গ্যালারি

রেসিপিঃ ফ্রান্সিসকো অমলেট (দুই লক্ষ হিট এবং কিছু কথা)


ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা নিন প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা ভাই, বোন, বন্ধু। আপনাদের অশেষ অভিনন্দন জানাই, আপনারা নিয়মিত আমাদের এই রেসিপি সাইট ভিজিট করেন এবং আমাদের ভালবেসে আপনারা আপনাদের নানান কমেন্ট লিখেন এবং আমাদের উৎসাহ দিয়ে থাকেন। আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমাদের এই সাইট দেখার জন্য আমরা আপনাদের কাছে বিশেষ কৃতজ্ঞ। আপনাদের অভিনন্দন!

আপনাদের উৎসাহ এবং প্রেরনা না থাকলে আমাদের পক্ষে এই সাইট চালানো এবং দিনের পর দিন নুতন নুতন রেসিপি দেয়া সম্ভব হত না। বর্তমানে এই সাইটে প্রায় চারশত রেসিপি আছে, যা আমাদের বাংলাদেশী অনেক অনেক খাবার বটে (একজন বাংলাদেশী সারা জীবনে কত প্রকারের খাবার খায়, এটার একটা গবেষনা হতে পারে!)। নেটে/গুগলে এখন আপনি আপনার পছন্দের খাবারের নাম বাংলায় লিখে সার্চ দিলেই ‘গল্প ও রান্না’ সাইট চলে আসে এবং প্রতিদিন নানান দেশ থেকে এভাবে নুতন নুতন রেসিপি পাঠক/পাঠিকা আমাদের দেখতে আসেন। খুব কম সময়েই দুনিয়ার ৮৮ দেশ থেকে আজ অবধি দুই লক্ষ হিট পার হয়েছে এবং এটা আমি মনে করি আমাদের জন্য বিরাট পাওনা। এই রকম একটা পার্সোনাল ব্লগে এত হিট অনেক কঠিন কাজ, আপনাদের ভালবাসাই এটা সম্ভব হয়েছে।

রেসিপি জগতে এভাবে দুনিয়ার আর কেহ এমন ডিটেইলস রেসিপি দেন কিনা তা আমার জানা নেই, আমার চোখে পড়ে নাই। প্রতিটা রেসিপিতে আট থেকে বার/পনরটা ছবি দিয়ে এমন ডিটেইলস রেসিপিতে আমরাই প্রথম বলে মনে করি। আর সেজন্যই আমাদের প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা সেই রেসিপি দেখে খুব সহজেই রান্না করতে পারেন এবং করে থাকেন।

তবে আমাদের রেসিপির টার্গেট গ্রুপ হচ্ছেন প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই, বোন, বন্ধু (সেজন্য আমরা রান্নার সাজগোজ/পরিবেশনা থেকে মুল রান্নাকেই প্রধান্য দিয়ে থাকি)। আমি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম, দেশে মেসে বা একক রুমে ছিলাম, আমি জানি রান্না না জানার ফল কি! রান্না না জানাতে কি কি খেতে হয়েছিল, কতজনের কাছে অপমানিত হয়েছি তা আমার চোখের সামনে। কত রোজায় না খেয়ে রোজা রেখেছি, ইফতার করি নাই, কত বেলায় না খেয়ে আজে বাজে খেয়েছি। অথচ সেই সময় রান্না করতে পারলে আমার জীবন হয়ত আজ ভিন্ন হত! প্রবাসী এবং ব্যচেলর ভাই বোন বন্ধুদের বলি, যারা এমন কষ্টে আছেন তারা রান্না শিখে নিন, জীবন উপভোগ করুন। রান্না একটা ভালবাসা, যে ভালবাসার কোন শেষ নেই! রান্না দিয়েই আপনি আপনার প্রিয়জনদের কাছে আরো প্রিয় হতে পারেন। ওরা আপনাকে ভাল না বেসে পারবেই না!

শেষ উদাহরণ দিয়ে গল্প শেষ করি। পুরুষ ভাই বন্ধুদের বলি, আপনি কি জানেন, আপনি যে খাবার খান সেটা একান্তই আপনার নিজের জন্য। না খেলে বাঁচবেন কি করে? যেহেতু এটা একান্তই আপনার নিজের কারবার, সেহেতু আপনি কাজটা কেন নিজে করবেন না! আমাদের মা, স্ত্রী, বোন, মেয়ে আসলে আমাদের দয়া করেই রান্না করে দেন, এটা উনাদের মুল কাজ নয়, এটা নারীদের উদারতা মাত্র। উনারা আমাদের ভালবাসেন বলেই আমাদের উপবাস রাখতে চান না। রান্নার মত কঠিন কাজ বা ব্যবস্থাপনা উনারা আমাদের করে দেন ভালবেসেই। আপনিও যদি আপনার মা, স্ত্রী, বোন কিংবা মেয়েকে ভালবাসেন তবে তাদের রান্নাঘরে হেল্প করুন, মাঝে মাঝে নিজে রান্না করে তাদের বিশ্রাম দিন। ভালবাসা কখনোই মরে না!

যাই হোক, এই দুই লক্ষ হিট এবং আপনাদের ভালবাসায় আমরা পরিবারের সবাই মহা খুশি। এই খুশির দিনে আমাদের বুলেট (বয়স সাড়ে দশ, আমাদের রান্না টেষ্টার) আপনাদের জন্য একটা সহজ রেসিপি নিয়ে আসছে, অনেক মজাদার। এটা ওর একটা ফেবারেট ফুড এবং সে এটা নিজেই বানিয়ে খায়। (শুধু ভাজির সময় কেহ হেল্প করে দেয়)। চলুন দেখে ফেলি! সে এটার নিজেই নাম দিয়েছে, ফ্রান্সিসকো অমলেট।

উপকরন ও প্রনালীঃ

উপকরন সমূহ – দুটো ডিম, একটা পেঁয়াজ কুচি, একটা মরিচ, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা, ভেসিল লিফ (তুলসি পাতার গুড়া), পাপড়িকা (ক্যপ্সিকামের গুড়া), লাল মরিচ গুড়া, লবন এবং তেল। (সে যখনি রান্না করে এই আইটেম গুলো দিয়েই করে)


কাটা ছেড়া সব নিজেই করে, কাউকে ধরতেই দেয় না!


পেঁয়াজ কুচি করার ধরন দেখুন!


তুলসি গুড়া এবং পাপড়িকা না হলে চলেই না!


আগে আমি একদিন হলুদ দিতে দেখেছিলাম, আজ বলছে হলুদ চলে না, শুধু সামান্য লাল মরিচের গুড়া হলেই চলে। প্রয়োজনীয় লবন দিতে ভুলে নাই!


মন ভরে ফেটিয়ে নিল! আবার বেশি ফেটিয়ে ফেনা বের করতে চাইলো না!


এবার কড়াইতে তেল গরম করে মিশ্রণটা ছেড়ে দিল। (এই কাজটা আমি সাধারণত এখনো ওকে একা করতে দেই না, তেলের ছিটা গায়ে যেন না পড়ে)


ভাল করে মেলে দিয়ে হালকা আঁচে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।


মিনিট ৫ পরে, এবার উলটা করে দিলেই হল। ভাঁজা কেমন হবে এটা নিজে নির্ধারন করতে হবে।


ব্যস পরিবেশনার জন্য প্রস্তুত। বুলেট সাধারণত এই সোনালী ভাঁজাই বেশি পছন্দ করে থাকে। আমি ওর এই ডিমের অমলেট অনেক দিন আগে একবার খেয়ে দেখেছি (আজ রোজা রেখেছি বলে স্বাদ নিতে পারি নাই), আমার কাছে বেশ মজাদার মনে হয়েছে, বিশেষ করে ঘ্রান চমৎকার। মুখে আলাদা একটা আনন্দ পাওয়া যায়।


খিচুড়ির সাথে এই ফ্রান্সিসকো অমলেটের তুলনা চলে না! আহ…।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আপনারা ভাল থাকুন। ভাল ভাল রান্না করে খেয়ে আনন্দ করুন।

কৃতজ্ঞতাঃ মানসুরা হোসেন ও আজমাইন মাহাতাব

(আজ অনেক প্রিয় মুখের কথা বার বার মনে পড়ছে, যারা এই চলার পথে অনেক সাহায্য করেছেন কিন্তু কাকে ফেলে কার নাম নেই। আপনারা সবাই ভাল থাকুন, দোয়া করি।)

Advertisements

19 responses to “রেসিপিঃ ফ্রান্সিসকো অমলেট (দুই লক্ষ হিট এবং কিছু কথা)

  1. ১লক্ষ হিট এর পর ২ লক্ষ হতে বেশি সময় লাগল না ।

    মোটামুটি অনেক আগে থেকেই এই ব্লগের সাথে পরিচয় আমার।

    এত সুন্দর আর সহজভাবে আর কাউকে রেসিপি দিতে দেখিনাই।

    এই ব্লগে আসার পর থেকেই আমার রান্নার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে

    আবারও একরাশ শুভেচ্ছা।

    ( আর আপনার ছেলের প্রতি হিংসা,কারন আমি এখন ডিমতাও ভালভাবে ভাজতে পারি না)

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আপনার মত পাঠক পেয়ে আমরা অনেক অনেক খুশি। হা, এটা সত্য ২ লক্ষ হতে সময় বেশি নেয় নাই। আসলে আমি আগে ফেইসবুকে থাকতাম না বলে আমার অনেক বন্ধুরা আস্তো না। এখন ফেইসবুকে লিঙ্ক দেই বলে অনেকে আসে। তাছাড়া সারা দুনিয়া থেকে এখন বাংলায় রেসিপি খুঁজে বের করার একটা চেষ্টা আমি লক্ষ্য করছি।

      বাংলায় লেখা রেসিপি বাংলাদেশীদের যতটা ভাল লাগে, ইংরেজীতে লেখা ততটা নয়। এজন্য সবাই এখন বাংলায় রেসিপি খুঁজে।

      আমাদের প্রচেষ্টা ভাল কিছু করার, রেসিপি সহজে তুলে দেয়ার।

      আমরা নূতনদের সব সময় অভিনন্দন জানাই। তাদের পাশে থাকতে চাই। যারা নুতন রান্না করতে চান, তাদের পাশে আমরা সব সময়েই আছি, থাকি।

      আপনি আগে ক্যারিয়ার গড়ুন, আপনার জন্য দোয়া করি। বাবা মায়ের আদর্শ সন্তান হয়ে উঠুন।

      শুভেচ্ছা।

      (ওকে আমি রান্না শিখিয়ে দেব, আর একটু লম্বা হলেই)

      Like

  2. আজমাইন সোনা তোমার এই ফ্রান্সিস্কো অমলেট দেখে আমার ছেলের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেলো। সেও ঠিক তোমার মত এই ভাবে গুড়া মরিচ, টমেটো কুচি দিয়ে ডিমের অমলেট বানাতো। মাঝে মাঝে সেটাকে ঘুটা দিয়ে ঝুরি করে নিয়ে ভাত দিয়ে খেতো। অনেক অনেক দোয়া। বাবার মত অনেক অনেক বড় মনের মানুষ হও সোনাপাখী।

    Like

  3. আমি এই ধরণের ডিম ভাজিতে প্রচুর লাল মরিচের গুড়ো দিয়ে খাই । যত ঝাল তত মজা । তুলসি গুড়ো আর পাপড়িকা বোধহয় নতুন সংযোজন । ভালো লাগলো । এই বয়সের কেউ রান্না করতে গেলে সাথে বড় একজনের থাকা জরুরি । আমার ছোটভাই ও আগে নিজের জন্য ডিম ভাজা টা করতো আর আমাদের কাউকে না কাউকে ডিম এর একপিঠ ভাজা হয়ে গেলে উল্টিয়ে দিতে হত ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      এই বয়সে ওরা কিছু করতে চায়, এটাই ভাল দিক। আমি ও রান্নাঘরে গেলে সাথে থাকতে চেষ্টা করি। তবে, সাথে থাকা পছন্দ করে না! হা হা হা।।

      ও আর যাই করুক বা না করুক, আমি ওকে রান্না শিখিয়েই দেব।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. vai apner omlet dekhe khub valo legese kinto kiso item porichito na jemon :- vesil leaf, paprika,tulsi patar gura,pdina pata kothai pabo plz item gulir sathe asha kori porichoy korie diben

    Like

    • ধন্যবাদ ফয়সাল ভাই।
      ভেসেল লিফ হচ্ছে শুকনা তুলসি পাতার গুড়া, এটা প্যাকেটে বা কৌটায় পাওয়া যায়। এটা এখন নানান গ্রোসারীতে পাওয়া যায়।

      পাপড়িকা হচ্ছে ক্যাপ্সিকামের গুড়া। এটাও প্যাকেটে কিংবা কৌটায় পাওয়া যায়। এটাও এখন নানান গ্রোসারীতে পাওয়া যায়।

      (আগোরা, নন্দন, স্বপ্ন কিংবা মিনা বাজারে পাওয়া যায়)

      এগুলো এক ধরনের ভেষজ। অনেকে আজকাল তরকারিতে/ভাজিতে ব্যবহার করে। ঘ্রান এবং স্বাদ বাড়ে এবং এদের কিছু ঔষধি গুন আছে।

      পুদিনা পাতা সাধারন বাজারে পাওয়া যায়।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  5. Donnobad for 2 lokkho hit.. Ai kushir dine apnader sathe asi.

    Like

  6. Congratulations on such huge hit!! Love your comment about requesting the male community to helpout in the kitchen.

    Looks like you have an other great cook up and coming. Great looking omlette. My almost 2 year old daughter often helps me in beating her morning egg too so I know the joy in seeing your kids cooking 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হা, আমাদের যে কয়েকটা উদ্দেশ্য তার একটা হচ্ছে পুরুষদের রান্নাঘরে প্রবেশ করানো। আমরা চাই, পুরুষরা রান্নাঘরে প্রবেশ করে নারীদের হেল্প করুক, নিজেরা বুঝতে পারুক, একজন মা, মেয়ে, স্ত্রী, বোন কত কষ্ট করে রান্না ও রান্নার পরিকলপনা করেন। খাবার যেহেতু নিজের, তাই রান্নাটাও নিজের মনে করুক।

      হা হা হা…। ছেলেকে আমি আর কিছু দিনের মধ্যেই রান্না শিখিয়ে দেব। আপনার ছোট মেয়ের কথা শুনে হাসছি আমরা!

      শুভেচ্ছা।

      Like

  7. এটা আপনাদের একটা বিরাট সাফল্য!
    আমি যদিও দেশের বাইরে থাকি না, তবে আপনাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি বুঝি। আর এই দুই লক্ষ্ হিট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আপনারা কতটুকু সফল। আপনারা আরও এগিয়ে যান, সেটাই কামনা করছি।

    Like

  8. অভিনন্দন জানাই। আপনাদের জীবন সুন্দর কাটুক।

    Like

  9. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s