Gallery

রেসিপিঃ মেথি যোগে বেগুন রান্না (জামাই বাবাজীদের জন্য)


বেগুনের অনেক পদের রান্না আমার আছে। আমি বেগুন রান্না এবং খেতে বেশ পছন্দ করি। আমাদের বাসায় আমার স্ত্রী ও পুত্র বুলেট বেগুন দেখতেই পারে না! বেগুন খেলে নাকি ওদের গলা চুলকায়! হা হা হা… কোথায় যাই এদের নিয়ে! এবং আশা করছি আপনারাও অনেকে আছেন যারা বেগুন দুই চোখে দেখতে পারেন না! না, এটা হতে পারে না, বেগুন আসলেই একটা মজাদার খাবার। ভাল মত ভালবাসা মিশিয়ে বেগুন রান্না করলে হাত ছেঁটে খেয়ে উঠে বলতেই হবে, কিছু একটা খেয়েছেন বটেই!

যাই হোক আজকের আমার এই বেগুন রান্না, জামাই বাবাজীদের জন্য। মেয়ের জামাই বেড়াতে এলে বেগুন রান্না করে তার পাতে দেবেন এমন সাহসী কে আছেন? আমি আজ আপনাদের দেখিয়ে দেব, এভাবে বেগুন রান্না করে জামাই বাবাজীর পাতে দিন এবং আশা করছি জামাই বাবাজী খেয়ে বলবেনই, বেগুন আসলেই মজাদার। এবং সাথে এটা আশা করছি এই বেগুনের রান্না জামাই মরার আগেরদিন ও মনে রাখবে! হা হা হা… খুব সহজ ও সাধারন রান্না।

চলুন দেখে ফেলি!

উপকরন ও পরিমানঃ
– কয়েকটা বেগুন (গোটা, আমি চারটা নিয়েছিলাম)
– কয়েকটা ছোট চিংড়ি মাছ
– দুইটা/তিনটে মাঝারি পেঁয়াজ কুঁচি
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, এক টেবিল চামচ
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– হাফ চা চামচ হলুদ গুড়া
– হাফ চা চামচ বা তার কম লাল মরিচ গুড়া, ঝাল বুঝে
– হাফ চা চামচ জিরা গুড়া
– লবন, পরিমান মত, শুরুতে কম দিয়েই রান্না শুরু করা উচিত, লাগলে পরে দিতে পারবেন
– পানি, পরিমান মত
– তেল, পরিমান মত

– এক চা চামচ মেথি (মেথি দিলে স্বাদ বেড়ে যায় কয়েক হাজার গুন)

প্রনালীঃ 

বাজার থেকে লম্বা বেগুন কিনে নিয়ে আসুন। ভাল করে ধুয়ে পরিস্কার করে গোটাই রেখে দিন। শুধু ছুরি দিয়ে মাঝে ফালা করে নিন।


ঠিক এই রকম করে রাখুন এবং মুল রান্নায় চলে আসুন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে মেথি, পেঁয়াজ কুঁচি, কয়েকটা কাঁচা মরিচ এবং সামান্য লবন দিয়ে ভাঁজুন।


এবার চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে দিন এবং ভাঁজুন।


আমি চাওয়া ফ্রাইফ্যানে রান্না করছিলাম বলে আমার বার বার ঢাকনা দিতে হয়েছিল।


পেঁয়াজ নরম হয়ে এলে এবার আদা বাটা এবং রসুন বাটা দিন এবং ভাঁজুন।


এবার জিরা, হলুদ ও মরিচ গুড়া দিন এবং ভাঁজুন। সব কিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে।


এবার বড় এক কাপ পানি দিন।


ব্যস, বেগুন রান্নার ঝোল হয়ে গেল। এই ঝোল মিনিট ১০, মাধ্যম আঁচে গরম করুন।


এবার বেগুন গুলো ঝোলে বসিয়ে দিন। কাজ মোটামুটি শেষ!


ঢাকনা দিন এবং মিনিট ২০ এর জন্য টিভি বা নেটে ঘুরে আসতে পারেন! আগুন মাধ্যম আঁচে থাকবে।


এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে।


বেগুন গুলোকে এভাবে উল্টে দিতে ভুলবেন না। আমি কিছুটা চওড়া হাড়িতে রান্না করছিলাম বলে আমাকে কয়েক বার নাড়াতে হয়েছিল।


ফাইন্যাল লবন চেক করুন, লাগলে দিন না লাগলে ওকে বলুন। এদিকে লবন ঠিক থাকলে কিছু ধনিয়া পাতার কুঁচি ছিটিয়ে দিন (আরো কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন), দেখতে ও স্বাদ বেড়ে যাবে।


পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত! গরম ভাতের সাথে বসে পড়ুন।

স্বাদ অতুলনীয়! কাজে কাজেই জামাই বাবাজী খেয়ে বলবেই, ডিলিশিয়াস। আসলে বেগুনের অন্য যে রান্না আছে তাতে এক মাত্র বেগুন ভাজিই জামাইয়ের পাতে তুলে দেয়া যায়। বেগুন ছোট করে কেটে আরো যে রান্না গুলো আছে তা জামাইয়ের পাতে তুলে দেয়া যায় না! এভাবে পুরা আস্ত বেগুন রান্না করে দিলে, জামাই খুশি হবে আর এমন আস্ত বেগুন এখনো আমাদের দেশের অনেক জামাই এখনো খায় নাই! কাজেই তার মনে রাখতে সুবিধা হবেই!

প্রিয় রেসিপি লাভার্স বন্ধুরা, একবার এভাবে মেথি দিয়ে (বেশি নয়) বেগুন রান্না করেই দেখুন না। ভাল না লাগলে, আমার নামটাও আর মুখে নিবেন না! আর যদি ভাল লাগে তবে, আপনাকে বলতেই হবে! হা হা হা…

সবাইকে শুভেচ্ছা।

14 responses to “রেসিপিঃ মেথি যোগে বেগুন রান্না (জামাই বাবাজীদের জন্য)

  1. সম্পূর্ণ অন্যরকম সাহস করে ট্রাই করবো কিনা ভাবছি। নাকি একটা মেয়ে হয় কিনা অপেক্ষা করে দেখি। হলে এবং সে বড় হলে তার জামাইয়ের পাতে তুলে দেবো। 😛 দোয়া প্রার্থী 😀

    Like

    • হা হা হা…। ধন্যবাদ বোন।
      আমাদের মেয়ে নাই, তাই মেয়ের জামাই হবার সম্ভাবনাও নাই! তবে আমার দুটো ভাতিজী আছে, যাদের আমি আমার মেয়েই মনে করি। আমি আগে নিজে খেয়ে নিলাম, যাতে ওদের জামাইরা এলে আমি এই রান্নাটা করতে পারি! হা হা হা…

      বোন, চমৎকার রান্না। একদিন রান্না করে ফেলুন, ঘরে তো সবই আছে। দেখা যাক আমাদের দুলাভাই খেয়ে কি বলেন? জানতে চাই!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. বেগুনে একটু চিনি দিলেই গলায় চুলকাবে না । চিনি দেয়ার আরেকটা ফায়দা আছে , বেগুনের খুব সুন্দর একটা ঘ্রান পাওয়া যায় । মেথি দিয়ে বেগুন । দেখতে ভালোই লাগছে তাই একদিন চেষ্টা করে দেখব । শুভকামনা রইলো ।

    Like

  3. কী সুন্দর তরকারী! সঘ্রানে বাসা মৌ মৌ করা লোভনীয় তরকারী 🙂
    নতুন এই রেসিপিটার জন্য ধন্যবাদ, ভাইয়া।
    খুব মনে ধরেছে এই তরকারী।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আমার মেয়ের জামাই নাই, তাই ভাবছি আমার এই রান্নাটা আমি আমার ছেলের বউয়ের জন্য করবো! হা হা হা।।

      আপনার হাতে এই রান্না পড়লে কেমন হবে ভাবতেই পারছি না। অসাধারণ হবেই, এদিকে ছবি যা দেখাবেন, তা আমি ভাবতেই পারছি না!

      শুভেচ্ছা।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. The recipe looks fantastic. My nanu makes a similar dolma type begun. Will be trying soon, insha’Allah.

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। আসলে এই ধরনের রান্না এখন আর কেহ করতে চায় না। আমরা ফাঁকিতেই চলে গেছি। ভাল খাদকও আর নেই।

      আপনি রান্না করলেই এই খাবার বেহেস্তি খাবার হয়ে যাবে, হাতের একটা ব্যাপার আছে না!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. ঈদ মোবারক আংকেল!!!!!

    রেসিপি টা সুন্দর হয়েছে 🙂
    ব্যালট কেমন আছে??
    বাই দ্য ওয়ে, কুরবানির ঈদ যেহেতু,আপনার কাছ থেকে নতুন অনেকগুলো গরুর মাংসের রেসিপি পাবো বলে আশা রাখি 🙂

    আঙ্কেল আমার মেয়নেজ রেসিপি কই???? :@

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা। আপনাকেও ঈদ মোবারক।

      ব্যালটকে নিয়েই আমরা ব্যস্ত আছি। ঈদের দিনেও ডাক্তার দেখাতে হয়েছে। আমি প্রতিদিন রান্না করতে চাই কিন্তু তা এখন আর পারছি না। একদিন রান্না করে কয়েকদিন খেয়ে পার করছি।

      কোরবানির গোসত ভাগে তেমন পড়ে নাই! হা হা হা… তাই বেশি রেসিপি হবে না। তবে নানান আত্মীয়দের কাজ থেকে কিছু এসেছে, যা দিয়ে আরো কয়েকটা রেসিপি দেয়া যাবে। এটা নির্ভর করছে, ব্যালটের উপর।

      মেয়নেজের কথা ভুলেই গিয়েছি। ওকে, আজ কালের মধ্যেই আবার চেষ্টা করবো এবং দেখিয়ে দেব।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. বেগুন ছোট করে কেটে দিয়ে রান্না করা যাবে কি?

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ, অবশ্যই ছোট করে রান্না করা যাবে। ছোট টুকরায় আরো স্বাদ হবেই! আমি দৃষ্টি আকর্ষন এবং চমক দেখানোর জন্য এমন রান্না করেছি। এভাবে রান্না করলেও মন্দ হয় না! দেখতে ও খেতে ভাল লাগে।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

  7. vai methi to onek tita ????????????? ar methir kag ta ki?????????????

    Like

  8. vai methi to onek tita ????????????? ar methir kag ta ki???

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      বেশী দিলে তো তিতা লাগবে, পরিমান মত দিলেই ভাল।
      মেথির মুল গুণ আমার জানা নেই তবে স্বাদের পরিবতন ঘটায়। আমাদের দেশে সিলেট চট্রগ্রাম অঞ্চলে অনেকেই মেথি ছাড়া রান্নাই করে না।

      আমি এর স্বাদ পছন্দ করি।
      নেটে সার্চ দিয়ে মেথির গুণ জানতে গেলাম। হা হা হা

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s