Gallery

রেসিপিঃ মোরগ মোন্তাজান (বিবাহ বার্ষিকীর খাবার দাবার)


মধ্যবিত্তদের জীবনে বছরের প্রতিটা দিনই এক রকম। জন্মদিন কিংবা কোন বার্ষিকীর কোন মুল্য আছে কি না আমার জানা নেই! তবুও দিন আসে দিন যায়। তেমনি গত ১১/১১/২০১৩ইং ছিল আমাদের বিবাহ বার্ষিকী, যে দিনটার কথা আমি ভুলেই যাই! আমরা এই দিনে ১৬তম বর্ষে পা দিলাম! আমাদের যুগল জীবনের ১৫টা বছর শেষ হয়ে গেল। এই তো মনে হয় সেই দিনের কথা, এক হরতালের সময় বিয়ে করতে গেলাম! তেমন রং ঢ়ং ছিল না আমাদের বিবাহে! (আবশ্য সে এক ইতিহাস! কাহিনী লিখলে উপন্যাস হয়ে যাবে, আর উপন্যাস কে পড়বে!)

যাই হোক, অফিসে বসে দিনটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম! ছেলের মোবাইল মেসেজ পেয়ে মনে হল! তখন ফেবুতে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ।  ভাগ্য ভাল যে, ছেলে দিনটার কথা মনে রেখেছে!  ভাবছিলাম তাড়াতাড়ি আজ বাসায় ফিরে যাব, কিন্তু তবুও বের হতে হতে সন্ধ্যা ৭ টা বেজে গেল। এই দিনটাতে হরতাল থাকাতে রাস্তা ফাঁকা থাকায় বলা চলে তাড়াতাড়ি বাসায় পৌঁছে যাই। পথে রামপুরা বাজার থেকে একটা তিন কেজি ওজনের মোরগ, এক কেজি পোলাউ চাল এবং হাফ কেজি পেঁয়াজ কিনে বাসায় ফিরে আসি। অনেক দিন আগে থেকে ভাবছিলাম, মোরগ মোন্তাজান রান্না করবো। এটা আমাদের দেশের জনপ্রিয় রান্নাবিধ অধ্যাপিকা সিদ্দীকা কবিরের রেসিপি থেকে নেয়া একটা রান্না। মোন্তাজান কেন বলা হয় আমিও জানি না। তবে সাধারন রান্নাই, শুধু মশলার কাজ একটু বেশী।

খুব কম সময়ের মধ্যেই দুই চুলার এক চুলায় পোলাউ এবং অন্য চুলাতে আমরা মোরগ মোন্তাজান রান্না করে ফেলি। খাবার সময় আর শুধু ছিল আমের আঁচার! এই তো আমাদের সাধারন বিবাহ বার্ষিকী! চলুন রেসিপি দেখে ফেলি, মোরগ মোন্তাজান।

(অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবিরের রেসিপি দেখে এটা রান্না করা হলেও পরিমান ও উপকরণ আমরা নিজেরাই ঠিক করে দিয়েছি। পাঠক/পাঠিকা ভাই বোনদের যাতে রান্না করতে সুবিধা হয় সেটা বিবেচনায় রেখে আমরা পরিমান নিশ্চিত করেছি।)

উপকরনঃ
– মোরগ, দেড় কেজি, পিছ কেমন করবেন তা আপনি নিজেই ঠিক করতে পারেন
– টক দই, দেড় কাপ, মোরগের মাংস ভিজিয়ে রাখার জন্য
– পেঁয়াজ কুঁচি, হাফ কাপ

– আদা বাটা, ১ টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, ১ টেবিল চামচ
– বাদাম বাটা, ৪ টেবিল চামচ
– ধনিয়া বাটা, ১ চা চামচ
– জিরা বাটা, ১ চা চামচ
– লাল মরিচ গুড়া, দেড় চা চামচ (ঝাল বুঝে, ঝাল কম খেলে কম দিতে হবে)

– পোস্তা দানা বাটা, হাফ চা চামচ
– জয়ত্রী বাটা, হাফের কম চা চামচ
– দারুচিনি বাটা, হাফ ইঞ্চি ৪/৫টা
– এলাচি বাটা, ৪/৫ টা
(পোস্তা, জয়ত্রী, দারুচিনি, এলাচি কে সামান্য ভেঁজে বেঁটে ফেলা যায়, এতে ঘ্রান আরো বেড়ে যাবে)

– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লবন (পরিমান মত)
– তেল, সয়াবিন হাফ কাপের কিছু বেশী
– পানি, এক কাপ (যদি লাগে)

অফশনাল (ইচ্ছা হলে দিতে পারেন)
– আলু বোখারা, কয়েকটা
– কিসমিস, গোটা দশ/বারটা

প্রনালীঃ (ছবিতে দেখুন)

ছবি ১ মোরগের মাংসকে টক দইতে কিছুক্ষন ভিজিয়ে রাখুন।


ছবি ২ কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুঁচি হাফ চা চামচ লবন যোগে ভাঁজুন।


ছবি ৩ পেঁয়াজের রং হলদে হয়ে গেলে এবার সমস্ত মশলা/ভেজষ (উপরের পরিমান মত) কড়াইতে দিয়ে দিন। 


ছবি ৪ মশলা ও ভেজষ ভেঁজে এমন করে তেল উঠিয়ে নিন। এখানে ধৈর্য দেখাতে হবে। সমস্ত মশলা যেন একটা ভিন্ন ঘ্রানে চলে আসে।


ছবি ৫ এবার টক দইতে ভিজিয়ে রাখা মাংস গুলো দই সহ দিয়ে দিন। 


ছবি ৬ এমন করে ভাল করে মিশিয়ে নিন।


ছবি ৭ আরো হাফ কাপ পানি দিতে পারেন এবং এবার ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে মিনিট ২০/২৫ রেখে দিন। মাঝে দুই একবার নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


ছবি ৮ এমন দেখাবে। গোসত নরম হল কিনা দেখে নিন। (এই পর্যায়ে কয়েকটা আলু বোখারা এবং কিছু কিসমিস দিতে পারেন, আমাদের হাতে ছিল না বলে দেয়া হয় নাই, ব্যাপার না স্বাদ সামান্য কমে যাবে, এই তো! কিন্তু যা হবে তাও কি কম হবে?)


ছবি ৯ কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে ভুলবেন না।


ছবি ১০ ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে। ঝোল কমিয়ে নিতে আগুনের আঁচ বাড়িয়ে দিন। গা গা ঝোল হলে আগুন নিবিয়ে দিন।


ছবি ১১, মোরগ মোন্তাজান, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। দেখতে অসাধারণ। দেখেই খেতে মন চাইবে।

অসাধারণ স্বাদ! বলে বুঝানো যাবে না! বিবাহ বার্ষিকী জমছিলো বেশ!

সবাই কে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন এবং অধ্যাপিকা সিদ্দিকা কবির

Advertisements

6 responses to “রেসিপিঃ মোরগ মোন্তাজান (বিবাহ বার্ষিকীর খাবার দাবার)

    • ধন্যবাদ অজ্ঞাত ভাই/বোন।
      এটা হবে টক দই (প্রায় সব মিষ্টি বা সাধারন গ্রোসারী দোকানেও এমন টক দই কিনতে পাওয়া যায়)। এডিট করে ঠিক করে দিলাম, পাশাপাশি ছবি গুলোতেও বর্ননা যোগ করে দিলাম।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  1. “গারলিক সস” কিভাবে বানায় একটু জানাবেন প্লিজ ? জানালে খুব উপকার হতো।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      দেরীতে উত্তর দেবার জন্য দুঃখিত, আগে আমার চোখে পড়ে নাই।
      গার্লিক সস আমি দেখেছি কিন্তু কি করে বানানো হয় তা এখনো জানি না, আগামীতে পেলে বা বানালে জানিয়ে দেব। (আমি নোটে তুলে রাখলাম)
      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s