Gallery

রেসিপিঃ কোরবানীর গোসতের প্রথম রান্না ও বাড়িওয়ালার গল্প


কোরবানীর ঈদে গোসত খাবার একটা ধুম পড়ে যায়! হা হা হা…। ঠিক তা না, রান্নার ধুম পড়ে যায়! ছোট বেলায় আমরা দেখেছি, গরু জবাই হলে প্রথমে কলিজা কেটে তিনভাগ করা হত এবং সেই কলিজার থেকে নিজদের ভাগেরটা আগে রান্না হত, ফাষ্ট! চালের রুটি দিয়ে সে কলিজা খেতাম আমরা সবাই, যারা আমাদের সাথে গরু কাটত তারাও খেত। এখন আর সেভাবে করা হয় না, বিশেষ করে ঢাকা শহরে তো নয়ই!

ঢাকাতে আমি ভাগে কোরবানী দেই, গত প্রায় ৯ বছর আমি আমার বাড়িওয়ালার সাথে কোরবানী দিয়ে আসছি। যাই হোক, ভাগাভাগি করে কোরবানীর গোসত ঘরে আসতে সময় লাগে, ঘরে এলে আবার তিন ভাগ করতে হয়, নিজদের ভাগেরটা থেকেই রান্না করতে হয়, কাজেই সময় লাগে।


(কোরবানীর হাটে আমার বাড়ীওয়ালা! মনে হয় প্যাকেজ নাটকের সুটিং করতে নেমেছেন! প্রতিবার কোরবানী দিয়ে বলেন আগামী বার আর ভাগে নয়, একই কথা আমিও বলি কিন্তু কোরবানীর ঈদের আগের দিন আমাদের ভাগেই কোরবানীর গরু কেনা হয়ে যায়! গরুর হাটে যাবার আগে আমাদের ছোট জানালার পাশে এসে আমাকে বলেন, কি হাটে যাবে না! তারপর আমাদের গরু কেনার যাত্রা শুরু হয়ে যায়! এটা একটা রহস্য!)

যাও হোক, কোরবানীর গোসত উপরওয়ালার একটা নেয়ামত। আপনি শুধু লবন দিয়ে জ্বাল দিলেও খেতে পারবেন এবং তা হবে সুস্বাদু এবং অমৃত। আমি সাক্ষী আছি। চলুন আমাদের কোরবানীর গোসতের প্রথম রান্না দেখে ফেলি। সাধারন এবং সহজ কিন্তু খেতে অনেক মজাদার হয়েছিল। তবে আগেই বলে নেই আমাদের গোসত কেটেছিল, আনাড়ি এবং অপেশাদার লোকজন, তাই আমি নিজে খুঁজে এক টুকরা ভাল গোসত বের করতে পারি নাই! হাড্ডি গুলোর অবস্থা যা করেছে, দেখেই চক্ষে পানি আসে! যাক, এটাও এক ধরনের মজা, এক দিনের কসাই! পেইন্টার, ক্লিনার, রাজমিস্ত্রী, রোজমুটে!

উপকরনঃ
– গরুর গোসতঃ দুই কেজির মত হবে, হাড্ডি গুড্ডি সহ, ওজন নেই নাই।
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ হাফ কাপের কম
– রসুন বাটাঃ ২ টেবিল চামচ
– আদা বাটাঃ ৩ টেবিল চামচ (ইন্ডিয়ান বলে বেশী দিতে হয়, ঝাঁজ কম)
– দারুচিনিঃ ২ সেমি, ৪/৫ টুকরা
– এলাচিঃ ৪/৫ টা
– তেজ পাতা, কয়েকটা
– কাঁচা মরিচ, কয়েকটা
– লাল মরিচ গুড়া, এক চা চামচ (আমরা বেশী ঝাল খাই না)
– হলুদ গুড়া, এক চা চামচ
– লবন পরিমান মত
– তেলঃ এক কাপের কম
– পানি (পরিমান মত)

– জিরা গুড়া, এক চা চামচ (এটা পরে দেয়ার জন্য)

প্রনালীঃ

দেখেন! পুরাই আনাড়ি কাট।


লবন, তেল সহ সব মশলা পাতি সব দিয়ে দিন। (জিরা গুড়া বাদে)


ভাল করে মাখিয়ে নিন।


হাত ধোয়া পানি দিতে ভুলবেন না।


এবার ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে জ্বাল দিন।


মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


এমন একটা অবস্থায় এসে যেতে দেরী হবে না।


গোসত নরম হয়ে যাবে এবং এমন দেখাবে। এবার জিরার গুড়া গুলো ছিটিয়ে দিন এবং ভাল করে মিশিয়ে নিন।


কম আঁচে আরো কিছুক্ষন জ্বাল দিন এবং ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলুন।


ব্যস, পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। ভাই বেরাদর এলে এভাবে পরিবেশন করুন, লেবু যোগে!


আমি নিজের জন্য এভাবে নিয়ে বসেছিলাম! রুটি দিয়ে সাবাড় করেছি। আমি গরুর গোসত থেকে দূরে থাকি, কিন্তু কোরবানীর গোসত থেকে নয়! হা হা হা… মজাদার, যারাই খেয়েছে সবাই প্রসংশা করেছে।

সবাইকে শুভেচ্ছা। গোসত ভাগে বেশি নাই তবুও আরো কয়েকটা রেসিপি দেখিয়ে দেয়ার ইচ্ছা আছে, আমাদের সাথেই থাকুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

Advertisements

8 responses to “রেসিপিঃ কোরবানীর গোসতের প্রথম রান্না ও বাড়িওয়ালার গল্প

  1. ভালো বাড়িওয়ালা পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার । আমাদের বাড়িওয়ালা তো এখানে মানে বাসায় কোরবানি দিতে দেয় না । নিজে কোরবানি দেয় ২ টা গরু । তাই গত ২ বছর ধরে গ্রামের বাড়ীতে কোরবানি দেয়া হয়েছে । গ্রামের বাড়ীতে কোরবানি দেয়ার লাভ যেমন আছে তেমম ক্ষতিও আছে । বাসা থেকে গ্রামে যেতে অবশ্য ৩০ থেকে ৪০ মিনিট লাগে ( লাইটেস / গাড়ী দিয়ে । তাই দুপুরে বাসায় রান্না করা হয় নি ।চাচী রান্না করেছিলেন কলিজা ভুনা আর গোশত ঝোল । রান্নার ছবি তোলা হয় নি সেটাই আফসোস ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ, এটা ঠিক কথা। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ বাড়ীওয়ালা ফাটা কেষ্ট! কিন্তু আমাদের বাড়ীওয়ালা তেমন নন। তিনি ভাল মানুষ। তিনি নিজে চান আমি ও আমরা (আরো বাড়াটিয়া) যেন ভাল থাকি। আমি এই বাড়ীতে আজ অনেক বছর পার করে দিলাম। এই বাড়ী ছাড়লে আমার আর ঢাকা থাকাই হবে না হয়ত!

      যাই হোক, আপনাদের বাড়ীওয়ালাকে কি বলবো বুঝতে পারছি না! বেশীভাগ মানুষের টাকা হলে (বিশেষ করে ঘুষ, চুরির) মানুষ বেশী বুদলে যায়! নিজে কি ছিল তা মনে রাখে না।

      ভাল রান্না হলেই ছবি তুলে নিবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s