Gallery

রেসিপিঃ চেওয়া মাছ রান্না (খেয়েছেন কখনো?)


চেওয়া মাছ চিনেন কে কে? নুতন প্রজন্মের কাছে চেওয়া মাছ অপরিচিত কিন্তু আমরা ছোট বেলায় অনেক চেওয়া মাছ দেখেছি। ঢাকাতে চেওয়া মাছ প্রায় বিরল। আমি অনেক বছর পর বাজারে এই চেওয়া মাছ দেখলাম। দেখেই আর মিস করছি না! কিনে ফেললাম, জানি বাসায় নিয়ে কথা শুনবো! হা হা হা… না বাসায় আনার পর আমার ব্যাটারী তেমন কিছুই বললেন না! আরো হেসে বললেন, তুমি এবং তোমার ছেলে খাবে! এদিকে আরো জানালেন, আমাদের পাশের বাসার দীনিদের বাসায় এই মাছটা বেশ পছন্দ করে। তারা নাকি প্রায় কিনে।

চেওয়া মাছ দুই ধরনের একটা সাদা এবং অন্যটা লাল। লালটা বেশ বড় বড় হয়। পেলেই কিনবো। যাই হোক, আমি নিজেই রান্না করতে লাগে গেলাম। মাছ গুলো কেটে দিয়েছেন আমাদের সুফিয়া, রান্নাঘর সহকারী।

উপকরনঃ
উপকরনঃ (সাধারন মাছ রান্না)
– চেওয়া মাছঃ হাফ কেজি (শুধু সুফিয়া, আমার ও ছেলের জন্য রান্না হয়েছিল)
– পেঁয়াজ কুঁচিঃ মাঝারি দুই তিনটে
– মরিচ গুড়াঃ হাফ চা চামচ (ঝাল বুঝে)
– হলুদ গুড়াঃ হাফ চা চামচ
– জিরা গুড়াঃ এক চিমটির সামান্য বেশী
– রসুন বাটাঃ ১ টেবিল চামচ
– টমেটো কুচিঃ দুইটা
– কাঁচা মরিচঃ ৩/৪ টা (ঝাল বুঝে)
– লবনঃ পরিমান মত
– কাঁচা ধনিয়া পাতাঃ কুচি পরিমান মত
– তেলঃ সয়াবিন তেল হাফ কাপের চার ভাগের একভাগ (আমি কম তেলেই রান্না করি)
– পানিঃ পরিমান মত

প্রনালীঃ

আরো বড় সাইজের চেওয়া হলে ভাল হত।


কাটা এবং ধোঁয়ার পর। দেখে ভয় পেলে চলবে না! হা হা হা…


কড়াইতে চেল গরম করে সামান্য লবন যোগে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ ভাঁজার পর রসুন দিয়ে আবারো ভেঁজে এক কাপ পানি দিয়ে তাতে বাকী সব মশলা দিয়ে কষিয়ে এই ঝোল রান্না করা হয়েছে।


এবার টমেটো কুচি দিয়ে দিলাম।


প্রয়োজনে আরো সামান্য পানি দেয়া যেতে পারে।


তেল উঠে গেলে এবার চেওয়া মাছ দিয়ে দিন।


মাছ থেকে পানি বের হয়। তবুও আরো সামান্য পানি দেয়া যেতে পারে।


এবার ঢাকনা দিয়ে মিনিট বিশেক মাঝারি আঁচে রেখে দিন।


মাঝে মাঝে নাড়িয়ে দিতে হবে। তবে সাবধানে, এই মাছ নরম এবং ভেঙ্গে যায়।


ঝোল কমে গেলে ফাইন্যাল লবন দেখুন। লাগলে দিন, না লাগলে ওকে! ধনিয়া পাতার কুচি ছিটিয়ে দিন।


ব্যস হয়ে গেল চেওয়া মাছ রান্না। স্বাদ কেমন আপনাদের জানতে ইচ্ছা হচ্ছে? বিশ্বাস করুন, শুধু বলবো, ওয়াও! হা হা হা… আমি এমনিতেই মাছ ভাল রান্না করি, আর সেই মাছ যদি হয় সুস্বাদু তা হলে তো কথাই নেই। চরম, চরম চরম!

একবার খেয়ে দেখতে পারেন। দুনিয়া দুই দিনের, সব কিছু না খেয়ে দেখলে আর কি সেই সুযোগ পাবেন?

সবাইকে শুভেচ্ছা।

36 responses to “রেসিপিঃ চেওয়া মাছ রান্না (খেয়েছেন কখনো?)

  1. অনেকদিন পর এই মাছ দেখলাম।
    আমরা যখন চট্টগ্রামে ছিলাম বাসায় কিনে আনা হতো।

    আমি বোধহয় দুই একবার খেয়েছি।
    খাবারটা দেখতে বেশ সুন্দর হয়েছে।

    Like

  2. আমি পুরোনো ঢাকায় আমার ননদের বাড়ীতে এই মাছ খেয়েছিলাম। দোপেয়াজি করেছিলো। অসাধারন! আমার বাসায় এক বুয়া ছিলো চাঁদপুর বাড়ী। সে সব সময় এই চেউয়া মাছের জন্য আক্ষেপ করতো। বলতো শীতের দিনে এই মাছের স্বাদ নাকি অমৃত।
    সিলেটে পাওয়া যায়না।

    নরম মাছ আমি মিনিট দশেকেরও কম জ্বাল দেই।

    Like

  3. খেয়েছি মনে হয়,মনে নেই।

    আব্বু এরকম অনেক পদের মাছ আনেন প্রায়ই

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আসলে যারা গ্রামের সাথে সম্পর্ক রেখেছেন তারা এখনো এমন স্মৃতি নিয়েই থাকবেন। আমাদের ছোট বেলায় আমরা আমাদের বাবা/চাচাদের যেভাবে দেখেছি, সেটা আমরা এখনো করছি।

      আপনার বাবাকে সালাম, তিনি এখনো এমন মাছ পছন্দ করে কিনেন বলে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. বেশ! কী সহজ করে রান্না করেছেন! তা আপনার ব্যাটারি কি খান না এই মাছ?

    Like

    • ধন্যবাদ উদাসীন ভাই।
      আমাদের চেষ্টা থাকে সহজ করে রান্না দেখিয়ে দেবার। আমাদের মত করে দুনিয়ার কেহ রেসিপি পোষ্ট লেখে বলে মনে হয় না। ছবি দেখেই নুতন রান্নাকারী বন্ধুরা যে এগিয়ে আস্তে পারেন, সেটাই আমাদের চেষ্টা।

      আমার ব্যাটারী সাহেবানী প্রায় সব মাছ খান, তবে মাঝে মাঝে খেতে চান না! এই আর কি? হা হা হা।।

      শুভেচ্ছা। আশা করি আমাদের রেসিপি গুলো দেখবেন এবং আমাদের সাথে থাকবেন।

      Like

      • এটা আসলেই ঠিক বলেছেন সাহাদাত ভাই। আপনাদের রেসিপি আমার দেখা সহজতম রেসিপি। এই প্রবাসে কষ্ট করে জটিল কুটিল উপায়ে রান্না শিখেছি। তখন যদি আপনার এই সাইটের খোঁজটা পেতাম! যাহোক, এখনও রান্নায় বাহুল্য ব্যাপারগুলো অনায়াসে বাদ দিতে পারবো। ধন্যবাদ আপনাকে এবং আপনার ব্যাটারিকে হা হা হা।

        Like

        • ধন্যবাদ উদাসীন ভাই।
          আমি নিজে প্রবাসী ছিলাম প্রায় সাড়ে নয় বছর। রান্না না জানাতে কত কি খেয়েছি, কতদিন বিস্কুট বা অন্য কিছু খেয়ে ঘুমিয়েছি! অথচ সব কিছুই হাতের নাগালে ছিল।

          যাই হোক, সে সব কিছু মনে পড়েই আমাদের এই চেষ্টা মাত্র। আশা করি অনেক বন্ধুর কাজে লাগছে। আমাদের চেষ্টা সার্থক বলে মনে করি।

          শুভেচ্ছা। মাঝে মাঝে আমাদের দেখে যাবেন।

          Like

  5. আমাদের চট্টগ্রামে এটাকে চিড়িং মাছ বলা হয়।বেশ সুস্বাদু।

    Like

    • ধন্যবাদ মুরসালীন ভাই।
      হা, আমি চিরিং মাছের কথা সুনেছি তবে এটাই কি সেই চিরিং মাছ কি না তা বলতে পারবো না। মনে হচ্ছে এটাই চিরিং মাছ। দেখা যাক অভিজ্ঞ কাউকে পাওয়া যায় কি না।

      আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা জানাছি। আসা করি আমাদের মাঝে মাঝে দেখে যাবেন। শুভেচ্ছা আবারো।

      Like

  6. চেওয়া মাছের নাম আজ প্রথম শুনলাম এবং প্রথম দেখলাম ।ধন্যবাদ নতুন একটা মাছের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য ।

    Like

  7. এটাকে চ্যাং মাছ বলে

    Like

  8. চট্টগ্রামে এটাকে চিড়িং মাছ বলা হয়,১০০% শিওর।তবে দেশের অন্যত্র নামের ভিন্নতা থাকতে পারে। চট্টগ্রামে চ্যাং মাছ অন্য একটা। এটা না।

    Like

  9. আপনার রান্নার মডেল দেখে জিহবায় পানি এসে গেছে কিন্তু মাছটা দেখে ভ্য় লাগছে এবং এই নামটাও খুব পরিচিত না যাক যদি আল্লাহর রহমতে দেশে যাইতে পারি তাহলে রান্নার চেষ্টা করবো ।

    Like

    • ধন্যবাদ ফয়সাল ভাই।
      আসলে এই মাছ দেখতে একটু অদ্ভুত কিন্তু খেতে বেশ মজাদার। একবার খেলে স্বাদ আজীবন মনে থাকবে। মাছের স্বাদ মুখে লেগে থাকে। আশা করছি দেশে এসে এই মাছ খেয়ে যাবেন।

      শুভেচ্ছা।

      Like

    • ধন্যবাদ মাহবুব ভাই।
      কানাডা থেকে কমেন্ট করে এই রেসিপি ব্লগের সন্মান বাড়িয়ে দিলেন।
      যাই হোক পড়া শুনার খবর কি? কেমন চলছে। ব্লগে নিয়মিত আছেন জেনে ভাল লাগলো।
      সামুতে দেখি, ভাল লাগে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  10. বাসায় কথা শুনতে হয় না এমন ভদ্রলোক আছে ?

    Like

  11. এটাই কি আমরা লইটা মাছ বলে চিনি ?

    Like

    • ধন্যবাদ সূর্য ভাই। কেমন আছেন। অনেকদিন পর দেখলাম, আশা করি ভাল আছেন। ভাল থাকুন।

      না,এটা লইট্ট্যা মছ নয়। তবে জাতে কাছাকাছি হতে পারে। লইট্ট্যা মাছ আরো বড় এবং মোটা এবং নরম হয়। এখানে লইট্যা মাছের একটা রান্না আছে, দেখে নিতে পারেন।

      http://wp.me/p1KRVz-M7

      শুভেচ্ছা।

      Like

  12. এই মাছ এ কাঁটা কি খুব বেশি ভাইয়া?

    Like

  13. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s