Gallery

রেসিপিঃ পেঁয়াজু (প্রবাসীদের জন্য)


রোজার মাসে ইফতারে পেঁয়াজু না হলে কেমন যেন মন মরে যায় আমাদের বাংগালী মুসলমানদের। খাবার দাবার আসলে প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে আমাদের জন্য নিধারিত হয়। আমাদের পূর্বপূরুষগন যা খেয়েছে এবং নির্ধারন করেছে আমাদের তাই খেতে হয়। বিশেষ করে শিশু বয়সে আমরা যা খাই তাই আমাদে সারা জীবন ভাল লাগে। যাই হোক, ইফতারে এই ভাজাভুজি দেখে আমাদের অনেকেই বলেন, এত তেলের জিনিষ! কিন্তু আমাদের কিছুই করার নাই, আমাদের জিবে এমন ভাজাভুজি না হলে চলে না।

আমাদের দেশের যে সকল ভাই বোন বন্ধু প্রবাসে থাকেন তাদের রোজার মাসে মহা কষ্ট হয় এটা আমি জানি। যারা স্ত্রী পরিজন নিয়ে প্রবাসী তাদের ব্যাপার আলাদা, তবে বেশীর ভাগ প্রবাসীদের এই এক মহা কষ্ট। যারা বাসায় ইফতার খান, তারা সেই দেশের মত কিছু কিনে বাসায় ফিরেন আর যারা মসজিদে ইফতার খান, তারা যা পান তাই খান। কিছু করার নাই! তবে একটা উপায় আছে, না খেয়ে বসে থাকা কিংবা পানি সিগারেট দিয়ে ইফতার ভাঙ্গা! প্রবাসীদের কষ্ট কেহ বুঝলো না। সবাই মনে করে, প্রবাসে কত সুখ! আসলে কি তাই, না না না।

সেই আমার প্রিয় প্রবাসী ভাই বোনদের জন্য আজ সর্টকাট একটা রেসিপি দিচ্ছি। অলসতা ভেঙ্গে রান্নাঘরে প্রবেশ করুন। পেঁয়াজু! কি জিবে জল আসছে!

উপকরনঃ
– মুশরী ডাল
– পেঁয়াজ কুচি (যত বেশী, ইচ্ছা)
– মরিচ গুড়া
– হলুদ গুড়া
– কাঁচা মরিচ কুচি
– ধনিয়া পাতা কুচি
– লবন
– তেল

প্রনালীঃ

মুশরী ডালকে অনেক্কখন ধরে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তার পর গ্রাইন্ড করে পেষ্ট বানিয়ে ফেলুন। (পাটাপুতার দরকার নেই) এবার পরিমান মত পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, ধনিয়া কুঁচি, লবন এবং মরিচ ও হলুদ গুড়া দিন (পরিমান নিজেরাই দিন, আসলে রান্না করতে গেলে আপনার হাতই আপনাকে পরিমান বলে দেবে)।


ভাল করে মিশিয়ে নিন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে হাত দিয়ে গোল গোল করে মুশরী মিক্স পেষ্ট দিন।


তেল মাঝারি আঁচে রাখুন।


উলটা পালটা করে দিন।


একটু সময় লাগবে। হালকা ধৈর্য দেখাতে হবে।


এই তো হয়ে গেল। তেল ঝরিয়ে উঠিয়ে নিন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত।

প্রবাসী বন্ধুরা আপনারা হয়ত ভাবছেন, পাটা পুতায় না বেঁটে পেঁয়াজু ভাল স্বাদের হয় না। কথাটা সত্য নয়। আপনি গ্রাইন্ড করে একবার পেঁয়াজু বানিয়ে দেখুন। আমি নিশ্চিত, আপনি এটা পছন্দ করবেন এবং আমাদের কথা মনে করবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা। ভাল থাকুন প্রবাসী বন্ধু। মন খারাপ করবেন না, আপনি প্রবাসী বটে কিন্তু আপনার কষ্টের টাকায় কত মানুষ ভাল ও উন্নত জীবনযাপন করছে, সেটা ভেবেছেন? আপনি এই কালে না পেলেও পরকালে পাবেন! হা হা হা… দেশী বন্ধুদের বলছি, প্রবাসীদের ভালবাসুন, তাদের কষ্টের কথা আপনি এখানে বসে চিন্তাও করতে পারছেন না!

17 responses to “রেসিপিঃ পেঁয়াজু (প্রবাসীদের জন্য)

  1. মুশরী ডালের পেয়াজু কখনো খাওয়া হয়নি।দেশে গেলে খাই খেসারী ডালের পেয়াজু আর এখন প্রবাসে খাচ্ছি ছোলার ডালের পেয়াজু।দেখি আপনার রেসিপি অনুযায়ী মুশরী ডালের পেয়াজু খেয়ে।

    Like

  2. আজ বাসায় করেছিলাম । ভালো লাগলো ।

    Like

  3. Ami ektu garlic o Ginger paste dei. I have piyaju coming up on my blog this month as well.

    Like

  4. আমি মসুরি আর ছোলার ডাল সমান পরিমান দেই। এতে পিয়াজু অনেক ক্ষন পর্যন্ত মচমচে থাকে। পিয়াজও কম লাগে। বিশ্বাষ না হলে একদিন করেই দেখুন।

    আপনার এই পোস্টটি আমার ছেলেকে পাঠাচ্ছি।

    Liked by 1 person

  5. মামার রেসিপি পেয়ে ভাগ্নে আজ পিয়াজু বানিয়েছে। আমাদের ইফতারীর ঘন্টাখানিক আগে সে রান্নাঘর থেকে আমায় ফোন করেছিলো। 🙂
    আশা করি মামার মত না হতে পারলেও মামার মুখ রক্ষা করতে পারবে।

    আমার পিয়াজুর সুনাম আমার আত্মিয় মহলে। সবাই জানতে চায় এতো মুচমুচের সিক্রেট কি? আসলে কিছুইনা। আমি আধ পট ছোলার ডাল দিলে তার সাথে মশুরের ডাল আধ পটেরও কম দেই। রাতে ঘুমানোর আগে ছোলার ডাল ভিজাই, আর সকালে ঐটাতেই মশুর ডাল ভিজিয়ে দেই। আদা, রসুন বাটা, গুড়া মরিচ, হলুদ, পিঁয়াজকুচি, মরিচ কুচি ও লবন আলাদা কচলে ডাল বাটায় মিশিয়ে গরম তেলে ছাড়বার সময় ডালের গোলাটার মাঝে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে একটু চাপ দিয়ে দিবেন। ব্যাস! তারপরই লালচে করে ভেজে তেল ঝরিয়ে তুলে নিবেন।

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      ভাতিজা পেঁয়াজু খেয়েছে জেনে ভাল লাগল।

      আপনার ছোলার ডাল এবং মশুরের ডালের পেঁয়াজু কয়েকদিনের মধ্যেই বানিয়ে দেখবো। হা, ভাল হতে বাধ্য। রেসিপি পড়েই বুঝতে পারছি।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  6. খেসারী ডাল দিয়ে এবং পেঁয়াজ বেশি দিয়ে একদিন ভেঁজে দেখতে পারেন।

    Like

  7. Vaia amader basaye o dal bland korei peyajo banano hoy. Are seta onek testy o hoy.

    Like

  8. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s