Gallery

রেসিপিঃ বেগুনী (আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মা)


বেগুনী, নাম শুনলেই জিবে জল আসে। বেগুনী আমি খুব পছন্দ করি। বিশেষ করে ইফতারে বেগুনী ছাড়া চলে না! না, কথাটা ঠিক না আজকাল সারা বছরেই ঢাকার রাস্তাঘাটে বেগুনী পাওয়া যায়। আমি প্রায়ই দেখি নানান মোড়ে, এখন বিকালে বেগুনী, পেঁয়াজু ভাঁজা হয়। শুধু ইফতারে বা রোজার সময়ে না, সব সময়েই দেখা যায়!

যাই হোক, বেগুনী নিয়ে আমার আগেও একটা রেসিপি আছে। এটা আবারো দিচ্ছি। কারন বেগুনী না হলে আমাদের সাধারন পরিবারে চলে না। ইফতারে বিশেষ করে মুরুব্বীরা বেগুনী বেশ পছন্দ করেন। এদিকে আমাদের এক বোন ফেইসবুকে বেগুনী নিয়ে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, “একটু ডিস্টার্ব করছি ভাই। আমি জানতে চাচ্ছিলাম বেগুনি ক্রিস্পি কিভাবে করে? উপরের লেয়ার বেশি মোটা হবে না বাট ক্রিস্পি হবে। সবাই পারে আমি ই পারিনা। আমার বেগুনি ভাজার একটু পরই নরম কেমন যেন হয়ে যায়। প্লিজ জানাবেন।” ফেইসবুকে উত্তর দেয়া যাচ্ছিলো না, এদিকে আমাদের হাতেও আছে বেগুনী রেসিপি। তাই এখানে আমাদের রেসিপি প্রিয় সেই বোনের উত্তর গুলো দেয়ার চেষ্টা করি।

১। বেসন ভাল ডালের (বুটের) হতে হবে। (আজকাল মিক্স ডালের বেসন পাওয়া যায় বলে সমস্যা হয়)
২। সমান পরিমানে বেসনের সাথে চালের গুড়া দিতে পারেন। মিক্স কাই কিছুক্ষনের জন্য রেখে দিতে হবে। ভাল করে মিশে যাবে।
৩। ভাল বেকিং পাউডার দিতে পারেন কিংবা একটা ডিম ফাটিয়ে দিতে পারেন।
৪। ডুবো তেলে ভাঁজতে হবে।
৫। বেগুনী ভাঁজার পরই পরিবেশন করতে হবে!

এ ছাড়া আর কিছু মাথায় ধরেছে না। আরো বুদ্দি থাকতে পারে। তবে আমরা বেগুনী বানিয়ে বেশী দেরী করি না। বানিয়ে সাথে সাথেই খেতে বসে যাই। হা হা হা…।

উপকরন ও প্রনালীঃ

বেগুন পাতলা করে কেটে সামান্য লবন পানিতে ধুয়ে নিন। এতে বেগুন কাল হয়ে যাবে না, নরম মোলায়েম হবে।


বেসন আধা কাপ, চালের গুড়া আধা কাপ, হলুদ গুড়া হাফ চা চামচ, মরিচ গুড়া (বুঝে), লবন (পরিমান মত), একটি ডিম ও পানি (পরিমান মত)। (যারা ডিম ব্যবহার করতে চাইবেন না তারা ইচ্ছা হলে বেকিং পাউডার ব্যবহার করতে পারেন)। ভাল করে মিশিয়ে ঘন্টা খানেকের জন্য রেখে দিন। (এই গোলা দিয়ে আপনি ডিমচপ, আলুচপ বা যে কোন ধরনের চপ ভাঁজতে পারেন)


বেগুনের টুকরা গুলো গোলা/কাইতে চুবিয়ে নিয়ে তেলে ভাঁজুন।


বেগুনী সব সময় ডুবো তেলে ভাঁজা দরকার। কিন্তু তেল নষ্ট না করতে চাইলে এমনি খোলা তাওয়াতে ভাঁজতে পারেন। (বেগুন তেল খায় প্রচুর!)


এক পিট/ ওপিট করে উলটে পাল্টে ভাঁজুন।


তেল ছেঁকে উঠিয়ে নিন।


ব্যস হয়ে গেল বেগুনী। পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

(আজ সারা দিনে ফেইসবুকে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ছবিটা সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়িয়েছে, তা হচ্ছে তিনি নিজের হাতে পুত্রের জন্য রান্না করেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রীর এই রান্নাঘরে প্রবেশ আমাদের আনন্দ দিয়েছে। এটা সত্য যে, খানাপিনা না থাকলে দুনিয়াতে কেহ প্রধানমন্ত্রী হতে চাইতেন না এবং টাকার পিছনেও কেহ ঘুরতেন না। রান্নার জয় সর্বত্র, প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এটাই বার বার প্রমান হচ্ছে। দুনিয়াতে রান্না করে খাইয়েই একমাত্র কাউকে ভালবাসার প্রমান দেয়া যায়! রান্নার অপর নাম এই জন্যই আমি বলি ‘ভালবাসা’!)

সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনারাও রান্নায় আসুন, ভাল লাগবে।

Advertisements

9 responses to “রেসিপিঃ বেগুনী (আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন মা)

  1. বেসনের সাথে একটু ময়দা দিলে বেগুনী মছমছে হবে। ধন্যবাদ।

    Like

  2. আপনি উপকরন যে দিয়েছেন আমি সেগুলো বক্স বক্স দেখতে পাচ্ছি। এমন অনেক সময় আমি লিখতে গেলেও হয়। তখন এন্টারে চাপ দিয়ে নিচের লাইনে গেলে তখন বাংলা লিখা যায়। এটার সমাধান কি?

    বেগুনী আমার কুম্ভকর্ণের ভিষন প্রিয়। ইফতারে এটা থাকতেই হবে। আমি ইফতারের একটু আগেই বেগুনী ভাজি। তারপর চুলার নিচে রেখে দেই। আজানের সময় টেবিলে আনি। উপকরন আপনার মতই দেই। সেদিন একজনের করা বেগুনী দেখলাম কোলবালিশের মত গোল। জানলাম ব্যাটারটা বিটার দিয়ে ভালো করে বিট করে ফ্লপি করে নেয়ায় এমন হয়েছে। আমি করে দেখবো।

    Like

  3. বেগুনীতে আমি সামান্য চিনি ব্যবহার করি । এতে করে অ্যালার্জির কারণে চুলকানী হওয়ার সমস্যা থাকে না । আমার বাসায় অবশ্য মচমচে বেগুনী চাই এমন কোন ডিমান্ড নেই । বেগুনি হলেই হলো । বেগুনী কিংবা অন্যান্য ভাজা পোড়া জাতীয় খাবার যাতে মচমচে থাকে সেজন্য এগুলো তৈরি করার পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখবেন না । যদি ঢেকে রাখতেই হয় তাহলে নেট এর প্লাস্টিকের ঢাকনা কিংবা কিচেন টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখবেন । ভাজা জাতীয় খাবার ঢেকে রাখলেই মচমচে ভাব সরে নরম হয়ে যায় ।

    Liked by 1 person

  4. আমি এই প্রথম ইফতারি বানাচ্ছি তাই গোলা বানাতে হয় কিভাবে জানতামনা। প্রবাসে মা ও নাই যে জেনে নিবো। খুব উপকার হল।

    Like

  5. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s