গ্যালারি

রেসিপিঃ ফিরনী (পায়েস)


শিশুদের কখন কি খেতে ইচ্ছা হয় কে জানে? মাঝে মাঝে গতকাল খেলে সারা মাসেও সে খাবার আর খাবার ইচ্ছা দেখায় না। আবার গতকাল খেয়ে আজও বলতে পারে, আমি এটা খাব। শিশুরা কোন খাবার খেতে চাইলে, না বানিয়ে দিতে পারলে মনে শান্তি পাওয়া যায় না। অন্য সব কিছু খাওয়ালেও তার চাওয়া খাওয়া না খাওয়ালে মনে একটা খটকা লেগে থাকে।

আমার রান্না টেষ্টার বুলেটের কাজ কারবার সেই রকম। কখন যে কি চেয়ে বসে বা খেতে চায়, তা বলা বা কল্পনা করাও মুস্কিল। কয়েকদিন আগে ওকে ক্ষীর খাওয়ানো হয়েছিল কিন্তু ও পরদিন বলল, পায়েস খাওয়াতে হবে। পায়েস আর ক্ষীরে যে তেমন তফাত নেই এটা ওকে বুঝানো যাচ্ছিলো না। কাজে কাজেই রান্না হল পায়েস। এবার সে বুঝতে পারল এবং বেশ মজা করে খেল।

চলুন, পায়েস রান্না দেখে ফেলি। চমৎকার এই মিষ্টান্ন আপনিও রান্না করে মাঝে মাঝে আপনার শিশুদের, বুড়োদের দিতে পারেন। আশা করি ভাল লাগবে। খুব সহজ রান্না কিন্তু আগেই বলে দেই, এই রান্না শুরু করে, এক মিনিটের জন্যও চুলা ছেড়ে কোথায়ও যেতে পারবেন না, মানে যাওয়া উচিত হবে না! হা হা হা…

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
– পোলাউ চালঃ এক/দেড় কাপ (ভাল সুগন্ধি চাল হলে ভাল হয়)
– দুধঃ এক লিটার (হাফ লিটারের কিছু বেশী হতে পারে, আপনি ইচ্ছা করলে আরো বেশী নিয়ে জ্বাল দিয়ে কমিয়ে নিতে পারেন)
– চিনিঃ যেমন পছন্দ (বেশি না দেয়াই উত্তম)
– দারুচিনিঃ কয়েক টুকরা (না থাকলে নাই)
– এলাচিঃ কয়েকটা
– কিসমিসঃ কয়েকটা

(পরিবেশনে আপনি চাইলে কিছু কাজু বাদাম কেটে দিতে পারেন)

প্রনালীঃ

একটা পাত্রে দুধ গরম করুন এবং কিছুটা গাঢ় করে নিন।


কয়েকটা এলাচ দিয়ে দিতে পারেন। (আমরা দারুচিনি দেই নাই। দিলেও চলত।)


দুধ গাঢ় হয়ে গেলে ধুয়ে এবং পানিতে রাখা চাল ছেঁকে দিয়ে দিন।


চাল নরম হয়ে এলে ঘুটনী দিয়ে ঘুটে দিন, সব চাল না ভাঙলে চলবে, তবে বেশীর ভাগ ভেঙ্গে এবং গলে যাবেই।


মধ্যম আঁচে আগুন জ্বলবে এবং আপনাকে নাড়াতে হবে। চাল নরম হয়ে এলে পরিমান মত চিনি দিন।


আগুন চলুক। আপনি নাড়াতে থাকুন। আরো কিছু গাঢ় হয়ে যাবে।


এবার কিছু কিসমিস দিয়ে দিন। এবং নাড়ান, নাড়ান।


এমন একটা বুঁদ বুঁদ অবস্থায় এসে যাবে এবং চাল দুধ মিলে মিশে একাকার হয়ে যাবে।


ব্যস গরম থাকাবস্থায় বাটিতে ঢেলে নিন। হয়ে গেল পায়েস।


ঠান্ডা কিংবা হালকা গরম যে কোন ভাবেই পরিবেশন করতে পারেন। দুই অবস্থার দুই মজা!

সবাইকে শুভেচ্ছা। বলুন, এত সহজ রান্না কি হয়! এত সহজ মিষ্টান্ন!

* চিনির বদলে খেজুরের গুড় বা আঁখের গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে। যে কোন গুড়ের পায়েস ও খেতে মজাদার। তবে সে ক্ষেত্রে পায়েসের রং ভিন্ন হয়ে যাবে।

Advertisements

16 responses to “রেসিপিঃ ফিরনী (পায়েস)

  1. আমার বাসায় ক্ষীর এবং পায়েস দুটোই সবার পছন্দ । তবে আমি এবার শুধু পায়েস করেছিলাম । আপনার পায়েস রান্নার মতই রান্না করেছিলাম ঈদের দিন । আজ করেছি সুজির হালুয়া এবং সুজির বরফি সাথে নুনগড়া । আসলে ঈদের সময়টাতে মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে সবারই একটু বেশি ভালো লাগে । আমি তো একটু বেশি পছন্দ করি তাই আপনার পায়েস দেখে লোভ জাগছে । নজর দিবো না । কাল আমি নিজেই আবার তৈরি করে খাবো এবং সবাইকে খাওয়াবো ।
    ভালো থাকবেন । শুভেচ্ছা রইল ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। হা, ঈদে উৎসবে মিষ্টান্ন হলে জমে বেশ।
      তবে ফিরনী, পায়েস, ক্ষীর নিয়ে বেশ সমস্যায় আছি। তাল গোল লেগে যাচ্ছে! নীচের আমার রান্নাতো আপার কমেন্টে সেটা আরো পরিস্কার হল। যাই হোক, এবার যা বুঝতে পারলাম, তা হল –
      ফিরনী = চাল আধা ভাঙ্গা হবে।
      পায়েস= চাল গুড়া
      (পায়েস ও ক্ষীর এক জিনিষ!)

      দেখা যাক, অন্যরা কি বলেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. রান্নাতো ভাই, আমার মায়ের অভিজ্ঞতা ও আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি— আপনি যেটা রান্না করেছেন, সেটা পায়েস নয়। এটা ফিরনি। ফিরনির চাল আধ-ভাঙ্গা হয়। আর পায়েস আর ক্ষীর একই জিনিস। সেটাতে চাল আস্ত ভাতের মত থাকে।

    আপনি অধিকার দিয়েছেন বলেই সংশোধন করে দিলাম।
    আল্লাহ এর অশেষ রহমতে আমার মায়ের হাতের অসাধারন ফিরনীর মতই ফিরনী আমাদের দু’বোনের হাতেই হয়। যত গুড় তত মিষ্টি। আমি আধ-পট চালে প্রায় দেড় কেজি দুধ দিয়ে ফিরনী চুলায় বসাই। দুধ ঠান্ডা অবস্থাতেই আধ-ভাঙ্গা চাল দিয়ে দেই। তারপর চুলায় নাড়তে নাড়তে ঘন হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করি।

    Liked by 1 person

  3. ক্ষীর/পায়েস আস্ত চাল। আর ফিরনী আধ-ভাঙ্গা চাল। সহজ হিসাব। মুখস্ত করে নিন। :p

    Like

  4. আমার চাল তো গলাতেই পারলাম না। তার আগে দুধ ঘন হয়ে অস্থির অবস্থা। লম্বা বাসমতী চাল দিয়েছিলাম।

    Like

  5. ami ranna korte khob valobashi. tai rannar website amar khob prio.

    Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  7. amar ranna korta kub vlo laga….college ar off day ta rannar website a asi…. upnar resapi gula daki..r upnar moto ranna korar cesta kori…upnar easy resapi gula korta kub eeeeee valo laga….Tnx via….

    Liked by 1 person

  8. ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই কারনে যে আমি একেবারে নতুন।বিভিন্ন ধরনের রিসিপি তৈরি করতে চাই,কিন্তু আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই। এখন আশা করি তোমাদের পোস্ট গুলো থেকে অভিজ্ঞতা পাব।

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s