গ্যালারি

রেসিপিঃ পুদিনা আলুচপ (রান্নাতো আপার জন্মদিনে)


আপনারা আমার রান্নাতো আপাকে (তিনি নিজে আমাকে রান্নাতো ভাই ডাকেন, এবং এই শব্দটা উনারই আবিস্কার) সবাই চিনেন এবং জানেন। রান্না নিয়ে আমার রান্নাতো বোনের উৎসাহের কমতি নেই। রাত দুটা বাজেও যদি কেহ রান্না নিয়ে কিছু জানতে চেয়ে আপাকে ফোন করেন তিনি একটুও বিরক্ত না হয়ে সেটা বলে দেন। অন্যদিকে নিজেও উতসাহি হয়ে ফোন করেন এবং বলে দেন কি করা দরকার। আমি ভেবে অবাক হই।

আর সত্য কথা বলাতে আমার এই রান্নাতো আপার জুড়ি নেই। আমি উনাকে অনেক অনেক দিন ধরে দেখে এবং ফলো করে আসছি। আপার ফেইসবুকের স্ট্যাটাস দেখে আমি বার ভাবি, কি করে আপা এমন সত্য কথা বলেন? আমি নিজেও সত্য বলার চেষ্টা করি, কিন্তু অনেকে রেগে যেতে পারেন বলে, আমি অনেক সময় মুখে টেপ লাগিয়ে বসে থাকি! হা হা হা… আপার সেই দিকে ভয় নেই বললেই চলে!

যাই হোক, আমার এই রান্নাতো আপা থেকে আমি নানানভাবে উপকার পেয়ে আসছি আজ অনেকদিন ধরেই। নানান বাংলা সামাজিক ব্লগে নানান পদের লেখা লিখে (হাজার খানেকতো হবেই – কবিতা, গল্প, অভিজ্ঞতা, ছবি) যখন ক্লান্ত হয়ে একটা বিষয় খুঁজে বের করলাম, আপা সেই সময় থেকেই আমাকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। হা, সেটা রেসিপি, আমি রান্নাঘরে পুরাই প্রবেশ করে গেলাম!

ছেলেরা রান্নাঘরে যাবে এবং রান্না করে রেসিপি দিবে, এটা এখনো যেমন অনেক ছেলে (এরা নিজকে প্রগতিশীল ভাবে, প্রকাশ করে কিন্তু বাস্তবে উলটা, অন্যের উপর চলে, খায় দায় কিন্তু কাউকে সন্মান করে না!) নেটে বা বাস্তবে মানতে পারে না, আজ থেকে বছর তিনেক আগে এদের সংখ্যা নেটে আরো বেশি ছিল। সেই সময় যদি আমার এই রান্নাতো আপা আমাকে সাপোর্ট না দিতেন তবে আজকে নেটে আমার ৪০০ রেসিপি হয়ত থাকত না। আমি বুঝতাম, আপার একটা কমেন্টের জন্য এই আঁতেলরা আর আমাকে বাজে কমেন্ট করতে সাহস পেত না! (আরো কত কি ঘটেছে! একদিন সময় হলে লিখেই ফেলবো হয়ত!)

যাই হোক, নেটে/অনলাইন জগতে আমাদের এই সুরঞ্জনা ওরফে জামিলা হাসান ওরফে মায়া আপাকে তার নিজের কর্মকান্ডের জন্য কোনদিন ভুলা যাবে না। তিনি নিজে ভাল লিখেন, রেসিপি দেন এবং সর্বপোরি সবার সাথে একটা চমৎকার সম্পর্ক রাখেন। আমরা ছোটভাই গুলো, বোন গুলো বার বার তার কাছেই ফিরে যাই। বিরক্ত করি।

(আমি যদি ফেইসবুকের কোন পেইজের এডমিন হতাম, এই ছবিটা দিয়ে হয়ত লিখতাম, এই সুখি পরিবারটার জন্য কয়টা লাইক হবে! রান্নাতো আপা, আগামীদিন গুলো কাটুক আরো আনন্দে, আরো আরো আনন্দে।)

গত ১৪ জুলাই বলতে ফেলে নিরবেই আপার জন্মদিন পার হয়ে গেল। আমি আপার জন্মদিনে পোষ্ট দিয়ে থাকি কিন্তু সময় ও ব্যস্ততার জন্য সেটা এবার পারি নাই (সরি, আপা)। আজ রেসিপি লিখতে বসে সেই কথা বার বার মনে পড়ছিলো। এই রেসিপি/রান্না আমার রান্নাতো আপার জন্যই! (কয়েকদিন দেরী হয়েছে তো কি! হা হা হা…।)

প্রথমেই বলে নেই, এটা সাধারন আলুরচপ তবে পুদিনা দিয়ে এটায় একটা বিশেষ ঘ্রান ও স্বাদ আনা হয়েছে, যা রান্না প্রিয় ভাই বোনদের কাছে আলাদা একটা পরিবেশনা পাবে। আমি নিজে পুদিনা পাতার বিরাট ভক্ত। সর্বভুক হিসাবে, আমি পুদিনা এমনিতেই চিবিয়ে খেতে পারি, পুদিনার স্বাদ ও ঘ্রান নাকে মুখে লাগলে আমার বিশেষ ভাল লাগে। আসলে আপনি যা ইচ্ছা করবেন, তাই হবে! ইচ্ছা করে দূরে ঠেলে দিলে দুনিয়ার অনেক কিছুই মিস হয়ে যাবে।

চলুন কথা না বাড়িয়ে দেখে ফেলি। তবে আগেই বলি, এই রান্নায় বিরাট ভুমিকা রেখেছেন আমার ব্যাটারী। পুদিনা ফর্মুলা যদিও আমার এবং খেতে বসে নিজেই বলছেন, তুমি সাহস দেখাও বলে আমাদের রান্নায় বৈচিত্র আসে! হা হা হা…

উপকরণ ও প্রনালীঃ

কিছু পেঁয়াজ ও মরিচ কুঁচি সামান্য তেলে ভেঁজে নিন। হলদে ভাব এতে কিছু পুদিনা কুঁচি দিয়ে দিন। চুলা নিবিয়ে দিন, পুদিনা কুঁচি বেশি ভাঁজবেন না।


ব্যস এবার আলু গুলো সিদ্ব করে নিন এবং সব কিছু একসাথে সামান্য লবন দিয়ে মেখে নিন।


এটাকে আলু ভর্তা বলা যেতেই পারে!


এবার হাতে সামান্য তেল মেখে চপের আকার করে নিন।


হয়ে গেল আলুর চপের মধ্যাংশ!


এবার বেশনের কাই করে নিন (বেসনে সামান্য হলুদ ও মরিচ গুড়া এবং একটা ডিম দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে এমন একটা কাই করে নিন)


এবার বেসনের কাইতে আলুর চপ গুলো ডুবিয়ে খোলা কড়াইয়ে তেল গরম করে ভাঁজতে থাকুন।


কেমন ভাঁজবেন তা আপনি নিজেই নির্ধারন করুন। (যে কোন কিছু তেলে ভাঁজতে সাবধানতা নিন)


ব্যস পরিবেশনার জন্য প্রস্তুত।


প্লিজ একবার এমন পুদিনা পাতা দিয়ে একবার আলুর চপ ভেঁজে খেয়ে দেখুন। ইফতারে তো রেগুলার এমন আলুর চপ ভাঁজছেন, এবার একটু আলাদা স্বাদ দেখুন। আমি নিশ্চিত, ভাল লাগবেই।

কি প্রবাসী এবং ব্যচেলর বন্ধুরা, আপনারাই বলুন, খুব সোজা নয় কি! রান্না হচ্ছে একটা ভালবাসা, সে ভালবাসা আপনি কেন নিজকে জড়াবেন না!

সবাইকে শুভেচ্ছা।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন।

Advertisements

15 responses to “রেসিপিঃ পুদিনা আলুচপ (রান্নাতো আপার জন্মদিনে)

  1. Sukhe thakun Rannato apa and Rannato vai ……. abong apnader family.

    Like

  2. আপনাদের ভাই বোন বেঁচে থাকুন আর আমাদের রেসিপি দিয়ে আনন্দ দিন।

    Like

  3. রান্নাতো ভাই কি লিখবো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।
    রুক্ষ, কঠিন পাহাড়ের ভেতর কত স্রোতস্বিনী ঝর্না বয়ে যায়, ক’জন তার খোঁজ রাখে। তেমনি আপাত-দৃষ্টিতে আমার মত কঠিন মানুষটি যে কত আবেগী মনের তা আপনার মত মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষই মাত্র জানে। আপনার পোস্ট আমার চোখে অশ্রু এনে দিলো। এতো ভালোবাসার যোগ্য আমি তো নই।
    আজমাইন সহ আপনারা অনেক অনেক ভালো থাকুন, সুখে থাকুন এই প্রার্থনা করি।

    চপটি যে খেতে খুবই সুস্বাদু হবে তাতে কোনোই সন্দেহ নেই। রোজাতেই একদিন বানাবো ইন শা আল্লাহ!

    Like

    • ধন্যবাদ আপা। আমি আপনার স্নেহে ধন্য। এটাই চমৎকার। আপনি ভাল থাকুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন। আর কিছুই চাই না।

      নুতন করে আর কি লিখবো। তবে অনেক কিছু লিখার ইচ্ছা আছে সামনে।

      পুদিনা কুঁচি দিয়ে একবার চপ বানাবেন, আশা করি কুম্ভকর্ন ভাই পছন্দ করবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. সিলেট এর বাজারে বোধহয় পুদিনা পাতা পাওয়া যায় না । আমি আলুর চপ এ পেয়াজ কুচি ভেজে দেই না । তনে পেয়াজ , ধনেপাতা ও অন্যান্য মসলা একসাথে চটকে তারপর চটকানো আলুর সাথে মিশাই । আরেকটা কথা , আমি আলুর চপ বেসনের কাই এ গড়িয়েও করতে পারি না । আলুর চপের আকার নষ্ট হয়ে যায় ( আমার ক্ষেত্রে এটা হয় ) । তাই আমি আলুর চপের মিশ্রনে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে ইচ্ছামত আকার করে ভেজে নেই । আমার আম্মা যখন করতেন তখন ময়দা মিশিয়ে করতেন । আমি ময়দা দিয়েও করতে পারি না ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আপনিও সিলেটী তা আজ জানলাম। (সরি) বলেন কি সিলেটের বাজারে পুদিনা পাওয়া যায় না! আমার রান্নাতো আপাও সিলেটী (বিবাহ সুত্রে), আমার আপার কাছে একটা ফোন দিন, তিনি ঠিকই আপনার জন্য পুদিনা বের করে দেবেনই।

      বেসনে আজকাল ভেজাল মিশায়, খেশারীর ডাল দিয়ে দেয়, এজন্য বেসনের পুরা মজা নিতে পারা যায় না। একটা ডিম মিশিয়ে নিবেন। আশা করি হবে। তবে এই কাজটা একটা অভিজ্ঞতার ব্যাপার। অভিজ্ঞ হাত সব কিছু ঠিকভাবেই করে নেয়। আমিও আগে পারতাম না, এখন কিছুটা পারি। তবুও দেখছেন না, চপের বাইরেও ছড়িয়ে গেছে। যাক, একদিন হবেই। ময়দা, কর্নফ্লাওয়ার কিংবা টেম্পুরা দিয়েও চলতে পারে, তবে স্বাদে কিছুটা এদিক সেদিক হবেই।

      শুভেচ্ছা। (আমার রান্নাতো আপার সাথে যোগাযোগ করে নিন, হয়ত তিনি আপনার আশে পাশেই থাকেন।)

      Like

    • বোন সুলতানা, পুদিনা পাতা সিলেটের বাজারে পাওয়া যায় তো। আপনি বন্দর বাজারে লালকুঠির সামনে, সুবহানী ঘাটে সব্জীর আড়তে, রিকাবী বাজারে অবশ্যই পুদিনা পাতা পাবেন। ওহ! বলতে ভুলেই গিয়েছি! আর কোথাও না পেলে স্বপ্নতে অবশ্যই পাবেন। স্বপ্নের এখন সিলেট শহরে ৪টি শাখা। উপশহর, পুর্ব-জিন্দাবাজার, শিবগঞ্জ, পাঠানটুলা। বাসায় যদি জায়গা থাকে তবে পুদিনার গোড়াটা লাগিয়ে দিতে পারেন। টবেও হবে।

      Like

  5. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s