Gallery

রেসিপিঃ ক্ষীর (ঘরে ঘরে জনপ্রিয়, ওরে ও মধ্যবিত্ত!)


ঈদ চাঁদ আসলে আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত (আমি মনে করি যে পরিবারের ইনকাম ত্রিশ হাজার টাকা, এই ইনকামের পরিবারগুলোকে অনেকে আবার নিম্ম মধ্যবিত্ত বলে থাকেন) পরিবার গুলোর কি অবস্থা দাঁড়ায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিবারের কর্তা যদি সৎ হন এবং আউট ইনকাম না থাকে তবে কেল্লাফতে! মধ্যবিত্ত এই পরিবার গুলোর কর্তাকর্ত্রী ভীষন দিশেহারা হয়ে পড়েন, সেভিংস যা কিছু থাকে সেটা ব্যবহার করে আবার উপরওয়ালার দিকে চেয়ে থাকেন!

যাই হোক, এদিক সেদিক করে কোনমতে ছেলেমেয়েদের আত্মীয় স্বাজনদের সামাল দিতে পারলেও এই বিশেষ দিনে ভাল ভাল খাবার রান্না করতে গিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়ে যান। ভাল খাবার রান্না করতে গেলে ভাল টাকা লাগে! বাদাম বাটা, পনির দিয়ে রান্না করা খাবার স্বাদ হবে না তো সাধারন মশলার রান্না স্বাদ হবে? আরো কত কি? দুই কেজি দুধকে হাফ কেজি করে তা দিয়ে সেমাই রান্না করলে স্বাদ না হয়ে কি পারবে? আসলে যা বলতে চাইছি, ভাল ভাল বেশী বেশী স্বাদের রান্না করতে চাইলে বেশী বেশী মাল ঢালতে হয়! ঘি দিলে ঘ্রানং বেড়ে যাবেই।

যাই হোক, আমি সব সময়ে বেসিক রান্না পছন্দ করি। রান্নায় খরচের দিকটাও আমি ভাবি। যে পরিবার খরচের খাতা ঠিক রেখে চলবে সেই পরিবার দিয়ে কোন অন্যায় হবে না। খরচ বেশী করলে এবং এই হাল ধরে না রাখতে পারলে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী বিপথে যাবেই, তিনি তার মনের অজান্তে ঘুষ/চুরি দিয়ে শুরু করবেন এবং এই পথ থেকে আর কোনদিন বের হতেই পারবেন না। তবে ফলাফল বেশী ভাল হয় না, শেষটায় উক্ত কর্তা ব্যক্তি জেলের গানি কিংবা মরেই দুনিয়া ছাড়েন। (আমাদের সমাজের মুল্যবোধ আমাকে দুঃখ দেয় সব সময়) কি লজ্জার কথা!

বললে অনেকের মন খারাপ হয়ে যাবে, আমি নিজে এমন সব পরিবার চিনি কিংবা এখন যাদের ধনী হিসাবে সমাজে জানি তাদের পরিবারে এখন অনেক অনেক টাকা কিন্তু সেই ব্যক্তিটা আর নেই, অপকর্মে অকালে এই সোনার দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। কিছু এমন ব্যক্তি বেঁচে আছেন, কিন্তু পঞ্চাশ বছর বয়সেই তিনি এখন কিছু খেতে পারেন না! কি কষ্টের কথা!

যাই হোক, যা বলতে বসেছি, মধ্যবিত্ত পরিবারের কষ্টের কথা। এই পরিবার গুলো না পারে উপরে উঠতে না পারে নীচে যেতে। রান্নায় ভাল ভাল দামী খাবার খেতেও পায় না, আবার চেষ্টার কমতিও নেই। মান সন্মান টনটনে বলে, ছেলে মেয়েদের সন্তনা দেয়ার ভাষা এই পরিবার গুলোর থাকে না। বললে আসলেই অনেক কথা বলতে হবে। কিন্তু বলে কি লাভ!

চলুন আজ একটা বেসিক রান্না দেখে ফেলি। আমি মনে করি মধ্যবিত্ত পরিবার এই রান্না সহজে করে ফেলতে পারবে। বিশেষ দিনে টেবিলে পরিবারের সবাই এই খাবার খেয়ে আনন্দ পাবে। হা, এটা হচ্ছে ক্ষীর, পায়েসের চাচাত বোন!

প্রয়োজনীয় উপকরনঃ
– পোলাউ চালঃ হাফ কাপ (ছয়জন খেতে পারবে, ভাল সুগন্ধি চাল হলে ভাল হয়)
– দুধঃ হাফ লিটার (আপনি ইচ্ছা করলে আরো বেশী নিয়ে জ্বাল দিয়ে কমিয়ে নিতে পারেন)
– চিনিঃ যেমন পছন্দ (বেশি না দেয়াই উত্তম)
– দারুচিনিঃ দুই তিনটে (হাফ ইঞ্চি)
– এলাচিঃ কয়েকটা
– কিসমিসঃ কয়েকটা

(চাইলে কাজু বাদাম সহ আরো কিছু ভেজস ব্যবহার করা যেতে পারে, স্বাদ বাড়বে, দেখতেও ভাল লাগবে)

প্রনালীঃ

পোলাউ চাল ভিজিয়ে রাখুন ঘন্টা (আধাঘন্টা মাষ্ট) খানেক সময়ের জন্য।


এবার চাল বেঁটে আধা ভাঙ্গা করে নিন। একদম গুড়া করবেন না! (প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাইবোনদের কাছে পাটাপুতা না থাকলে হামানদিস্তা দিয়েও কাজ চালাতে পারবেন, ব্যাপার একটাই হবে)


এবার চুলায় দুধ গরম করতে থাকুন। এলাচি ও দারুচিনি দিয়ে দিন।


দুধ কিছুটা ঘন হয়ে আসলে চাল ভাঙ্গা দিন এবং নাড়াতে থাকুন। নাড়ানো থামানো যাবে না।


মধ্যম আঁচে চলুক, আপনি নাড়াতে থাকুন। নাড়ানো বন্ধ করবেন না। নাড়ানো বন্ধ করলে পাতিলের তলায় লেগে যেতে পারে।


নাড়ান। আস্তে আস্তে গাঢ় হতে থাকবে।


নাড়ান, যত গাঢ় হবে তত বুঁদ বুঁদ উঠবে তাই নাড়ানো থামাবেন না।


এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে।


এবার প্রয়োজন মত চিনি দিন। চিনি বেশী দিলে অনেকে খেতে চাইবে না, আবার কম হলেও পুরা মজা পাওয়া যাবে না। সুতারাং বুঝে শুনে।


ব্যস বাটিতে ঢেলে নিন। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। কয়েকটা কিসমিস দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারেন। ঠান্ডা পরিবেশন করতে চাইলে কিছুক্ষনের জন ফ্রীজে রেখে দিতে পারেন।


এভাবে ছোট ছোট বাটিতে পরিবেশন করুন। উৎসবের দিনে এই ধরনের মিষ্টি খাবার খেতে সবাই পছন্দ করেই।

এখন আশা যাক, এই মিষ্টি খাবার ক্ষীরের স্বাদ কেমন হয়েছিল? আসলে আজ সন্ধ্যায় আমরা এই রান্নাটা করেছিলাম, আমাদের রান্না টেষ্টার ও মডেল বুলেটের অনুরোধে! সে কয়েকদিন ধরেই ক্ষীর খেতে চাইছিলো। রান্না শেষে আমাদের ভাগে পড়েছিল সামান্যই! হা হা হা, মানে পুরোটাই কয়েক ঘন্টায় সে একাই শেষ করেছিল!

সবাইকে শুভেচ্ছা। আমাদের প্রিয় প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই বোন, কি সহজ নয় কি! আরো যদি সহজ ক্ষীর রান্না দেখতে চান তবে রেডিমেট ক্ষীর আছে, দেখে নিতে পারেন, আমাদেরই রেসিপি পোষ্ট, রেসিপিঃ ক্ষীর (রেডিমেট)!

Advertisements

7 responses to “রেসিপিঃ ক্ষীর (ঘরে ঘরে জনপ্রিয়, ওরে ও মধ্যবিত্ত!)

  1. দারুন।

    Like

  2. চাল আধা ভাঙ্গা করে রাধি না । চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে ডাল ঘুটনি দিয়ে ভালো করে ঘুটে নেই । তারপর দুধ আর চিনি মিশাই ।

    Like

  3. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s