Gallery

রেসিপিঃ সবজি খিছুড়ি (লাবড়া)


সকাল বিকালে আমরা নাস্তা খাই। এক এক নাস্তা এক এক দিন না হলে পরিবারের সকলের বিশেষ করে শিশুদের চলেই না। তারা সব সময় বা প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন নাস্তা খেতে চায়। সকাল বিকালের নাস্তা নিয়ে একজন মা ঘরে কেমন কষ্ট করেন তা যিনি করেন বা যারা এই ব্যবস্থাপনায় জড়িত তারাই বুঝতে পারবেন, এটা সহজ ব্যাপার নয়। সকলের চাহিদা বুঝে, পুষ্টি গুনাগুন মনে রেখে এই নাস্তা বানানো সহজ কাজ নয়। ঘরে চার জন মানুষ হলেও চার জনের চাহিদা চার রকমের হয়ে থাকে, এই চার জন মানুষকে এক সাথে একটা নাস্তা দিয়ে বুঝানো সহজ কাজ নয়। তার পর যিনি এই ব্যবস্থাপনা করেন (বিশেষ করে একজন মা), তাকে ছোটদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হয়। অন্যদিকে ভাল ভাল নাস্তা বানাতে যে টাকা লাগে এবং সেটা কি পরিবারে আছে কি না তাও তাকে দেখতে হয়। প্রতিদিন দোকান থেকে কিনেও নাস্তা দেয়া চলে না। পরিবারের এই টাকা কোথায় পাবে? সব কিছু মিলিয়ে নাস্তার ব্যাপারটা বেশী জটিল বলে আমি মনে করি।

যাই হোক, চলুন আজ পরিবারের সবার জন্য একটা পুষ্টিকর নাস্তা দেখিয়ে দেই। সবজি খিচুড়ি, ল্যাটকা টাইপ। হা হা হা… ল্যাটকা নাম শুনলে অনেকেই হেসে ফেলবেন হয়ত। সাধারন দুপুর বা রাতের জন্য আমরা যে খিচুড়ি খাই এটা তার চেয়ে বেশি নরম বলেই ল্যাটকা বা পাতলা বলছি।

চলুন দেখে ফেলি। আমরা মোটামুটি চার জনের হিসাবে করেছি এবং উপকরন সেই মোতাবেক দেয়া হল।

উপকরনঃ
– পোলাউ চালঃ এক পোয়া
–  মুশরি ডালঃ আধা পোয়া
– নানা পদের সবজি (চিচিঙ্গা, পটল, বেগুন, আলু) আপনারা চাইলে এখানে আরো নানান পদের সবজি দিতে পারেন।
– পেঁয়াজ কুচিঃ হাফ কাপের কম (বাগারের জন্য)
– আদা ছেঁচাঃ এক চা চামচ
– শুকনা মরিচঃ চার পাঁচ টা (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ এক চা চামচ
– মরিচ গুড়াঃ এক বা হাফ চা চামচ (বুঝে)
– লবন
– তেল (হাফ কাপের কম, দুইবার ব্যবহার হবে)
– পানি

প্রনালীঃ

সবজি কেটে ধুয়ে রাখুন।


চাল ডাল মিশিয়ে ধুয়ে রাখুন।


কড়াইতে তেল গরম করে তাতে আদা ছেঁচা এবং শুকনা মরিচ দিয়ে ভাঁজুন।


সুন্দর ঘ্রান বের হবে এবার সবজি দিয়ে দিন এবং সামান্য লবন এবং হলুদ ও মরিচ গুড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন।


সবজি গুলো কিছুক্ষন ভেঁজে নিন এবং শেষে চাল ডাল দিয়ে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন এবং কিছুক্ষণ ভাঁজুন।


ভাঁজা হয়ে গেলে এবার পানি দিন। পানি কিছু বেশী দিলেও অসুবিধা নেই।


পানি দিয়ে মোটামুটি এভাবে করে নিতে হবে।


এবার ঢাকনা দিয়ে মিনিট ২০ মাধ্যম আঁচে রেখে দিন। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে নাড়িয়ে দিতে ভুলবেন না।


এমন অবস্থায় আস্তে দেরী লাগবে না।


এবার ঘুটনি দিয়ে ঘুটিয়ে দিতে পারেন। সবজি ও চাল ডাল মিশে একাকার হয়ে যাবে।


এবার অন্য একটা কড়াইতে পেঁয়াজ কুচি ভাঁজুন, বাগার দেবার জন্য। এখানে সামান্য ঘি দিতে পারেন। স্বাদ বেড়ে যাবে।


পেঁয়াজ কুচি হলদে হয়ে গেলে সরাসরি খিছুড়ির উপর ঢেলে দিন।


ভাল করে মিশিয়ে নিন। ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন।


ব্যস পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। ডিম ভাজি, আঁচার কিংবা যে কোন ভর্তা দিয়ে চালিয়ে দিতে পারেন। আশা করছি ছেলে বুড়ো সবাই নাস্তা হিসাবে বেশ পছন্দ করবে।

আমাদের রান্না টেষ্টার বুলেট এই খাবার খেয়ে বেশ আনন্দ পেয়েছে। সাধারনত সে সবজি খেতে চায় না, কিন্তু এই পদ্বতিতে সে বুঝতেই পারে নাই কি কি সবজি দেয়া হয়েছিল এবং স্বাদের কারনে সে এটাও জিজ্ঞেস করে নাই, কি কি আছে? বুঝে নিন অবস্থা! হা হা হা…  কি একবার রান্না করে দেখবেন তো?

সবাইকে শুভেচ্ছা।

21 responses to “রেসিপিঃ সবজি খিছুড়ি (লাবড়া)

  1. আমি বলি ল্যাটা খিচুড়ী। যদিও এটা আমার পছন্দের নয়। তবে সিলেটে ইফতারীতে মেথি দেওয়া এই নরম খিচুড়ী থাকবেই। সারা দিন উপবাসের পর মেথি দেয়া নরম খিচুড়ী খুবই ভালো।
    আরেকটি কথা খুব ঠিক বলেছেন, কে কি খাবে, কাকে কি দিয়ে সন্তুষ্ট করা যায় এটা একজন মায়ের জন্য কত যে কষ্টকর বিষয় এটা আপনার মত সব বাবারাই যেন বুঝতে পারেন।

    Like

    • ধন্যবাদ আপা।
      আসলে রান্নাঘরে না গেলে অনেক কিছুই অজানা থেকে যেত। একজন মা সংসারের জন্য কি কষ্ট করেন, কি ভাবে মাথা খাটান না আমি হাতে কলমে বুঝতে পারছি।

      যারা রান্নাঘরে যাবে না তারা নারীদের সন্মান বুঝতে পারবে না।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. প্রতিদিন সকালে যে চিন্তাটি সবচেয়ে বেশি যন্ত্রনা দেয় তা হল, আজ কি রাঁধব? আপনি এই জিনিসটা এত গভীর ভাবে উপলব্ধি করেছেন! এই জন্য আপনি আমার বিশেষ শ্রদ্ধার একজন।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      হা, প্রতিবেলায় কি রান্না হবে। ঘরে কি আছে না আছে, এই সকল ব্যবস্থাপনা করা কি কঠিন কাজ তা না করলে বুঝা যায় না। বিশেষ করে পরিবারের সবাইকে খাদ্য দিয়ে খুশি রাখাও কঠিন।

      শুভেচ্ছা আপনাকেও।

      Like

  3. এই নরম খিচুড়িটি আমার মত বুড়ো মানুষেরো অনেক প্রিয় উদার ভাই 😛
    তবে শীতকালীন সব্জী ফুলকপি, মটরশুটি, টক টমেটো আর মিষ্টি কুমড়া দিলে আরো টেষ্টি টেষ্টি কুল কুল হয় 🙂

    Like

  4. আগে আমার বাসায় রমজানে মেথি দেয়া নরম খিচুড়ি করা হত কিন্তু সময়ের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে । এখন সবজি দিয়ে ভুনা খিচুড়ি করি । তবে বাগার দেয়ার বিষয় টা আপনার রেসিপি থেকে আজ জানলাম । কারন আমি কখনো খিচুড়ি রান্নার পর বাগার দেই না । বুঝতে পারছি আলাদা একটা স্বাদ পাওয়া যাবে ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। এক এক খাবার এক এক রকম। এই ধরনের খিচুড়িতে বাগার দিলে মজা বেড়েই যায়। আমরা দেখেছি। মনে রাখা দরকার, শিশুদের খাবার দেবার আগে অনেক ভেবে চিন্তে খাবার দিতে হয়। স্বাদ না হলে সেটা আজীবনের জন্য সে না করে দেবে! সুতারাং দেখে শুনে ও বুঝে। হা হা হা।।

      আপনার রেসিপি গুলোও বেশ চমৎকার। চলুক।

      Like

  5. আমরা প্রত্যেক শুক্রবার খাই 😀

    Like

  6. হে হে খিচুড়িতে বাগার দেয়া এই প্রথম দেখলাম। অবশ্যই ট্রাই করে দেখবো।

    Like

  7. পিংব্যাকঃ রেসিপিঃ ঘরোয়া খিচুড়ি | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  8. এটা করলাম কয়েকদিন আগে, খেতে খুবই মজা হয়েছে! একটু স্বাস্থ্যকর করার জন্য সবজি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম, আধা বা আরো বেশী সবজি, বাকী আধা চাল-ডাল। আর ঘরে তৈরী ঘি দিয়ে বাগার দিয়েছি, এত স্বাদের হয়েছে যে খেতে বসে আচার/ডিমভাজি কিছুই লাগেনি, এমনিতেই চেটেপুটে খেয়েছি 😀

    Like

  9. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  10. মা অথবা যে রান্না করে সেওতো আমরা যারা খাবার খাই তাদের মধ্যে একজন। অথচ রাধুনী কিন্তু নিজের চিন্তাটা করে না। পরিবারের কে কি খাবে সেটা নিয়ে অনবরত টেনসন করে। আমাদের উচিৎ তার প্রতি এ বিষয়ে একটু হলেও সহানুভুতি ও সহযোগিতা থাকা প্রয়োজন।

    Liked by 1 person

  11. Amader bari te ei khichuri summer season e khub khawa hoy. setar moddhe misti kumra, lau, sukna boroy/ tetul egulo o deya hoy and seta aro ektu liquid hoy. Amra o khichuri te bagar dei. like your blog very much.

    Liked by 1 person

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s