Gallery

আড্ডাঃ ভুতের আড্ডায়!


শিশুরা বড় হতে থাকলে… নানা আবদার করতেই থাকে! অনেক আবদারের মাঝে একটা হচ্ছে, হোটেল রেষ্টুরেন্ট এ খাবার খাওয়া। বছর দশের আগে আপনি যতই রেষ্টুরেন্টে তাকে নিয়ে যান না কেন, সব ভুলেই যাবে! শিশুরা সব সময়েই খাবারে বৈচিত্র্য পছন্দ করে থাকে! প্রতিদিন তারা নুতন নুতন খাবার চায়।

আজকাল বুলেট নানান ভঙ্গি করছিল! জিজ্ঞেস করতেই জানালো, এটা নাকি ডুডিম্যান (Doodie Man) এর প্রকাশ ভঙ্গি! আমি হেসেই কুল পাচ্ছিলাম না, আমাকে ও জানালো, এই কাটুন চরিত্র নাকি সে ইউটিউবে দেখেছে এবং স্কুলের বন্ধুদের কাছে প্রথম শুনেছে! আমি ইউটিউবে এই কাটুন চরিত্র দেখে খুবই আশ্চর্য্য হই! এ আবার কি! আজকালের শিশুরা সব কিছুতেই অগ্রীম! ওরা ক্লাসে কি আলোচনা করে তা শুনলে মাথা সোজা হয়ে যায়! হা হা হা… চতুর্থ শ্রেণীতে ওরা এমন সব আলোচনা করে যা, আমরা আরো অনেক পরে চিন্তা করেছিলাম!

যাই হোক, সেদিন ওকে ওর পছন্দানুযায়ী একটা চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে নিয়ে যেতে হয়েছিল। রেষ্টুরেন্টে নাকি ভুত আসে! ভুতের আড্ডা!

এমন অন্ধকারে ভুত আসে, গান গায়, নাচে! শিশুদের জন্য চমক বটে! ভুত এসে গেলে ব্যাটারী সাহেবানী মেনু দেখে ওর্ডার দিয়ে দেন।


স্পেশাল থাই সুপ (থিক)


প্রন চিলি অনিয়ন


শু-চোয়ান চিকেন গ্রেভি (উইথ ক্যাপ্সিক্যাম)


চিকেন ফ্রাইড রাইস


নিরিবিলি পরিবার পরিজন নিয়ে রেষ্টুরেন্টের আড্ডাই চমৎকার।


এক সময় যে খাবার নিয়ে বসেই থাকত, এখন সে নিজেই খেতে চায়! সবই এই দুনিয়া, বয়সের খেলা!


ড্রিংক্স ছাড়া কি চলে!


লেবু গরম পানি!! হাত ধুয়ে নিন!


বিল! আমার মাথায় যে বিষয়টা ধরে না, তা হচ্ছে, ঢাকায় তথা বাংলাদেশের আপনি যে কোন হোটেল বা রেষ্টুরেন্টে খাবেন ওরা আপনার বিল নিয়ে যায় কিন্তু সেটার কপি দিতে চায় না! আমি অনেক খেয়াল করে দেখেছি, এটা ওরা কেন করে! বিল কাষ্টমারের অধিকারের পর্যায়ে পড়ে, কেন তা তাকে দেয়া হবে না! আমি আগে চাইতাম না, এখন চেয়ে নিয়ে নেই। দেখি কোন খাতে কি রাখলো, বাসায় এসে ওদের প্রাইস দেখি। খাবার দাবারে ভ্যাট অত্যাধিক, সরকার আমাদের দেয়া এই ভ্যাট সঠিক ভাবে পায় কি না আমি সন্দেহ করি। প্রতিটা কেনা কাটায় আমরা যে ভ্যাট দেই তা দিয়েই সরকার ধনী হয়ে যেতে পারত! আফসোস, সেই টাকা সরকার সংগ্রহ করতে পারে না!

আর বাকী থাকল, টিপস! টিপস কম দিলে ওনাদের চেহারা আর চেহারা থাকে না! (আবশ্য খাবার কম ওর্ডার করলেও ওনাদের চেহারা মলিন হয়ে যায়) খাবারের সময় যেভাবে স্যার/ম্যাডাম করে এবং টিপস কম পেলে আর ফিরেও চায় না! যেন, অচেনা অতিথি!

আমাদের জাতির যে কি হবে! সামনে যে আমাদের কি আছে তা আমার মনে হয় জোতিষ্য চাচারাও বলতে পারবে না! আমাদের হোটেল, রেষ্টুরেন্ট গুলো হচ্ছে টাকা কামানোর বিশাল উৎস! খাবার কম দেয়া, নানান সস দিয়ে ভেষজ/মশলা ছাড়া খাবার তৈরী করা, রং, টেষ্টিং সল্টের বেশী ব্যবহার একজন মানুষের কি কি ক্ষতি করে দেয় তা তারা চিন্তাও করে না! আপনি খেয়াল করে দেখবেন, অনেক নামী দামী রেষ্টুরেন্টে খাবার খেলে শরীর গরম হয়ে যায়, ঘাম বের হয়, মুখ ও গলায় তিতা ভাব আসে, বমি হওয়া, এই সব কিছুই ঘটে রান্নার ভুলে ও দোষে!

ভেজালের বিরুদ্ধে সবাই সচেতন হউন। যে খাদ্যে ভেজাল দেয়, সে কখনো মানুষ হতে পারে না!

7 responses to “আড্ডাঃ ভুতের আড্ডায়!

  1. ভূতের আড্ডা – চৌধুরী পাড়ায় একবার খেয়েছিলাম, বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল বলে তেমন কিছু অভিজ্ঞতা হয় নাই, তবে – রোস্ট বলেন, রেজালা বলেন – দুটোই বাজে লাগছিল। :/

    কয়েকদিন আগে কোরিয়ান সিনেমা দেখলাম একটা -হার্টব্রেক লাইব্রেরি। প্রোটাগনিস্ট সেখানে একজন শেফ। অবশ্য শেফ হিসেবে তার ভূমিকা সামান্যই – রান্না ও পরিবেশন নিয়া যা দেখাইল – দারুন লাগল। রোমান্টিক মুভি – আপনার স্বাদ লাগবে কিনা জানি না – ট্রাই করে দেখতে পারেন 🙂

    Like

  2. কি খায়া আসলেন এগুলা??? চেহারা দেখেই তো কেমন যেন লাগতাছে!!!!!!!
    স্যুপটার কথা নিচে লিখে না দিলে আমি ডাল ভাবতাম এটাকে!!!!! 😛
    আর কারি দুইটার কথা নাই বা বললাম :\ একটার চেহারা ভাল মনে হয়নাই, তার উপরে এত দাম!!!!!! চিকেন কারির চিকেন গুলো তো মনে হয় হাতে গুনে দেওয়া হয়েছে!!!!!!! :O
    রাইস ঠিক আছে 🙂

    ইশ!!!!!!!! আমাদের রান্নার ব্যাপার এ আরও পারদর্শী হওয়া দরকার আর দরকার ধৈর্য । তাহলেই এইসব রেস্টুরেন্টগুলো এইরকম গলাকাটা দাম রাখবে না………………………

    শুভেচ্ছা

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আপনি সত্য বলেছেন।

      দামের সাথে খাবারের পরিমান ও মুল্যের কোন মিল নেই।

      কিছু একটা রান্না করে এবং কিছু একটা নাম দিলেই হল, ব্যস।

      আমি সেজন্যি রান্না শিখছি, হোটেলে খেতে হবে না! হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  3. Chines Resurent serve Lemon water for hand wash though every body eat with spoon———-ha ha!

    Like

  4. পিংব্যাকঃ আড্ডাঃ ভুতের আড্ডায় এক রাত্রীকালীন খাবার | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না) / Udraji's Kitchen (Story and Recipe)

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s