Gallery

রেসিপিঃ চিংড়ি ঝোল (ব্যাচেলর্স অনলি, ডোন্ট মিস!)


বাসায় আমি ছাড়া কেহ নেই! ব্যাটারী, বুলেট, ব্যালট সবাই বেড়াতে গিয়েছে। ফ্রীজ খুলে দেখি কিছু পোলাও আছে, গরম করলেই খাওয়া যেতে পারে। সাথে দেখলাম, কিছু গরুর মাংস এবং ইলিশ মাছের কয়েক টুকরাও আছে। গরু এবং ইলিশ এই দুটো বাদ দিয়ে আর কি আছে খুঁজতে লাগলাম। ফ্রীজের ডালায় ডিম আছে। ডিম ভেঁজে পোলাও খেতে মন চাইলো! এদিকে আবার চিন্তা করতে লাগলাম, ডিম ভেঁজে পোলাও দিয়ে খেলে বুলেট এসে জিজ্ঞেস করলে এবং আমি জবাব দিলে হেসেই সারা হয়ে যাবে! বলবে, বাবা তোমার যা রুচি! ব্যালট এখনো খাবার দাবারের রুচি  বুঝতে (আপনাদের দোয়ায় সে ৪০ দিন পার করেছে আজ) না পারলেও, আমি নিশ্চিত, সেও হাসবে! পোলাও দিয়ে ডিম ভাঁজা! না, চলে না!

পাশে ড্রীপ ফ্রীজের ডালা খুলে চিংড়ি মাছের থলির দিকে নজর পড়লো! হা, পোলাউ দিয়ে চিংড়ি মাছের ঝোল, জম্বে বেশ! আর কথা কি! বিসমিল্লাহ্‌ বলে, কাজে নেমে পড়লাম। চলুন, আমার প্রিয় ব্যচেলরস, প্রবাসী এবং নুতন রান্না করতে আগ্রহী ভাই বোন বন্ধু, দেখে আসি কি করে চিংড়ি মাছের ঝোল রান্না করা হল। আগেই বলে নিচ্ছি, দুই প্লেট পোলাও এর সাথে চিংড়িটা খেয়ে আমি নিজেই বলেছিলাম, ওয়াও!

প্রনালী ও উপকরনঃ  

চিংড়ি মাছটাকে এভাবে পরিস্কার করে নিয়েছিলাম, মাথার ভিতর ভাল করে ধুয়ে নিয়ে এভাবে পরিস্কার করে রেখে দেই।


কাঁচা মরিচ এবং ধনিয়া পাতা বাসায় না থাকাতে একটু ভিন্ন চিন্তা করতেই হল। সুইট এন্ড সাওয়ার টাইপ ঝোল কল্পনায় আসছিলো! মাঝারি দুটো পেঁয়াজ কুঁচি করে সামান্য তেলে লবন যোগে ভাঁজতে লাগলাম। কয়েকটা শুকনা মরিচ দিতে ভুল করলাম না (এগুলো বরিশালের শুকনা মরিচ, ঝাল কম, আমাদের সংগ্রহ করা)। পেঁয়াজ গুলো নরম এবং হলদে হয়ে গেলে তাতে হাফ চামচ রসুন, হাফ চামচ আদা বাটা দিয়ে আরো কিছুক্ষন ভেঁজে নিয়ে হাফ কাপ পানি দিয়ে দিলাম এবং তাতে  সামান্য (এক চিমটির বেশী) হলুদ এবং তিন টেবিল চামচ টমেটো সস দিয়ে দিলাম।


ঝোলটা এমনই দেখাচ্ছিলো।


আগুন সামান্য বাড়িয়ে এমন ফুটিয়ে ফেললাম।


এবার মাছটা দিয়ে দিলাম এবং আগুন কমিয়ে নিলাম।


অল্প আগুনে জ্বাল চলতে থাকল। কয়েকবার এপিট ওপিট করে নিলাম এবং চিংড়িতে মশলা প্রবেশের সময় দিলাম।


ফাইন্যাল লবন এবং স্বাদ দেখে নিলাম। একটু লবন দিতে হল। ঝোল জিহবায় লাগিয়ে বুঝে গেলাম, একটা চরম রান্না হয়েছে!


খাবার টেবিলে নিয়ে চললাম!


রাতে বুলেট ফিরে এসে সত্যই জিজ্ঞেস করল, দুপুরে কি খেয়েছ! আমি এই ছবি দেখিয়ে বললাম, বাবা, এই যে এটা রান্না করে পোলাউ দিয়ে খেয়েছি! বেচারা মন খারাপ করে বলল, তুমি আমাকে রেখে একা এটা খেতে পারলে! ওর মন ভাল করার জন্য, আমি বললাম, ঠিক এভাবেই আবারো চিংড়ি রান্না করবো এবং সেটা তোমার জন্যই করবো।

ফ্রীজে আরো কয়েকটা এমন চিংড়ি আছে, আবারো এভাবে রান্না করতে হবে। তবুও কেন জানি আমারো মনে হতে লাগলো, হ্যাঁ, সন্তান/ প্রিয় পরিজনদেরকে রেখে এভাবে কোন কিছু একা একা খেতে নেই!

মনে পড়ল আমার প্রবাসে থাকার কথা। আমি অনেক দিন প্রবাসে ছিলাম, যখন কোন ভাল কিছু খেতাম কিংবা দামী রেষ্টুরেন্টে খেতে বসতাম, প্রায়ই মা বাবা ভাই বোনদের কথা মনে পড়ত। বার বার ভাবতাম, ওরা কি আমার মত এমন ভাল কিছু খেতে পারছে? আজ আমি এত দামী/ভাল খাবার খাচ্ছি, না জানি ওরা আজ কি দিয়ে খাবার খেল? খেয়েছি বটে, কিন্তু এখনো মনে পড়ে, সেই দুঃসহ স্মৃতি!

প্রবাসীদের বলছি, ভাল খাবার খান, তবে বাবা, মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তানদের দিকেও খেয়াল করুন, তারা আজ কি খেয়েছে। অবশ্য আমি এও জানি, অনেকে নিজে না খেয়েও পরিবারের জন্য টাকা পাঠান, বার বার চিন্তা করেন, নিজের কষ্টের বিনিময়েও পরিবার ভাল থাকুক, ভাল খাবার খেয়ে নিক, ভাল পোষাক পরুক। হ্যাঁ, আমি দেখেছি এমন অনেক!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

10 responses to “রেসিপিঃ চিংড়ি ঝোল (ব্যাচেলর্স অনলি, ডোন্ট মিস!)

  1. রান্নাটা অপূর্ব…!! তবে, আমিও দেখেছি যত ভালো রান্নাই হোক না কেন একা খেলে কোন কিছুই তেমন ভালো লাগে না। আর সবার সাথে ভাগ করে অল্প খেলেও ভালো লাগে। ধন্যবাদ রেসিপির জন্য… 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      ভাল কিছু খেতে গেলেই প্রিয়জনদের কথা মনে পড়ে, বিশেষ করে প্রবাসে এটা খুব বেশী হয়। বার বার মনে হতে থাকে, আমি এত ভাল খাবার খাচ্ছি, আমার বাবা মা ভাই বোন কি এত ভাল খাবার খাচ্ছে।

      আমি এই বিষয়ে অনেক কষ্ট পেতাম।

      হ্যাঁ, অল্প বা নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়াতেই আনন্দ।

      শুভেচ্ছা।
      (দেরীতে উত্তর দেয়ার জন্য দুঃখিত, সরি)

      Like

  2. শুধু একটা চিংড়িই রান্না করলেন!!! রেসিপি টা সহজ, চিংড়ি আমার সবচেয়ে প্রিয়, তবে টমেটো সস দিয়ে কখনো রান্না করিনি…ভালো থাকুন।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন নীলা।
      হা হা হা… কি করবো আর! চিংড়ির যা দাম তাতে কিন্তেই তো সাহস পাই না। এই চিংড়িটার (কাঁচা) দাম পড়েছে প্রায় ২৬৫ টাকা! একটার বেশি রান্না করতে সাহস করি কি করে! হা হা হা…

      টমেটো সস দেয়া হয়েছে ঝোলের রং উজ্জ্বল করা এবং কিছুটা স্বাদ বাড়িয়ে দিতে।

      শুভেচ্ছা।
      (দেরীতে উত্তর দেয়ার জন্য সরি, দুঃখিত)

      Like

  3. ঠিক এরকম করে আমিও চিংড়ি রাঁধি। কখনো কখনো এর সাথে সর্ষে বাটা-ও দি।
    খুব আনন্দ পেলাম আপনার ব্লগ পড়ে…ভালো থাকবেন …কলকাতাবাসীর শুভেচ্ছা রইলো..:-)

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আমাদের রান্না হচ্ছে নূতনদের জন্য এবং পুরানোদের শুধু মনে করিয়ে দেয়া। আপনি সর্ষে বাটা যোগ করে আরো স্বাদ বাড়িয়ে নেন জেনে আনন্দিত হলাম। মানে বুঝতে পারছি, আপনি ভাল রান্না জানেন। যারা রান্না জানেন আমরা তাদের আরো বেশী বেশী সন্মান করি।

      কলকাতা আমার প্রিয় শহর গুলোর একটা।

      শুভেচ্ছা।
      (দেরীতে উত্তর দেয়ার জন্য দুঃখিত, সরি।)

      Like

  4. আহা কতদিন বড় চিংড়ীর মুখ দেখি না ।রান্নাটা চমৎকার হয়েছে সেটা রান্নার চেহারা দেখেই বুঝতে পারছি । শুভকামনা রইলো ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      বড় চিংড়ি কম দেখা যায়। সাধারন বাজারে তেমন একটা দেখাই যায় না, সাধারন মাছ বিক্রেতারা দাম বেশী বলে হয়ত আনে না। যাই হোক, কোপালে থাকলে ঠেকাবে কে?

      শুভেচ্ছা।
      (দেরীতে উত্তর দেয়ার জন্য দুঃখিত, সরি।)

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s