গ্যালারি

রেসিপিঃ ছোলা ভাজি (আলু, টমেটো যোগে)


আমাদের ইফতারিতে ছোলাভাজি নেই এমনটা হতেই পারে না। ছোলা অনেক বেশী শক্তি বর্ধক তাই হয়ত, আমাদের মুরুব্বীরা এই ছোলা ইফতারের অপরিহার্যতা নির্ধারন করে গেছেন! হা হা হা… প্রবাসে কিংবা দেশে যেখানেই বাংলাদেশীরা ইফতার নিয়ে বসেন সেখানেই এই ছোলা ভাজি থাকবেই! বিশেষ করে ছোলা, পেঁয়াজু এবং মুড়ি মিক্স! আহ, না খেলে নাকি ইফতার হয় না! আমাদের পেটে এটা এমন ভাবে ফিট হয়ে গেছে যে, আমরা রমজান মাস আসলেই এই মিক্স নিয়ে বসেই পড়ি। আজকাল অবশ্য এই মিক্সের সাথে আরো অনেক উপাদান যোগ করা হয়! হা হা হা, মাঝে মাঝে হাসি। এত কষ্ট করে রান্নার পর আবার ভেঙ্গে ফেলা বা মিক্স! কি দরকার ছিলো!

যাই হোক, আমার ভাবনা যাই হোক। মনে হচ্ছে বাংলাদেশীরা যতদিন থাকবে, ততদিন এই খাবার খাবেই! আমি বা আপনি বলে কি হবে। তা চেয়ে বেটার, আমরাও তাদের সাথে খেতে বসে পড়ি! কথা বাড়ালে বাড়বে!

যাই বলি না কেন, আমি নিজেও ছোলা পছন্দ করি! আজকে আমি নিজেই আপনাদের জন্য এই ছোলা ভেজেছি। সাথে একটা আলু এবং একটা টমেটো দিয়েছি। বেশ মজাদার হয়েছিল। চলুন দেখে ফেলি। কারন আগামী কাল আপনার এই ছোলা ভাজির দরকার হতে পারে। আগেই বলে নেই, সিম্পল এন্ড ইজি!

উপকরনঃ
– ছোলার ডাল (দুই কাপ)
– কিছু আলু কুচি (ব্রিক স্টাইল)
– একটা টমেটো কুচি
– পেঁয়াজ কুচি (হাফ কাপের কম)
– আদা বাটা, এক চা চামচ
– রসুন বাটা, এক চা চামচ
– মরিচ গুড়া, সামান্য ঝাল বুঝে
– হলুদ গুড়া, সামান্য
– কাঁচা মরিচ/ শুকনা মরিচ (ভাঁজা)
– ধনিয়া পাতা কুচি, এক টেবিল চামচ
– লবন, পরিমান মত
– তেল, হাফ কাপ (আমি অবশ্য তেল কম দিয়েই শুরু করেছিলাম)

প্রনালীঃ

ছোলা আগে থেকে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এর পর ছোলা ও আলু সামান্য লবন যোগে ভাল করে সিদ্ব করে নিতে হয়, আলাদা আলাদা হলেই ভাল। পানি ঝরিয়ে রেখে দিন এবং মুল রান্নায় আসুন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি ভাল করে ভাঁজুন এবং এর পর  আদা, রসুন বাটা দিন। কয়েকটা কাঁচা মরিচ দিতে পারেন। একটু ভাঁজা হয়ে গেলে এবার মরিচ গুড়া এবং হলুদ গুড়া দিন এবং সামান্য পানি দিয়ে ঝোল বানিয়ে নিন।


একটা টমেটোর কুচি (টমেটো ফ্রীজে ছিল বলে ঠিক মত কুচি হয় নাই) দিন, ভাল করে ভেঁজে তেল উঠিয়ে নিন।


এবার সিদ্ব করে রাখা ছোলা ও আলু দিন।


ভাল করে মিনিট তিনেক ভাঁজুন।


এবার এক কাপ পানি দিন।


পানি দিয়ে কিছুক্ষনের জন্য মাধ্যম আঁচে ঢেকে রাখুন।


পানি শুকিয়ে এমন একটা অবস্থায় এসে যাবে। কয়েকটা শুকনা মরিচ ভেঙ্গে দিতে পারেন। ধনিয়া পাতার কুচি দিন এবং ফাইন্যাল লবন দেখুন, লাগলে দিন। না লাগলে ওকে বলুন (রোজাতে লবন দেখা মুস্কিল, ছোট কাউকে দিয়ে দেখিয়ে নিতে পারেন)


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।


লেবু কেটে সাজগোজ বাড়িয়ে নিতে পারেন। বিশ্বাস করুন, চরম স্বাদ। আমাদের আদি মুরুবীদের ধন্যবাদ দিতেই হয়, এই ভেবে যে, এমন একটা খাবার তারা ইফতারের জন্য সিলেক্ট করেছিল, সেই বহুদিন আগে থেকেই।

সবাইকে শুভেচ্ছা। রান্না একটা ভালবাসা, একদিন রান্না করেই ফেলুন না! দেখুন কেমন ভালবাসা পান! অভিজ্ঞতা আপনাকে আরো অনেক উপরে নিয়ে যাবে। ভাল থাকুন।

Advertisements

13 responses to “রেসিপিঃ ছোলা ভাজি (আলু, টমেটো যোগে)

  1. Vaijan, ami shukna moris ke voy pai…ha ha!

    Like

    • ধন্যবাদ রেজোয়ান ভাই।
      হা, শুকনা মরিচের ঝাল অনেক হয়। তবে আমরা বরিশাল থেকে ঝাল কমের কিছু শুকনা মরিচ নিয়ে এসেছি। এটা দিয়েই চলছে। এই ধরনের কম ঝালের মরিচ ভর্তা ভাজিতে বেশ আরামদায়ক।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. ছোলার ডাল নয়। এটাই ছোলা। আর এটার খোসা ফেলে দুই টুকরো করলে তখন ডাল হবে। বুঝেছেন। :p

    Liked by 1 person

  3. ছোলা আর আলু একসাথে কখনই সিদ্ধ করবেন না।

    আলু কালো হয়ে যাবে। অবশ্য আপনি যদি আস্ত আলু খোসাসহ সিদ্ধ করেন সেটা ভিন্ন কথা।

    আমাদের রান্নাঘর এ আমি বুট সিদ্ধ করার পর যে পানি ফেলতে দেখেছি তা অনেক কালো ছিল। যদিও তা সারারাত ভিজিয়ে রাখার পরে অনেকবার ধোয়া হয়েছে ।

    একেই বোধহয় সংযম বলে। আর এটা আমাদের মা বোনেরাই ভএলও বোঝেন

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      হা এটা আমরাও করেছি। আলাদা আলাদা করে সিদ্ব করা হয়েছিল। ছোলা সিদ্ব করলে কাল পানি বের হয়, আমিও দেখেছি। আলাদা আলাদা সিদ্ব করার কথা লিখেও দিয়েছি। না হলে আলু কালো হয়ে যাবেই।

      বুঝতে পারছি ভাতিজার রান্নাঘরে যাওয়া হয়। চমৎকার। মাঝে মাঝে মাকে সাহায্য করুন। ভাল লাগবে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

      • হা হা!!!!!!!!!!!

        আমার রান্নাঘর এ যাওয়া মানে রান্নাঘরে ফ্রিজ থেকে আলু পটল দিয়া আসা।তাও আম্মু বেশি চিল্লাচিল্লি করলে। তারপরও রান্নাঘর এ যাওয়া আসায় অনেক কিছুই দেখেছি। আমার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ভাল।

        মাকে সাহায্য করতে পারলে অবশ্যই ভাল লাগতো!!!!! কিন্তু সেই সময় কই!!!!!!!!!!
        পড়ালেখায় অনেক ব্যস্ত হয়ে গেছি।

        তবুও আমার জন্য দোয়া করবেন। এইরকম ক্ষণিকের যাওয়া আসায় যদি কিছু শিখতে পারি তাহলে মন্দ কী!!!!!!!!

        শুভেচ্ছা। আর এই সুন্দর কমেন্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

        Liked by 1 person

  4. আমি তো আলু আলাদা সিদ্ধ করি তারপর ভুনার সময় এক সাথে মিশাই ।

    Like

  5. ছোলা ছাড়া একদিনও চলে না।

    Like

  6. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s