Gallery

রেসিপিঃ ঘরোয়া খিচুড়ি


খিচুড়ি! নাম শুনলেই খেতে ইচ্ছা হয়। কত পদের খিচুড়ি যে আমাদের দেশে রান্না হয় তার সীমা নেই। চাইলে খিচুড়ি নিয়ে একটা থিসিস করে পিএইচডি পেপার সাবমিট করে দেয়া যায়! একদম আমি নিশ্চিত না হলেও মোটামুটি নিশ্চিত যে, আপনি খিচুড়ি পিএইচডি পেয়েই যাবেন। দেশের এত পদের খিচুড়ির একটা তালিকা তৈরী করাও দরকার! কিছুই হারিয়ে যেতে দেয়া যায় না।


(এই হচ্ছে চাল, ডালের মিশ্রন! খিচুড়ির প্রধান উপকরন। মুগডাল সামান্য ভেঁজে নিতে হবে।)

কথা না বাড়িয়ে চলুন আজ একটা খিচুড়ি রান্না দেখে ফেলি। এই খিচুড়িকে আপনি ঘরোয়া স্টাইলের বলতে পারেন, গোসত, চাল ডাল একসাথে রান্না। আমাদের আরো বেশ কিছু খিছুড়ির রেসিপি আপনাদের জন্য আগে দেয়া হয়েছে, হাতে অবশ্য আরো কিছু রেসিপি আছে, সময়ে ধীরে ধীরে চলে আসবে।

আজকের এই খিচুড়ি আপনি যে কোন বেলার খাবারের জন্য রান্না করতে পারেন কিংবা ইফতারে জন্যও করা যেতে পারে। আলাদা করে অন্য কোন কিছু করার দরকার নাই, চাইলে শুধু সালাদ কিংবা একটু আঁচার নিয়ে বসতে পারেন। ব্যস।

উপকরণঃ
– পোলাউ চাউল, তিন পোয়া
– মুসরী ডাল, আধা পোয়া
– মুগ ডাল, আধা পোয়া
– গরুর মাংস, ১ কেজি
– পেঁয়াজ কুঁচি বা বাটা, এক কাপ
– আদা বাটা, দুই টেবিল চামচ
– রসুন বাটা, দুই টেবিল চামচ
– জিরা গুড়া, ১ চা চামচ
– শুকনা মরিচ গুড়া, ১ বা দেড় চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়া, ২ চা চামচ
– জয়ত্রী বাটা, হাফ চা চামচ
– জয়ফল বাটা, এক চিমটি
– গরম মশলা (এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস)
– লবন, পরিমান মত
– ভিনেগার, এক চা চামচ (এটা শুধু গোসত নরম করার জন্য দেয়া হয়েছিল, না হলে নাই তবে লেবু থাকলে দুই চামচ লেবু রস দিতে পারেন)
– কয়েকটা আস্ত কাঁচা মরিচ
– তেল, দেড় কাপ কম বেশি
– পানি

প্রনালীঃ

পাতিলে তেল গরম করে তাতে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুঁচি ও কয়েকটা কাঁচা মরিচ ভেঁজে নিয়ে নিন (গরম মশলা, এলাচি কয়েকটা, দারুচিনি কয়েক পিস দিয়ে দিন) এবং একে একে উপরে উল্লেখিত মশলা দিতে থাকুন। আদা, রসুন দিয়ে শুরু করতে পারেন।


এবার গুড়া মশলা গুলো দিয়ে দিন। ভেজেই এককাপ পানি দিয়ে দিন এবং কষাতে থাকুন।


ব্যস মশলার ঝোল হয়ে গেল। তেল উপরে উঠে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। যত কষাবেন এবং মশলা পাকবে তত ঘ্রান বের হবে এবং ঝোল স্বাদের হয়ে উঠবে।


এবার গোসত দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে কিছুক্ষন মাধ্যম আগুনের আঁচে রাখুন।


এবার গোস্তে দুইকাপ পানি দিন (এখানেই ভিনেগার বা লেবুর রস দিতে পারেন) এবং ঢাকনা দিয়ে রান্না করুন। মাঝে মাঝে উলটে দিন, গোসত নরম হল কিনা দেখে নিন। গোসত নরম এবং এই ধাপেই গোসত সুস্বাদু হয়ে যাবে।


গোসত হয়ে গেলে এবার চাল, ডাল দিন।


চাল, ডাল দিয়ে কিছুক্ষন ভেঁজে নিন।


এবার পানি দিন। এখানে পানির পরিমান হবে চালের উপরে দুই ইঞ্চির মত। আপনি যদি ঝরঝরে করতে চান তবে পানি কম, আর একটু মাখামাখা করতে চাইলে পানি বেশি চলবে!


পানিতে লবন দেখুন। পানি কটা হতে হবে। পানি কটা হলে শেষে লবন ঠিক হবে। ঢাকনা দিয়ে মাধ্যম আঁচে রাখুন। মিনিট ২০ লাগতে পারে।


মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে দেখতে ভুলবেন না। নাড়িয়ে দিতে পারেন।


ব্যস হয়ে গেল, ঘরোয়া খিচুড়ি।


পরিবেশনা, বাংলা স্টাইল!


পরিবেশনা, ইংলিশ স্টাইল! (শিশুদের জন্য ঘরেও এই ধরনের পরিবেশনা  প্রয়োজন, কারন তা হলে তারা বুঝতে পারবে, ঘর হোটেলের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।)

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন

আরো কিছু খিচুড়ির রেসিপি দেখে আসতে পারেনঃ
রেসিপিঃ মুগ ডালের খিচুড়ি (বৈশাখ স্পেশাল, গল্প না পড়লে মিস!)
রেসিপিঃ সাধারন খিচুড়ি (এই শীতের রাতে, খিচুড়ি খান মিলে)
সব্জি খিচুড়ি
রেসিপিঃ সবজি খিছুড়ি (লাবড়া)

18 responses to “রেসিপিঃ ঘরোয়া খিচুড়ি

  1. mug dal ki age sukna vaste hobe?? thanks:)

    Like

    • ধন্যবাদ রেদোয়ান ভাই। হা, বলতে ভুলে গেছি। হা, মুগ ডালকে আগে সামান্য ভেঁজে নিতে হবে এবং আমরা তা নিয়েছিলাম। আপনিও রান্নার সময় তা করে নিবেন। মুগ ডাল রান্নার সময় সব সময়েই ভাজি করে তার পর ধুয়ে নিতে হয়্। ধন্যবাদ আপনাকে রেসিপিটা ভাল করে দেখার জন্য।

      শুভেচ্ছা।

      Liked by 1 person

  2. এই খিচুড়িটা আখনি পোলাওয়ের মত । আখনি তে ডাল দেয়া হয় না এই আর কি । বাসায় আমি ২ ধরণের ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করি আর গোশত দিয়ে আখনি রাধি ( মাঝে মাঝে ) , ইফতারির জন্য । আমার কাছে এটা নতুন একটা খিচুড়ি ।

    Like

  3. it’s remind me my amma’s cooking……. when lot’s of guest come at home n no body want to help her make roti for breakfast , she always make this KICHURY for breakfast …… l love it with ‘achar’ n my big bro like it with ‘ghee’………… my amma always cook this one …………thanks……anjuman

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। হা, আপনার আম্মা সঠিক কাজই করতেন। অনেক জনের জন্য রুটি/পরোটা বানানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু সহজেই এমন একটা খিচুড়ি করা যেতেই পারে।

      হা, ঘি দিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে চুলা থেকে নামানোর আগে সামান্য ঘি দিলে স্বাদ আরো বেড়ে যাবে।

      শুভেচ্ছা নিন।

      Liked by 1 person

  4. ইস! কেনো যে এখানে এলাম। 😦 খিচুড়ী আমার কী ভিষন প্রিয়। সেদ্ধ চালের হলে আরো ভালো হতো। এই গরমে আর ইচ্ছে করেনা রান্না ঘরে যেতে। সেহেরীর তরকারীর বাগার বসিয়েই টুক করে বেরিয়ে আসি, আর একটু পর পর গিয়ে দেখে আসি।

    হ্যা, সিলেটি আখনি পোলাও এমন করেই রান্না করে শুধু ডাল দেয়া হয়না।

    Like

  5. এটাকে এখনই রান্না করবো!! তবে গরুর জায়গায় মুরগীর গিলা-কলিজা দিয়ে। আপনার ব্লগ সাইট আমার জন্য আশির্বাদ স্বরুপ ! 🙂

    Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  7. ভাই, “পানি কটা হতে হবে” মানে কি? বাংলায় বলেন 😉

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ মুতাসিম ভাই। মানে একটু লবন বেশি হতে হবে। এই লবণটা চালের সাথে মিশে সঠিক লবন হয়ে যাবে। তরকারীতে এমন লবন চলে না, চালে একটু বেশি লবন লাগে। তবে বুঝে শুনে। মনে রাখবেন যে কোন খাবারে লবন বেশি মানেই খাবার নষ্ট হয়ে পড়া, ফলে লবন দিতে হয় বুঝে শুনে, চেক করে। শুভেচ্ছা নিন।

      Liked by 1 person

  8. ভাই খাসীর মাংস দিয়ে বেশী ভাল লাগবে না গরুর মাংস .

    Liked by 1 person

  9. hmm দেখলাম ও পরলাম ওবুঝলাম এবার চেষ্টা করবো জানিনা কেমন হবে মনেহয় মজাদার হবে

    Like

  10. এটা খুভ ভাল…

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s