Gallery

ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ২ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)


অনেক গুলো ছবি থাকায় ২য় পর্ব করতে হল। ২য় পর্বে আপনাদের স্বাগতম। অনেক খাবারের নাম এখন মনে করতে পারছি না তাই কিছু ভুল হতে পারে, আগেই পাঠক/পাঠিকাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। থাইল্যান্ডের এই সব কিছু আমাদের দেশের অনেকের কাছে এখন পানি ভাতের পানি! আমাদের দেশের মোটামুটি টাকাওয়ালারাও থাইল্যান্ড সফর শেষ করেছেন বলে আমি মনে করি। পাসপোর্টে থাই ভিসা আছেই আছে। কাজে কাজেই আমার ভুল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

বুফেতে খাবার মজাই আলাদা। এক সাথে অনেক খাবার চোখে দেখা যায়। ইচ্ছা মাফিক যা মনে চায় তা খাওয়া যায় (প্লেটে নেয়া যায়)। মাঝে মাঝে ভাবি, মানুষ যদি হাতি ঘোড়ার মত খেতে পারত! তবে এই দুনিয়া আর সেই দুনিয়া থাকত না। মানুষ কম খায় বলেই অন্যজন খাবার পায়! এককেজি চালে এক পরিবারের খাবার হয়ে যায়। আর অন্যদিকে চিন্তা করি, ধনী মানুষ গুলো যদি পরিমানে বেশী এবং সোনা দানা খেতে পারত! এটা তারা পারে না বলেও দুনিয়া এখনো দুনিয়ার জায়গাতে আছে! ধনী মানুষ গুলোর খাবারে লিমিটেশন না থাকলে দরিদ্র মানুষ গুলো কিছুই পেত না। তবে উপরোয়ালা যারে যা কিছু দেন, তারে তা বুঝেই দেন। কাউকে দেন খেতে, কাউকে দেন দেখতে! যার কাছে টাকা দেন তাকে আবার পেট দেন না! আর পেট দিলে সামর্থ্য দেন না ফলে আমরা যার যার জায়গাতে বসে খুশি থাকি!

যাই হোক কথা বললে অনেক কথা হবে, খাবার দাবারের বাকী ছবি গুলো দেখে ফেলি।


ছবি ২৪- থাইল্যান্ড ছেলে মেয়ের ভেদাভেদ কমাতে পেরেছে বলে মনে হয়। থাইল্যান্ডে সবত্র আমি দেখেছি, মেয়ের সংখ্যা বেশি কিন্তু তারা ছেলেদের চেয়ে কম নয়। সাধারন ভদ্রতায় তাদের তুলনা মেলা ভার।


ছবি ২৫- এটাকে কি বলবো! কলার থোড়ের কুচিও আছে!


ছবি ২৬-


ছবি ২৭- মরিচের জনপ্রিয়তা সব জায়গাতেই! কাঁচা কিংবা শুকনা মরিচের গুড়া।


ছবি ২৮- সালাদ (বেবী টমেটো আমি প্রথম দেখলাম)


ছবি ২৯- থাই পেয়ারা বেশ কচকচে।


ছবি ৩০- আনারস।


ছবি ৩১- পেঁপে।


ছবি ৩২- তরমুজের একটা আলাদা কদর দেখলাম সর্বত্র। খাবারের পর ফলফলাদি জমে বেশ।


ছবি ৩৩- পেষ্ট্রি।


ছবি ৩৪- পুডিং


ছবি ৩৫- ফ্রুটস ভেনিলা কেক।


ছবি ৩৬- আমার প্রথম প্লেট! থাই ক্রিম স্যুপ আমার পছন্দের একটা স্যুপ।


ছবি ৩৭- আমার ২য় প্লেট! ঝিনুকটা ইচ্ছা করেই নিয়েছিলাম কারন এর স্বাদ ভুলে গিয়েছিলাম তাই আবার খেয়ে মনে রাখলাম। আমি খেতে বুফে পছন্দ করি। খাওয়া দাওয়া একটু বেশি করি, হা হা হা। সরু পেটে গরু ঢোকে!


ছবি ৩৮- ডেজার্ট।

এবং সর্বশেষে ছিল কফি। প্রায় আড়াই ঘন্টার এই নদী ভ্রমনে শুধু খাওয়া দাওয়াই নয়। গান শুনে, জ্বলমলে শহর দেখে আমাদের সময় কাটছিলো (এমন দেশ আমাদেরও হতে পারত, শুধু একজন ভাল রাষ্ট্রনায়কের অভাবেই আমরা এখনো পরাজিত হয়ে আছি)।

এমন সন্ধ্যা যাদের জীবনে আসে এবং তাদের জন্ম যদি এই দরিদ্র দেশে (আমি বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশ মনে করি না, আমাদের ক্ষমতাসীনদের মুখে আমি থু দেই!) হয়, আসলে তাদের পেটে খুব সহজে এই সকল খাবার প্রবেশ করে না! খাবার খেতে গেলে প্রিয়জনদের/দেশবাসীর কথা মনে পড়ে, যাদের অনেকেই ভাল খাবার কি, ভাল চলা কি, ভাল পরা কি, তা না দেখেই এই দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়! এটা আমাদের জন্য লজ্জার!

প্রিয় নদী বুড়িগঙ্গাকে ভালবেসে নদী শাসন করে এমন ক্রুজ আমাদের কাছে কোন ব্যাপারই ছিল না!

Advertisements

8 responses to “ব্যাংকক আড্ডাঃ পর্ব ২ (ডিনার ইন দ্যা ক্রুজ)

  1. Eato kochu ki kore koren? Chobi deake valo laglo. What next?

    Like

  2. চেয়ে চেয়ে দেখলাম…… 😦

    Like

  3. খাবার-দাবার ছাড়া আর কি কি দেখলা ? আচ্ছা, পৃথিবীর সবচে বড় ফ্লাই ওভার নাকি ব্যাংককে ? 🙂

    Like

    • ধন্যবাদ বন্ধু, কেমন আছ? অনেক দিন দেখা হচ্ছে না।

      হঠাত করেই ঘুরে আসলাম। চান্স পেয়ে মিস করলাম না! খাবার দাবার ছাড়া আরো অনেক কিছু দেখেছি। লিখতে চেষ্টা করব। থাইরা কতদুর এগিয়ে গেছে তা না দেখলে বিশ্বাস করবে না। আমাদের জন্য দুঃখ লাগে। আমি প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে প্রথম গিয়েছিলাম, এবার তাদের দেখে অবাক হলাম।

      শুধু একজন রাজা। তিনিই আজকের থাইল্যান্ডকে এমন পরিবর্তন করে দিয়েছেন। তার কাজ নিয়ে আমি একটা লিখা লিখবো বলে ভাবছি।

      ১৬/১৭ বছর আগে দেখেছি, তিনি যেখানে যেতেন গলায় থাকত ক্যামেরা, নিজ হাতে ছবি তুলতেন। পরবর্তি বছরে গিয়ে ছবি দেখে মিলাতেন, তিনি যেভাবে চাইছেন সেভাবে পরিবর্তন হল কি না! না হলেই খবর করে দিতেন। আজকাল আর তার ঘর থেকে বের হতে হয় না!

      শুধু একজন শাসকই পারেন, পুরা পাল্টে দিতে। বাংলাদেশ এখন তেমন একজন শাসক পায় নাই। দুঃখটা এখানেই।

      লিখে ফেলবো একদিন।

      Like

  4. দেশের বাইরে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি কখনো।

    তবে আমার যেরকম অভিজ্ঞতা আছে তাকেও মোটামুটি ক্রুজ বলা যায়।
    আমার গ্রামের বাড়ি বরিশাল ।

    বাড়ি যাওয়ার পথে নৌপথে ফেরিতে যেতে হ্য,তখন ফেরিতে অসাধারণ ভাত এবং ডাল(যত ইচ্ছা,বুফে 😀 ) আর মুরগি বা খাসি বা ইলিশ মাছ খেতে খেতে বাইরের নদীর সিন উপভোগ করা। 🙂

    মধ্যবিত্ত জীবনে একেই সুখ বলে বোধহয়। আমরা অল্পতেই তুষ্ট। 🙂

    বেড়ানোর পোস্ট ভাল লাগলো

    Like

    • ধন্যবাদ ভাতিজা।
      আরে মন খারাপের কিছু নেই। দুনিয়া ছোট, ভাগ্য কোথায় কাকে নিয়ে যায়, এটা কে জানে? তোমার ভাগ্য তোমাকে দুনিয়ার কোন প্রান্তে রাখে তা উপরোয়ালাই জানেন। আগে জীবন গড়ে নাও। একদিন বরিশাল রুট স্মৃতি হয়ে যাবে। মন চাইলেও এই রুটে ফিরে আসতে পারবে না।
      হা, আমরা সামান্যতেই তুষ্ট। বিদেশ না দেখলে বুঝা যায় না আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। আমাদের ক্ষমতাসীন রা আমাদের জীবন কতটা আগোছালো করে রেখেছে।
      সামনে আরো কিছু খাবার দাবারের পোষ্ট আছে। আশা করি সাথেই থাকবে।
      শুভেচ্ছা।

      Like

[প্রিয় খাদ্যরসিক পাঠক/পাঠিকা, পোষ্ট দেখে যাবার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা। নিম্মে আপনি আপনার মন্তব্য/বক্তব্য কিংবা পরামর্শ দিয়ে যেতে পারেন। আপনার একটি একটি মন্তব্য আমাদের অনুপ্রাণিত করে কয়েক কোটি বার। আপনার মন্তব্যের জন্য শুভেচ্ছা থাকল। অনলাইনে ফিরলেই আপনার উত্তর দেয়া হবে।]

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s