Gallery

ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৩ (হোটেলে বাংলাদেশী খাবার)


বর্তমানে বাংলাদেশীরা সারা পৃথিবীতে বেশ ঝাঁকিয়ে বসে আছে/গেছে। আমার নানান দেশ ঘুরে এটা মনে হয়েছে, কোথায়, কোন দেশ বাংলাদেশী নেই! বাংলাদেশীদের পৃথিবীর নানান দেশে টিকে থাকতে যা যা করার তারা তা তাই করে নিয়েছে! ভিনদেশী মেয়ে বিবাহ থেকে শুরু করে কত কি! বাংলাদেশীদের ভিন দেশে বিবাহ করে টিকে থাকার ইতিহাস শুনলে হাসতে হাসতে পেট গুড়ে যায়! যাই হোক কথা বললে অনেক কথা হবে, আপনারা সেই সব কথার অনেক কিছু জানেন! ব্যাংকক পৌঁছে আমরা একটা বিরাট ঘুম দিয়ে সকালে উঠে হোটেলের নাস্তা (এটা একটা আলাদা পর্বে দেখাবো) খেয়ে বের হয়ে পড়লাম।

আমাদের কাজে আমরা লেগে গেলাম এবং দুপুর নাগাত সেটা শেষ হয়ে গেল! এটাই আমাদের মুল কাজ ছিল। দুপুরে আবারো হোটেলে এসে গোসল করে হালকা খাবার খেয়ে (কফি বিস্কুট) আমাদের আড্ডা চলতে লাগল। সন্ধ্যার খানিক পরে আমরা ব্যাংককের রাস্তায় বের হলাম। সাথে থাকা আমার বন্ধু জানালেন, চলো ব্যাংককে বাংলাদেশী খাবার খাই (তার অভিজ্ঞতা প্রচুর)। আমি রাজী হয়ে গেলাম, কারন বাংলাদেশী খাবার কার না ভাল লাগবে, বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে!

কয়েকটা গলি হেঁটে আমরা একটা হোটেলে প্রবেশ করলাম। হোটেল আল হোসেন। কিছু বাংলা শব্দ আছে। এখানে বাংলাদেশী খাবার পাওয়া যায়। তা ছাড়া দেখলাম থাই, আরাবী, ইন্ডিয়ান খাবারো পাওয়া যায়। আমার বন্ধু জানালেন, এই হোটেলের মালিক বাংলাদেশী। হোটেলের কাউন্টারে দেখলাম একজন থাই মহিলা (হিজাব পরিহিত), তিনি টাকা নিচ্ছেন। বন্ধু জানালেন, তিনি বাংলাদেশীর থাই স্ত্রী।

বিদেশে ইন্ডিয়ান খাবার ভেদ করে আমরা আমাদের নামে খাবার প্রচার করতে পারছি এটা আমার কাছে ভাল লাগল। আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে আমি যখন প্রথম থাইল্যান্ড দেখি তখন এমন বাংলাদেশীদের খাবারের দোকান ছিল না। প্রবাসে বাংলাদেশীদের এমন খাবারের দোকান দেখে মন ভরে যায়। কথায় ফাঁকে ফাঁকে আমাদের খাবার ওয়ার্ডার হয়ে যায়।

আসুন খাবার দাবারের ছবি গুলো দেখে ফেলি।


ব্যাংকক শহর রাতেই জেগে উঠে! এখানকার সব কিছু রাতের জন্যই সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দিনে ঘুমাও রাতে জাগো! রাত জাগা পাবলিকদের জন্য তাই ব্যাংকক একটা সেরা জায়গা! আমি নিজেও দিনের চেয়ে রাত ভালবাসি! হা হা হা…


ব্যাংককে যে কোন হোটেলে খেতে বসলে একটা সালাত দিয়ে যায়। (সাথের চাটনীটা দিয়েছিল তেলাপিয়ার কাবাব খেতে)


বাংলাদেশী বুঝাতে আমাদের বাংলা কায়দায় একটা সালাদ দিয়েছিল।


আলু ভর্তা। দেখে এবং খেয়ে প্রান জুড়িয়েছে।


ঘন ঢাল! আহ… দেখেই শান্তি! খাবার দরকার নাই!


তেলাপিয়ার গ্রীল কাবাব, তাজা মাছ থেকে (এটাকে বাংলাদেশী খাবার বলা যায় কি না ভাবছি। তেলাপিয়ার কাবাবের কোন দোকান বাংলাদেশে আছে কি না আমার জানা নেই। মাছটা এই দেশ জনপ্রিয় এবং বহুল পরিচিত হলেও এমন করে খাবার এই দেশে নেই। মাছের কাবাবের দেশে কোন ভাল দোকান নেই। আমরা এখনো মাছের কাবাব হোটেলে গিয়ে খেতে অভস্থ্য নই)। বেশ সুস্বাদু হয়েছিল।


ভাত না হলে বাংলাদেশী কি!


বাংলাদেশের বাঙ্গালী ভাত দেখলে হামলে পড়ে!

এর পর আরো কিছু বাংলাদেশী হোটেলে খাবার খেয়েছি! কিছু হোটেলে খেয়ে ওদের কুককে কান ধরিয়ে দাঁড়া করিয়ে রাখতে ইচ্ছা হয়েছিল! ওদের খাবারের ছবিও তুলি নাই, ঘৃনায়! বিদেশে বসেও খাবার নিয়ে প্রতারনা করে পয়সা কামাচ্ছে! সেইম অন দেম!

ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ২ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)
ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ১ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)

12 responses to “ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৩ (হোটেলে বাংলাদেশী খাবার)

  1. Bangladeshira shob jagay ashon gore bosheche!

    Like

    • ধন্যবাদ আকাশ ভাই।
      হা, দুনিয়ার কোনায় কোনায় এখন বাংলাদেশীরা বেশ জাঁকিয়ে বসে যাচ্ছে। এতে কিছু কিছু ভাল হচ্ছে। আমরা সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছি। হা হা হা।। শুভেচ্ছা।

      Like

  2. বাংলাদেশীদের অগ্রযাত্রা চলুক তবে সন্মান বিসর্জন দিয়ে নয়। প্রবাসে বাঙ্গালীদের সাফল্য দেখতে ও শুনতে ভাল লাগে।

    আপনার চোখ ফাঁকি দেয়া সহজ নয়!

    Like

  3. ব্যাংককে জাবার ইচ্ছা আছে।দেখি কি হয়।আপ্নার পোস্ট খুব ভাল লাগল।

    Like

    • ধন্যবাদ বোন। থাইল্যান্ডের ভিসা সহজ এবং ওদের সামাজিক ব্যবস্থা ভাল। পুরাই পর্যটনের উপর নির্ভর করে বলে সারা দুনিয়ার মানুষে ওরা সন্মান করে। একবার দেখে আসুন তখন বুঝতে পারবেন, আমরা আমাদেরকে কি অবস্থায় রেখে চলছি। আমাদের ক্ষমতাসীনরা কি ভুল করে চলছে।

      শুভেচ্ছা।

      Like

  4. পিংব্যাকঃ ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৪ (রাস্তার/ফুটপাতের খাবার) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  5. পিংব্যাকঃ ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৬ (প্রতিদিন সকালের নাস্তা ও অন্যান্ন বিষয়) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  6. পিংব্যাকঃ ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৭ (বন্ধুর বাড়িতে বাংলা খাবার) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  7. পিংব্যাকঃ ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ৮ (শেষ, নানাবিধ বিষয় ও ছবি) | রান্নাঘর (গল্প ও রান্না)

  8. অনেক দিন ধরেই আপনার রান্না ব্লগ পড়ছি। আমিও থাইল্যান্ড এ গিয়েছিলাম একবার ২০০৮ এ। এই হোটেল এ খেয়েছি যতদিন ব্যাংকক এ ছিলাম। পাশের ব্যাংকক সাহারা হোটেল এ ছিলাম। খাবারগুলো এত সুস্বাদু যে আমার ইচ্ছে করছে আবার যাই। ‘ওয়েলকাম স্যার’ আমার কানে বাজে এখনও। আপনারা রেসিপিগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ।

    Like

    • ধন্যবাদ কায়সার ভাই।
      আমার রেসিপি ব্লগ পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা। আমি দুনিয়ার অনেক দেশ দেখেছি, খাদ্য নিয়ে ভেজাল শুধু এই দেশেই দেখে গেলাম (তাই মনে অনেক কষ্টে ভুগি)। দুনিয়ার কোন দেশে খাদ্যে ভেজাল দেয়ার কথা চিন্তাও করা হয় না, আমাদের এখানে সেটা খুঁজেই পাই না! সবাই ভেজালে মেতে উঠেছে। খাদ্য স্বাদ হবার প্রায় উপকরনেই ভেজাল। তেল, চাল, আটা, ময়দা, ভেজষ কিছুই বাদ যাচ্ছে না। আর মাছ মাংস! মাছ কিনার কথা মনে হলেও চোখে পানি চলে আসে। টাকা দিয়ে বিষ কিনছি।

      আর হোটেল বা আমাদের সার্ভিস সমূহ! স্যার বলতে আমাদের অনেক কষ্ট। আমরা এখনো স্যার উচ্চারণ শিখতেই পারি নাই!

      টাকা দিয়ে খেতে গিয়েও ওরা মনে করে ওরা আমাদের দয়া করছে! বড়ই দুর্ভাগ্য আমাদের।

      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s