাতেই ভেজাল।)

উপকরনঃ  (সাধারন মাছ রান্না, সাধারণ মশলা)
– মাগুর মাছঃ তিনটে (হাফ কেজি হতে পারে)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি তিনটে
– আদা বাটাঃ ১ টেবিল চামচ
– রসুন বাটাঃ দেড় টেবিল চামচ
– কাঁচা মরিচঃ ৩/৪টা (ঝাল বুঝে, দুই দফায় দেয়া হবে)

– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচের কম

– কাঁচা ধনিয়া পাতাঃ পরিমান মত

– লবনঃ পরিমান মত
– তেলঃ সয়াবিন তেল (তেল কমেই রান্না করা ভাল, তেল একটু বেশি দিলে রান্না দেখতে ভাল দেখায়, স্বাদও বাড়ে এটা সত্য কিন্তু তেল স্বাস্থ্যের জন্য ভাল নয় বলে জানা যায়)
– পানিঃ পরিমান মত

পরিমান ও প্রনালীঃ

মাগুর শিং মাছ কাটতে সাবধান। কাটা ফুটিয়ে দিলে রান্নার আগ্রহ মিটে যাবে! হা হা হা। আমি সাধারণত বাজার থেকে মাছ কাটিয়ে নিয়ে আসি তবে বেশী বড় মাছ হলে বাসায় নিয়ে আসি এবং ছবি তুলি। পরে আমি ও আমার ব্যাটারী মাছ নিয়ে পারাপারি করি! আজকাল আমার ব্যাটারী যত বড় মাছই হউক না কেন কেটে ফেলতে পারেন এবং কাটতে কাটতে আমার নানার নাম ভুলিয়ে দেন! এই মাগুর মাছ গুলো তিনি কয়েক মিনিটেই লবণ দিয়ে মেরে কেটে সাফ করে দিয়েছেন। আগামীতে মাগুর শিং আনলে আমি নিজেই কেটে নিব। মাগুর শিং কাটার বিশেষ কৌশল আছে।


আমার ব্যাটারী জানালেন, মাগুর শিং মাছ ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করতে হয়। তবে এই ধরনের মাছ মাটির মালশাতে খলখলিয়ে (! বুঝাতে পারলাম কি না কে জানে) ধুয়ে নিলে সব চেয়ে ভাল পরিস্কার হয়।

মুল রান্না

সামান্য তেল গরম করে তাতে লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে তাতে কয়েকটা কাঁচা মরিচ, আদা বাটা এবং রসুন বাটা দিয়ে ভাল করে ভেঁজে নিন এবং ভাঁজা শেষে হাফ কাপ পানি দিন।


এমন দেখাবে। ভাল করে নাড়িয়ে জ্বাল দিন, আগুন মাধ্যম আঁচে।


এবার মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন। এবং মিশিয়ে নিন।


তেল উঠা পর্যন্ত নাড়িয়ে নিন, আগুন মাধ্যম আঁচে।


তেল উঠে মশলার ঘ্রান আলাদা হয়ে গেলে, এবার মাছ দিয়ে দিন।


ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন।


এবার দুই কাপ পানি দিন।


এবার ঢাকনা দিয়ে রেখে দিন। (আপনার কাছে পানি বেশী মনে হতে পারে, কিন্তু মাগুর মাছ দেখতে নরম হলেও শক্ত, সুতারাং বেশী জ্বালে বেশী মজা বের হয়ে আসবে)


ঝোল কেমন রাখবেন তা আপনি নিজে ঠিক করুন। ঝোল কমাতে চাইলে আগুন বাড়িয়ে ঢাকনা খুলে দিন। তবে চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না। সামান্য সময়েই আপনার ফিরে আসার ভুলে পানি কমে গিয়ে রান্না পুড়েও যেতে পারে। তাই রান্নায় চুলা ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়।


এবার আগুনের আঁচ একদম কম করে দিন। ফাইন্যাল লবন দেখে নিন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন। এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি এবং আরো দুইটা মরিচ ছিরে ছিটিয়ে দিন এবং মিশিয়ে নিন। আগুন একদম কম, সামান্য সময়ের জন্য ঢাকনা দিয়ে রাখুন। তেল ঝোল আলাদা হয়ে যাবে।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। মাগুর মাছের ঝোল।


স্বাদ অতুলনীয়। গরম ভাতের সাথে জুড়ি মেলা ভার। ইস, এই এমন তরকারী নিয়ে যদি চার ভাই বোন আবার বসতে পারতাম! জীবন সে কথা আর বলে না, জীবন চলে জীবনের পথে, আমরা জীবনের পথেই এগিয়ে চলি, আশা করি আবার দেখা হবে হয়ত! এই তো বেঁচে থাকা!

* আমরা তিন ভাই এবং এক বোন। আমি এবং ছোট ভাই ঢাকাতে থাকি, বড় ভাই থাকেন চট্রগ্রামে এবং আমাদের আদরের বোনটা থাকে প্রবাসে। আমাদের বাবা বেঁচে নেই। আম্মা আমাদের সবার কাছেই থাকেন তবে এই সময়ে তিনি আছেন আমাদের বোনের কাছে, প্রবাসে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

9 responses to “রেসিপিঃ মাগুর মাছ রান্না (তিনভাই ও এক বোনের গল্প)

  1. মাগুর মাছ আমার ও আমার ছেলে, মেয়ের প্রিয়। এখন শুধু নিজের জন্য মাঝে মধ্যে রান্না করি। শিং, মাগুর মাছ একটি হাড়িতে নিয়ে লবন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ঢাকনার উপরে ভারি কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে মিনিট পাচেক রাখলেই মাছগুলো নিশ্তেজ হয়ে যায়। তখন কাটতে সুবিধা।

    Like

  2. ধুর মিয়া খিদা লাগায়া দিলেন

    Like

  3. Deshe thakte magur maach khub khetam. Ekhane desher moto machta pawa jae na. Good recipe. Thanks.

    Like

  4. আপনি রান্নায় টমেটো দেননা কেন ?টমেটো দিলে স্বাদ দিগুণ বেড়ে যায় ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      বাজার থেকে টমেটো কেনা প্রায় ছেড়েই দিয়েছি। কারন এখন বাংলদেশের বাজারে যে টমেটো পাওয়া যায় তার প্রায় সবেই ভেজাল বা ক্যামিক্যাল। এমন কি এই শীতেও নাকি ওরা এই কাজ করছে। তাই ভয়ে টমেটো কিনি না এবং খাই না।

      ভেজার নিজে আমি বলে বলেই যাচ্ছি। হারামজাদা সরকারের এই বিষয়ে কোন নজরই নেই। সামান্যতম চেষ্টাও চোখে পড়ে না। ভেজাল্কারীদের জন্য কত কিছুই এখন আর খাই না, কিনি না। কলা দেখেই দূরে পালিয়ে যায় আরো কত কি।

      শুভেচ্ছা বোন। আমার আগের অনেক টমেটোর তরকারী আছে। সার্চ দিয়ে দেখে নিতে পারেন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s