Gallery

রেসিপিঃ এগিজ্জ্বা (রেসিপি ফ্রম বুলেট এবং মোল্লা নাসির উদ্দিনের গল্প)


বৃহস্প্রতিবার রাত এলে আমরা সবাই একটু রিলাক্স বোধ করি। সারা সপ্তাহের ঘাটাঘাটুনির পর সবাই বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যার পর কেহ কাউকে কিছু বলে না, ব্যাটারী, বুলেট, ব্যালট যার যেমন! আমি এই দিনে ইচ্ছা করেই রাতে একটু বেশী আড্ডা দিয়ে ঘরে ফিরি! রাতেও যার যেমন ইচ্ছা সময় করে ঘুমাতে যাই। আমিও রিলাক্স থাকি, কারন শুক্রবারের সকালে অনেকক্ষণ ঘুমাতে পারবো, ভোরে উঠতে হবে না, বুলেটের স্কুলের টিফিন, বই খাতা ঘুছিয়ে ওকে স্কুলে দিয়ে আসতে হবে না (এখন অবশ্য ভ্যানে যাচ্ছে, তবুও উঠে সব কিছু ঘুচিয়ে দিতে হয়, বুলেটের মা ব্যাটারী ব্যালটকে রাতে জেগে এখন আর সকালে উঠতে চান না, আমিও বলি ঘুমাও!)।

যাই হোক, বৃহস্প্রতিবার রাতে দেরী হলেও আমি নিজেই রান্না ঘরে চলে যাই। আমার উদ্দেশ্য থাকে কোন কিছু একটা রান্না করা এবং তার রেসিপি সংগ্রহ করা। হাতে কয়েকটা রেসিপি না থাকলে আমার এখন ভাল লাগে না, রেসিপি সাইট চালিয়ে এটা এখন আমার অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে আইটেমটা রান্না করি সেটার সেদিন খাবার প্রয়োজন থাক বা না থাক, আমি আমার মত করেই রান্না করি, বুলেটকে অনেক সময় না খাইয়েও(! হালকা কিছু খাইয়ে) বসিয়ে রাখি, কারন রান্না হয়ে গেলে ওকে দিয়েই বেশিরভাগ সময় টেষ্ট করাই!

গত বৃহস্প্রতিবার রাতে রান্না করার মত কিছুই পেলাম না! ঘরে/ফ্রীজে কয়েক পদের আইটেম রান্না আছে। আর চাইলে শুধু গরুর গোসত রান্না করা যেতে পারে বলে জানালেন আমার ব্যাটারী। গরুর গোসতের কোন নুতন রান্না আর হাতেও নেই তাই রান্নাঘর থেকে চলে এসে টিভি দেখতে লাগলাম। আমার এই অবস্থা দেখে আমার রান্না টেষ্টার বুলেট জানালো, সে নিজে আজ ডিম দিয়ে একটা খাবার বানাবে এবং আমি যেন তার সাথে থাকি এবং তাকে কিছুটা হেল্প করি। কি আর করা, আমরা বাপ বেটা রান্না ঘরে চললাম।

বুলেটের বয়স এখন ১১। এই বয়সে তেল গ্যাসের ঘরে ওকে একা ছেড়ে দেয়া উচিত নয় বলে মনে করি এবং আবার এটাও মনে করি, পড়াশুনার পাশাপাশি এই বয়স থেকেই যাবতীয় কাজ শিখে ফেলা উচিত। বিশেষ করে রান্নাবান্না তো তাকে আমি শিখিয়ে ফেলবোই! যাই হোক, বুলেট অবশ্য মাঝে মাঝে রান্নায় আমাকে হেল্প করে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমাকে কত গল্প শুনায়। গত কয়েকদিন আগে মোল্লা নাসির উদ্দিনের একটা গল্প শুনালো। গল্পটা আপনাদের না শুনিয়ে পারছি না, আমি আমার মত করেই আপনাদের বলছি!

মোল্লা নাসির উদ্দিনের গোসত খেতে খুব ইচ্ছা হল। তিনি বাজার থেকে এক কেজি গোসত কিনে ঘরে ফিরে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে রান্না করতে বললেন। স্ত্রী রান্না করে ফাঁকে ফাঁকে খেতে শুরু করলেন এবং খেয়ে শেষ করে ফেললেন! এদিকে মোল্লা নাসির উদ্দিন গোসল সেরে এসে ভাত খেতে বসে দেখেন, গোসত নেই। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞসা করলে, স্ত্রী জানালেন রান্নার পর বিড়াল সব গোসত খেয়ে ফেলেছে! মোলা নাসির উদ্দিনের এটা কিছুতেই বিশ্বাস হল না। তিনি স্ত্রীর সামনে বিড়ালটাকে ধরে হাতপা বেঁধে ফেললেন এবং বিড়ালের ওজন নিলেন। স্ত্রীর সামনে সব কান্ড ঘটতে লাগল। স্ত্রীও দেখলেন, বিড়ালের ওজন এক কেজি থেকে কম! এবার মোল্লা নাসির উদ্দিন স্ত্রীকে বললেন, বিড়াল যদি এক কেজি গোসত খেয়ে ফেলত তবে বিড়ালের ওজন নিশ্চয় এক কেজি থেকে বেশিই হত! মোল্লার এই অঙ্কে স্ত্রী পরাজিত হলেন এবং জানালেন আসল কথা!

বুলেটের কাছে এই গল্প শুনে সেদিন বাপ বেটা অনেক হেসেছিলাম। অঙ্ক না জানলে যা হয় আর কি! মোলা নাসির উদ্দিন অঙ্কে নিশ্চয় খুব ভাল ছিলেন! হা হা হা।।

যাই হোক, বুলেট এখন কিছু কিছু রান্না জানে। বিশেষ করে ডিমের পোচ, অমলেট ইত্যাদি বেশ ভালই পারে। তবে রান্নাঘরে এখনো ওর আগ্রহ হচ্ছে পেঁয়াজ রসুন কাটাকাটি, কিছু ধুয়ে ফেলা, শাক সবজি চপ করে ফেলা, রুটি বেলা ইত্যাদি। ও খুব সুন্দর পেঁয়াজ চপ/কুঁচি করতে পারে। আমাকে বেশ কয়েকবার দেখিয়েছেও। তবে আমি একটা ব্যাপার খেয়াল করেছি, সে রান্নার ধারাবাহিকতা গুলো বেশ ভাল বুঝে গেছে। কোনটার পর কোনটা দিতে হবে সে অনেক সময় বলে দিতে পারে। আমি কখনো কিছু ভুল করলে, সে আমাকে মনে করিয়ে দেয়। কখনো কখনো ওর মায়ের কাছে যেয়ে আমার ভুলের কথা বলে আর হাসে!

আজ আমার কোন রান্না নেই বলে ওর রান্নাই দেখবো।  এই ধরনের একটা রান্না সে টিভিতে বা নেটে কোথায় যেন দেখেছে! বুলেটকে আমি শুধু ফ্রাইপ্যানে তেল দেয়া এবং একটু হেল্প করেছিলাম। বাকী সব সে নিজেই করেছে। চলুন দেখে ফেলি, বুলেট রেসিপি।

প্রনালী ও উপকরনঃ  

বামের বাটিতে আছে – পেঁয়াজ কুঁচি, মাশরুম কুঁচি, ক্যাপ্সিক্যাম কুঁচি, সামান্য হলুদ, সামান্য মরিচ গুড়া, লবন এবং এক টেবিল চামচ টমেটো সস।  ডানের বাটিতে আছে – দুইটা ডিম, সামান্য মরিচ গুড়া (এটা এখানেও কেন দিন বুঝতে পারলাম না), গোল মরিচ গুড়া, লবন এবং সামান্য পাপড়িকা গুড়া।


ফ্রাইপ্যানে সামান্য তেল দিয়ে দুইটা লঙ্কা এবং দারুচিনি (সামান্য) ভেঁজে নিল। (আমি পাশে দাঁড়িয়েই দেখছিলাম, যেন কোন বিপদ না ঘটে এবং এই রকম কিছু ভাঁজতে হলে কতদুরে দাঁড়াতে হবে সব শিখিয়ে দিচ্ছিলাম)


এর পর বামের বাটি থেকে স্টাফ গুলো সে নিজেই ভেঁজে নিতে লাগল এবং এক পর্যায়ে এই স্টাফ গুলো তুলে রাখলো। প্যানে যে তেল ছিল, তাতেই সে ডান বাটিতে রাখা ডিম গুলো ফাটিয়ে নিয়ে দিয়ে দিল।


ঠিক এই রকম ভাবে, আমি এই অংশে তাকে হেল্প করতে চাইলাম, বিশেষ করে ডিম প্যানে ঢালার সময়, সে বলল, সে পারবে।


কাঠে খুন্তি দিয়ে নাড়িয়ে এমন করে ফেলল। মিনিট দুয়েক পর ভেঁজে রাখা স্টাফ গুলো আমাকে উপরে দিয়ে দিতে বলল।


আমি তার আগে ভেঁজে রাখা স্টাফ গুলো এভাবে দিয়ে দিলাম।


এবার সে তা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিল। আগুন সব সময়েই খুব কম ছিল।


মিনিট ৫ পরেই এমন দেখতে হয়েছিল। প্যান ধরে কয়েকবার নাড়িয়ে দিল। এবং আমাকে বলল, প্লেটে তুলে দিতে। আমি তা করলাম।


প্লেটে তুলে দেয়ার পর টমেটো সস দিয়ে পাশে এমন একটা ডিজাইন এঁকে নিয়ে ওর মাকে দেখাতে টিভি রুমের দিকে চলে গেল! আমি কোন মতে খাবার টেবিলে রেখে এই ছবিটা তুলে নিতে পারছিলাম।

কয়েকবার জিজ্ঞেস করার আমাকে জানালো, এটা হচ্ছে ‘এগিজ্জ্বা’! পিজ্জ্বার মত করে এগ রান্না!

সবাইকে শুভেচ্ছা। শিশুরা বেড়ে উঠুক তাদের মত করেই, আনন্দে ও ভালবাসায়।

Advertisements

13 responses to “রেসিপিঃ এগিজ্জ্বা (রেসিপি ফ্রম বুলেট এবং মোল্লা নাসির উদ্দিনের গল্প)

  1. পুরা রাধুনী পরিবার আপনার, সবাই রান্না-বান্নায় পুরোদস্তুর এক্সপার্ট। ভালো থাকবেন সবাই। আমিতো আপনাদের রান্নার খুবই ভক্ত…

    Like

  2. Honestly speking, the menu from Bulet, is really attrticve and nice. I think we can serve this menue to our guest in short time . Best of luck to all your family.

    Like

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই।
      আমিও ওর কুকিং এ বেশ সন্তষ্টু। তবে এখনো ওকে একা ছেড়ে দিতে ভয় পাই। চুলার কতটুকূ দূরে দাঁড়াতে হবে, কি কি সর্তকতা নিতে হয় তা এখনো ওকে শিখিয়ে চলছি। দোয়া করবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. সহজ এবং মজাদার রান্না । বুলেটের প্রতি শুভেচ্ছা এবং দোয়া রইলো ।

    Like

  4. আইডিয়াটা দারুণ!!!!!!!

    আসলেই আপনারা পরিবারের সবাই ই খুবই ভালো রান্না পারেন,

    আর এগিজ্জা তোহ দারুণ!!!!!!!!!!

    আপনার ছেলেকে অনেক অনেক কনগ্র্যাটস!!!!!!! আপনার মতই হবে ও!!!! 🙂

    শুভেচ্ছা ও ভালোলাগা 🙂

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s