Gallery

রেসিপিঃ সুজির হালুয়া (সোনামনি স্পেশাল)


হালুয়ার নাম শুনলেই মুখে জল এসে পড়ে! আহ, হালুয়া! সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ) দরগার সামনের দোকান গুলোতে এক ধরনের হালুয়া পাওয়া যায়, সেই হালুয়া আমার জানামতে আমার ছোট বেলার প্রথম মনে রাখা হালুয়া খাওয়া! সেই হালুয়ার কথা, স্বাদ এবং চোহারা এখনো আমার চোখে ভাসে। এর পর ঢাকার রাজপথে সকাল বেলায় এক ধরনের ঠেলা গাড়ীতে পরটার সাথে হালুয়া পাওয়া যেত, আমি সকাল বেলা নাস্তায় সেই হালুয়া অনেকবার খেয়েছি, দুই পরটা এবং এক চামচ হালুয়া। এখনো সেই স্বাদ মুখে আছে, এখন এমন ঠেলায় হালুয়া আর চোখে পড়ে না। হালুয়া মনে হচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে!

সে যাই হোক, আমি মনে করি হালুয়া হারিয়ে যেতে পারে না! হালুয়াকে হারিয়ে যেতে দেয়া যায় না। বাংলাদেশে নানান প্রকারের হালুয়া পাওয়া যায়, হালুয়াতে কত কি দেয়া যায়, কত কি দিয়ে হালুয়া বানানো যায়।

আসুন আজ আমি আপনাদের ছোট একটা হালুয়া বানিয়ে দেখাবো। এক দম সাধারন এবং বেসিক। আপনারা এটার সাথে আরো কত কি যোগ করে মোহনীয় করে তুলতে পারেন। আমি শুধু সাধারন প্রনালী দেখিয়ে দিচ্ছি, আর এটা আমার বুলেটের প্রিয় একটা হালুয়া। সুজির হালুয়া, সে কি মজা করে খালি কিংবা রুটি বা পরটার সাথে খেয়ে থাকে, না দেখলে বুঝানো যাবে না। এই হালুয়ার রেসিপিও তার মুখস্ত, এই হালুয়া রান্না করতে সে আমার সাথে রান্নাঘরে থাকে, অনেক কাজ সে নিজেই করে ফেলে। আমার কিছু ভুল বা আগে পিছে হলে সে আমাকে মনে করিয়ে দেয়!

দারুচিনি, এলাচি এবং কিসমিস ওর জন্যই (বুলেট এগুলো দিলে খেতে চায় না, শিশুরা সাধারন এবং সহজ খাবার খেতে চায়) পরিহার করা হয়েছে তবে কোথায় এই ভেজষ গুলো দেয়া হয় তা বলে দিব, আপনারা ব্যবহার করে হালুয়া আরো মজার করে তুলতে পারেন।

প্রিয় রেসিপি পাঠক/পাঠিকা বন্ধুগন, একবার শুধু একবার নিজেই এই হালুয়া বানিয়ে খেয়ে দেখবেন, অন্যকে খিলিয়ে দেখবেন! আশা করি আনন্দ পাবেন। খাওগে তো খিলাওগে! হা হা হা…।

উপকরনঃ
– সুজিঃ হাফ কাপ (শুধু একজনের জন্য)
– তেলঃ এক কাপের চার ভাগের চেয়ে কিছু বেশী
– ঘিঃ এক চা চামচ (এটা শুধু ঘ্রান এবং স্বাদ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য, পছন্দ না করলে নাও দিতে পারেন)
– দুধঃ দুই কাপ (পাউডারের দুধে বানিয়ে নিতে পারেন, আর খাঁটি গরুর দুধ হলে কথাই নাই)
– চিনিঃ স্বাদ বুঝে, পরিমান মত (আমি চিনি কমে বিশ্বাসী)

– এলাচিঃ দুই/তিনটা
– দারুচিনিঃ দুইটা (এক ইঞ্চি)
– কিসমিসঃ ৭/৮ টা
(আমি এই গুলো ব্যবহার করি নাই, তবে আপনি চাইলে ব্যবহার করতে পারেন)

প্রনালীঃ

কড়াইতে তেল এবং ঘি (অপশন্যাল) গরম করে তাতে সুজি ভাঁজুন। (এই পর্যায়ে এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দিতে পারেন)। হলদে ভাব এসে চমৎকার একটা ঘ্রান রান্নাঘর ভরিয়ে তুলবে।


এবার দুধ এবং চিনি দিয়ে দিন।


হালকা আঁচে নাড়াতে থাকুন। (এই পর্যায়ে কিসমিস দিয়ে দিতে পারেন)। নিদিষ্ট দুরুত্ব বজায় রাখুন, বুঁদ বুঁদ উঠে গায়ে পড়তে পারে!  হালুয়া রান্না করতে হাতে জোর থাকা চাই, খুন্তি দিয়ে বার বার নাড়াতে হয়!


এই রকম হয়ে যেতে সময় লাগবে না। চিনি দেখুন, লাগলে দিন, না লাগলে ওকে বলুন।


কড়াইতে যেন লেগে না যায়!


ব্যস হয়ে গেল সাধারন সুজির হালুয়া।


গরম কিংবা ঠান্ডা যেভাবে ইচ্ছা খেতে পারেন। তবে আমার কাছে হালুয়া গরম গরমই ভাল লাগে। আই লাভ হট!

হালুয়ার রেসিপি এটা নুতন নয়, আগেও কিছু হালুয়ার রেসিপি দেয়া হয়েছিল, ইচ্ছা হলে সেই রেসিপি গুলো দেখে নিতে পারেন। তবে সব চেয়ে সহজ, সাধারন এবং বেসিক হচ্ছে এই রেসিপি! হা হা হা…
রেসিপিঃ বুটের ডালের হালুয়া
রেসিপিঃ সাধারন সুজি ও ডিম হালুয়া (মামুন হক ভাই এবং শিবলী ভাইয়ের জন্য)

সবাইকে শুভেচ্ছা।

Advertisements

13 responses to “রেসিপিঃ সুজির হালুয়া (সোনামনি স্পেশাল)

  1. শবে বরাত স্পেশাল পোস্ট !!!!!!!!!!!!!!!! 🙂

    হালুয়া খেতে ভালো লাগে। তবে পরটা হলে আরও জমে

    Like

  2. সুজির হালুয়ার ছবিগুলো দেখা যায় না কেন বুঝলাম না…

    Like

  3. সুজির হালুয়ার ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছি না

    Like

    • ধন্যবাদ বোন।
      আশা করি আবার দেখা যাবে। এটা ফটোবাকেটের একটা সমস্যা। ব্যান্ডউইথ নিয়ে কারবার। ফ্রী ব্যান্ডউইথ শেষ হয়েছে বলে এমন দেখা যাচ্ছে।

      আশা করি আগামীতে আর সমস্যা হবে না।

      কেমন আছেন?

      Like

  4. সিলেটের হযরত শাহজালাল (রঃ) দরগার সামনের দোকান গুলোতে যে হালুয়া পাওয়া যায়, সেটা খুব সম্ভবত ময়দার হালুয়া । শবে বরাতের সময় এলে বাসায় এই হালুয়া তৈরি করা হয় । এটা তৈরী করা অবশ্য খুব কঠিন । তবে খেতে খুব মজা । আমরা বলি এটা কে তুষা শিরণী এর আধুনিক কিংবা শুদ্ধ নাম আমার জানা নেই । এটাও সুজির হালুয়ার মতই বানায় তবে দুধ / চিনি নয় এখানে চিনির সিরা দিতে হয় তাও গরম সিরা । ঠাণ্ডা দিলে হবে না তাই এটা বানানো কঠিন বলেছি ।
    সুজির এই হালুয়াকে বরফির মত করে কেটেও পরিবেশন করতে পারবেন ।
    এলাচি/দারুচিনি/ কিসমিস – এগুলো কেন জানি না অনেকেই পছন্দ করে না । আমার বাসায় যখন কোন ধরনের হালুয়া/ ফিরনী তৈরি করা হয় তখন এগুলু বাদ দিয়ে করতে হয় ।
    এলাচি/দারুচিনি গুড়ো করে দিলেও চলে । মুখে এসে ঝামেলা করবে না এবং ঘ্রান ও পাওয়া যাবে ।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন,
      হালুয়া নিয়ে আপনার ভাবনা বেশ ভাল লাগলো। সারা বছরে যে কয়েকবার হালুয়া হয়, তাতে আসলে সব কিছু মনে রাখা যান না। হা হা হা।।

      আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা।

      Like

  5. পিংব্যাকঃ এক নজরে সব পোষ্ট (https://udrajirannaghor.wordpress.com) | BD GOOD FOOD

  6. পাওডার দুধ দিলে ২ কাপ পানিতে কয় চামচ দুধ দেব? ৪-৫ চা চামচ দিলে কি হবে? এই খাবারটা আমারো খুব পছন্দের নাস্তা হিসেবে…

    Liked by 1 person

    • ধন্যবাদ বোন।
      পাউডারের দুধ হলেও চলে। দুইকাপ হলে চার চা চামচ হলেই চলবে। ৫ চামচ দিলেও সমস্যা হবার কথা নয়।
      একদিন বানালেই বুঝে যাবেন। এত সহজ রেসিপি, চেষ্টা করতে দোষ নেই। রুটির সাথে বেশ মজাদার।
      শুভেচ্ছা নিন।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s