গ্যালারি

রেসিপিঃ দুধ চা (শাশুড়ি/মায়ের কাছে প্রথম পরীক্ষা)


গতকাল রাতে একটা মেইল পাই, মেইলটা করেছেন জামালপুর থেকে এক বোন (নাম প্রকাশ করা উচিত হবে না বলে প্রকাশ করছি না)। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, আগামী ১৫ তারিখে তার বিয়ের দিন, ছেলে পূর্ব পরিচিত, কয়েক বছরের প্রেমের সমাপ্তি হবে। কথা প্রসংগে তার হবু বর জানিয়েছেন, তার হবু শাশুড়ি দুধ চা পান করতে খুব পছন্দ করেন এবং দিনে তিন বেলা চা পান করেন। এটা শুনার পর থেকে এই বোনের অবস্থা খুব যাচ্ছে! হা হা হা… তিনি লিখেছেন, তিনি তাদের নিজদের বাসায় তেমন রান্না শিখেন নাই এবং প্রয়োজন পড়েও নাই। আরো লিখেছেন, ‘ভাইয়া, আমাকে প্রথম ভাল চা রান্না করা শিখতে হবে। প্লিজ হেল্প।’ গত কাল রাত থেকেই ভাবছিলাম, প্রতিদিন তো চা বানাই এবং চা নিয়ে আরো অনেক পোষ্ট আছে তবুও আবার নূতন করে চা বানানো দেখিয়ে দেই। যদি এই ছোট বোনটার কাজে লাগে, তবে নিজকে ধন্য মনে করবো।

ছোট এই বোনটার মেইলের কথা গুলো আজ সারাদিন অফিসে কানে লাগছিলো। আমাদের দেশের আসলে এটাও একটা রেওয়াজ যে, ঘরে নূতন বউ এলে তাকে দিয়ে প্রথমে চা বানানো হয়। তিনি যদি চা ভাল বানাতে সক্ষম হন তবে বাড়ীর সবাই ধরে নেন, নূতন বউ ভাল রান্না করে। মানে চা দিয়েই অন্য রান্না গুলোর তুলনা করে ফেলা হয়। আমি এটা নিজ চোখে দেখেছি। বিবাহের পরদিন বিকালে সাধারণত নূতন বউকে রান্নাঘরে চা বানাতে পাঠানো হয়। অনেক সময়, অনেকের জন্য চা বানাতে গিয়ে নূতন বউ কষ্টে পড়ে যান। অনেকে আবার চা পান করেন না বলে, চা রান্না জানেন না।

চা রান্না হচ্ছে একটা কেরামতি! সব কিছুর মিশ্রন যদি ভাল না হয় তবে যারা ‘চা খোর’ তারা বাজে কথা বলে দেবেনই। সব কিছু ঠিক ঠিক, ধরা যাক শুধু একটু চিনি বেশী দেয়া হল, না, সেই চা আর মুখেই দেয়া চলে না। আবার রং ঠিক ঠিক কিন্তু পানসা, তবুও চলবে না। বেশি কড়া হয়েছে, না চলে না!  যারা চা পান করেন এবং করেই চলেন তারা চা মুখে দিয়েই বলে ফেলতে পারেন। এদিকে আবার এক কাপ ভাল চা পুরা মনকে চাঙ্গাই করে তুলে না, মুখ থেকেও ভাল কথা বের করে! হা হা হা… তাই আমি বলি চা রান্না করতে একটু বেশী সাবধান হওয়া জরুরী। চুলায় চা চড়িয়ে রান্নাঘরের বাইরে যাওয়া উচিত নয়, চা রেডি করে তবেই!

যাই হোক, চা রান্না করায় আমার একটু সুনাম আছে। আমার স্ত্রী, আমার ব্যাটারী আমার চায়ের সুনাম প্রায় সব সময়েই করে থাকেন। স্ত্রীর মুখের এই সুনাম অর্জন সহজ ব্যাপার নয় (বিবাহিত পুরুষরা এই বিষয়ে ভাল বলতে পারবেন!)! আসলে আমি চা রান্না করার সময় একটু বেশী মনোযোগী হই, পরিমানের কম বেশী করি না বা হতে দেই না, এই আর কি!

যাই হোক, কথা বলার সময় নেই। আমাদের এই জামালপুরের ছোট বোনটির জন্য আমার প্রচেষ্টা, দুধ চা। চলুন দেখে ফেলি, একদম সাধারন চা, কোন ঝামেলাই নেই।

প্রনালী ও উপকরনঃ  

যে কোন পাত্রে চা রান্না করা উচিত নয়। চা রান্নার জন্য প্রায় প্রতিটা পরিবারেই আলাদা হাড়ি বা পাতিল বা পাত্র থাকে, সেটাই ব্যবহার করা উচিত। যে কয় কাপ চা রান্না করতে হবে, সেই কয়েক কাপ দুধ নিয়ে আরো হাফ কাপ বেশি নিতে হবে মানে সব সময়ে কিছু বেশি কারন আগুনের তাপে পানি উড়ে যায় বলে শেষে কম পড়ে যেতে পারে। যদি পাউডারের দুধ দিয়ে চা বানাতে হয়ে তবে সে কয়েক কাপ চা হবে সে কয়েক কাপ পানি নিতে হবে এবং কিছু বেশী। প্রতি কাপের জন্য এক চা চামচ (উচু উচু) পাউডারের দুধ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে এই মিশ্রন না হবে বেশি ঘন না হবে বেশি পাতলা। আর যদি ঘরে গাভীর তরল দুধ থাকে  এবং  তা আগে থেকে জ্বাল দেয়া এবং ঘন হলে তাতে পানি মিশিয়ে মাঝারি তরলে পরিনত করতে হবে।


আগুনের তাপ মাঝারি রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে আগুনের তাপ বেশি হলে, চোখের পলকেই আপনাকে বোকা বানিয়ে দুধ পাত্র উপচে পড়ে যাবে, ফলাফল চা কমে যাবে এবং অনুমান আর ঠিক থাকবে না! কাজেই চুলার কাছেই থাকতে হবে, দুধ উপচে উঠার আগেই আগুন কমিয়ে দিতে হবে। (বাসায় চা রান্না করতে গিয়ে এমন দুধ উপচে ফেলা নূতন কিছু নয়, অনেকেরই হয়ে থাকে, আমারও হত, এখন আর হয় না।) *দুধ চা বানাতে আমার একটা হালকা টিপস, দুধে কয়েকটা এলাচি ফাটিয়ে দিয়ে দিন। আনুমান, প্রতি দুই কাপের জন্য একটা হলেই ভাল।


ভাল করে জ্বাল দেয়ার পর এবার চা পাতা দিন। পরিমান, এক কাপের জন্য গায়ে গায়ে এক টেবিল চামচ। তবে আপনি কেমন চা পাতা কিনলেন তার উপর নির্ভর করে। দামী চা পাতা হলে কম লাগবে। কারন দামী চা পাতা ভাল থাকে, রং এবং ঘ্রান বেশী বের হয়।


চা পাতা দিয়ে ফাঁকে চায়ের কাপ সাজিয়ে ফেলুন। চাকুনী নিতে ভুলবেন না।


মাধ্যম আগুনের আঁচ চলবে।


রং টা মনের মত হল কি না দেখে নিন। মাধ্যম আঁচ চলবে। (যদি সবাই নরমাল চিনি পছন্দ করেন তবে এই সময়েও চিনি দিয়ে দেয়া যেতে পারে, চিনির পরিমান, এক কাপে গায়ে গায়ে এক চা চামচ হতে পারে। তবে কম দিয়েই স্বাদ দেখে লাগলে আরো দেয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, চিনি বেশি হলেই কিন্তু চা আর চা থাকে না, শরবত হয়ে যায়। সুতারাং ভেবে এবং দেখে। এখন পরিবারে অনেক বয়স্ক ব্যক্তি আছেন যারা নরমাল চিনি খান না তাই তাদের জন্য চিনি ছাড়া চা রান্না করতে হয়। নিজেরা প্রয়োজন মত তাদের চিনি নিয়ে থাকেন।)


এবার চা কাপে ঢেলে নিন।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। (আমরা সাধারণত আমাদের চিনি আমরা নিজেরা নিয়েই নেই)


চা মানে হচ্ছে একটা সাধারন ভালবাসা! হা হা হা… মধ্যবিত্ত/নিন্মবিত্ত পরিবারের জন্যই বলছি!

যাই হোক, আশা করি আমাদের জামালপুরের এই ছোট বোনের এই চা রেসিপি দেখে উপকার পাবে। তার হাতে রান্না করা চা পান করে তার শাশুড়ি/মা তাকে আরো আরো আপন করে নিবে। আমাদের দোয়া থাকল। ভেবো না বোন!

সুখে থাকুন সবাই। এক কাপ চাই প্রমান করে দেবে আমরা রান্নায় কত আন্তরিক! শুভেচ্ছা।

চা নিয়ে আরো লেখা ও রেসিপিঃ
http://wp.me/p1KRVz-5K
http://wp.me/p1KRVz-g
http://wp.me/p1KRVz-r6
http://wp.me/p1KRVz-aA

Advertisements

11 responses to “রেসিপিঃ দুধ চা (শাশুড়ি/মায়ের কাছে প্রথম পরীক্ষা)

  1. spoon ta dekhte tea spoon mone holo table spoon na! tay ki?

    Like

  2. আজকেই বাসায় গিয়ে রান্না করে বৌ কে দেখিয়ে দেব যে আমিও চা বানাতে জানি। সে বলে পুরুষরা রান্না না পারলেও না কি অন্ততঃ চা বানাতে পারে। আর আমি না কি সেটাও পারি না 😛

    Like

    • ধন্যবাদ নেতা ভাই।
      আশা করছি আজকের রাতটা আপনার জন্য আনন্দের হয়ে কাটবে। নিশ্চিত চা বানিয়ে ভাবির সামনে নিয়ে এলে তিনি হেসে কি বলেন সেটা জানার আগ্রহ হচ্ছে।

      তবে এ আর কি, চা ই তো? মাঝে মাঝে এই ভালবাসা জাগিয়ে তুলুন। নেতাতো হয়েছেন পাবলিকের জন্য, বাসার জন্য নয়! হা হা হা…

      শুভেচ্ছা ও শুভকামনা থাকল।

      Like

  3. দুধে চা পাতা জ্বাল দিয়ে চা বানাইনা । আগে চা পাতা ভালো করে জ্বাল দিয়ে দেই তারপর কাপে দুধ আর চিনি মিশাই । আমি অবশ্য লিকার চা পান করি ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন, আমিও অনেকভাবে চা বানাই তবে এভাবে চা বানাতেই আমার ভাল লাগে, ঝামেলা নাই! একের পর এক! আপনার মত করে চা বানালে চাপাতা ও দুধের সাশ্রয় হয়। লিকার চা আমি খুব কম পান করি, যদি ঘরে দুধ না থাকে তবেই।

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s