Gallery

রেসিপিঃ সরিষার শাক ভাজি (ফর্মুলা নং ১)


শীতকালে আমাদের দেশে প্রচুর শাক সবজি পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের অনেকেই এখনো শাক খেতে চাই না। আমাদের দেশে অনেক বাসাবাড়ীতে মাছ মাংস যেভাবে খাওয়া হয় ঠিক সেভাবে শাক খাওয়া হয় না। শাক না খাওয়ার প্রধান কারন শাক বেছে কেটে কুটে রান্না করা সময়ের ব্যাপার এবং আরো একটা কারন যারা শাক রান্না করেন তারা শাকের রান্নায় মনোযোগী হন না, ফলে খেতে বসে শাকের স্বাদ পাওয়া যায় না এবং অনেকেই এইজন্য আর শাক খেতে চান না।

আজ আপনাদের খুব সহজভাবে শাকের একটা ভাঁজি দেখিয়ে দেব এবং এইভাবেই আপনারা যে কোন শাক ভাঁজি করে খেতে পারেন। যারা শাক পছন্দ করেন না, তাদের প্রতিও আমার এই চ্যালেঞ্জ! হা হা হা… খুব কম মশলাপাতি এবং সময় কমে এই রান্না আশা করছি আপনাদের ভাল লাগবে এবং আপনারা খেয়ে দেখবেন। এই পদ্ধতিতে মুলা শাক, আলু শাক, লাল শাক, পালং শাক, কুমড়া শাক, পুই শাক, লাউ শাক সহ যে কোন শাক ভাঁজি করতে পারেন। আমি পূর্বেও আপনাদের অন্য শাক ভাঁজি দেখিয়ে ছিলাম। আজ সরিষার শাক দিয়ে এই ভাঁজি দেখিয়ে দিচ্ছি। এটা শাক ভাজির ব্যাপারে এটা আমার ফর্মুলা নং ১! চলুন দেখে ফেলি।

উপকরনঃ
– দুই আঁটি শাক (শাকের পরিমান বুঝে নিতে হবে)
– মাঝারি তিনটে পেঁয়াজ কুঁচি (আমি এখন ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ খাচ্ছি, দেশী পেঁয়াজের দাম আকাশ ছোঁয়া)
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– লবন (পরিমান মত, লবনের পরিমান শুরুতে কম দিয়েই শুরু করতে হবে)
– হাফ চা চামচের কম চিনি
– পরিমান মত তেল (শাকে সামান্য তেল বেশি হলে ভাল)/পানি

পরিমান ও প্রনালীঃ

শাক ভাল করে বেছে, ভাল করে ধুয়ে কুঁচি করে নিতে হবে।


কিছু পানিতে শাক সামান্য সিদ্ব করে নিতে হবে।  (কিছু শাকে এই সিদ্ব করার দরকার নেই এবং মুলা, কুমড়া ইত্যাদি শক্ত শাক হলে একটু বেশী সিদ্ব করতে হবে। আমি সরিষার শাক সামান্য সিদ্ব করেছি ঘ্রানের তীব্রতা কমিয়ে নিতে, এটা না করলেও চলত।)


এবার শাকের পানি ঝরিয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ ভাল করে ভেঁজে হলদে করে নিতে হবে।


এবার শাক দিয়ে দিতে হবে।


ছিটিয়ে চিনি দিয়ে দিন।


চুলার ধার ছেড়ে যাবেন না, ভাল করে খুন্তি দিয়ে উলটা পালটা করে ভাঁজতে থাকুন। আগুন থাকবে মাঝারি আঁচে। যে কোন শাক ভাঁজিতে চুলা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত নয়, এতে শাক পুড়ে যেতে পারে।


শাক মজে এই অবস্থায় এসে যাবে। এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, যদি কম হয় তবে দিন এবং আবারো খুন্তি দিয়ে ভাল করে নাড়িয়ে মিশিয়ে নিন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


গরম ভাতের সাথে বেশ জমে উঠবেই!

প্রতি বেলায় কিছু না কিছু শাক খেতে হবে, বিশেষ করে দুপুরের খাবারে শাক খেতেই হবে। এতে শরীর ভাল থাকবে এবং বৃদ্ধকাল আরামে কাটবে। আমি আগেও বলেছি এখনো বলি, শিশুকাল থেকেই শাক খাবার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে, এতে আমাদের মঙ্গল। আমাদের শিশুদের শাক খাবার অভ্যাসে আমাদের বড়দের অনেক করনীয় আছে।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

7 responses to “রেসিপিঃ সরিষার শাক ভাজি (ফর্মুলা নং ১)

  1. আপনার শাক রান্নাটি দেখলাম ভাইজান, একেবারেই অন্যরকম। আমার বাসায় কি শীত কি গ্রীস্ম দুপুরের খাওয়ায় শাক অবশ্যই থাকতে হবে। আর আমি যত শাক খাই মনে হয় কোনো গরু এতো ঘাসও খায় না। ভাতের সাথে শাক আমার যে কোনো উপাদেয় কারীর চেয়েও প্রিয়। কিন্তু, আমার শাক রান্না খুবই শর্টকাট, আর রশুন ছাড়া আমি শাকের কথা চিন্তাই করতে পারি না। শাক কুটে বেছে, কড়াই বা হাড়িতে তেল গরম করে তাতে লবন, রশুন কুচি আর পরিমাণ মতো কাচা মরিচ ফালি করে দিয়ে সাথে সাথেই শাক ছেড়ে দেই। মাঝে মাঝে অল্প পানি দেই, আবার মাঝে মাঝে দেই না। শাক সেদ্ধ হয়ে গেলেই, পরিবেশনের পর অমৃত স্বাদ। সব শাকে আমি কখনোই পেঁয়াজ দেই না। আপনার রান্নাটা আজকেই ট্রাই করবো, নিশ্চয় এটি ভিন্ন স্বাদ হবে। অনেক ধন্যবাদ শাক নিয়ে রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।

    Like

  2. সর্ষ শাকের ঘ্রানই যদি না থাকলো তবে বুঝবো কি করে কোন শাক খাচ্ছি। 😀
    আমিও শাকে প্রচুর রসুন দেই। আর আগে সিদ্ধ করিনা। কারন সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে এর ভিটামিন অনেকটাই চলে যায়। সর্ষ শাক অনেক উপকারী।

    Like

  3. এটা একটা প্রিয় শাক আমার …ঘ্রাণ এর জন্যই তো সর্ষে শাক মজা। ঘ্রাণ কমাবার চেষ্টা করলেন কেন।।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      কমিয়ে না নিলে অনেকেই খেতে চাইবে না। যদিও আমি পারতাম! হা হা হা…। রান্নায় আসলে অন্যের দিকেও তাকাতে হয় যারা রান্না খাবে! তবে শাঁক (সব শাঁক নয়) এভাবে ভাপিয়ে ভাঁজি করলেই ভাল লাগে।
      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. আমি তো কাঁচা সরিষার শাক পেঁয়াজ, মরিচ, লবন আর সর্ষের তেল দিয়ে মেখে খাই। ভীষণ মজা! আমার খুব প্রিয় খাবার এটা।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s