Gallery

রেসিপিঃ ইলিশ রান্না (মেষ্টা পাতা যোগে)


গত ১৪ দিনে বাসায় চুলা জ্বলে নাই। আজ ১৫তম দিনে আমাদের রান্না হল। আমি মেষ্টা (চুকরী/চুকা) পাতা দিয়ে ইলিশ মাছ রান্না করলাম। ব্যাটারী ও বুলেট খেয়ে জানালেন, ডেলিশিয়াস! আমার রান্না শেখার পর এই প্রথম এত দিনের বিরতি! (আপনাদের ‘ব্যালট’ ভাল আছে)

মেষ্টা পাতা দিয়ে মাছ রান্না আমার প্রিয়। গতকাল বাজারে হঠাত মেষ্টা পাতা বা চুকা পাতা পেয়ে যাই। সাথে সাথেই কিনে ফেলি। বাসায় অন্য মাছ না থাকাতে ইলিশ মাছ দিয়েই রান্না করি, আজ দুপুরে। ওয়াও! মেষ্টা পাতার চেয়ে ফল বেশী চলে, কারন ফলে দিয়ে চুকা/টক বা ভর্তা বানানো হয় (মেষ্টার ফলের টক অনেকেই খেয়েছেন আশা করি)। পাতাও বেশ মজাদার, একদিন মেষ্টার পাতাও বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে আমি মনে করছি।

চলুন রান্না দেখে ফেলি। খুব সহজ রান্না, ইলিশ বা মাছ যেভাবে রান্না করা হয়। মেষ্টা পাতার কুঁচি শেষে ব্যবহার করলেই চলে। পাতার স্বাদ কিছুটা চুকা/টক। যারা টক বেশি পছন্দ করেন তাদের বেশী ভাল লাগবে। তা ছাড়া ইলিশের ঘ্রানের সাথে মেষ্টা পাতার ঘ্রান মিলে মিশে একটা আলাদা মজাদার ঘ্রান হয়।

উপকরন ও পরিমানঃ
– ইলিশ মাছের কয়েক টুকরা, ইলিশের ডিম থাকলেও নিতে পারেন, আমিও নিয়েছিলাম (বুলেটের জন্য)
– দুইটা মাঝারি পেঁয়াজ কুঁচি
– আদা বাটা (হাফ চা চামচ)
– রসুন বাটা, এক চিমটি
– কয়েকটা কাঁচা মরিচ
– হাফ চা চামচ হলুদ গুড়া
– হাফ চা চামচ বা তার কম লাল মরিচ গুড়া, ঝাল বুঝে
– হাফ চা চামচ জিরা গুড়া (না থাকলে নাই)
– লবন, পরিমান মত, শুরুতে কম দিয়েই রান্না শুরু করা উচিত, লাগলে পরে দিতে পারবেন।
– পানি, পরিমান মত
– তেল, পরিমান মত, মাছ ভাঁজার জন্য কিছুটা বেশী লাগবে।

– মেষ্টা পাতার কুঁচি (পরিমান মত)

প্রনালীঃ 
মাছ ভেঁজে নিতে পারেন, না ভাজলেও চলবে। আমার ব্যাটারী মাছ ভেঁজে রান্না পছন্দ করেন এবং এই জন্যই আজকে আমি মাছ ভেঁজে রান্না করছি, সচরাচর আমি মাছ ভেঁজে রান্না করি না!

সামান্য হলুদ, লবন দিয়ে মাছ গুলো মেখে নিন।


এবার মাছ গুলো গরম তেলে সামান্য ভেঁজে নিয়ে উঠিয়ে নিন।


মাছ ভাজি বা যে কোন কিছু তেলে ভাঁজতে ঢাকনা দিয়ে ভাঁজুন, ভাজি ভাল হবে এবং আপনিও নিরাপদে থাকবেন। মাছ বা অন্য কিছু তেলে ভাঁজতে গেলে তেলের ছিটা গায়ে মুখে পড়তে পারে, সুতারাং সাবধান!


এপিট ওপিট করে অল্প ভেঁজেই মাছ গুলো তুলে রাখুন।

মুল রান্না

উক্ত কড়াইতেই সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ভাঁজুন, কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিয়ে দিন।


পেঁয়াজ কুঁচি নরম হয়ে এলে, এবার একে একে সব মশলা দিয়ে দিন এবং ভাল করে ভাঁজুন এবং এক কাপ পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন।


হয়ে গেল ঝোল, এবার ভাল করে কষিয়ে তেল উপরে উঠিয়ে নিন। কোন একক মশলার ঘ্রান যেন না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।


এবার ঝোলে সামান্য ভেঁজে রাখা মাছ গুলো (ডিম সহ) দিয়ে দিন।


এমন দেখাবে নিশ্চয়!


ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে রাখুন।


মাঝে একবার মাছ গুলো উলটে দিতে পারেন এবং আরো হাফ বা এক কাপ পানি দিতে পারেন (মাছের অনুপাতে পানি দিতে হবে, তাছাড়া আপনি ঝোল বেশি পছন্দ করলে দিতে পারেন)


এবার মেষ্টা পাতার কুঁচি দিয়ে ছিটিয়ে দিন। আপনি টক/চুকা বেশি পছন্দ করলে আরো বেশী দিতে পারেন! এবং আবারো ঢাকনা দিয়ে সামান্য কিছু সময়ের জন্য রাখতে পারেন।


এই শেষ সময়, আপনার চোখ বলে দেবে রান্না কেমন হল! রং চোখে লাগবেই। যাই হোক, এবার লবন দেখে নিন, মাছের ভাজিতে এবং মাছ রান্নার সময় লবন দেয়া হয়েছিল (সব সময়েই কম লবন দিয়ে রান্না শুরু করা উচিত, কারন শেষ লবন দেখার সুযোগ থাকে)! ফলে লাগলে দিন না লাগলে ‘ওকে’ বলুন!


কড়াই বা ফ্রাইফ্যানেই পরিবেশন করতে পারেন। আলাদা বাটিতে নেবার দরকার নেই! হা হা হা…। রিয়েলি মজাদার খাবার! যারা এখনো মেষ্টা পাতা খান নাই, তাদের অনুরোধ থাকল, একবার খেয়েই দেখুন।

বাসায় এখন আমাদের এতই ব্যস্ততা যে, কাজ করেই আমরা ফুরাতে পারছি না! ব্যালট এবং বুলেট নিয়ে আমরা বেশ ব্যস্ততায় আছি। ব্যালটকে একা রাখা যাচ্ছে না, এদিকে বুলেটও কোন কথা শুনছে না! বুলেট ভাবছে, ব্যালট এসে ওর জায়গা দখল করে ফেলেছে, আমরা ওর দিকে নজর দিচ্ছি না! হা হা হা…। সামাল দিতে আমাদের যায় যায় অবস্থা!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করছি আমাদের সাথেই থাকবেন। সামনে আরো মজাদার খাবার আসছে!

20 responses to “রেসিপিঃ ইলিশ রান্না (মেষ্টা পাতা যোগে)

  1. I can’t remember what we used call these leaves when I was in sylhet…I used to eat fruits of these plants those fruits were sour as well. We used to loved it because of the weird taste…

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      হা এই গাছের ফল দিয়ে অনেক কিছু রান্না করা যায়। এই গাছের পাতা খাবার ইতিহাস বেশি দিন আগের নয়, তবে এখন মোটামুটি ঢাকাতে অনেকে খেয়ে থাকেন, বাজারেও পাওয়া যায়। এই পাতা দিয়ে বেশ মজাদার একটা ভর্তা বানানো যায়। অনেকটা আমরা যে ভাবে সীম দিয়ে ভর্তা করি।

      হা, স্বাদ ও ঘ্রান বেশ অনন্দদায়ক।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. আমাদের সাথেই asi এবং আমাদের সাথেই thakbo……..advance EID MUBAROK……:)

    Like

  3. সিরিয়াসলি বাচ্চা গুলোর নাম ব্যালট আর বুলেট ???? আহারে আর নাম ছিল আন দুনিয়াতে??? 😦 রান্নার ব্যাপারে বলি, এই পাতা আগে ট্রাই করি নাই, তবে পেলে এখন অবশ্যই ট্রাই করবো। থ্যাংকস 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। এই নামে ওরা বেশ উপভোগ করছে। আমার স্ত্রীকে আমি ভার্চুয়ালী ব্যাটারী ডাকি, তিনিও মনে কিছু করেন না। আসলে নামে কি আসে যায়? কর্মেই প্রমান করতে হয়! হা হা হা।।

      হা, আমি জানি এই পাতা অনেকেই দেখেছেন কিন্তু খেয়ে দেখেন নাই। এই পাতা খাওয়া শুরু হয়েছে বেশী দিন আগের কথা নয়। আগে শুধু এই গাছের ফল টক হিসাবে খাওয়া হত বা ছোট কোন মাছ দিয়ে রান্না হত।

      বাজারে হাতের কাছে পেলে খেয়ে দেখবেন, বেশ মজাদার খাবার।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. আমি তো কখনো এটার ফল খেয়েছি বোলে মনে আসছে না । তারপরও জানা হয়ে গেল । কোনদিন যদি পাই তাহলে কিভাবে রান্না করতে হবে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে না ।
    ধন্যবাদ
    আরেকটা কথা ইলিশ মাছ সব সময় কি এভাবেই কুটেন ? এটা তো ছোটদের খেতে সমস্যা হবে । পেটি আলাদা করে কুটলে বাসার ছোট সদস্য রা অনায়াসে খেতে পারবে ।
    আমার বাসায় আমার আম্মা কিংবা আমি এভাবে ইলিশ মাছ কুটি না । অতিথির জন্য রান্না করলে এভাবে কুটে রান্না করি ।
    আপনাদের জন্য শুভেচ্ছা রইলো ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হা হা হা… আপনি ইলিশ কাটা নিয়ে সঠিক ধরেছেন। আমি যখন ইলিশ কাটি তখন এভাবেই কাটি, ব্যাটারী যখন কাটেন তখন আপনাদের মত করেই কাটেন! আমি রেসিপি লিখি বলে এভাবে কাটি, দেখতে ভাল দেখায় বলেই। ইলিশ এভাবে দেখতে ভাল লাগে, আর আরো সত্য কথা হল, মাছ গুলো ছোট বলে এভাবে কাটলে পিস দেখতে বড় দেখায়! হা হা হা…

      তবে আগামীতে আপনাদের মত করে কেটে রান্না দেখাবো।

      শুভেচ্ছা।

      Like


  5. এটা কি চুকাই নাকি ?
    এটার নাম তো আমি জানতাম হইলফা । এটা দিয়ে আমার আম্মা জ্যাম তৈরি করে করেন ( সিজনের সময় )

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। হ্যাঁ, এটা চুকাই গাছের পাতাই। লোকজন এখনো এই পাতা খেতে চান না, তবে হাতের কাছে পেয়ে গেলে খেয়ে দেখতে পারেন। আমি কয়েকবার খেয়ে দেখেছি, আমার কাছে ভালই লেগেছে।

      এই গাছের ফল দিয়ে টক বা চুকা রান্না করা হয়, খেয়ে অসাধারণ। আমার বাবা এই চুকা খেতে খুব পছন্দ করতেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

      • মেষ্টা পাতা দিয়ে রান্না শেয়ার করার পর থেকে আমি গুগলে অনেক খুজাখুজি করে বের করলাম , চুকা কি ? উইকি তে দেখলাম এটার নাম একেক এলাকায় একেক রকম ।
        by Wiki — বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ফলটি পরিচিত। যেমন: রাজশাহীতে চুকাই, ধামরাই এবং মানিকগঞ্জে চুকুল, সিলেটে হইলফা, কুমিল্লায় মেডশ বা মেষ্টা ইত্যাদি।

        এই জন্যই প্রথমে চিনতে পারিনি । আবারো ধন্যবাদ এবং শুভকামনা ।

        Like

  6. ইয়া আল্লাহ! এটাও নতুন আমার কাছে! কত্ত অজানা রে!
    চরকারীর চেহারা দেখেই লোল পড়া শুরু হয়ে গেছে। কীবোর্ড মুছি আর আপ্নের রেসিপি পড়ি 🙂
    অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ এই রেসিপিটার জন্য।

    Like

  7. মেষ্টা পাতা আর ছোট আলু দিয়ে আমার শাশুড়ী একটা ভর্তা বানান। এত্ত মজাদার, মনে হয় স্বর্গীয় কোন খাবার। ইলিশ মাছ দিয়ে একদিন ট্রাই করবো!

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হ্যাঁ মেষ্টা পাতার ভর্তার কথা আমিও শুনেছি কিন্তু এখনো খাই নাই। আগামীতে বাজারে পেলে কিনে ভর্তাই বানিয়ে খাব। মজাদার খাবার গুলোর রেসিপি শিখে নিন, একদিন কাজে লাগবে। অনেক মজাদার রেসিপি আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের মুরুব্বীদের কাছ থেকেও আমরা শিখে রাখতে পারি নাই। আপনার শাশুড়ী মাকে আমাদের সালাম জানাবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  8. এই পাতা ১৯৭৮এ খেয়েছি। গত সামারে টরোন্ট আমার বাগানে ৪টা গাছ হয়েছিলো। ফল পাকাতে পারিনি। তার আগেই গ্রীষ্মকাল শেষ। পাতা খেয়েছি।

    Like

  9. পেষ্টার পাতা দিয়ে ডাল রান্না করে খেয়ে দেইখেন। দারুন মজা।

    Liked by 1 person

  10. পিংব্যাকঃ http://allplantshere.blogspot.qa/2012/07/blog-post_15.html | Mohammed Alamgir Hossain

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s