গ্যালারি

রেসিপিঃ নারকেলি পিঠা (শহুরে)


আজ কাল শহরে বসবাস করা আমরা বলেতে গেলে পিঠা বানাতেই চাই না। কিছু পরিবারের কিছু মুরুব্বী অবশ্য এখনো মাঝে মাঝে চেষ্টা করেন। তবে আমি মনে করি তিনটে কারনে আমরা শহরের মানুষ পিঠা বানাতে চাই না।

১) পিঠা বানানো কষ্টকর কাজ (আজকাল অনেকেই রান্নাঘরে যেতেই চান না! সময় নষ্ট মনে করেন। টিভি দেখা বা ফেইসবুকে কমেন্ট লেখা অনেক সহজ কাজ!)
২) পিঠায় ব্যয় বেশী (পিঠার উপকরন চালের গুড়া, নারিকেল ইত্যাদি পাওয়াও দায়)
৩) আজকালের ছেলে মেয়েরা পিঠা খেতে চায় না (পিঠা দেখলে ছেলেমেয়েরা দূরে সরে যায়, নুতন জেনারেশনের মুখের রুচিও পাল্টে যাচ্ছে! চিজ মার্কা খাবার দাবার ওদের এখন পছন্দ!)

সে যাই হোক। পিঠা আগামী বছর বিশেক বাদে যাদুঘরে চলে যাবে বলে আমি মনে করি। পিঠার রান্না ও রেসিপি বাঁচিয়ে রাখাও দায় হয়ে পড়বে! একদিন হয়ত এমন আসবে, পিঠা নিয়ে গবেষনা করেও পিএইচডি ডিগ্রী পাওয়া যাবে! আসলে বললে অনেক কথা বলতে হয়, না বললে নাই!

তার চেয়ে চলুন, একটা পিঠা বানানো দেখে ফেলি। নারকেলি পিঠা! (চালের গুড়া থাকলে এই পিঠাকে পুলি পিঠা বলা যেত)। বিকালের নাস্তায় কিংবা মেহমানদারীতে এই পিঠা কাজে লাগতে পারে। আপনার মেহমানগন খেয়ে হয়ত বলে ফেলবেন, ইস কত দিন পরে পিঠা খেলাম! হা হা হা…। বছর বিশেক তো হবেই!

উপকরনঃ
চার ধাপে এই পিঠা বানাতে হবে। ধাপের কথা শুনে ভয় পাবেন না। ধাপ অনুসারে উপকরন গুলো দেয়ার চেষ্টা করলাম।
১। পিঠার মন্ড প্রস্তুত
– ময়দা দেড় কাপ
– একটা ডিম
– বেকিং পাউডার, এক চা চামচ
– সামান্য লবন
– কুসুম গরম পানি
– দুই টেবিল চামচ তেল

২। পিঠার ভিতরের পুর প্রস্তুত
(আমরা একবারে অনেকখানি পুর বানিয়ে রেখেছিলাম, যা পরবর্তিতেও ব্যবহার করা হয়েছিল)
– নারিকেল কুরানো
– খেজুরের গুড় বা চিনি
– এলাচি
– দারচিনি
– পানি (পরিমান মত, নূতনদের জন্য)

৩। পিঠা প্রস্তুত
– সামান্য ময়দা (রুটি বেলার জন্য)

৪। তেলে ভাঁজা
– ডুবো তেলে ভাঁজার জন্য পরিমান মত তেল

প্রনালীঃ
চার ধাপ গুলো খুব সহজ ভাবে আপনাদের জন্য উপস্থাপন করা হল।
১। পিঠার মন্ড/কাই প্রস্তুত

একটা বাটিতে ময়দা নিন, ডিম ভেঙ্গে দিন, বেকিং পাউডার ও লবন দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে আস্তে আস্তে কাই করুন।


এই পর্যায়ে এসে যাবে। বেশি নরম করে ফেলা যাবে না।


এবার তেল দিয়ে ভাল করে মেখে (যত মিশাবেন তত ভাল মন্ড/কাই হবে) একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। আধ ঘন্টা হলে ভাল।


আধা ঘন্টা পরে মন্ড/কাই ফুলে এই রকম হয়ে যাবে। পিঠার রুটি এই মন্ড/কাই দিয়েই বানাতে হবে।

২। পিঠার ভিতরের পুর প্রস্তুত

হাড়িতে গুড় বা চিনি, দারচিনি, এলাচি ও নারিকেল কুরানো এক সাথে দিয়ে মৃদু আঁচে গুড় বা চিনি গলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। গলে গেলে মাধ্যম আঁচে ভাল করে নাড়িয়ে নিলেই এই পুর হয়ে যাবে। (নুতন যারা রান্না করবেন তারা এই মিশ্রনে হাফ কাপ পানি দিয়ে নিতে পারেন, চিনি বা গুড় পুড়ে যাবার সম্ভবনা থাকবে না!)

৩। পিঠা প্রস্তুত

কাই থেকে ছোট গোলা নিয়ে রুটি বেলে নিন। একটা রুটিকে চার খন্ডে ভাল করুন। ইচ্ছা মত ডিজাইন করে নিন। (আমরা একটা ডিজাইন দেখিয়ে দিচ্ছি। ছবি দেখেই আশা করছি বুঝতে পারবেন।)


দেখুন কি করে ভাঁজ করা হচ্ছে। এভাবে কিছু বানিয়ে জমা করে রাখুন।

৪। তেলে ভাঁজা

এবার কড়াইতে তেল গরম করে পিঠা গুলো ভেঁজে নিন।


ডিজাইন আপনার ইচ্ছা! অর্ধচন্দ্রাকার!


এমন কি ফুলমুন/ পূর্নিমার চাঁদ কিংবা গোলাকার বৃত্ত করতে পারেন।

পরিবেশনাঃ

গরম গরম পরিবেশন করুন। ছেলে বুড়ো সবাই পছন্দ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

(বাজারে পিঠার ছাঁচ এবং সাইড কাটার পাওয়া যায়, দাম তেমন বেশি নয়।)

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

Advertisements

5 responses to “রেসিপিঃ নারকেলি পিঠা (শহুরে)

  1. It’s a bit reversed in my family. My mom doesn’t like to go through the pain of making pitha these days whereas my sister in law and I are always making pithas especially during winter 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হা, পিঠা বানাতে অনেক ঝামেলা। এই জন্য অনেকে এখন আর বানাতে চান না। আর বয়স হলে পিঠা বানানোর মত ধৈর্য আর থাকে না। আপনার আম্মাকে আমাদের সালাম দেবেন। তার জন্য আমাদের দোয়া থাকল।

      হা, পিঠার মজাই শীত কাল। তবে আপনারা যারা ইউরোপে থাকেন আপনারা সব সময়েই পিঠা খেতে পারেন, কারন সব সময়েই শীত!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. এটার নাম নারিকেল পিঠা ? আমার আম্মা অন্যভাবে এটা তৈরি করেন । সিদ্ধ আটা দিয়ে , ডিম আর বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয় না । ইদের সময় প্রায় প্রতি বাসায় এটা তৈরি করা হয় । আমি পিঠার ছাচ দিয়েই করি ।
    মাঝে ,আঝে স্বাদ বদলের জন্য পিঠার পুর হিসাবে , মাংসের কিমা ভুনা , মাছের কিমা ভুনা এবং সবজি ভাজি ব্যবহার করি । আমাদের বাসার সবাই সবজির পুর দিয়ে করা পিঠা পছন্দ করেন ।

    Like

  3. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s