Gallery

রেসিপিঃ উল্টা পাল্টা ভেজিটেবল মিক্স (পরিবারের সবার জন্য)


লেখালেখি নিয়ে আমি মাঝে মাঝেই লিখি এবং বলি। এযাবৎ নানান ব্লগে প্রায় দেড় হাজার (কিছু কম বেশি হতে পারে) ব্লগ লিখে এখনো লিখার জন্য ভাবতে হয়। লেখার জন্য এখনো সময় বের করে নিতে হয়। মাঝে মাঝে ভাবি লিখা লিখিটা কি সহজ কাজ! লেখালেখি আসলে সহজ কাজ নয়, সবাই লিখতে পারে না। লেখালেখি যদি সহজ কাজ হত তবে সবাই লিখত, সবাই যেহেতু লিখে না তাই বলা যায়, লেখালেখি সহজ কাজ নয়। বিষয় ভিত্তিক লেখার ব্যাপারে উক্ত বিষয়ে ওস্তাদ হলেই লেখা চলে আর সাধারন বিষয়ে লিখতে গেলে লাগে উক্ত বিষয়ের মননশীল ধারনা এবং বিবেক চোখ, সেটা না থাকলে লেখালেখি চলে না। লেখালেখি করি বা করতে চাই বা চালিয়ে যেতে চাই বলে, এই লেখালেখির বিষয়েও কিছু বলি, সংক্ষেপে!

সময়, লেখালেখির জন্য সময় একটা গুরুত্ব পূর্ন ব্যাপার। আপনি কখন লিখে থাকেন, কখন লিখতে ভাল লাগে সেই সময়টা বের করে নিতে হয়। যেমন, আমার জন্য লেখালেখির সময়টা হচ্ছে অফিস টাইম, অফিসে আসলেই আমার লেখালেখির ভুত মাথায় চেপে যায়। অফিসে বসেই আমি ভাল লিখতে পারি, চিন্তা করতে পারি। বাসায় বসে এখনো কোন ভাল কিছু লিখতে পেরেছি বলে মনে হয় না, রাতে বা কোন সময়ে আমার লেখা বের হয় না, রাতে পড়তে বা ইনফরমেশন জানতেই ভাল লাগে! হা হা হা!

অভিজ্ঞতা, লেখালেখির জন্য অভিজ্ঞতা একটা বিরাট ব্যাপার। ধরা যাক, গল্পের নায়ক একটা ফাইভ স্টার হোটেলে অথবা কমলাপুর রেল স্টেশনে রাত্রী যাপন করছে! আর সেই বিষয়টা আপনি আপনার লেখার তুলে ধরবেন, লেখকের অভিজ্ঞতা না থাকলে সেটা কিছুতেই সম্ভব নয়। কারো মুখে শোনা অভিজ্ঞতাও কখনো তুলে দেয়া যায় তবে নিজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা আরো পাঠক প্রিয় হয়, হৃদয়য়ের কাছাকাছি করা যায়।

চোখ, একজন লেখকের চোখ থাকবে নানামুখি। তিনি যদিও সবার মতই একটা ঘটনা দেখে থাকেন আসলে তাকে সেই ঘটনাটা আরো ভাল/বেশী চোখ দিয়ে দেখতে হয়। লিখার জন্য তিনি যে চোখে দেখবেন, সেই চোখ তাকে ঘটনার ভিতরে নিয়ে যাবেই। চোখের দেখা বাস্তবতাকেই তিনি ডাল থেকে শাখা প্রশাখায় নিয়ে যান। যা একজন পাঠকের জন্য ভাল লাগার, মনে থাকার বিষয় হয়ে থাকবেই।

মন, মনের কথা আর কি লিখবো। লিখতে গেলে মন থাকা চাই। মন না চাইলে লেখা বের করা মুস্কিল। মন দিয়ে আপনি যেমন আপনার শিশুকাল ঘুরে আসতে পারেন, তেমনি অন্য একজন বৃদ্ধ দেখেও নিজের অবস্থা মন দিয়ে কল্পনা করতে পারেন। লিখতে গেলে মনের এই ঘুরাফেরা সাবধানে করা উচিত, মনের এই ঘুরাফেরার কারনে কখনো সাধারন লেখাও অনেক বড় হয়ে যায় আবার যে লেখায় অনেক বর্ননা দেয়া উচিত তা দেয়া যায় না। গল্প ও উপন্যাস লিখতে গেলে মনের নিয়ন্ত্রন জরুরী।

সুখ দুঃখের মাঝামাঝি একটা অবস্থা, এটা একজন লেখকের জন্য বেশি কার্যকরী বলে আমি মনে করি। সুখে কিংবা দুঃখে যে কোন একটায় বেশী থাকলে লেখালখি বের করা কঠিন কাজ, লেখালেখি করা যায় না বলেই আমার কাছে প্রতীয়মান হয়। সুখ দুঃখের মাঝামাঝি থাকলেই লেখা বের করা সহজ বলে আমার মনে হয়। সুখের সংজ্ঞা কঠিন হলেও দুঃখের সংজ্ঞা অনেকেই জানেন। অর্থ বিত্ত বেশি হলে, মোটামুটি অনেক কষ্ট একজন মানুষের কাছে আসতে পারে কম আর আসলেও তিনি তা তার অর্থের কারনে সামলে নিতে পারেন। এজন্য অর্থবিত্তের লোকেরা লেখক হতে পারে না। আর যারা চিরদুঃখী(!) তারাও ভাল লিখতে পারেন না।  কাজে কাজেই সুখ দুঃখের মাঝামাঝি জায়গাটাই হচ্ছে একজন লেখকের জন্য ভাল জায়গা, সোজাকথা মধ্যবিত্ত! এই অবস্থায় থাকলেই একজন লেখক ভাল লিখতে পারেন বলে আমার মনে হয়। তবে একজন ভাল লেখক কখনো অর্থবিত্ত পছন্দ করেন বলে আমার জানা নেই। অর্থবিত্ত একজন লেখককে তার জায়গা থেকে তুলে ভোগবিলাসে নিয়ে যায়। ভোগবিলাস থেকে অন্য অনেক কিছু হলেও লেখালেখি আর হয় না!

যাই হোক, লেখালেখির চেয়ে রান্না সহজ কাজ! হা হা হা…… এটা অবশ্য ঠিক যে, লেখক/লেখিকারা সাধারণত খাদ্য রসিক হয়েই থাকেন! এমন একটা লেখক/লেখিকার নাম দিতে পারবেন যে খাবার দাবার নিয়ে কিছু বলেন নাই! খাবার টেবিলে পরিবারের সবাইকে একত্রিত করেই একজন লেখক/লেখিকা আনন্দ পান নিঃসন্দেহে!

আমি অবশ্য, লেখক নই! আবার রান্নাও ভাল জানি না! তবুও আমার চেষ্টা চলছে। কি লেখায়, কি রান্নায়! হা হা হা (পাগলের সুখ মনে মনে)। চলুন আজ একটা সবজি মিক্স রান্না দেখে ফেলি। সম্পূর্ন নিজের চেষ্টায়! আগেই বলে নেই, বেশ মজাদার হয়েছিল (রান্নাটা কয়েক সাপ্তাহ আগে করা হয়েছিল)। স্বাদ এখনো বলে দিতে পারবো!

উপকরন ও পরিমানঃ

– উল্টা পাল্টা সবজি (কোনটার সাথে কোনটার মিল না থাকলেও চলবে। হা হা হা)
* পেঁপে, ধুন্দল, বেগুন, কাঁচা টমেটো, ছোট মুলা, করলা, নূতন আলু – মোটামুটি এক কেজির কম হবে হয়ত (আসলে এই তরকারী গুলো ফ্রীজ ঘেঁটে পাওয়া গিয়েছিল, বেঁচে যাওয়া বলা যেতে পারে)

– পাঁচ ফোঁড়ন, হাফ চা চামচ
– তেজপাতা, দুই টা মাঝারি
– শুকনা মরিচ, কয়েকটা

– হলুদ গুড়া, এক চা চামচ
– চিনি, হাফ চা চামচ

– পেঁয়াজ কুঁচি, মাঝারি দুইটা
– ধনিয়া পাতার কুঁচি, কিছু
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা

– লবন, পরিমান মত, শুরুতে কম দিয়েই রান্না শুরু করা উচিত, লাগলে পরে দিতে পারবেন
– পানি, পরিমান মত
– তেল, পরিমান মত (আমি কমেই রান্না করেছি)

প্রনালীঃ 

সবজি গুলো দুই ভাগে কাটতে হবে। যে সবজি গুলো শক্ত তা একদিকে আর নরম সবজি গুলো অন্য দিকে।


শক্ত সবজি গুলো সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।


এবার মুল রান্না। হাড়িতে (ননস্টিকি হাড়িতে রান্নার মজাই আলাদা) কয়েক চামচ তেল গরম করে তাতে পাঁচ ফোঁড়ন ভাঁজুন এবং তেজপাতা ও শুকনা মরিচ দিয়ে দিন।


এবার সব সবজি গুলো (সিদ্ধ এবং কাঁচা) দিয়ে দিন, সামান্য লবন দিতে ভুলবেন না এবং ভাল করে মিক্স করে নিন।


হলুদ গুড়া দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার চিনি দিতে ভুলবেন না! ভাল করে নাড়িয়ে মিক্স করে দিন।


এবার দুই কাপ পানি দিন, অনেক গুলো সবজি পানিতে ভাসবে তাই পানি বুঝে দিতে হবে। (লাগলে আরো পরে পানি দেয়া যেতে পারে)


এবার ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে মিনিট ২০ ফেলে রাখুন, মাঝে নাড়িয়ে দিতে হবে কয়েকবার।


ঠিক এমন অবস্থায় এসে যাবে।


এখানে হালকা একটা রহস্য! সবজি গুলো সিদ্ধ হয়ে গেলে ঘুটনি দিয়ে সবজি গুলো থেতলে আরো ভাল মিক্স করে দিতে পারেন। এবং এই সব্জির হাড়ি তুলে রাখতে পারেন। (যাদের দুই চুলা তাদের না তুলে রাখলেও চলবে) এবার ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেলে পেঁয়াজ কুঁচি ভেঁজে বেরেস্তা বানিয়ে নিন।


সব্জির হাড়িতে বেরেস্তা গুলো দিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


এবার ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে! এবার ধনিয়া পাতার কুঁচি এবং কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন। ব্যস হয়ে গেল।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। কে খাবে না বলুন! রুটি, পরোটা কিংবা গরম ভাতের সাথে!

অতান্ত মজাদার এই সবজি খেয়ে আমার রান্না টেষ্টার বুলেট জানালো, বাবা এখন তুমি টিভিতে তোমার রান্না শো ‘গল্প ও রান্না’ করতে পার!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনারা কি বলেন?

Advertisements

3 responses to “রেসিপিঃ উল্টা পাল্টা ভেজিটেবল মিক্স (পরিবারের সবার জন্য)

  1. লেখা লেখি নিয়ে আপনার ভাবনা অনেক যুক্তিপুর্ণ!

    আর রেসিপির বিষয়ে বলি, আমি হলে পেঁয়াজ ব্যাবহার করতাম না। অল্প আদা বাটা দিতাম। ব্যাস! আর সবই ঠিক আছে।
    তবে কথায় আছে, ” আপ রুচি সে খানা, আওর পার রুচি সে পেহনা”।
    সুতরাং নো প্রবেলেম। 🙂

    Like

  2. Yes I also wait for the recipe program “GOLPO O RANNA” at TV, hope can watch soon

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s