গ্যালারি

ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৭ (বন্ধুর বাড়িতে বাংলা খাবার)


থাইল্যান্ডে আমার এক স্কুল বন্ধু আছে। খুব কাছের এবং আন্তরিক বন্ধু। গত প্রায় ২৩ বছর ধরে সে সেখানে আছে। তার বাড়ীতে আমাদের একবেলা নিমন্ত্রন দিয়েছিল, সে নিমন্ত্রনে আমাদের সে কি কি খাইয়েছিল তা আমার আজকের পর্ব। ছবি গুলো তাদের অনুমতি সাপেক্ষে তোলা হয়েছে এবং আমার বন্ধুটা জানেন, রেসিপি নিয়ে আমার আলাদা একটা টান আছে। নুতন খাবার দেখলেই আমি ছবি তুলি।


যে কোন খাবার পরিবেশনেই ফুটে উঠে।


চিংড়ি দোপেয়াজা।


ল্যাম্ব/ভেড়ার মাংস।


বেগুন ভূনা।


মুরগী রান্না।


বেগুন, টমেটো এবং মরিচ রান্না। এই রান্নার একটা বিশেষ নাম দেয়া যেতে পারে। টক, ঝাল এবং বেগুন।


থাইল্যান্ডের বিশেষ মাছ (এই মাছ নিয়ে বিষদ জানতে পারি নাই বলে এখন বেশ দুঃখে আছি) ভাজি। সারা ব্যাংককের রাস্তায় এই মাছের কাবাব পাওয়া যায়। দেখতে আমাদের ইলিশের বাচ্চা মনে হলেও আমি খেতে দেখতে পেয়েছি তেমন কোন কাঁটা নেই। বিশেষ একটা ঘ্রান আছে এই মাছে। আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। এই মাছের মাথাটা বেশ আকর্ষনীয়!


সরর্ষে ইলিশ! বিদেশে বসে এই ইলিশ খেতে পারাটা একটা আলাদা সৌভাগ্য। ইলিশ আসলে দেশে না পাওয়া গেলেও সারা বিশ্বে পাওয়া যায়। এটা নিয়ে বাংলাদেশীরা বিশেষ গর্ব করে থাকেন। ব্যাংককে বসে এমন ইলিশ খাওয়া বেশ মজার স্মৃতি হয়ে গেল!


এই রান্না দেখে প্রথমে বুঝতে পারি নাই, এটা কি! ভাবী ছুরি নিয়ে এসে কেটে দেখালেন, আস্ত ফুল কপি রান্না। ফুলকপি আস্ত রান্না করে তার উপর গ্রেভি এবং ধনে পাতা। আমার কাছে এই রান্না বেশ স্পেশাল মনে হয়েছে। এই রেসিপির জন্য ভাবীকে বিশেষ বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। (আগামীতে ফুলকপির দিনে আমি রান্না করে নিব)।


আমাদের প্রিয়, বাংলাদেশীদের প্রিয়, বাঙ্গালীর প্রিয় মুশরের পাতলা ডাল। ডাল ছাড়া চলেই না! এত তরকারীর ভিড়ে সব কিছু খেয়ে দেখা বেশ কষ্টকর কাজ তবুও আমি খেয়ে দেখেছি, অসাধারন। ভাবী বেশ বললেন, তার হাতের ডাল খেতে অনেক বাংলাদেশী উনাদের বাসায় বেড়াতে আসেন। আসলে এমন ডাল পেলে আর কি লাগে!


সাদা গরম ভাতের সাথে আর কি চাই!


আমার বন্ধুর দুই রাজপুত্র। ওদের জন্য দোয়া করি। ওদের কম্পুটারের দখল দেখে অবাক হয়েছি। সুযোগে আমি আমাদের এই রেসিপি সাইট ওদের দেখিয়ে দিয়েছি। আশা করি বড় হয়ে একদিন ওরা আমার রেসিপি সাইটে কমেন্ট করবে! ওরা বাংলা ছাড়াও এই বয়সে থাই, চায়নিজ, ইংরেজী ভাষায় দখল নিয়েছে। ওরা বাংলাদেশী হলেও গড়ে উঠছে আন্তজার্তিক মানুষ হিসাবে। আমাদের ছেলেরা একদিন দুনিয়া জয় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং ওরা হচ্ছে আমাদের সেই জেনেরেশান।


এবার আমার সর্দাহাস্য বন্ধু ও তার পরিবার! আমাদের হাস্যমান ভাবী। ওদের জন্য দোয়া থাকল। সুখে কাটুক আগামী জীবন। আশা করি আবারো দেখা হবে দেশে কিংবা বিদেশে, যদি বেঁচে থাকি! ভাল থাক বন্ধু।  ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা তোমাদের, আমাদের নিমন্ত্রণ করে তোমরা বড় মনের পরিচয় দিয়েছো। সুখে থেকো।

প্রবাসে বাংলা খাবারের কি আনন্দ তা বলে বুঝানো যায় না। যারা প্রবাসী তারাই এই আনন্দের কথা বুঝতে পারবেন। আমি প্রবাসে দীর্ঘদিন ছিলাম, আমি জানি প্রবাসে বসে দেশের খাবার খেতে কি আনন্দ!

ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৬ (প্রতিদিন সকালের নাস্তা ও অন্যান্ন বিষয়)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৫ (একটি আদর্শ রেস্টুরেন্ট, দুনিয়ার সবার জন্য!)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৪ (রাস্তার/ফুটপাতের খাবার)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৩ (হোটেলে বাংলাদেশী খাবার)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ২ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ১ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)

Advertisements

8 responses to “ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৭ (বন্ধুর বাড়িতে বাংলা খাবার)

  1. সুন্দর একটা ফ্যামিলি, এরকম একটা ফ্যামিলি দেখে হঠাত মন ভাল হয়ে গেল

    মাছটা সম্পর্কে আরো কিছু জানতে পারলে ভাল হত

    শুভেচ্ছা।

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      হ্যাঁ, দেশের সব পরিবার এমন হলে ভাল হত। আমাদের চিন্তা থাকত না। তবে এই দেশে এমন করে থাকা যায় না। প্রবাসে এমন করে নিজদের মত করে থাকা যায়। বিশেষ করে থাইল্যান্ডে বেশী ভাল। মানুষ, কে কোন দেশী সেটা তাদের কাছে বিবেচ্য নয়।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  2. আপনাদের বন্ধুত্ব অমর হউক।

    Like

  3. সবাই বন্ধুত্ব ধরে রাখতে পারে না। আপনি পারেন সেটা আমরা বুঝতে পারি। আপনার আড্ডা বিষয়ক ব্লগ গুলো দেখে বুঝা যায়।

    Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s