Gallery

রেসিপিঃ নারিকেল ইটা (পিঠা, না দেখলে মিস করবেন)


পিঠা বাংলাদেশী বাঙ্গালী এবং ইন্ডিয়ান বাঙ্গালী সবার প্রিয়। পিঠা খেতে সব বাঙ্গালী বেশ পছন্দ করে থাকে। সকালের নাস্তায় কিংবা বিকালের নাস্তায় পিঠা হলে কোন কথাই নেই। কিছু পিঠা খেয়ে এক কাপ চা হলে আর এর চেয়ে ভাল নাস্তা কি হতে পারে!

কয়েকদিন আগে আমি গ্রামের বাড়ী গিয়েছিলাম। আমাদের বাড়ীর এক চাচীমা (যিনি ভাল রান্না করেন) বিকালে চায়ের সাথে একটা পিঠা খাইয়েছিলেন। পিঠা খেয়ে আমার বেশ ভাল লেগেছিল এবং চাচীমাকে বললাম, রেসিপি প্লিজ। তিনি আমার রান্না বাড়ার প্রতি আগ্রহের কথা আগে থেকেই জানেন। আমাকে এই পিঠার রেসিপি বলে দিলেন। আমি মুখস্ত করে নিলাম। তার বলে যাওয়া প্রক্রিয়া ভাল করে মনে রেখে ঢাকা এসেই এই পিঠা রান্না করতে লেগে গেলাম। তবে এই পিঠার কি নাম, তা তার কাছ থেকে জানা হয় নাই, মনের ভুলে! আমি নিজেই এর নাম দিয়েছি, নারিকেল ইটা! ইটার কথা শুনে হয়ত আসছেন, আগামী বার গেলে ভাল করে নাম জেনে আসবো।

চলুন, পিঠা বানানো দেখি। এই পিঠা বানানোয় আমার সাথে থেকে এবং গল্প করে আমাকে সময় দিয়েছেন আমাদের রান্না টেষ্টার বুলেট। আমার ছেয়েও তার আগ্রহ ছিল বেশী। কিছু কাজে সে সরাসরি আমাকে সাহায্য করেছে, যেমন রুটি বেলা, যা আমি এখনো ভাল পারি না! হা হা হা…।

তবে আগেই বলে নেই, ঝুনা নারিকেল ছিলে মালা থেকে নারিকেল কুরিয়ে বের করার কাজটা সত্যই আমাকে ভুগিয়েছিল। অনেক দিন পর নারিকেল নিয়ে নিজ হাতে খেলাধুলা করলাম! হা হা হা…

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
– একটা মাঝারি সাইজের নারিকেল (কুরানো)
– পরিমান মত চিনি (আমরা চিনি কম পছন্দ করি বলে কম দিয়েছি, হাফ কাপ)
– দেড় কাপ ময়দা
– এক কাপ চালের গুড়া
– তেল (সামান্য কাইতে এবং বাকী টুকু পিঠা ভাঁজার জন্য)
– পানি (পরিমান মত)

প্রনালীঃ 

প্রথমে নারিকেল এবং চিনি নিয়ে ভাল করে মাখিয়ে মিশাতে হবে।


মিশানো খুব ভাল হতেই হবে।


এবার চালের গুড়া ও ময়দা দিয়ে দিন এবং মাখাতে থাকুন। কিছু পানি লাগবে, আস্তে আস্তে দিন এবং মাখুন।


পিঠার ময়ান বা কাই যত ভাল মাখানো/ মিহীন হয়, পিঠা তত ভাল হয়।


এই হচ্ছে পিঠার কাই/ময়ান।


এবার ময়ান থেকে এক গোল্লা নিয়ে রুটি বেলুন।


এভাবে ডিজাইন করে কাটুন। গ্রামে পিঠা সাধারনত বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কাটা হয়, শহরে সেটা পাব কোথায়, তাই আমি ছুরি দিয়েই কাজ চালিয়েছি। পিঠা কাটার জন্য অবশ্য আলাদা কাটার আছে, সেটা সময়ে খুঁজে পাওয়া যায় না!


হালকা একটা ডিজাইন দেয়ার চেষ্টা। প্লেইন না রেখে! এটা আবশ্য আমার চাচীমা আমাকে বলেছিলেন এবং আমি চেষ্টা করেছি।


এবার তেল গরম করে ভেঁজে নেয়ার পালা। (যে কোন কিছু ভালতে সাবধানে, শিশুদের এই কাজ কিছুতেই করতে দেবেন না।)


কড়া ভাঁজা না হালকা, এটা আপনি নিজে পছন্দ করতে পারেন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

সেইম ময়ান দিয়ে আমি আর একটা ডিজাইনের পিঠা বানিয়েছিলাম এবং এটাই সবাই বেশি পছন্দ করেছে! আপনি চাইলে আরো কত কি ডিজাইন করতে পারেন।


রুটি লম্বা করে কেটে গোল করে ভাঁজ দিয়ে তেলে ভাঁজা। ব্যস।


ভিতরের রসালো অংশটার যেমন স্বাদ, তেমন দেখতে!


এবার বলুন, কোনটা খাবেন। আপনি পছন্দ করে নিন।

তবে আমি সত্য বলছি, আমার বানানো পিঠা বেশ স্বাদ হয়েছে এবং আমার রান্না টেষ্টার বুলেট বেশ পছন্দ করেছে কিন্তু আমি তবুও মনে করি, আমার গ্রামের সেই চাচীমায়ের মত স্বাদ আমার পিঠায় হয় নাই।  আপনি বানালে, আপনার হাতের যাদুতে নিশ্চয় আরো স্বাদ হবে। এত সহজ পিঠা তবুও বানাবেন না! কি যে বলেন!

কৃতজ্ঞতাঃ লিলি চাচীমা

10 responses to “রেসিপিঃ নারিকেল ইটা (পিঠা, না দেখলে মিস করবেন)

  1. বেশ ইয়ামি। খেতেও সেইরকম হবে বলে মনে হয়! 😀

    Like

  2. এই পিঠার নাম জানা নেই আমারও । এটা খেয়েছি কয়েকবার । বাসায় করবো করবো করেও করা হয়নি কারন পিঠায় ব্যবহৃত উপাদান কতটুকু লাগে সেটার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম না তাই করা হয় নি । আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খাওয়া হয়েছে । আম্মা আমাকে বলেন এটা খুব সহজ কিন্তু করে দেখান নি । আজ আমার রেসিপি থেকে শিখে নিলাম । বাসায় একটা নারিকেল এখনো আছে দেখি পারি কিনা ? আমি খেয়েছি যেটা সেটার ডিজাইন ছিল ট্যাবলেট মত করে ছোট ছোট রোল করা । আপনার করা ২য় ডিজাইন টা ভালো লাগছে ।

    Like

  3. amar ta bhalo hoynai 😦

    Like

  4. আমাদের এলাকায় নারকেল লুচি বলে। খেতে বেশ মজাদার। এই পিঠার জন্য নারকেল কুরাতে হয় আস্তে আস্তে ( ছোট দানা করে)। আর চিনি ছাড়া ও বানানো যায়। হালকা লবন দিয়ে যেটা সল্টেষ্ট হয় আর ডায়বেটিক্স রুগিদের খাওয়ার উপযোগী।

    Liked by 1 person

  5. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s